alt

উপ-সম্পাদকীয়

তাপপ্রবাহে ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

সংগীত কুমার

: বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়েই চলছে। দেশে আবারও তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রচ- গরমের সঙ্গে আর্দ্রতা জ্বালা ধরাচ্ছে শরীরে।

গরমের সময় একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হলো হিটস্ট্রোক। হিটস্ট্রোক কখনো কখনো শরীরের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে রোগীকে দীর্ঘমেয়াদে অক্ষম করে তুলতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচ- গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় ধরে কাজ করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিটস্ট্রোক দেখা দেয়।

শিশু ও বৃদ্ধের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন যেমনÑ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, কিডনি, লিভার বা হার্টের রোগী, স্ট্রোক বা ক্যান্সারজনিত রোগে যারা ভোগেন, এমনকি যে কোনো কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিটা একটু বেশি।

দিনের বেলায় প্রচন্ড রোদে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমনÑ কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক।

শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দিলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

কিছু কিছু ওষুধ হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়; বিশেষ করে প্রসাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণœতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী? তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিটস্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশি ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে, এবং প্রচ- পিপাসা পায়, এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস মাথাব্যথা ও ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা যায়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো :

শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।

ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।

ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।

নিঃশ্বাস দ্রুত হয়।

নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।

রক্তচাপ দ্রুত কমে যায়।

খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।

রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের উপায় কী? গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। সেগুলো হলো :

হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো হয়।

যথাসম্ভব ঘরের ভেতর বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন। অতি প্রয়োজন না হলে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

বাইরে একান্ত যেতেই হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।

বাইরে যারা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তারা ছাতা ব্যবহার করতে পারেন।

পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই বের হয়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমনÑ খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদি পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমনÑ চা কিংবা কফি যথাসাধ্য পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

রোদের সময় শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ যথাসম্ভব রাতে কিংবা খুব সকালে করার চেষ্টা করুন। যদি দিনেই করতে হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর রোদ থেকে সরে গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়? প্রাথমিকভাবে হিটস্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো :

দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান, যদি সম্ভব হয় ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।

ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।

প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান থেকে বিরত থাকুন।

কিন্তু যদি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েই যায় তাহলে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যারা থাকবেন তাদের করণীয় হলো :

রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।

শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।

সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে বা কুঁচকিতে বরফ দিন।

দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

সব সময় খেয়াল রাখবেন হিটস্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস ও নাড়ি চলছে কিনা! প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। হিটস্ট্রোকে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে। চলতি মাসের ৪ তারিখ মালয়েশিয়ায় হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিন বছরের একটি শিশু মারা যায় (তথ্যসূত্র : প্রথম আলো)। তাই গরমের এই সময়টায় সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নিলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।

এই তীব্র গরমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। তারপর খেয়াল রাখতে হবে রোদের মধ্যে যেন শিশুরা বেশিক্ষণ দৌড়ঝাঁপ না করে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক]

দূর হোক মনের পশুত্ব

মনের পশুত্বের প্রতীকী ত্যাগের আরেক নাম কোরবানি

ঈদে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস

এমআইটি : প্রযুক্তির সৃষ্টি রহস্যের খোঁজ

কবিগুরুর বাণী ‘প্রমাণিত মিথ্যা’

কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ হবে কিভাবে

কানিহাটি সিরিজ এবং পঞ্চব্রীহি নিয়ে আরও কিছু কথা

কলকাতায় হিজাব বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

হাতের শক্তি ও মহিমা

বাজেট বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ

ছবি

কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে

সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটেরাদের বিচার কি হবে

বাজেট ভাবনায় শঙ্কিত যারা

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্যে

জ্ঞানই শক্তি

পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা

অগ্নিমূল্যের বাজার : সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কি?

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নৈরাজ্য

যৌতুক মামলার অপব্যবহার

শহীদের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক ছয় দফা

রসে ভরা বাংলাদেশ

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই

দুর্নীতির উৎসমুখ

কানিহাটি সিরিজের বোরো ধান নিয়ে কিছু কথা

নজিরবিহীন বেনজীর

টেকসই উন্নয়ন করতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য রেখে আহমদ

কী বার্তা দিল ভারতের সংসদ নির্বাচন

গরমে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা

ক্লাইমেট জাস্টিস ফর বাংলাদেশ : শুধু ঋণ বা অনুদান নয়, প্রয়োজন ক্ষতিপূরণ

এখন ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ কী

দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া দরকার

গোল্ডেন রাইস কেন বারবার থমকে দাঁড়ায়

প্রাকৃতিক রসগোল্লা

বেড়েই চলেছে জীবনযাত্রার ব্যয়

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

tab

উপ-সম্পাদকীয়

তাপপ্রবাহে ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

সংগীত কুমার

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়েই চলছে। দেশে আবারও তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রচ- গরমের সঙ্গে আর্দ্রতা জ্বালা ধরাচ্ছে শরীরে।

গরমের সময় একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হলো হিটস্ট্রোক। হিটস্ট্রোক কখনো কখনো শরীরের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে রোগীকে দীর্ঘমেয়াদে অক্ষম করে তুলতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচ- গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় ধরে কাজ করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিটস্ট্রোক দেখা দেয়।

শিশু ও বৃদ্ধের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন যেমনÑ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, কিডনি, লিভার বা হার্টের রোগী, স্ট্রোক বা ক্যান্সারজনিত রোগে যারা ভোগেন, এমনকি যে কোনো কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিটা একটু বেশি।

দিনের বেলায় প্রচন্ড রোদে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমনÑ কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক।

শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দিলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

কিছু কিছু ওষুধ হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়; বিশেষ করে প্রসাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণœতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী? তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিটস্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশি ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে, এবং প্রচ- পিপাসা পায়, এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস মাথাব্যথা ও ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা যায়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো :

শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।

ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।

ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।

নিঃশ্বাস দ্রুত হয়।

নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।

রক্তচাপ দ্রুত কমে যায়।

খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।

রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের উপায় কী? গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। সেগুলো হলো :

হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো হয়।

যথাসম্ভব ঘরের ভেতর বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন। অতি প্রয়োজন না হলে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

বাইরে একান্ত যেতেই হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।

বাইরে যারা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তারা ছাতা ব্যবহার করতে পারেন।

পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই বের হয়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমনÑ খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদি পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমনÑ চা কিংবা কফি যথাসাধ্য পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

রোদের সময় শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ যথাসম্ভব রাতে কিংবা খুব সকালে করার চেষ্টা করুন। যদি দিনেই করতে হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর রোদ থেকে সরে গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়? প্রাথমিকভাবে হিটস্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো :

দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান, যদি সম্ভব হয় ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।

ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।

প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান থেকে বিরত থাকুন।

কিন্তু যদি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েই যায় তাহলে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যারা থাকবেন তাদের করণীয় হলো :

রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।

শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।

সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে বা কুঁচকিতে বরফ দিন।

দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

সব সময় খেয়াল রাখবেন হিটস্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস ও নাড়ি চলছে কিনা! প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। হিটস্ট্রোকে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে। চলতি মাসের ৪ তারিখ মালয়েশিয়ায় হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিন বছরের একটি শিশু মারা যায় (তথ্যসূত্র : প্রথম আলো)। তাই গরমের এই সময়টায় সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নিলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।

এই তীব্র গরমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। তারপর খেয়াল রাখতে হবে রোদের মধ্যে যেন শিশুরা বেশিক্ষণ দৌড়ঝাঁপ না করে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক]

back to top