alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

জিয়াউদ্দীন আহমদে

: শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজনীতির মাঠের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব খুব দ্রুত বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হাত থেকে খসে পড়তে থাকে। মোহাম্মদ ইউনূসকে তারা নিয়োগ দিলেও তারা তাকে ধরে রাখতে পারেনি, কারণ ইউনূস বুঝতে পেরেছিলেন শুধু এনসিপি ও তাদের ওপর নির্ভরতায় নির্বিঘেœ ও নিরাপদে দেশ শাসন করা যাবে না, দেশ শাসন করতে লাগবে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থন। ক্ষমতায় বসে একটু পরিপক্ক হওয়ার পর আরও বুঝলেন, তার ক্ষমতার বর্তমানকে ভবিষ্যতের জন্য আইনসম্মত করতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদ লাগবে। সম্ভবত এই আশীর্বাদের জন্যই তিনি ছুটে গেলেন লন্ডন, দেখা করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। তখনই জনগণ উপলব্ধি করল, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। জামায়াত বলল, ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপির তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তার ও সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ করেছেন। ইউনূস জামায়াতের কথায় কান দেননি। মোহাম্মদ ইউনূস ‘জানেন না, বোঝেন না’- এমন ভাবার কোন কারণ নেই। তিনি শুনেন সবকিছু, বোঝেন আদ্যপান্ত, কিন্তু করেন ও চলেন নিজের নির্ধারিত ছকে।

সরকারের সমালোচনা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী সাংবাদিকরা অন্তর্বর্তী সরকারের নানা দুর্বলতা ও অসঙ্গতি নিয়ে সমালোচনা করেছেনও, কিন্তু তিনি কোন সমালোচকের বক্তব্য বা আলোচকের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন বোধও করছেন না। তার কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি একই সময়ে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিকে তুষ্ট রাখতে সমর্থ হয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তার হাতিয়ার। রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও তিনি আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের ভীতি জাগ্রত রেখেছেন, সংকট দেখা দিলেই আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার ডাক দিচ্ছেন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিনাবাক্যে তার ডাকে সাড়া দিয়ে যমুনায় মিলিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগ ঠেকানোর শপথ নিচ্ছে। শপথ নেয়ার যুক্তিও আছে, আওয়ামী লীগকে না ঠেকালে বিএনপি বা জামায়াতের সহজ জয় সম্ভব হবে না। আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি সাচ্ছন্দ বোধ করছে, জামায়াতও। জামায়াত মনে করছে, জিতলে ক্ষমতায় বসবে, না জিতলে সংসদে বিরোধী দল হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে জামায়াত, আজ সেই রাজনৈতিক দল স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতায় যাবে, বা সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসবে এই সুযোগ আওয়ামী লীগ মাঠে থাকলে হতো না।

অন্তর্বর্তী সরকার ও মোহাম্মদ ইউনূস বাহ্যত বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেই ইউনূস থেমে যাননি, বিএনপির ইমেজ বাড়ানোর জন্য যা যা করা দরকার তিনি তা তা করছেন। খালেদা জিয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিভিআইপি ঘোষণা করেছিল সরকার, তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিল স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতাও করেছে। খালেদা জিয়া যখন হাসপাতালে অবচেতন অবস্থায়, তখন তাকে ভিভিআইপি ঘোষণা বা এসএসএফ কর্তৃক নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি তার জন্য ছিল অপ্রয়োজনীয়, মুর্মূষু খালেদা জিয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকার কথা নয়। তিনি তিন তিন বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এই জাতীয় সুবিধা তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করেছেন, তার জন্য তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সন্মান এবং বিএনপির ইমেজ বেড়েছে। ইমেজ বাড়ানোর এত তাগিদ ইউনূস সরকার কেন অনুভব করলেন? কারণ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সর্বত্র বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দলের ইমেজকে তলানিতে নামিয়ে দিয়েছিল। বিএনপির ইমেজ বাড়ানোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার এখানে থেমে যায়নি, তা প্রসারিত করেছে তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও।

চব্বিশের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজনীতির মাঠের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব খুব দ্রুত বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হাত থেকে খসে পড়তে থাকে। মোহাম্মদ ইউনূসকে তারা নিয়োগ দিলেও তারা তাকে ধরে রাখতে পারেনি, কারণ ইউনূস বুঝতে পেরেছিলেন শুধু এনসিপি ও তাদের ওপর নির্ভরতায় নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে দেশ শাসন করা যাবে না, দেশ শাসন করতে লাগবে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থন। ক্ষমতায় বসে একটু পরিপক্ক হওয়ার পর আরও বুঝলেন, তার ক্ষমতার বর্তমানকে ভবিষ্যতের জন্য আইনসম্মত করতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদ লাগবে

তারেক রহমান দেশে আসবেন, বিএনপির চেয়ে আনন্দ বেশি অন্তর্বর্তী সরকার ও মোহাম্মদ ইউনূসের। খুশি না হলে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোন একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার আগমন ও ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে এত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা নয়। তফসিল ঘোষণার পর সাধারণ নিয়মে মাঠপর্যায়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার প্রয়োগ করে তাকে ভোটার করা হয়েছে। ইউনূস ফোন করে বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে কুশল বিনিময় করেছেন। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করা ছাড়াও নিয়মিত কয়েকটি ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করেছে, কয়েকটি নিয়মিত ট্রেন বন্ধও রেখেছিল। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে রাস্তার দুই পাশের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সংবর্ধনা নিতে নিতে তিনি পৌঁছে যান পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনা মঞ্চে’। গুলশান অ্যাভিনিউর যে বাসায় তিনি থাকছেন সেই বাসার নিরাপত্তায় পুলিশ, বিজিবি ও র?্যাব মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের রাস্তাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

একসময় তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বলেছিলেন; কিন্তু তার কিছুদিন পরে তিনি হঠাৎ বলে বসলেন, ‘দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আমার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এই বক্তব্য ছিল সবার নিকট দুর্জ্ঞেয় ও অপ্রত্যাশিত। একদিকে মুর্মূষু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির দোয়ায় দেশবাসী প্রার্থনা করছে, অথচ ছেলে পাশে নেই; অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতার অংশগ্রহণের অনিশ্চিয়তায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। সরকার তড়িঘড়ি করে ঘোষণা দিল, তারেক রহমানের দেশে আগমনে সরকারের তরফ থেকে কোন বাধা নেই, পাসপোর্ট না থাকলে ট্রাভেল পাস ইস্যু করার জন্য সরকার এক পায়ে দন্ডায়মান। তাহলে বাধা কোথায়? বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে তারেক রহমানের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে শুরু করল। বিএনপি বিরোধীরা বলতে থাকল, তারেক রহমান লন্ডনের রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে আসতে চান না, কারণ একবার ত্যাগ করলে তা আবার ফেরত পাওয়া যাবে না। অনেকে বললেন, সেনাবাহিনীর কাছে দেয়া মুচলেকা তার ফেরত আসার পথে প্রধান বাধা। বিএনপির সমর্থকরা বলল, ভারতের কারণে আসতে পারছে না। এগুলো সব অমূলক ও অর্থহীন প্যাঁচাল। তবে এই ঘোরপ্যাঁচ সৃষ্টির মধ্যে ইমেজ বাড়ানোর একটা কৌশল থাকতে পারে, নতুবা এত দ্রুত সব বাধা অপসারণ হওয়ার কথা নয়।

আরও আছে। ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড পেয়েছেন এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র এক দিনে, আর এই দুটি কাজ শেষ করতে ইসি অফিসে তারেক রহমান সময় ব্যয় করেছেন মাত্র ১৮ মিনিট। ইচ্ছা করলে তারেক রহমান বাসায় অবস্থান করেও এগুলো সমাধা করতে পারতেন, ইসি অফিস প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, তারেক রহমানের আইডি কার্ড ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের নিমিত্তে সাপ্তাহিক ছুটি শনিবারে ইসি অফিস খোলা রাখা হয়। এটা ভালো দিক, ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এমন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয় না কেন? সরকারি অফিসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে এতদিন যত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে তা নিয়ে কয়েকশ বই লেখা যাবে। এত সমালোচনা সত্ত্বেও আমলাদের বিলম্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিগত ৫৪ বছরে অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে। বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে বহু বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশ হারিয়েছে, বহু প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদন না হওয়ায় প্রকল্প সিক হয়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের জনসেবা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে নাজেহাল হয়নি এমন একজন সেবাগ্রহীতাকেও পাওয়া যাবে না। শুধু তারেক রহমান নয়, একই দ্রুততায় রাষ্ট্র প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের ইস্যুগুলোরও সমাধা করেছে। এমন দ্রুততা সোনালী ব্যাংকও দেখিয়েছিল তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে।

আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র খুব দ্রুতই কর্ম সম্পাদন করতে পারে, যদি সেবাগ্রহীতা ক্ষমতায় কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে। চিকিৎসা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্রুততায় কর্ম সম্পাদন উন্নত দেশগুলোতে ভিআইপি ও সাধারণ নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমাদের দেশে হয় না এবং না হওয়ার প্রধান কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দুর্নীতি আর অজ্ঞতা। মন্ত্রী দক্ষ, জ্ঞানী ও দুর্নীতিমুক্ত হলে মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি আসতে বাধ্য। দেশ এবং জনগণের জন্য তারেক রহমানের একটি পরিকল্পনা আছে, পরিকল্পনাটি এখনো অজ্ঞাত এবং অশ্রুত, কিন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রত্যাশায় তিনি ওসমান হাদির পাশাপাশি আগুনে ভস্মীভূত দীপু চন্দ্র দাসের কথা উচ্চারণ করতে ভয় পেয়েছেন, তিনি অন্ততপক্ষে এমনতর নির্যাতন রোধে তার কর্মীদের তৎপর থাকার নির্দেশ দিতে পারতেন। এক বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এত ভয় এবং নেতৃত্বে এত সীমাবদ্ধতা থাকলে সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন দূর হবে না, অনবচ্ছিন্ন থেকে যাবে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই। প্রতিহিংসা ও মব সন্ত্রাসের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনীতির ক্রমাবনতি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রবর্তন জরুরি। কোন রাজনৈতিক দল জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত না হলে শুধু রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা ধ্বংস বা বিলীন করা যায় না রাজনৈতিক নেতাদের এই উপলদ্ধি জাগ্রত না হলে একসময় বাংলাদেশেরও অন্যতম পেশা হবে পাকিস্তানের মতো ভিক্ষাবৃত্তি। অবাস্তব ও অলীক বিষয় নিয়ে বর্তমানে যেভাবে জাতির মানসগঠন তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে তা রোধ করা না হলে তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর একটি কথা অন্তর্ভুক্ত করতে অনুরোধ করছি, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতার অভিমত দিয়ে আমার মতের গঠন হবে না, আমার মত ও সিদ্ধান্ত দিয়ে জনমত গঠিত হবে’।

লেখাটি যখন শেষ করেছি তখন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাই। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবলভাবে নেমে আসে, ধর্মান্ধরা বলতে থাকে, ‘নারী’ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণেই সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে। কিন্তু তিনি ধর্মান্ধদের এমন জঘন্য সমালোচনার মুখেও নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন, শত সমালোচনার মুখেও তিনি সুন্দর করে সাজতেন এই দুটি কারণে আমার তরফ থেকে কুর্নিশ। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক]

সড়ক হোক নিরাপদ

স্কুল ব্যাংকিং: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

নির্বাচন কি মবোক্রেসি বন্ধ করবে?

ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড: স্বচ্ছতা না নতুন ঝুঁকি?

খ্রিস্টীয় নববর্ষ প্রচলনের ইতিকথা

২০২৬-এর বাংলাদেশ: স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সন্ধানে এক নতুন শুরু

ছবি

স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন বছর

পেঁয়াজ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি

মাধ্যমিকে অব্যবস্থাপনা

‘কক অ্যান্ড বুল স্টোরি’

মব সংস্কৃতি, ন্যায়বিচারের সংকট ও সমাজের আত্মক্ষয়

শীতকালীন জীবন: সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও সহমর্মিতা

অ্যালগরিদমের রাজনীতি

চারদিকে আতঙ্ক আর শঙ্কা

অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই

দিপু দাস হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাস

ভোগের দৃশ্যপট: ঢাকায় আধুনিকতা কেন কেবল অল্প কিছু মানুষের জন্য?

স্বর্ণের মোহ ও মানবিক দ্বন্দ্ব

ভালোবাসার দেহধারণ: বড়দিনের তাৎপর্য

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

বিনা-ভাড়ার ট্রেনযাত্রা

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এশিয়া

ছবি

নামে ইসলামী, কাজে আবু জাহেল!

জলবায়ু পরিবর্তন: স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি

অস্থির পেঁয়াজের বাজার: আমদানি কি সত্যিই সমাধান?

মূল্যবৃদ্ধির ঘেরাটোপ: সংকটাক্রান্ত পরিবার ও সামাজিক রূপান্তর

বায়দূষণে অকালমৃত্যু

লাশের বদলে লাশই যদি চুড়ান্ত হয়, তবে রাষ্ট্রের দরকার কী?

ভিক্ষাবৃত্তি যেখানে অন্যতম পেশা

বুদ্ধিজীবী হত্যা ও এর স্বরূপ সন্ধানে

আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ও নিরাপত্তা সংকট

“মুনীর চৌধুরীর কবর...”

বুদ্ধিজীবী হত্যা ও এর স্বরূপ সন্ধানে

জলবায়ু সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা

স্বাধীন তদন্ত কমিশন দাবির নেপথ্যে কি দায়মুক্তি?

বুদ্ধিজীবী হত্যা ও এর স্বরূপ সন্ধানে

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

জিয়াউদ্দীন আহমদে

শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজনীতির মাঠের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব খুব দ্রুত বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হাত থেকে খসে পড়তে থাকে। মোহাম্মদ ইউনূসকে তারা নিয়োগ দিলেও তারা তাকে ধরে রাখতে পারেনি, কারণ ইউনূস বুঝতে পেরেছিলেন শুধু এনসিপি ও তাদের ওপর নির্ভরতায় নির্বিঘেœ ও নিরাপদে দেশ শাসন করা যাবে না, দেশ শাসন করতে লাগবে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থন। ক্ষমতায় বসে একটু পরিপক্ক হওয়ার পর আরও বুঝলেন, তার ক্ষমতার বর্তমানকে ভবিষ্যতের জন্য আইনসম্মত করতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদ লাগবে। সম্ভবত এই আশীর্বাদের জন্যই তিনি ছুটে গেলেন লন্ডন, দেখা করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। তখনই জনগণ উপলব্ধি করল, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। জামায়াত বলল, ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপির তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তার ও সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ করেছেন। ইউনূস জামায়াতের কথায় কান দেননি। মোহাম্মদ ইউনূস ‘জানেন না, বোঝেন না’- এমন ভাবার কোন কারণ নেই। তিনি শুনেন সবকিছু, বোঝেন আদ্যপান্ত, কিন্তু করেন ও চলেন নিজের নির্ধারিত ছকে।

সরকারের সমালোচনা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী সাংবাদিকরা অন্তর্বর্তী সরকারের নানা দুর্বলতা ও অসঙ্গতি নিয়ে সমালোচনা করেছেনও, কিন্তু তিনি কোন সমালোচকের বক্তব্য বা আলোচকের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন বোধও করছেন না। তার কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি একই সময়ে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিকে তুষ্ট রাখতে সমর্থ হয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তার হাতিয়ার। রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও তিনি আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের ভীতি জাগ্রত রেখেছেন, সংকট দেখা দিলেই আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার ডাক দিচ্ছেন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিনাবাক্যে তার ডাকে সাড়া দিয়ে যমুনায় মিলিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগ ঠেকানোর শপথ নিচ্ছে। শপথ নেয়ার যুক্তিও আছে, আওয়ামী লীগকে না ঠেকালে বিএনপি বা জামায়াতের সহজ জয় সম্ভব হবে না। আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি সাচ্ছন্দ বোধ করছে, জামায়াতও। জামায়াত মনে করছে, জিতলে ক্ষমতায় বসবে, না জিতলে সংসদে বিরোধী দল হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে জামায়াত, আজ সেই রাজনৈতিক দল স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতায় যাবে, বা সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসবে এই সুযোগ আওয়ামী লীগ মাঠে থাকলে হতো না।

অন্তর্বর্তী সরকার ও মোহাম্মদ ইউনূস বাহ্যত বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেই ইউনূস থেমে যাননি, বিএনপির ইমেজ বাড়ানোর জন্য যা যা করা দরকার তিনি তা তা করছেন। খালেদা জিয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিভিআইপি ঘোষণা করেছিল সরকার, তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিল স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতাও করেছে। খালেদা জিয়া যখন হাসপাতালে অবচেতন অবস্থায়, তখন তাকে ভিভিআইপি ঘোষণা বা এসএসএফ কর্তৃক নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি তার জন্য ছিল অপ্রয়োজনীয়, মুর্মূষু খালেদা জিয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকার কথা নয়। তিনি তিন তিন বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এই জাতীয় সুবিধা তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করেছেন, তার জন্য তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সন্মান এবং বিএনপির ইমেজ বেড়েছে। ইমেজ বাড়ানোর এত তাগিদ ইউনূস সরকার কেন অনুভব করলেন? কারণ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সর্বত্র বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দলের ইমেজকে তলানিতে নামিয়ে দিয়েছিল। বিএনপির ইমেজ বাড়ানোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার এখানে থেমে যায়নি, তা প্রসারিত করেছে তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও।

চব্বিশের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজনীতির মাঠের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব খুব দ্রুত বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হাত থেকে খসে পড়তে থাকে। মোহাম্মদ ইউনূসকে তারা নিয়োগ দিলেও তারা তাকে ধরে রাখতে পারেনি, কারণ ইউনূস বুঝতে পেরেছিলেন শুধু এনসিপি ও তাদের ওপর নির্ভরতায় নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে দেশ শাসন করা যাবে না, দেশ শাসন করতে লাগবে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থন। ক্ষমতায় বসে একটু পরিপক্ক হওয়ার পর আরও বুঝলেন, তার ক্ষমতার বর্তমানকে ভবিষ্যতের জন্য আইনসম্মত করতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদ লাগবে

তারেক রহমান দেশে আসবেন, বিএনপির চেয়ে আনন্দ বেশি অন্তর্বর্তী সরকার ও মোহাম্মদ ইউনূসের। খুশি না হলে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোন একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার আগমন ও ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে এত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা নয়। তফসিল ঘোষণার পর সাধারণ নিয়মে মাঠপর্যায়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার প্রয়োগ করে তাকে ভোটার করা হয়েছে। ইউনূস ফোন করে বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে কুশল বিনিময় করেছেন। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করা ছাড়াও নিয়মিত কয়েকটি ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করেছে, কয়েকটি নিয়মিত ট্রেন বন্ধও রেখেছিল। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে রাস্তার দুই পাশের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সংবর্ধনা নিতে নিতে তিনি পৌঁছে যান পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনা মঞ্চে’। গুলশান অ্যাভিনিউর যে বাসায় তিনি থাকছেন সেই বাসার নিরাপত্তায় পুলিশ, বিজিবি ও র?্যাব মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের রাস্তাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

একসময় তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বলেছিলেন; কিন্তু তার কিছুদিন পরে তিনি হঠাৎ বলে বসলেন, ‘দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আমার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এই বক্তব্য ছিল সবার নিকট দুর্জ্ঞেয় ও অপ্রত্যাশিত। একদিকে মুর্মূষু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির দোয়ায় দেশবাসী প্রার্থনা করছে, অথচ ছেলে পাশে নেই; অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতার অংশগ্রহণের অনিশ্চিয়তায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। সরকার তড়িঘড়ি করে ঘোষণা দিল, তারেক রহমানের দেশে আগমনে সরকারের তরফ থেকে কোন বাধা নেই, পাসপোর্ট না থাকলে ট্রাভেল পাস ইস্যু করার জন্য সরকার এক পায়ে দন্ডায়মান। তাহলে বাধা কোথায়? বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে তারেক রহমানের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে শুরু করল। বিএনপি বিরোধীরা বলতে থাকল, তারেক রহমান লন্ডনের রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে আসতে চান না, কারণ একবার ত্যাগ করলে তা আবার ফেরত পাওয়া যাবে না। অনেকে বললেন, সেনাবাহিনীর কাছে দেয়া মুচলেকা তার ফেরত আসার পথে প্রধান বাধা। বিএনপির সমর্থকরা বলল, ভারতের কারণে আসতে পারছে না। এগুলো সব অমূলক ও অর্থহীন প্যাঁচাল। তবে এই ঘোরপ্যাঁচ সৃষ্টির মধ্যে ইমেজ বাড়ানোর একটা কৌশল থাকতে পারে, নতুবা এত দ্রুত সব বাধা অপসারণ হওয়ার কথা নয়।

আরও আছে। ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড পেয়েছেন এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র এক দিনে, আর এই দুটি কাজ শেষ করতে ইসি অফিসে তারেক রহমান সময় ব্যয় করেছেন মাত্র ১৮ মিনিট। ইচ্ছা করলে তারেক রহমান বাসায় অবস্থান করেও এগুলো সমাধা করতে পারতেন, ইসি অফিস প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, তারেক রহমানের আইডি কার্ড ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের নিমিত্তে সাপ্তাহিক ছুটি শনিবারে ইসি অফিস খোলা রাখা হয়। এটা ভালো দিক, ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এমন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয় না কেন? সরকারি অফিসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে এতদিন যত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে তা নিয়ে কয়েকশ বই লেখা যাবে। এত সমালোচনা সত্ত্বেও আমলাদের বিলম্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিগত ৫৪ বছরে অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে। বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে বহু বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশ হারিয়েছে, বহু প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদন না হওয়ায় প্রকল্প সিক হয়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের জনসেবা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে নাজেহাল হয়নি এমন একজন সেবাগ্রহীতাকেও পাওয়া যাবে না। শুধু তারেক রহমান নয়, একই দ্রুততায় রাষ্ট্র প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের ইস্যুগুলোরও সমাধা করেছে। এমন দ্রুততা সোনালী ব্যাংকও দেখিয়েছিল তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে।

আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র খুব দ্রুতই কর্ম সম্পাদন করতে পারে, যদি সেবাগ্রহীতা ক্ষমতায় কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে। চিকিৎসা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্রুততায় কর্ম সম্পাদন উন্নত দেশগুলোতে ভিআইপি ও সাধারণ নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমাদের দেশে হয় না এবং না হওয়ার প্রধান কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দুর্নীতি আর অজ্ঞতা। মন্ত্রী দক্ষ, জ্ঞানী ও দুর্নীতিমুক্ত হলে মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি আসতে বাধ্য। দেশ এবং জনগণের জন্য তারেক রহমানের একটি পরিকল্পনা আছে, পরিকল্পনাটি এখনো অজ্ঞাত এবং অশ্রুত, কিন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রত্যাশায় তিনি ওসমান হাদির পাশাপাশি আগুনে ভস্মীভূত দীপু চন্দ্র দাসের কথা উচ্চারণ করতে ভয় পেয়েছেন, তিনি অন্ততপক্ষে এমনতর নির্যাতন রোধে তার কর্মীদের তৎপর থাকার নির্দেশ দিতে পারতেন। এক বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এত ভয় এবং নেতৃত্বে এত সীমাবদ্ধতা থাকলে সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন দূর হবে না, অনবচ্ছিন্ন থেকে যাবে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই। প্রতিহিংসা ও মব সন্ত্রাসের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনীতির ক্রমাবনতি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রবর্তন জরুরি। কোন রাজনৈতিক দল জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত না হলে শুধু রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা ধ্বংস বা বিলীন করা যায় না রাজনৈতিক নেতাদের এই উপলদ্ধি জাগ্রত না হলে একসময় বাংলাদেশেরও অন্যতম পেশা হবে পাকিস্তানের মতো ভিক্ষাবৃত্তি। অবাস্তব ও অলীক বিষয় নিয়ে বর্তমানে যেভাবে জাতির মানসগঠন তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে তা রোধ করা না হলে তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর একটি কথা অন্তর্ভুক্ত করতে অনুরোধ করছি, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতার অভিমত দিয়ে আমার মতের গঠন হবে না, আমার মত ও সিদ্ধান্ত দিয়ে জনমত গঠিত হবে’।

লেখাটি যখন শেষ করেছি তখন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাই। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবলভাবে নেমে আসে, ধর্মান্ধরা বলতে থাকে, ‘নারী’ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণেই সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে। কিন্তু তিনি ধর্মান্ধদের এমন জঘন্য সমালোচনার মুখেও নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন, শত সমালোচনার মুখেও তিনি সুন্দর করে সাজতেন এই দুটি কারণে আমার তরফ থেকে কুর্নিশ। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক]

back to top