হোসেন আবদুল মান্নান
দেশে এখন বহুল আলোচিত নির্বাচনী হাওয়া চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যে যার মতো কথা বলে চলেছেন। আকারে, ইশারায়, ইঙ্গিতপূর্ণ উপমার, কাব্যিক কথনে সমালোচনা চলছে। তবুও মনে হয়, সকলই তারা সকলের তরে। তাদের উদ্দেশ্যে, আদর্শে-নীতিতে কোথায় যেন একটা অদৃশ্য মিল রয়েছে।
শিশু দুটো কি স্বেচ্ছায় আত্মহনন বেছে নিয়েছিল? তারা কি আত্মহত্যা বুঝত? পৃথিবী এদের কী দিয়েছে?
বিশাল কোনো ব্যবধানের মধ্যে এদের অবস্থান নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য এটা অবশ্যই স্বস্তির কথা। মাঠে সাংঘর্ষিকতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে শত প্রতিশ্রুতির রাজনৈতিক কবিতার আবৃত্তি চলমান আছে। যদিও ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনার সামনে এখনও সিদ্ধান্তহীনতার এক অভেদ্য প্রাচীর দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে ভোট অনুষ্ঠানের নিত্য অনিশ্চয়তা। যেন গুজবের শাখায় ভর করে চলেছে সত্য-অসত্যের রেটোরিক্স। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এমন দোদুল্যমানতা আগে কখনও দেখা যায়নি। সংবাদ আদান-প্রদানে কোনটা আসল কোনটা নকল, কোনটা এআই জেনারেটেড কনটেন্ট বুঝতে গিয়ে মানুষ পড়ে গেছে মস্ত বড় ফাঁপড়ে। আবার প্রতিদিন দিবালোকের মতো সত্যও চাপা পড়ে যাচ্ছে হাজারো কৃত্রিম অসংবাদের কালো ছায়ার অন্তরালে। কী এক অদ্ভুত সময় পার করে চলেছে স্বদেশ!
২.
এবারের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিল এবং পরবর্তীতে ফেরত পাওয়া বিষয়ে একটা মজার দৌড় প্রতিযোগিতা সবাই উপভোগ করেছে। প্রথমে বাতিল হয়ে যায় পরে ইসি এবং সর্বশেষ হাইকোর্ট বিভাগ বা চেম্বার জজ পর্যন্ত আপ-ডাউন করে প্রায় সবাই বহাল। মাঠে-ঘাটে প্রতিশ্রুতির তুবড়ি ওড়িয়ে দিচ্ছেন আকাশে বাতাসে। মিছিলের আগে হাত নেড়ে বিজয় সংকেত দেখাচ্ছেন। ছোট ছোট গ্রামীণ ব্রিজ কালভার্টের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ বলছেন, এসব কাজে সরকারের দিকে তাকাতে হবে না নিজে, স্বউদ্যোগেই করে ফেলব ইনশাআল্লাহ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঋণের দায়ে ব্যাংকের খেলাপির তালিকাভুক্ত ছিলেন। পত্রিকার ভাষ্যে ছিল, হাতেগোনা কয়েকজনের কাছেই মোট ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংক পায়। একজন প্রার্থীই ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা দিব্যি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং তাদের অঙ্গীকারের কথাই মানুষ বেশি আমলে নিচ্ছে। কারণ টাকা কথা বলে। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে পরোক্ষভাবে লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করছেন। তারা ভোটারকে ‘সোনার হরিণ’ এনে দেয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
৩.
এসবের ভেতর ঢাকায় যেন চলছে অন্যকিছু। পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন, নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে রাস্তাঘাটে যানবাহনে। পথচারী, রোগীর অ্যাম্বুলেন্স, সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ পড়ে যায় বিপাকে। পুলিশবাহিনী যথারীতি আগের মতো দায়িত্ব পালন করে চলেছে। বেশকিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে তাৎক্ষণিক হাসপাতালবাসী হয়েছে অনেক নেতাকর্মী। তাদের দাবি সবার আগে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকে হয়তো জানেই না পে-স্কেলে কোথায় লাভ, কোথায় লোকসান?
আরেক গ্রুপ ইনকিলাব মঞ্চ থেকে ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখলে নেয়। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। সংঘর্ষে জড়িয়ে অনেকে আহত হয়।
টিয়ার শেল, লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ হয়। তারা যুদ্ধংদেহি ও অপেক্ষাকৃত বেশি মারদাঙ্গা ধরনের।
চট্টগ্রাম বন্দর ধর্মঘটের কবলে পড়ে নাকাল হয়ে ওঠেছে। কাজকর্ম একেবারে বন্ধ হয়ে আছে। পোশাক শিল্পের ওপর ধাক্কা পড়ছে। রপ্তানি পণ্যবোঝাই কন্টেইনার নড়ছে না। জাহাজের লোডিং-আনলোডিং বন্ধ হয়ে আছে। আবার সুশীলদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। তারা তা প্রতিহত করবেন। রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ পর্যন্ত করবেন। বেলা শেষের এমন অস্থির চিত্র কীসের আলামত বোঝা যাচ্ছে না।
৪.
দেশের ভেতরে বাইরের বহুমাত্রিক দৃশ্যপটের ভিড়ে যেন ছোটপর্দায় ভেসে আসে একটা হৃদয় বিদারক ঘটনা; যা কেবল মানুষকেই গহীন ভেতর থেকে স্পর্শ করে যাবে। গতকাল এই খবর একটি জাতীয় দৈনিক শেষ পৃষ্ঠার শেষপ্রান্তে ছাপায়। পাঠ করে কতক্ষণ স্তব্ধতার ঘোরে অবচেতন ছিলাম। রাজধানীর মীরপুর পল্লবীতে একই পরিবারের চারজনের আত্মহত্যার ঘটনা। বাবা, মা আর অবুঝ সন্তানদ্বয়। একজন অটোরিকশা চালক মাসুম (৩৫), স্ত্রী ফাতেমা (৩০), দুই পুত্র সন্তান মিনহাজ আর আসহাদের বয়স যথাক্রমে ৪ ও ২ বছর। পুলিশ লাশগুলো বিহারি ক্যাম্পের ওয়াপদা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। তারা বলেছে, মাসুম অভাব-অনটনে পড়ে, সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে, প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা থেকেই এমনটা করেছে।
পুলিশ অন্যকোনো বিষয়ে এখনও যায়নি। তবে তারা সন্দেহমুক্ত নয়। এদেশে যা হয়, তা-ই। তারা কীভাবে আত্মহত্যা করলো ফাঁসিতে, বিষপানে, ছুরির আঘাতে- সেটা কিন্তু খবরে নেই।
ভাবছিলাম, মানুষের এত অর্থ, এত বিলাসবহুল জীবন, এত সমাজকর্ম, দানবীর খেতাবপ্রাপ্তির প্রবল বাসনা অথচ এ আত্মহত্যাকারীদের জীবন কাহিনির কথা কেউ কী জানত? গতকাল থেকে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো কয়েকটি প্রশ্ন- শিশু দুটো কি স্বেচ্ছায় আত্মহনন বেছে নিয়েছিল? তারা কি আত্মহত্যা বুঝত? পৃথিবী এদের কী দিয়েছে?
[লেখক : গল্পকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
হোসেন আবদুল মান্নান
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দেশে এখন বহুল আলোচিত নির্বাচনী হাওয়া চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যে যার মতো কথা বলে চলেছেন। আকারে, ইশারায়, ইঙ্গিতপূর্ণ উপমার, কাব্যিক কথনে সমালোচনা চলছে। তবুও মনে হয়, সকলই তারা সকলের তরে। তাদের উদ্দেশ্যে, আদর্শে-নীতিতে কোথায় যেন একটা অদৃশ্য মিল রয়েছে।
শিশু দুটো কি স্বেচ্ছায় আত্মহনন বেছে নিয়েছিল? তারা কি আত্মহত্যা বুঝত? পৃথিবী এদের কী দিয়েছে?
বিশাল কোনো ব্যবধানের মধ্যে এদের অবস্থান নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য এটা অবশ্যই স্বস্তির কথা। মাঠে সাংঘর্ষিকতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে শত প্রতিশ্রুতির রাজনৈতিক কবিতার আবৃত্তি চলমান আছে। যদিও ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনার সামনে এখনও সিদ্ধান্তহীনতার এক অভেদ্য প্রাচীর দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে ভোট অনুষ্ঠানের নিত্য অনিশ্চয়তা। যেন গুজবের শাখায় ভর করে চলেছে সত্য-অসত্যের রেটোরিক্স। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এমন দোদুল্যমানতা আগে কখনও দেখা যায়নি। সংবাদ আদান-প্রদানে কোনটা আসল কোনটা নকল, কোনটা এআই জেনারেটেড কনটেন্ট বুঝতে গিয়ে মানুষ পড়ে গেছে মস্ত বড় ফাঁপড়ে। আবার প্রতিদিন দিবালোকের মতো সত্যও চাপা পড়ে যাচ্ছে হাজারো কৃত্রিম অসংবাদের কালো ছায়ার অন্তরালে। কী এক অদ্ভুত সময় পার করে চলেছে স্বদেশ!
২.
এবারের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিল এবং পরবর্তীতে ফেরত পাওয়া বিষয়ে একটা মজার দৌড় প্রতিযোগিতা সবাই উপভোগ করেছে। প্রথমে বাতিল হয়ে যায় পরে ইসি এবং সর্বশেষ হাইকোর্ট বিভাগ বা চেম্বার জজ পর্যন্ত আপ-ডাউন করে প্রায় সবাই বহাল। মাঠে-ঘাটে প্রতিশ্রুতির তুবড়ি ওড়িয়ে দিচ্ছেন আকাশে বাতাসে। মিছিলের আগে হাত নেড়ে বিজয় সংকেত দেখাচ্ছেন। ছোট ছোট গ্রামীণ ব্রিজ কালভার্টের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ বলছেন, এসব কাজে সরকারের দিকে তাকাতে হবে না নিজে, স্বউদ্যোগেই করে ফেলব ইনশাআল্লাহ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঋণের দায়ে ব্যাংকের খেলাপির তালিকাভুক্ত ছিলেন। পত্রিকার ভাষ্যে ছিল, হাতেগোনা কয়েকজনের কাছেই মোট ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংক পায়। একজন প্রার্থীই ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা দিব্যি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং তাদের অঙ্গীকারের কথাই মানুষ বেশি আমলে নিচ্ছে। কারণ টাকা কথা বলে। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে পরোক্ষভাবে লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করছেন। তারা ভোটারকে ‘সোনার হরিণ’ এনে দেয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
৩.
এসবের ভেতর ঢাকায় যেন চলছে অন্যকিছু। পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন, নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে রাস্তাঘাটে যানবাহনে। পথচারী, রোগীর অ্যাম্বুলেন্স, সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ পড়ে যায় বিপাকে। পুলিশবাহিনী যথারীতি আগের মতো দায়িত্ব পালন করে চলেছে। বেশকিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে তাৎক্ষণিক হাসপাতালবাসী হয়েছে অনেক নেতাকর্মী। তাদের দাবি সবার আগে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকে হয়তো জানেই না পে-স্কেলে কোথায় লাভ, কোথায় লোকসান?
আরেক গ্রুপ ইনকিলাব মঞ্চ থেকে ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখলে নেয়। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। সংঘর্ষে জড়িয়ে অনেকে আহত হয়।
টিয়ার শেল, লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ হয়। তারা যুদ্ধংদেহি ও অপেক্ষাকৃত বেশি মারদাঙ্গা ধরনের।
চট্টগ্রাম বন্দর ধর্মঘটের কবলে পড়ে নাকাল হয়ে ওঠেছে। কাজকর্ম একেবারে বন্ধ হয়ে আছে। পোশাক শিল্পের ওপর ধাক্কা পড়ছে। রপ্তানি পণ্যবোঝাই কন্টেইনার নড়ছে না। জাহাজের লোডিং-আনলোডিং বন্ধ হয়ে আছে। আবার সুশীলদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। তারা তা প্রতিহত করবেন। রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ পর্যন্ত করবেন। বেলা শেষের এমন অস্থির চিত্র কীসের আলামত বোঝা যাচ্ছে না।
৪.
দেশের ভেতরে বাইরের বহুমাত্রিক দৃশ্যপটের ভিড়ে যেন ছোটপর্দায় ভেসে আসে একটা হৃদয় বিদারক ঘটনা; যা কেবল মানুষকেই গহীন ভেতর থেকে স্পর্শ করে যাবে। গতকাল এই খবর একটি জাতীয় দৈনিক শেষ পৃষ্ঠার শেষপ্রান্তে ছাপায়। পাঠ করে কতক্ষণ স্তব্ধতার ঘোরে অবচেতন ছিলাম। রাজধানীর মীরপুর পল্লবীতে একই পরিবারের চারজনের আত্মহত্যার ঘটনা। বাবা, মা আর অবুঝ সন্তানদ্বয়। একজন অটোরিকশা চালক মাসুম (৩৫), স্ত্রী ফাতেমা (৩০), দুই পুত্র সন্তান মিনহাজ আর আসহাদের বয়স যথাক্রমে ৪ ও ২ বছর। পুলিশ লাশগুলো বিহারি ক্যাম্পের ওয়াপদা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। তারা বলেছে, মাসুম অভাব-অনটনে পড়ে, সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে, প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা থেকেই এমনটা করেছে।
পুলিশ অন্যকোনো বিষয়ে এখনও যায়নি। তবে তারা সন্দেহমুক্ত নয়। এদেশে যা হয়, তা-ই। তারা কীভাবে আত্মহত্যা করলো ফাঁসিতে, বিষপানে, ছুরির আঘাতে- সেটা কিন্তু খবরে নেই।
ভাবছিলাম, মানুষের এত অর্থ, এত বিলাসবহুল জীবন, এত সমাজকর্ম, দানবীর খেতাবপ্রাপ্তির প্রবল বাসনা অথচ এ আত্মহত্যাকারীদের জীবন কাহিনির কথা কেউ কী জানত? গতকাল থেকে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো কয়েকটি প্রশ্ন- শিশু দুটো কি স্বেচ্ছায় আত্মহনন বেছে নিয়েছিল? তারা কি আত্মহত্যা বুঝত? পৃথিবী এদের কী দিয়েছে?
[লেখক : গল্পকার]