রেজাউল করিম খোকন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সবাই জনকল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন হলো- আসলেই কী এতসব কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশাসনিক সংস্কার করতে সক্ষম হবে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা নতুন সরকার।
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পরে তার প্রতিশ্রুতির কতটুকু রক্ষা করেন, তা সময়ই বলে দেয়
নির্বাচন মানেই প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন ও প্রতিশ্রুতি শব্দ দুটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। নির্বাচনের সময়ে প্রত্যেক প্রার্থী নিজ দলের কেন্দ্রীয়ভাবে গৃহীত নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরে গিয়ে নিজ এলাকার জনজীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পরে তার প্রতিশ্রুতির কতটুকু রক্ষা করেন, তা সময়ই বলে দেয়। নির্বাচন হলো প্রতিনিধি বাছাইয়ের মাধ্যম। আর তা যত সুষ্ঠু হবে, ততই জনগণের আশা-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে।
এর মাধ্যমেই জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন, সর্বক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণই নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করে। কিন্তু সেখানে যদি জনগণ তাদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তা প্রশাসন তথা দেশের ব্যর্থতারই পরিচয় বহন করে। নির্বাচন আসন্ন হলেই প্রার্থীরা ছুটে বেড়ান পথে প্রান্তরে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তখন তারা বিভিন্ন এলাকার সবচেয়ে নিম্ন আয়ের লোকের কাছে যেতেও দ্বিধান্বিত হন না।
সর্বসাধারণের দ্বারে দ্বারে নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নে নিজের অবদান জনগণের সামনে তুলে ধরেন। জনগণকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। এ সময় বিরোধী দলের নিন্দা আর নিজ দলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করা তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নির্বাচন আসলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে নির্বাচনী ইশতেহার- যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবেও পরিগণিত। নির্বাচনের সময়েই প্রত্যেক প্রার্থী নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়নকল্পে জনগণের বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত ইশতেহার প্রণয়ন করেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বিভিন্ন পথসভা, মিটিং-মিছিল, লিফলেটের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতিসমূহ প্রচার করে থাকেন।
তবে দুঃখের বিষয়, নির্বাচিত হওয়ার পরে অনেক সময়ই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিকে ভ্রুক্ষেপই করেন না।
তা খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন তারা হয়ে উঠেন আত্মকেন্দ্রিক। যাদের ভোটে নির্বাচিত নেতা, সেই ভোটাররাই হয়ে যায় উপেক্ষিত। তখন তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ভুলে যান জনগণের কষ্ট ও দুর্দশার কথা। যে বা যারা নির্বাচনের সময় জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারাও ভুলে যান যে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করা তাদের একান্ত কর্তব্য। বরং যারা ভোটের জন্য জনগণের কাছে ধরনা দিত, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কাছেই জনগণকে বারবার ধরনা দিতে হয়। মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচিত প্রার্থীর কোনো সাক্ষাৎই ভোটাররা পান না।
নির্বাচনের সময় রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতির অভাব হয় না। কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, সুশাসন সবকিছুরই আশ্বাস শোনা যায়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই বাস্তব জীবনে আর চোখে পড়ে না। তখন প্রশ্ন ওঠে- এই প্রতিশ্রুতিগুলোর দায় আসলে কার?
গণতন্ত্রে ভোট দেয়া কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। ভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা সাময়িকভাবে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা জনপ্রতিনিধির হাতে তুলে দেন। এর বিনিময়ে প্রত্যাশা একটাই জনগণের স্বার্থে কাজ করা এবং নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। এই দায়িত্ব শুধু ভোটের দিনেই শেষ নয়। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি কি শুধু ভোট পাওয়ার কৌশল? নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে শত শত প্রতিশ্রুতি থাকে; কিন্তু বাস্তবে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়? এই প্রশ্নটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে গবেষণার বিষয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণা দেখিয়েছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নির্ভর করে সরকার কোন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে এসেছে এবং তাদের কতটা নীতিগত প্রস্তুতি ছিল। বাংলাদেশে স্বাধীন অনুসন্ধানকারীরা দীর্ঘদিন বলতে আসছেন দলগুলোর ইশতেহার ও বাস্তবায়নের মধ্যে বিশাল ফাঁক আছে।
বাংলাদেশে অনেক প্রতিশ্রুতি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন জনপ্রতিনিধি চাইলেই সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারেন। কিন্তু আইনি কাঠামো, বাজেট সীমাবদ্ধতা, কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার বিভাজন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জনপ্রতিনিধিদের অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়া সেটিই দায়বোধহীন আচরণ। ভোটাররা কি পাঁচ বছরের জন্য নীরব দর্শক?
[লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রেজাউল করিম খোকন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সবাই জনকল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন হলো- আসলেই কী এতসব কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশাসনিক সংস্কার করতে সক্ষম হবে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা নতুন সরকার।
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পরে তার প্রতিশ্রুতির কতটুকু রক্ষা করেন, তা সময়ই বলে দেয়
নির্বাচন মানেই প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন ও প্রতিশ্রুতি শব্দ দুটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। নির্বাচনের সময়ে প্রত্যেক প্রার্থী নিজ দলের কেন্দ্রীয়ভাবে গৃহীত নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরে গিয়ে নিজ এলাকার জনজীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পরে তার প্রতিশ্রুতির কতটুকু রক্ষা করেন, তা সময়ই বলে দেয়। নির্বাচন হলো প্রতিনিধি বাছাইয়ের মাধ্যম। আর তা যত সুষ্ঠু হবে, ততই জনগণের আশা-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে।
এর মাধ্যমেই জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন, সর্বক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণই নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করে। কিন্তু সেখানে যদি জনগণ তাদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তা প্রশাসন তথা দেশের ব্যর্থতারই পরিচয় বহন করে। নির্বাচন আসন্ন হলেই প্রার্থীরা ছুটে বেড়ান পথে প্রান্তরে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তখন তারা বিভিন্ন এলাকার সবচেয়ে নিম্ন আয়ের লোকের কাছে যেতেও দ্বিধান্বিত হন না।
সর্বসাধারণের দ্বারে দ্বারে নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নে নিজের অবদান জনগণের সামনে তুলে ধরেন। জনগণকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। এ সময় বিরোধী দলের নিন্দা আর নিজ দলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করা তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নির্বাচন আসলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে নির্বাচনী ইশতেহার- যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবেও পরিগণিত। নির্বাচনের সময়েই প্রত্যেক প্রার্থী নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়নকল্পে জনগণের বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত ইশতেহার প্রণয়ন করেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বিভিন্ন পথসভা, মিটিং-মিছিল, লিফলেটের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতিসমূহ প্রচার করে থাকেন।
তবে দুঃখের বিষয়, নির্বাচিত হওয়ার পরে অনেক সময়ই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিকে ভ্রুক্ষেপই করেন না।
তা খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন তারা হয়ে উঠেন আত্মকেন্দ্রিক। যাদের ভোটে নির্বাচিত নেতা, সেই ভোটাররাই হয়ে যায় উপেক্ষিত। তখন তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ভুলে যান জনগণের কষ্ট ও দুর্দশার কথা। যে বা যারা নির্বাচনের সময় জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারাও ভুলে যান যে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করা তাদের একান্ত কর্তব্য। বরং যারা ভোটের জন্য জনগণের কাছে ধরনা দিত, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কাছেই জনগণকে বারবার ধরনা দিতে হয়। মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচিত প্রার্থীর কোনো সাক্ষাৎই ভোটাররা পান না।
নির্বাচনের সময় রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতির অভাব হয় না। কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, সুশাসন সবকিছুরই আশ্বাস শোনা যায়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই বাস্তব জীবনে আর চোখে পড়ে না। তখন প্রশ্ন ওঠে- এই প্রতিশ্রুতিগুলোর দায় আসলে কার?
গণতন্ত্রে ভোট দেয়া কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। ভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা সাময়িকভাবে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা জনপ্রতিনিধির হাতে তুলে দেন। এর বিনিময়ে প্রত্যাশা একটাই জনগণের স্বার্থে কাজ করা এবং নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। এই দায়িত্ব শুধু ভোটের দিনেই শেষ নয়। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি কি শুধু ভোট পাওয়ার কৌশল? নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে শত শত প্রতিশ্রুতি থাকে; কিন্তু বাস্তবে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়? এই প্রশ্নটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে গবেষণার বিষয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণা দেখিয়েছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নির্ভর করে সরকার কোন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে এসেছে এবং তাদের কতটা নীতিগত প্রস্তুতি ছিল। বাংলাদেশে স্বাধীন অনুসন্ধানকারীরা দীর্ঘদিন বলতে আসছেন দলগুলোর ইশতেহার ও বাস্তবায়নের মধ্যে বিশাল ফাঁক আছে।
বাংলাদেশে অনেক প্রতিশ্রুতি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন জনপ্রতিনিধি চাইলেই সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারেন। কিন্তু আইনি কাঠামো, বাজেট সীমাবদ্ধতা, কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার বিভাজন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জনপ্রতিনিধিদের অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়া সেটিই দায়বোধহীন আচরণ। ভোটাররা কি পাঁচ বছরের জন্য নীরব দর্শক?
[লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]