জাঁ-নেসার ওসমান
‘হেঁ হেঁ ভোট দিছি ভাই ছিল দিছি!’
‘একিরে! এ আবার কী কথা, “ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি”। ভোট দিয়েছিস, ভালোকথা, কিন্তু ছিল দিছি! মানে, কী বলতে চাস, তুই আবার কাকে বোকা বানিয়ে টাকা কামালি, ক্যান্ডিডেটের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিস? মানে কোন প্রার্থীকে আবার ছিল দিলি?’
‘হেঁ হেঁ আপনে যে কী কন? এই ছিল তো সেই ছিল নয়, এইডা হোইলো রাবার স্ট্যাম্পে কালি লাগায়া, ব্যালট পেপারে ছিল দিছি।’
পেরথমে কেন্দ্রে গেলাম। ব্যালট পেপারে ভুট দিলাম। তারপর যখন কেন্দ্র থ্যেইক্কা বাহির হমু তখন প্রিসাইডিং অফিসার আমারে কয়, কী রে ভাই, ভুট তো দিলেন, এইবার ছিল দিবেন না?’ আমি কোই কিয়ের ছিল? হ্যায় কয়, ‘হ্যাঁ-না’-এর, ছিল। তখন আমি কোইলাম, ভুট তো দিছি আবার ‘হ্যাঁ-না’-এর ছিল এইডা আবার কিডা! জীবনে তো শুনি নাই, ভুট দেওনের পর আবার ছিল দেওন লাগপে!’
‘ও মানে তুই বলতে চাস যে, তুই ব্যালট পেপারে সিল দিয়েছিস, অর্থাৎ ব্যালট পেপারে সিলমোহর মেরেছিস?’
‘হ হ, মিয়া ভাই আমি ব্যালট পেপারে ছিল দিছি, আমি কুনো ক্যান্ডিডেটের কাছ থেকে টাকা নেই নাই।’
‘তুই যদি কেবল সিল দিস, তাহলে সেটাকে ছিল বলছিস ক্যেনো, বলবি সিল দিয়েছি।’
‘ওই হোইলো ছিল দিছি ভাই, ছিল দিছি।’
‘আচ্ছা তুই ভোট দিয়েছিস, নির্বাচনে তোর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিস, সেটা বুঝলাম। কিন্তু “ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি” বুঝলাম না। ভোট তো দিলি কিন্তু সিল দিয়েছিস সেটা কী?’
‘এ্যাঁ, কুচি খুকা, “ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি” এই কথাটা না বুঝার কী আছে! পেরথমে কেন্দ্রে গেলাম। ব্যালট পেপারে ভুট দিলাম। তারপর যখন কেন্দ্র থ্যেইক্কা বাহির হমু তখন প্রিজাইডিং অফিসার আমারে কয়, কি রে ভাই, ভুট তো দিলেন, এইবার ছিল দিবেন না?’ আমি কোই কিয়ের ছিল? হ্যায় কয়, ‘হ্যাঁ-না’এর, ছিল। তখন আমি কোইলাম, ভুট তো দিছি আবার ‘হ্যাঁ-না’-এর ছিল এইডা আবার কিডা! জীবনে তো শুনি নাই, ভুট দেওনের পর আবার ছিল দেওন লাগপে!’
‘ও হরি, ও রাম, তুই গণভোটের কথা বলছিস!’
‘ঘন ডাইলের মতুন ঘন ভুট না পাৎলা ভুট হ্যেইডা তো বুঝি নাই...’
‘ধুর পাগলা এটা ঘন বা পাৎলা নয় এটা হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার প্রকাশ, গণভোট।’
‘জি’অয়, আমারে কোইলো, ভুটতো দিছেন, এবার ‘হ্যাঁ-না, তে ছিল মারেন। ব্যাস লগে লগে, আবার বুথে ঢুইক্কা ‘হ্যাঁ-না’-এর, দুইটাতেই ছিল মারছি।’
‘মানে কী, হ্যাঁ’তেও সিল মেরেছিস আবার না’তেও সিল দিয়েছিস?’
‘হয়, প্রিসাইডিং অফিসার আমারে কোইলো যান ‘হ্যাঁ-না-তে’ ছিল মারেন। আমিও বুথে যায়া,‘হ্যাঁ-না’ দুই টাতেই ছিল দিছি।’
‘কোরেছিস কী! ‘হ্যাঁ-না’ দুই টাতেই সিল দিয়েছিস।’ তোর তো তাহলে পুরো ভোটটাই বাতিল হবে রে!’
‘আরে কোয়েন না, বুথের ভেতরে যায়া দেখি, গোলাপি রংয়ের ব্যালট পেপারের মাথায় লেখা দেশ থ্যেইক্কা দুর্নীতি, ঘুষ খাওয়া সুদ খাওয়া সব বন্ধ করার জইন্য হ্যাঁ ভুট দেন। লগে লগে মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা মনে পড়লো।’
‘ভোটের বুথে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম! নারে আমার মাথায় কুলাচ্ছে না!’
‘ক্যা, আপনের মাথায় কুলায়বো না ক্যান? আপনে না ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় অর্নাস, আপনে ক্যেন মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা বুঝবেন না! হুনেন মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখছিল, “টেকো বলে, টাক ভালো হয়, আমার তেল লাগাও মাথে... মানে যেই ব্যাটা কয় যে, হ্যার তেল মাখলে টাক ভালোহয় মানে চুল গজায়, ওই হালার নিজের মাথায় চুল নাই, হালায় টাক্কু।’
‘তো তোর নির্বাচনে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার সাথে সম্পর্ক কী?’
‘সিম্পেল, টেকো বলে টাক ভালো হয়, আমার তেল লাগাও মাথে, তেমনি আমাগো হ্যাঁ-না ভুটের মুড়ি মইধ্যে হ্যারা কয় সুদ খাওয়া থামাইবো! হি: হি: বুইচেন নি কা-!”
‘থাক ভাই তোর কা- আমার বোঝার দরকার নেই, তবে তোর কি মনে হয় এবারের ভোটে কে জিতবে?’
‘ভবিষ্যদ্বাণী তো করা পারুম না, তয় আপনের কয়া দেই, এইবার জেন-জি’র, ঠ্যেলায়, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি’ জিতবে। কারণ সব তরুণ-তরুণীরা, আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং, জুনিয়ারের মতুন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র জুনিয়র জিয়াউর রহমান মানে তারেক জিয়ার নেতৃত্ব ব্যেবাগতে মাইন্না নিবে।’
‘তুই কি মোটামুটি নিশ্চিত?’
‘ভাই বুঝেন না, মর্নিং শো’ ওস দ্য, ডে। তয় যদি বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগের মতুন কলিকাতার আবহাওয়া অফিসের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে, তায়লে আমার প্রেডিকশান, মানে আমার ধারণা, উল্টাইতেও পারে। তয় চট্ কোইরা কিছু ওলোট-পালট হোইবো না, শীতকালে ঝড়বৃষ্টি নাই। আবহাওয়া শান্ত।’
‘ঠিক আছে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দেখি তোর শান্ত পরিবেশে ভোটের ফলাফল কী হয়?”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
জাঁ-নেসার ওসমান
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
‘হেঁ হেঁ ভোট দিছি ভাই ছিল দিছি!’
‘একিরে! এ আবার কী কথা, “ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি”। ভোট দিয়েছিস, ভালোকথা, কিন্তু ছিল দিছি! মানে, কী বলতে চাস, তুই আবার কাকে বোকা বানিয়ে টাকা কামালি, ক্যান্ডিডেটের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিস? মানে কোন প্রার্থীকে আবার ছিল দিলি?’
‘হেঁ হেঁ আপনে যে কী কন? এই ছিল তো সেই ছিল নয়, এইডা হোইলো রাবার স্ট্যাম্পে কালি লাগায়া, ব্যালট পেপারে ছিল দিছি।’
পেরথমে কেন্দ্রে গেলাম। ব্যালট পেপারে ভুট দিলাম। তারপর যখন কেন্দ্র থ্যেইক্কা বাহির হমু তখন প্রিসাইডিং অফিসার আমারে কয়, কী রে ভাই, ভুট তো দিলেন, এইবার ছিল দিবেন না?’ আমি কোই কিয়ের ছিল? হ্যায় কয়, ‘হ্যাঁ-না’-এর, ছিল। তখন আমি কোইলাম, ভুট তো দিছি আবার ‘হ্যাঁ-না’-এর ছিল এইডা আবার কিডা! জীবনে তো শুনি নাই, ভুট দেওনের পর আবার ছিল দেওন লাগপে!’
‘ও মানে তুই বলতে চাস যে, তুই ব্যালট পেপারে সিল দিয়েছিস, অর্থাৎ ব্যালট পেপারে সিলমোহর মেরেছিস?’
‘হ হ, মিয়া ভাই আমি ব্যালট পেপারে ছিল দিছি, আমি কুনো ক্যান্ডিডেটের কাছ থেকে টাকা নেই নাই।’
‘তুই যদি কেবল সিল দিস, তাহলে সেটাকে ছিল বলছিস ক্যেনো, বলবি সিল দিয়েছি।’
‘ওই হোইলো ছিল দিছি ভাই, ছিল দিছি।’
‘আচ্ছা তুই ভোট দিয়েছিস, নির্বাচনে তোর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিস, সেটা বুঝলাম। কিন্তু “ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি” বুঝলাম না। ভোট তো দিলি কিন্তু সিল দিয়েছিস সেটা কী?’
‘এ্যাঁ, কুচি খুকা, “ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি” এই কথাটা না বুঝার কী আছে! পেরথমে কেন্দ্রে গেলাম। ব্যালট পেপারে ভুট দিলাম। তারপর যখন কেন্দ্র থ্যেইক্কা বাহির হমু তখন প্রিজাইডিং অফিসার আমারে কয়, কি রে ভাই, ভুট তো দিলেন, এইবার ছিল দিবেন না?’ আমি কোই কিয়ের ছিল? হ্যায় কয়, ‘হ্যাঁ-না’এর, ছিল। তখন আমি কোইলাম, ভুট তো দিছি আবার ‘হ্যাঁ-না’-এর ছিল এইডা আবার কিডা! জীবনে তো শুনি নাই, ভুট দেওনের পর আবার ছিল দেওন লাগপে!’
‘ও হরি, ও রাম, তুই গণভোটের কথা বলছিস!’
‘ঘন ডাইলের মতুন ঘন ভুট না পাৎলা ভুট হ্যেইডা তো বুঝি নাই...’
‘ধুর পাগলা এটা ঘন বা পাৎলা নয় এটা হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার প্রকাশ, গণভোট।’
‘জি’অয়, আমারে কোইলো, ভুটতো দিছেন, এবার ‘হ্যাঁ-না, তে ছিল মারেন। ব্যাস লগে লগে, আবার বুথে ঢুইক্কা ‘হ্যাঁ-না’-এর, দুইটাতেই ছিল মারছি।’
‘মানে কী, হ্যাঁ’তেও সিল মেরেছিস আবার না’তেও সিল দিয়েছিস?’
‘হয়, প্রিসাইডিং অফিসার আমারে কোইলো যান ‘হ্যাঁ-না-তে’ ছিল মারেন। আমিও বুথে যায়া,‘হ্যাঁ-না’ দুই টাতেই ছিল দিছি।’
‘কোরেছিস কী! ‘হ্যাঁ-না’ দুই টাতেই সিল দিয়েছিস।’ তোর তো তাহলে পুরো ভোটটাই বাতিল হবে রে!’
‘আরে কোয়েন না, বুথের ভেতরে যায়া দেখি, গোলাপি রংয়ের ব্যালট পেপারের মাথায় লেখা দেশ থ্যেইক্কা দুর্নীতি, ঘুষ খাওয়া সুদ খাওয়া সব বন্ধ করার জইন্য হ্যাঁ ভুট দেন। লগে লগে মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা মনে পড়লো।’
‘ভোটের বুথে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম! নারে আমার মাথায় কুলাচ্ছে না!’
‘ক্যা, আপনের মাথায় কুলায়বো না ক্যান? আপনে না ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় অর্নাস, আপনে ক্যেন মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা বুঝবেন না! হুনেন মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখছিল, “টেকো বলে, টাক ভালো হয়, আমার তেল লাগাও মাথে... মানে যেই ব্যাটা কয় যে, হ্যার তেল মাখলে টাক ভালোহয় মানে চুল গজায়, ওই হালার নিজের মাথায় চুল নাই, হালায় টাক্কু।’
‘তো তোর নির্বাচনে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার সাথে সম্পর্ক কী?’
‘সিম্পেল, টেকো বলে টাক ভালো হয়, আমার তেল লাগাও মাথে, তেমনি আমাগো হ্যাঁ-না ভুটের মুড়ি মইধ্যে হ্যারা কয় সুদ খাওয়া থামাইবো! হি: হি: বুইচেন নি কা-!”
‘থাক ভাই তোর কা- আমার বোঝার দরকার নেই, তবে তোর কি মনে হয় এবারের ভোটে কে জিতবে?’
‘ভবিষ্যদ্বাণী তো করা পারুম না, তয় আপনের কয়া দেই, এইবার জেন-জি’র, ঠ্যেলায়, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি’ জিতবে। কারণ সব তরুণ-তরুণীরা, আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং, জুনিয়ারের মতুন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র জুনিয়র জিয়াউর রহমান মানে তারেক জিয়ার নেতৃত্ব ব্যেবাগতে মাইন্না নিবে।’
‘তুই কি মোটামুটি নিশ্চিত?’
‘ভাই বুঝেন না, মর্নিং শো’ ওস দ্য, ডে। তয় যদি বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগের মতুন কলিকাতার আবহাওয়া অফিসের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে, তায়লে আমার প্রেডিকশান, মানে আমার ধারণা, উল্টাইতেও পারে। তয় চট্ কোইরা কিছু ওলোট-পালট হোইবো না, শীতকালে ঝড়বৃষ্টি নাই। আবহাওয়া শান্ত।’
‘ঠিক আছে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দেখি তোর শান্ত পরিবেশে ভোটের ফলাফল কী হয়?”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]