সাঈদ চৌধুরী
যারা নির্বাচনে জিতে যাবেন তারা তখন দেশের সরকার হবেন। এবার যারা সরকার হয়ে আসবেন তাদের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন করে। আগের বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ এক নয়। দিন দিনই মত প্রকাশের হার বাড়ছে। মানুষ মত দিতে নয়, মতকে সিদ্ধান্তে রূপদান করতে পছন্দ করে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবাই চায় তাদের মতগুলো গ্রহণযোগ্যতা পাক এবং নীতির পক্ষে সরকার ভালো সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নিক। সুতরাং যারা সরকার গঠন করবে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে বিচার-বিশ্লেষণ অনেক বেশি করতে হবে। শক্তিশালী একটি বিরোধী দল থাকলে আলোচনা এবং সমালোচনার জায়গা বাড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানুষ যেভাবে মত প্রকাশ করেছে সেটা ছিল অন্য যেকোনো বারের তুলনায় ভালো। তবে মব সৃষ্টির বিষয়গুলো চিন্তার কারণ হয়েছে বারবার। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগাতে চাইছে অনেক মানুষ! অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছিল আসামি যারা পালিয়ে গিয়েছিলেন তারা এবং সন্ত্রাসীরা।
সুতরাং আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেয়াও হবে প্রধান দায়িত্ব। ভেতরকার ক্ষতকে সারিয়ে তুলতে একই সঙ্গে কাউন্সিলিং ও ভেতরে কেউ অপরাথ করলে শাস্তির আওতায় আনা বড় কাজ হবে। শুধু তাই নয় খেয়াল করলে দেখবেন অনেক নতুন নতুন অপরাধী তৈরী হয়েছে। এরা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি কওে রেখে সরকারকে অস্বস্থিতে রাখছে। এই প্রবণতাকে পুরোপুরি রুখতে হবে। নতুন সরকারের সময়ে বরাবরই অর্থনীতি আমাদের দেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। তবুও আমাদের চেহেতু পোশাক শিল্পের চলমান একটি ক্ষেত্র আছে এজন্য এটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় নিতে হবে। যদি অর্থনীতিকে দ্রুত একটি কাঠামোতে নেয়া যায় তবে সেটা হবে রিমার্কেবল পরিবর্তন। আইএমএফের ঋণ এবং আমাদেও রিজার্ধেসঢ়;ভর যে সংকটগুলো নিয়ে সারা বছর কথা হতো সেটিকে আয়ত্তে মধ্যে নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক বিশৃঙ্খলায় কিশোর অপরাধ সবচেয়ে বড় সমস্যা বর্তমানে। এটিকে যদি কমিয়ে আনা না যায় তবে নির্বাচিত সরকার বারবার অস্বস্থিতে পড়বে। নেশাকে বন্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যালয়কেন্দ্রিকতা বাড়াতে হবে কিশোর-কিশোরীদের। শিশুদের খেলায় ফেরানো, ক্লাসে নিয়মমাফিক উপস্থিত থাকা, শ্রদ্ধাবোধ তৈরি এবং গবেষণা কাজে লিপ্ত রাখার জন্য একটি বড় প্লান করতে হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রণের কৌশল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী দখল, শিল্প কারখানার জায়গা নির্ধারণবিষয়ক অনেক কাজ বাকি। এগুলো না করলে বিশ্বব্যপি আমরা আমাদের কাপড়গুলোও পাঠাতে পারবো না একসময়। কারণ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্য এবং কার্বণ, পানি ফুটপ্রিন্ট মেলানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। আমাদের পানি ব্যবস্থাপনা ও বন সংরক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং চ্যালেঞ্জও। বন দখল হচ্ছে এখনও। পাহাড় কাটা হচ্ছে। বন্য প্রাণী খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এগুলো তো মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়। তার সাথে তো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো হুমকি আছেই! এই পুরো বিষয়গুলো নিয়ে একটি রোডম্যাপ নেয়াও চ্যালেঞ্জ। তবুও কাজ করতে হবে এই বিষয়ে। সর্বশেষ হলো শিক্ষা। অর্থনীতি ও শিক্ষাকে ঠিক রাখতে পারলে অনেক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
এই চ্যালেঞ্জটি সরকার কীভাবে নেবে তার ছক নিশ্চই এঁকেছে প্রতিটি দল তবে সবার আগে ভাবতে হবে একটি সুন্দর, সাবলিল ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নীতিমালা। শিক্ষাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো মানুষদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। আসলে অনেক কাজ। এ কাজগুলো সরকার কীভাবে করবে তার একটি রোডম্যাপ দরকার। ইশতেহার হলো সার সংক্ষেপ। এর সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক প্ল্যান। শিক্ষা নিয়ে কাজ করবো, ব্যয় কমাবো এগুলো খুব সাধারণ বাক্য। এখন বলতে হবে শিক্ষা নিয়ে যে পরিকল্পনা আছে তাতে যক্ত হয়েছে গবেষনা, উপবৃত্তি, ফ্রি শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরির পাশাপাশি শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষায় অগ্রাধিকার ইত্যাদি। যদি সব ইন্ডিকেটরেই এ ধরনের প্ল্যান সেট করা যায় তবে সরকারের কাজ করা সহজ হবে বলে মনে করি।
[লেখক: রসায়নবিদ]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
সাঈদ চৌধুরী
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যারা নির্বাচনে জিতে যাবেন তারা তখন দেশের সরকার হবেন। এবার যারা সরকার হয়ে আসবেন তাদের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন করে। আগের বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ এক নয়। দিন দিনই মত প্রকাশের হার বাড়ছে। মানুষ মত দিতে নয়, মতকে সিদ্ধান্তে রূপদান করতে পছন্দ করে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবাই চায় তাদের মতগুলো গ্রহণযোগ্যতা পাক এবং নীতির পক্ষে সরকার ভালো সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নিক। সুতরাং যারা সরকার গঠন করবে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে বিচার-বিশ্লেষণ অনেক বেশি করতে হবে। শক্তিশালী একটি বিরোধী দল থাকলে আলোচনা এবং সমালোচনার জায়গা বাড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানুষ যেভাবে মত প্রকাশ করেছে সেটা ছিল অন্য যেকোনো বারের তুলনায় ভালো। তবে মব সৃষ্টির বিষয়গুলো চিন্তার কারণ হয়েছে বারবার। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগাতে চাইছে অনেক মানুষ! অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছিল আসামি যারা পালিয়ে গিয়েছিলেন তারা এবং সন্ত্রাসীরা।
সুতরাং আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেয়াও হবে প্রধান দায়িত্ব। ভেতরকার ক্ষতকে সারিয়ে তুলতে একই সঙ্গে কাউন্সিলিং ও ভেতরে কেউ অপরাথ করলে শাস্তির আওতায় আনা বড় কাজ হবে। শুধু তাই নয় খেয়াল করলে দেখবেন অনেক নতুন নতুন অপরাধী তৈরী হয়েছে। এরা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি কওে রেখে সরকারকে অস্বস্থিতে রাখছে। এই প্রবণতাকে পুরোপুরি রুখতে হবে। নতুন সরকারের সময়ে বরাবরই অর্থনীতি আমাদের দেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। তবুও আমাদের চেহেতু পোশাক শিল্পের চলমান একটি ক্ষেত্র আছে এজন্য এটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় নিতে হবে। যদি অর্থনীতিকে দ্রুত একটি কাঠামোতে নেয়া যায় তবে সেটা হবে রিমার্কেবল পরিবর্তন। আইএমএফের ঋণ এবং আমাদেও রিজার্ধেসঢ়;ভর যে সংকটগুলো নিয়ে সারা বছর কথা হতো সেটিকে আয়ত্তে মধ্যে নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক বিশৃঙ্খলায় কিশোর অপরাধ সবচেয়ে বড় সমস্যা বর্তমানে। এটিকে যদি কমিয়ে আনা না যায় তবে নির্বাচিত সরকার বারবার অস্বস্থিতে পড়বে। নেশাকে বন্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যালয়কেন্দ্রিকতা বাড়াতে হবে কিশোর-কিশোরীদের। শিশুদের খেলায় ফেরানো, ক্লাসে নিয়মমাফিক উপস্থিত থাকা, শ্রদ্ধাবোধ তৈরি এবং গবেষণা কাজে লিপ্ত রাখার জন্য একটি বড় প্লান করতে হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রণের কৌশল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী দখল, শিল্প কারখানার জায়গা নির্ধারণবিষয়ক অনেক কাজ বাকি। এগুলো না করলে বিশ্বব্যপি আমরা আমাদের কাপড়গুলোও পাঠাতে পারবো না একসময়। কারণ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্য এবং কার্বণ, পানি ফুটপ্রিন্ট মেলানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। আমাদের পানি ব্যবস্থাপনা ও বন সংরক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং চ্যালেঞ্জও। বন দখল হচ্ছে এখনও। পাহাড় কাটা হচ্ছে। বন্য প্রাণী খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এগুলো তো মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়। তার সাথে তো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো হুমকি আছেই! এই পুরো বিষয়গুলো নিয়ে একটি রোডম্যাপ নেয়াও চ্যালেঞ্জ। তবুও কাজ করতে হবে এই বিষয়ে। সর্বশেষ হলো শিক্ষা। অর্থনীতি ও শিক্ষাকে ঠিক রাখতে পারলে অনেক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
এই চ্যালেঞ্জটি সরকার কীভাবে নেবে তার ছক নিশ্চই এঁকেছে প্রতিটি দল তবে সবার আগে ভাবতে হবে একটি সুন্দর, সাবলিল ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নীতিমালা। শিক্ষাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো মানুষদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। আসলে অনেক কাজ। এ কাজগুলো সরকার কীভাবে করবে তার একটি রোডম্যাপ দরকার। ইশতেহার হলো সার সংক্ষেপ। এর সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক প্ল্যান। শিক্ষা নিয়ে কাজ করবো, ব্যয় কমাবো এগুলো খুব সাধারণ বাক্য। এখন বলতে হবে শিক্ষা নিয়ে যে পরিকল্পনা আছে তাতে যক্ত হয়েছে গবেষনা, উপবৃত্তি, ফ্রি শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরির পাশাপাশি শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষায় অগ্রাধিকার ইত্যাদি। যদি সব ইন্ডিকেটরেই এ ধরনের প্ল্যান সেট করা যায় তবে সরকারের কাজ করা সহজ হবে বলে মনে করি।
[লেখক: রসায়নবিদ]