রামীম হাসান পায়েল
১৪ই ফেব্রুয়ারি; তারিখটি শুনলেই আমাদের মনের পর্দায় ফুটে ওঠে প্রেমিকার হাতে ফুলের রানী লাল গোলাপ আর প্রেমিকের উচ্চারিত ভালোবাসার কাব্য। আন্তর্জাতিক ভালোবাসা দিবসে মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হলেও, শিথিল হয়ে যায় মানুষ আর প্রকৃতির আদিম মমত্ববোধের সম্পর্ক। ভালোবাসার এই দিনে আমরা যখন প্রিয়জনকে গোলাপ দিয়ে বরণ করি, তখন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষাকারী পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি ধুঁকে অস্তিত্ব সংকটে। হোক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানব সৃষ্ট অনাচার, বঙ্গোপসাগরের কোলে লালিত এই জীববৈচিত্র্যময় অরণ্য বাংলাদেশের জন্য প্রাকৃতিক সেফটি ভাল্ভ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় রেমাল, আম্পান, আইলা, সিডর ইত্যাদি দুর্যোগে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হওয়া পিছনে থাকা এই প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর কি আদৌ তাঁর যথার্থ প্রতিদান পাচ্ছে?
দৃশ্যত, উত্তরটি নেতিবাচক। প্রতিদানের পরিবর্তে আমরা সুন্দরবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছি অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, দখলদারিত্ব আর প্লাস্টিক দূষণের বিষবাষ্প। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ওপর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের যে পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, সুন্দরবনের বর্তমান প্রেক্ষাপট যেন সেই সাংবিধানিক শপথের এক নির্মম পরিহাস। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই বনটিকে দেশের প্রচলিত আইন তথা বন আইন ১৯২৭ এর অধীনে ‘সংরক্ষিত বন’ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) এর অধীনে এই বন ও এর আশেপাশের এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর অধীনে ২০১৭ সালে বনটির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ এলাকাকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলেও, আইনি সুরক্ষা যেন আজ কেবল কাগুজে দলিলে বন্দি। বাঘ আর হরিণের অভয়ারণ্যে আজ অবাধ বিচরণ মুনাফালোভী সিন্ডিকেট আর পরিবেশ দূষণকারীদের, যা কেবল আইনের শাসনের দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
২০২৫ সালের মে মাসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ এর ক্ষমতাবলে সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-এর মধ্যে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা ধোঁয়াশায় রয়ে যায়। এই ধোঁয়াশাই মূলত সুন্দরবনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিচ্ছে। আইনের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে ‘ইসিএ’ ঘোষণা করার মূল উদ্দেশ্যই হলো সেখান থেকে দূষণকারী উপাদান সরিয়ে ফেলা। অথচ, পশুর নদের তীরে ইতিমধ্যেই গড়ে ওঠা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট এবং ইটভাটাগুলো দিব্যি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ আইনবিদদের মতে, বিদ্যমান শিল্পগুলোকে যদি কঠোর ইটিপি মানতে বাধ্য না করা হয় কিংবা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে না নেওয়া হয়, তবে এই প্রজ্ঞাপন কেবল ‘আইওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সচেতনতার অভাবে অনেকে সুন্দরবনে গিয়ে প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতল, প্লেট ও গ্লাস ফেলছেন বনের মধ্যে মাটি ও নদীতে। বন-সংলগ্ন ৮০টি গ্রাম থেকে ৫২টি নদী-খাল হয়ে জোয়ারের পানিতে বনে ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ের হাটবাজার, চায়ের দোকান বা ছোটখাটো আয়োজনের অপরিহার্য উপকরণ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট, কাপ ও বোতল। এই পরিস্থিতির কারণে সুন্দরবনের গাছপালা জন্মানো ব্যাহত হচ্ছে এবং মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তথা বনের পুরো জীববৈচিত্র্য এখন প্লাস্টিকের আগ্রাসনের মুখে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১৫ ধারার অধীনে ঊঈঅ হিসেবে ঘোষিত এলাকায় নিষিদ্ধ কর্ম বা প্রক্রিয়া চালু রাখা বা শুরু করার শাস্তি হিসেবে ২ বৎসর থেকে ১০ বৎসর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে।
বন বিভাগের ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসের মামলার রিপোর্ট অনুযায়ী, এক মাসে মোট ১৮৮ মামলায় ২৩৪ জনকে আসামী করা হয়। জব্দ করা হয় ৮১.৫০ কেজি হরিণের মাংস, ১৮৯৫ কেজি বিষযুক্ত মাছসহ ১০৬টি বিষের বোতল। একসময় এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক লক্ষ বাঘ বিচরণ করত, অথচ আজ প্রকৃতিতে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েক হাজারে। বাংলাদেশে বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১২৫ টির মতো বাঘ আছে বলে সাম্প্রতিক সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয়। এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাসের প্রধান কারণ হলো আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এছাড়াও সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোর চর অবৈধভাবে অধিগ্রহণ এবং রিসোর্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঘটনা অহরহ।
আইনের কঠোরতম প্রয়োগ এবং পরিবেশ আদালতের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান পরিবর্তন করা অসম্ভব। অপরাধগুলোকে কেবল ‘মোবাইল কোর্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত আদালতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, ‘দূষণকারীই দায়ী’ নীতির ভিত্তিতে পশুর নদের তীরের শিল্পগুলোর ওপর পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা সময়ের দাবি। এছাড়াও প্লাস্টিকসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা ফেলায় বিশেষ সতর্কতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। ১৪ই ফেব্রুয়ারি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার দিন না হয়ে উঠুক, বরং এটি হয়ে উঠুক প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এবং দায়বদ্ধতার দিন। সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে-এটি কেবল স্লোগান নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ও নৈতিক দায়িত্ব।
[শিক্ষার্থী: আইন বিভাগ, গোবিপ্রবি]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রামীম হাসান পায়েল
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৪ই ফেব্রুয়ারি; তারিখটি শুনলেই আমাদের মনের পর্দায় ফুটে ওঠে প্রেমিকার হাতে ফুলের রানী লাল গোলাপ আর প্রেমিকের উচ্চারিত ভালোবাসার কাব্য। আন্তর্জাতিক ভালোবাসা দিবসে মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হলেও, শিথিল হয়ে যায় মানুষ আর প্রকৃতির আদিম মমত্ববোধের সম্পর্ক। ভালোবাসার এই দিনে আমরা যখন প্রিয়জনকে গোলাপ দিয়ে বরণ করি, তখন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষাকারী পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি ধুঁকে অস্তিত্ব সংকটে। হোক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানব সৃষ্ট অনাচার, বঙ্গোপসাগরের কোলে লালিত এই জীববৈচিত্র্যময় অরণ্য বাংলাদেশের জন্য প্রাকৃতিক সেফটি ভাল্ভ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় রেমাল, আম্পান, আইলা, সিডর ইত্যাদি দুর্যোগে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হওয়া পিছনে থাকা এই প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর কি আদৌ তাঁর যথার্থ প্রতিদান পাচ্ছে?
দৃশ্যত, উত্তরটি নেতিবাচক। প্রতিদানের পরিবর্তে আমরা সুন্দরবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছি অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, দখলদারিত্ব আর প্লাস্টিক দূষণের বিষবাষ্প। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ওপর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের যে পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, সুন্দরবনের বর্তমান প্রেক্ষাপট যেন সেই সাংবিধানিক শপথের এক নির্মম পরিহাস। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই বনটিকে দেশের প্রচলিত আইন তথা বন আইন ১৯২৭ এর অধীনে ‘সংরক্ষিত বন’ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) এর অধীনে এই বন ও এর আশেপাশের এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর অধীনে ২০১৭ সালে বনটির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ এলাকাকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলেও, আইনি সুরক্ষা যেন আজ কেবল কাগুজে দলিলে বন্দি। বাঘ আর হরিণের অভয়ারণ্যে আজ অবাধ বিচরণ মুনাফালোভী সিন্ডিকেট আর পরিবেশ দূষণকারীদের, যা কেবল আইনের শাসনের দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
২০২৫ সালের মে মাসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ এর ক্ষমতাবলে সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-এর মধ্যে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা ধোঁয়াশায় রয়ে যায়। এই ধোঁয়াশাই মূলত সুন্দরবনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিচ্ছে। আইনের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে ‘ইসিএ’ ঘোষণা করার মূল উদ্দেশ্যই হলো সেখান থেকে দূষণকারী উপাদান সরিয়ে ফেলা। অথচ, পশুর নদের তীরে ইতিমধ্যেই গড়ে ওঠা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট এবং ইটভাটাগুলো দিব্যি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ আইনবিদদের মতে, বিদ্যমান শিল্পগুলোকে যদি কঠোর ইটিপি মানতে বাধ্য না করা হয় কিংবা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে না নেওয়া হয়, তবে এই প্রজ্ঞাপন কেবল ‘আইওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সচেতনতার অভাবে অনেকে সুন্দরবনে গিয়ে প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতল, প্লেট ও গ্লাস ফেলছেন বনের মধ্যে মাটি ও নদীতে। বন-সংলগ্ন ৮০টি গ্রাম থেকে ৫২টি নদী-খাল হয়ে জোয়ারের পানিতে বনে ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ের হাটবাজার, চায়ের দোকান বা ছোটখাটো আয়োজনের অপরিহার্য উপকরণ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট, কাপ ও বোতল। এই পরিস্থিতির কারণে সুন্দরবনের গাছপালা জন্মানো ব্যাহত হচ্ছে এবং মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তথা বনের পুরো জীববৈচিত্র্য এখন প্লাস্টিকের আগ্রাসনের মুখে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১৫ ধারার অধীনে ঊঈঅ হিসেবে ঘোষিত এলাকায় নিষিদ্ধ কর্ম বা প্রক্রিয়া চালু রাখা বা শুরু করার শাস্তি হিসেবে ২ বৎসর থেকে ১০ বৎসর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে।
বন বিভাগের ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসের মামলার রিপোর্ট অনুযায়ী, এক মাসে মোট ১৮৮ মামলায় ২৩৪ জনকে আসামী করা হয়। জব্দ করা হয় ৮১.৫০ কেজি হরিণের মাংস, ১৮৯৫ কেজি বিষযুক্ত মাছসহ ১০৬টি বিষের বোতল। একসময় এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক লক্ষ বাঘ বিচরণ করত, অথচ আজ প্রকৃতিতে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েক হাজারে। বাংলাদেশে বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১২৫ টির মতো বাঘ আছে বলে সাম্প্রতিক সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয়। এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাসের প্রধান কারণ হলো আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এছাড়াও সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোর চর অবৈধভাবে অধিগ্রহণ এবং রিসোর্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঘটনা অহরহ।
আইনের কঠোরতম প্রয়োগ এবং পরিবেশ আদালতের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান পরিবর্তন করা অসম্ভব। অপরাধগুলোকে কেবল ‘মোবাইল কোর্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত আদালতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, ‘দূষণকারীই দায়ী’ নীতির ভিত্তিতে পশুর নদের তীরের শিল্পগুলোর ওপর পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা সময়ের দাবি। এছাড়াও প্লাস্টিকসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা ফেলায় বিশেষ সতর্কতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। ১৪ই ফেব্রুয়ারি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার দিন না হয়ে উঠুক, বরং এটি হয়ে উঠুক প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এবং দায়বদ্ধতার দিন। সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে-এটি কেবল স্লোগান নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ও নৈতিক দায়িত্ব।
[শিক্ষার্থী: আইন বিভাগ, গোবিপ্রবি]