ভ্যালেন্টাইন ডে আধুনিক বিশ্বে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতিরএকটি প্রতীকী দিন হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি ঘিরে তরুণ-তরুণীসহ সমাজের নানা স্তরে আবেগ ও আনন্দ-উদযাপন চোখে পড়ে। ভালোবাসা নিঃসন্দেহে মানব জীবনের একটি মৌলিক অনুভূতি, যা মানসিকপ্রশান্তি, সামাজিক বন্ধন ও ব্যক্তিগত স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে সহায়ক। তবে এই দিবসকে ঘিরে যে আচরণগত পরিবর্তন, সামাজিক চাপ ও জীবনযাপনের ধারা তৈরি হয়, তা জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। জনস্বাস্থ্য কেবল রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের মানসিক, সামাজিক ও আচরণগত সুস্থতাও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। সেই আলোকে ভ্যালেন্টাইন ডে একদিকে যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, অন্যদিকে অসচেতনতা ও অতিরিক্ত সামাজিক চাপের কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্য কিছু নীরব ঝুঁকিও তৈরি করে।
ভালোবাসা ও সুস্থ সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এ কথা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। পারস্পরিক বিশ্বাস, আবেগি সমর্থন ও সামাজিক সংযোগ মানুষের মধ্যে বিষন্নতা, উদ্বেগ ও একাকিত্ব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ব্যস্ত নগর জীবনে সম্পর্কের উষ্ণতা মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দিক থেকে ভ্যালেন্টাইন ডে মানুষের মধ্যে আবেগ প্রকাশ ও সম্পর্কের যতœ নেয়ার একটি উপলক্ষ হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো এই দিনটি অনেক মানুষের জন্য আনন্দের পাশাপাশি মানসিক চাপের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। যারা সম্পর্কে নেই, যারা আর্থিক বা সামাজিক কারণে এই দিবস উদযাপন করতে পারেন না, কিংবা যাদের সম্পর্ক ভংগুর তাদের মধ্যে হতাশা, হীনমন্যতা ও আত্মমূল্যবোধে আঘাতের প্রবণতা দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আদর্শ প্রেম’ বা ‘পারফেক্ট রিলেশনশিপ’-এর প্রদর্শন অনেককে আত্ম-তুলনায় ঠেলে দেয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিক চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত বিষয়।
ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে তরুণ সমাজের মধ্যে সম্পর্ক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়াও একটি বাস্তব সামাজিক চিত্র। কিন্তু এই ঘনিষ্ঠতা যদি সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে না ওঠে, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনিরাপদ যৌন আচরণের ফলে যৌনবাহিত রোগ, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ এবং মানসিক আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আমাদের সমাজে যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখনও সীমিত, ফলে তরুণদের একটি বড় অংশ ভুল তথ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের শিকার হয়। সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত দিক থেকেও ভ্যালেন্টাইন ডে ঝুঁকিমুক্ত নয়। আবেগও তাড়াহুড়োর কারণে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে, বিশেষ করে অ্যালকোহল গ্রহণের পর গাড়ি চালালে। ভিড় ও উদযাপনের সুযোগে ইভটিজিং, হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানির ঝুঁকিও তৈরি হয়। এছাড়া আত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই সময়ে ঝুঁকি বাড়ে।
ভালোবাসার প্রমাণ দেয়ার সামাজিক চাপ থেকে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যার ফলে যৌনবাহিত রোগ ও অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টি উপেক্ষিত হয়, যা মানসিক আঘাত ও সম্পর্কজনিত ট্রমা তৈরি করতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেইল বা শোষণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন ডে’র মূল বার্তা হওয়া উচিত- ভালোবাসা মানে এক দিনের প্রদর্শনী নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সম্মতি ও সুস্থতা। আবেগের পাশাপাশি সচেতন সিদ্ধান্ত, মানসিক যতœ এবং নিরাপদ আচরণ করা, যা ভালোবাসার এই মধুর সম্পর্ককে আনন্দময় ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলে। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে ভ্যালেন্টাইন ডে হতে পারে সচেতনতা বৃদ্ধির একটিকার্যকর সুযোগ। নিরাপদ যৌন আচরণ, সম্মতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়া জরুরি। ভালোবাসা কখনোই ঝুঁকি বা জোরের নাম হতে পারে না- এই বোধ গড়ে তোলাই জনস্বাস্থ্যের অন্যতম দায়িত্ব। ভ্যালেন্টাইন ডে কে বাণিজ্যিকীকরণও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত। উপহার, রেস্তোরাঁ, ভ্রমণ ও ব্যয়বহুল আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে সামাজিক প্রত্যাশা তৈরি হয়, তা অনেকের জন্য আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জনস্বাস্থ্যর চিন্তায় আর্থিক চাপ ও মানসিক চাপ- দুটিই গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির উপাদান।
আমাদের সমাজে এখনও ভালোবাসা ও সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। একদিকে আবেগের উদযাপন, অন্যদিকে সামাজিক সংকোচ- এই দ্বৈত অবস্থান তরুণদের বিভ্রান্ত করে। ফলে তারা অনেক সময় নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পথের পরিবর্তে গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধের পরিবর্তে সচেতনতা, ভয়ের পরিবর্তে তথ্য- এই দৃষ্টিভঙ্গিই জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। ভ্যালেন্টাইন ডে যদি কেবল আবেগের উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার সামাজিক প্রভাব হবে অসম্পূর্ণ। কিন্তু যদি এই দিবসকে ভালোবাসার পাশাপাশি সচেতনাতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুস্থ সম্পর্কের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ভালোবাসা মানুষের জীবনের সৌন্দর্য, কিন্তু সেই ভালোবাসা তখনই সমাজেরজন্য কল্যাণকর হয়, যখন তা দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও মানবিক হয়। ভ্যালেন্টাইন ডে আমাদের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে পারে- ভালোবাসা শুধু অনুভূতির নয়, সচেতন আচরণেরও নাম। ভালোবাসা হোক সুস্থ, সম্পর্ক হোক নিরাপদ- তবেই সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভ্যালেন্টাইন ডে আধুনিক বিশ্বে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতিরএকটি প্রতীকী দিন হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি ঘিরে তরুণ-তরুণীসহ সমাজের নানা স্তরে আবেগ ও আনন্দ-উদযাপন চোখে পড়ে। ভালোবাসা নিঃসন্দেহে মানব জীবনের একটি মৌলিক অনুভূতি, যা মানসিকপ্রশান্তি, সামাজিক বন্ধন ও ব্যক্তিগত স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে সহায়ক। তবে এই দিবসকে ঘিরে যে আচরণগত পরিবর্তন, সামাজিক চাপ ও জীবনযাপনের ধারা তৈরি হয়, তা জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। জনস্বাস্থ্য কেবল রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের মানসিক, সামাজিক ও আচরণগত সুস্থতাও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। সেই আলোকে ভ্যালেন্টাইন ডে একদিকে যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, অন্যদিকে অসচেতনতা ও অতিরিক্ত সামাজিক চাপের কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্য কিছু নীরব ঝুঁকিও তৈরি করে।
ভালোবাসা ও সুস্থ সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এ কথা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। পারস্পরিক বিশ্বাস, আবেগি সমর্থন ও সামাজিক সংযোগ মানুষের মধ্যে বিষন্নতা, উদ্বেগ ও একাকিত্ব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ব্যস্ত নগর জীবনে সম্পর্কের উষ্ণতা মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দিক থেকে ভ্যালেন্টাইন ডে মানুষের মধ্যে আবেগ প্রকাশ ও সম্পর্কের যতœ নেয়ার একটি উপলক্ষ হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো এই দিনটি অনেক মানুষের জন্য আনন্দের পাশাপাশি মানসিক চাপের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। যারা সম্পর্কে নেই, যারা আর্থিক বা সামাজিক কারণে এই দিবস উদযাপন করতে পারেন না, কিংবা যাদের সম্পর্ক ভংগুর তাদের মধ্যে হতাশা, হীনমন্যতা ও আত্মমূল্যবোধে আঘাতের প্রবণতা দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আদর্শ প্রেম’ বা ‘পারফেক্ট রিলেশনশিপ’-এর প্রদর্শন অনেককে আত্ম-তুলনায় ঠেলে দেয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিক চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত বিষয়।
ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে তরুণ সমাজের মধ্যে সম্পর্ক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়াও একটি বাস্তব সামাজিক চিত্র। কিন্তু এই ঘনিষ্ঠতা যদি সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে না ওঠে, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনিরাপদ যৌন আচরণের ফলে যৌনবাহিত রোগ, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ এবং মানসিক আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আমাদের সমাজে যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখনও সীমিত, ফলে তরুণদের একটি বড় অংশ ভুল তথ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের শিকার হয়। সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত দিক থেকেও ভ্যালেন্টাইন ডে ঝুঁকিমুক্ত নয়। আবেগও তাড়াহুড়োর কারণে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে, বিশেষ করে অ্যালকোহল গ্রহণের পর গাড়ি চালালে। ভিড় ও উদযাপনের সুযোগে ইভটিজিং, হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানির ঝুঁকিও তৈরি হয়। এছাড়া আত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই সময়ে ঝুঁকি বাড়ে।
ভালোবাসার প্রমাণ দেয়ার সামাজিক চাপ থেকে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যার ফলে যৌনবাহিত রোগ ও অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টি উপেক্ষিত হয়, যা মানসিক আঘাত ও সম্পর্কজনিত ট্রমা তৈরি করতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেইল বা শোষণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন ডে’র মূল বার্তা হওয়া উচিত- ভালোবাসা মানে এক দিনের প্রদর্শনী নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সম্মতি ও সুস্থতা। আবেগের পাশাপাশি সচেতন সিদ্ধান্ত, মানসিক যতœ এবং নিরাপদ আচরণ করা, যা ভালোবাসার এই মধুর সম্পর্ককে আনন্দময় ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলে। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে ভ্যালেন্টাইন ডে হতে পারে সচেতনতা বৃদ্ধির একটিকার্যকর সুযোগ। নিরাপদ যৌন আচরণ, সম্মতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়া জরুরি। ভালোবাসা কখনোই ঝুঁকি বা জোরের নাম হতে পারে না- এই বোধ গড়ে তোলাই জনস্বাস্থ্যের অন্যতম দায়িত্ব। ভ্যালেন্টাইন ডে কে বাণিজ্যিকীকরণও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত। উপহার, রেস্তোরাঁ, ভ্রমণ ও ব্যয়বহুল আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে সামাজিক প্রত্যাশা তৈরি হয়, তা অনেকের জন্য আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জনস্বাস্থ্যর চিন্তায় আর্থিক চাপ ও মানসিক চাপ- দুটিই গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির উপাদান।
আমাদের সমাজে এখনও ভালোবাসা ও সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। একদিকে আবেগের উদযাপন, অন্যদিকে সামাজিক সংকোচ- এই দ্বৈত অবস্থান তরুণদের বিভ্রান্ত করে। ফলে তারা অনেক সময় নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পথের পরিবর্তে গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধের পরিবর্তে সচেতনতা, ভয়ের পরিবর্তে তথ্য- এই দৃষ্টিভঙ্গিই জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। ভ্যালেন্টাইন ডে যদি কেবল আবেগের উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার সামাজিক প্রভাব হবে অসম্পূর্ণ। কিন্তু যদি এই দিবসকে ভালোবাসার পাশাপাশি সচেতনাতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুস্থ সম্পর্কের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ভালোবাসা মানুষের জীবনের সৌন্দর্য, কিন্তু সেই ভালোবাসা তখনই সমাজেরজন্য কল্যাণকর হয়, যখন তা দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও মানবিক হয়। ভ্যালেন্টাইন ডে আমাদের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে পারে- ভালোবাসা শুধু অনুভূতির নয়, সচেতন আচরণেরও নাম। ভালোবাসা হোক সুস্থ, সম্পর্ক হোক নিরাপদ- তবেই সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন]