মাহতাব হোসাইন মাজেদ
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল একটি ইবাদতের সময় নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই মাসে মানুষ ভোগের চেয়ে ত্যাগকে, অপচয়ের চেয়ে মিতব্যয়কে এবং স্বার্থপরতার চেয়ে সহমর্মিতাকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো-রমজান যত ঘনিয়ে আসে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ততই অস্থির হয়ে ওঠে। ফলে সংযমের এই মাস অনেকের জন্য স্বস্তির বদলে উদ্বেগ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রস্তুতি যখন চলছে, তখনই নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। রমজান সামনে রেখে যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তবে বাজারে সংকট সৃষ্টি হওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক ন্যায়বিচার, নৈতিকতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাসে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সেহরি ও ইফতারকে কেন্দ্র করে পরিবারগুলো কিছু বাড়তি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে। চাল, আটা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, আলু, দুধ, ডিম ও মাংসের মতো পণ্যের ওপর চাপ বেড়ে যায়। এটি একটি স্বাভাবিক চাহিদা-চক্র।
কিন্তু সমস্যা তখনই প্রকট হয়, যখন এই স্বাভাবিক চাহিদাকে অজুহাত বানিয়ে বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়। সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট, গোপন মজুতদারি এবং অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা রমজান এলেই যেন নিয়মে পরিণত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যজীবন চরম চাপের মুখে পড়ে।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও নৈতিক দুর্বলতা কাজ করে।
প্রথমত, মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব। কিছু ব্যবসায়ী ও পাইকার পরিকল্পিতভাবে পণ্য গুদামজাত করে রাখে, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এতে বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা কমে এবং মূল্য বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, বাজার তদারকির দুর্বলতা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি না করলে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দৃশ্যমান হয় না।
তৃতীয়ত, সরবরাহ চেইনের অস্বচ্ছতা। উৎপাদক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছায় না। এতে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
চতুর্থত, ভোক্তা আচরণগত সমস্যা। রমজান আসছে-এই আতঙ্কে অনেক মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কিনে রাখেন। এতে বাজারে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
রমজান শুরু হওয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার চেষ্টা অনেক সময় ফলপ্রসূ হয় না। কারণ তখন চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রমজান শুরুর আগেই প্রস্তুতি নেয়াই একমাত্র কার্যকর পথ।
এই প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে হবে: সরবরাহ ব্যবস্থার আগাম শক্তিশালীকরণ, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের দৃশ্যমান উপস্থিতি, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আগাম সতর্কবার্তা, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, যদি এসব উদ্যোগ সময়মতো নেয়া না হয়, তবে বাজার অস্থিরতা অনিবার্য হয়ে উঠবে।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। নিয়মিত ও আকস্মিক বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে মজুত, মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কেবল অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারিই এখানে মূল বিষয়। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও পাইকারি পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগেই সতর্ক হয় এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সাহস না পায়। সরকারি উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির পরিসর বাড়ালে বাজারে স্বস্তি আসে এবং বেসরকারি বাজারেও ইতিবাচক চাপ তৈরি হয়। রমজান মানে অতিভোগ নয়-এই বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা ও অপচয় পরিহার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে এর বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয়। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত হয়। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহজে সংগ্রহ করতে পারে। এতে তাদের মানসিক চাপ কমে এবং তারা ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগ দিতে পারে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজার স্থিতিশীল থাকলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরও বাড়ে না। সকল শ্রেণির মানুষ সমানভাবে বাজার সুবিধা ভোগ করতে পারে।
নৈতিক ব্যবসা সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। কঠোর নজরদারি ও ন্যায্য পরিবেশ থাকলে ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত মুনাফার পথ পরিহার করতে উৎসাহিত হয়। সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসে। চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে এবং বাজারে আস্থা তৈরি হয়। রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষা পায়। বাজারের অস্থিরতা কমলে মানুষ দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে সংযম, সহমর্মিতা ও ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করতে পারে-যা রমজানের মূল শিক্ষা।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি একটি জাতীয় দায়িত্বের প্রশ্ন। সতর্কতা ও সময়োচিত পদক্ষেপ না নিলে সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে বাজারকেও সংযত হতে হবে। রাষ্ট্র, প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং ভোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল একটি ন্যায্য, মানবিক ও স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এখনই যদি সচেতন ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেয়া যায়, তবে রমজান সত্যিকার অর্থেই শান্তি, স্বস্তি ও সংযমের মাসে পরিণত হতে পারে।
[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মাহতাব হোসাইন মাজেদ
রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল একটি ইবাদতের সময় নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই মাসে মানুষ ভোগের চেয়ে ত্যাগকে, অপচয়ের চেয়ে মিতব্যয়কে এবং স্বার্থপরতার চেয়ে সহমর্মিতাকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো-রমজান যত ঘনিয়ে আসে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ততই অস্থির হয়ে ওঠে। ফলে সংযমের এই মাস অনেকের জন্য স্বস্তির বদলে উদ্বেগ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রস্তুতি যখন চলছে, তখনই নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। রমজান সামনে রেখে যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তবে বাজারে সংকট সৃষ্টি হওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক ন্যায়বিচার, নৈতিকতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাসে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সেহরি ও ইফতারকে কেন্দ্র করে পরিবারগুলো কিছু বাড়তি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে। চাল, আটা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, আলু, দুধ, ডিম ও মাংসের মতো পণ্যের ওপর চাপ বেড়ে যায়। এটি একটি স্বাভাবিক চাহিদা-চক্র।
কিন্তু সমস্যা তখনই প্রকট হয়, যখন এই স্বাভাবিক চাহিদাকে অজুহাত বানিয়ে বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়। সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট, গোপন মজুতদারি এবং অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা রমজান এলেই যেন নিয়মে পরিণত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যজীবন চরম চাপের মুখে পড়ে।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও নৈতিক দুর্বলতা কাজ করে।
প্রথমত, মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব। কিছু ব্যবসায়ী ও পাইকার পরিকল্পিতভাবে পণ্য গুদামজাত করে রাখে, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এতে বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা কমে এবং মূল্য বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, বাজার তদারকির দুর্বলতা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি না করলে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দৃশ্যমান হয় না।
তৃতীয়ত, সরবরাহ চেইনের অস্বচ্ছতা। উৎপাদক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছায় না। এতে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
চতুর্থত, ভোক্তা আচরণগত সমস্যা। রমজান আসছে-এই আতঙ্কে অনেক মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কিনে রাখেন। এতে বাজারে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
রমজান শুরু হওয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার চেষ্টা অনেক সময় ফলপ্রসূ হয় না। কারণ তখন চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রমজান শুরুর আগেই প্রস্তুতি নেয়াই একমাত্র কার্যকর পথ।
এই প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে হবে: সরবরাহ ব্যবস্থার আগাম শক্তিশালীকরণ, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের দৃশ্যমান উপস্থিতি, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আগাম সতর্কবার্তা, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, যদি এসব উদ্যোগ সময়মতো নেয়া না হয়, তবে বাজার অস্থিরতা অনিবার্য হয়ে উঠবে।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। নিয়মিত ও আকস্মিক বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে মজুত, মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কেবল অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারিই এখানে মূল বিষয়। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও পাইকারি পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগেই সতর্ক হয় এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সাহস না পায়। সরকারি উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির পরিসর বাড়ালে বাজারে স্বস্তি আসে এবং বেসরকারি বাজারেও ইতিবাচক চাপ তৈরি হয়। রমজান মানে অতিভোগ নয়-এই বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা ও অপচয় পরিহার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে এর বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয়। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত হয়। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহজে সংগ্রহ করতে পারে। এতে তাদের মানসিক চাপ কমে এবং তারা ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগ দিতে পারে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজার স্থিতিশীল থাকলে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরও বাড়ে না। সকল শ্রেণির মানুষ সমানভাবে বাজার সুবিধা ভোগ করতে পারে।
নৈতিক ব্যবসা সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। কঠোর নজরদারি ও ন্যায্য পরিবেশ থাকলে ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত মুনাফার পথ পরিহার করতে উৎসাহিত হয়। সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসে। চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে এবং বাজারে আস্থা তৈরি হয়। রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষা পায়। বাজারের অস্থিরতা কমলে মানুষ দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে সংযম, সহমর্মিতা ও ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করতে পারে-যা রমজানের মূল শিক্ষা।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি একটি জাতীয় দায়িত্বের প্রশ্ন। সতর্কতা ও সময়োচিত পদক্ষেপ না নিলে সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে বাজারকেও সংযত হতে হবে। রাষ্ট্র, প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং ভোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল একটি ন্যায্য, মানবিক ও স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এখনই যদি সচেতন ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেয়া যায়, তবে রমজান সত্যিকার অর্থেই শান্তি, স্বস্তি ও সংযমের মাসে পরিণত হতে পারে।
[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি]