alt

উপ-সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

সুব্রত বিশ্বাস

: বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১

বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। নারীর ওপর যে কোন ধরনের নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে এ দিনটি পালন করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার ডমিনিকান রিপাবলিকের স্বৈরাচারী শাসক রাফায়েল ক্রজিলোর বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন চলাকালে, শাসকচক্র প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাকেল নামের তিন বোনকে হত্যা করে। এই হত্যার প্রতিবাদে ১৯৮১ সালে নাতিন আমেরিকার এক নারী-সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ হিসেবে মেনে নেয়া হয়। কিন্তু জাতিসংঘ দিবসটিকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, পরবর্তিতও হচ্ছে সমাজ কাঠামো, বিকশিত হচ্ছে সভ্যতা। পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রায়। কিন্তু বাস্তব সত্য এটাই যে, বন্ধ হচ্ছে না নারী নির্যাতন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে তাদের অবস্থান অনস্বীকার্য। কিন্তু তারপরও নারীরা শান্তি, নিরাপত্তা ও অধিকারের দিক দিয়ে এখনও বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন তার জীবনে কোন না কোন সময়ে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়। প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুজন স্বাম বা বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু অথবা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে বেশিরভাগই নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজ লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খোলেন না।

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে বিবিসি ও ইউএনএফপিএ প্রদত্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিবাহিত নারীদের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ পারিবারিক সহিংসতার শিকার। ওই নারীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ প্রতিনিয়ত প্রহৃত হয়, এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ নির্যাতিত নারীর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এক তৃতীয়াংশ নারী স্বামী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। নির্যাতনের ৫০ শতাংশ নারী ১৪ বছরের আগেই ধর্ষণের শিকার হন। এছাড়া এসিড নিক্ষেপ, আগুন দেয়া, সমাজচ্যুত করা, জোরপূর্বক তালাক দেয়া এগুলো প্রতিনিয়ত হচ্ছে।

মানব সভ্যতার পেছনে নারীর অবস্থানকে কোনভাবেই ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই। লাখ লাখ বছর আগে গুহাবাসী নারী-পুরুষ যৌথ প্রচেষ্টা যে জীবন শুরু করেছিল, তা ক্রমেই বিকশিত হয়ে আজকের সভ্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভোগ্যপণ্য হিসেবে না দেখে তাকে তার সঠিক মর্যাদা দিতে হবে। সব বঞ্চনা হতে নারীকে মুক্ত করতে হবে। নারীরা প্রতিনিয়ত কোননা কোনভাবে নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতিত নারীদের অধিকাংশেরই নীরবে নির্যাতন সহ্য করেন। এই নির্যাতন নারীর অগ্রগতির পটে একটি মারাত্মক হুমকি বা বাধা।

উন্নয়নের মহাসড়কে আগুয়ান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর আবদান অনস্বীকার্য। নারীবান্ধব সমাজ অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে। নারীকে নিরাপদ পৃথিবী দাও, নারী তোমাদের দেবে ততধিক বাসযোগ্য এক সমাজের নিশ্চয়তা।

[লেখক : সমন্বয়ক, মিডিয়া সেল এবং কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

সুস্থ জীবনের জন্য বিবাহপূর্ব সচেতনতা

আয়কর রিটার্ন : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

ছবি

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন

এসএসসির ফল শিক্ষার প্রকৃত মূল্যায়নের কথা বলে কি

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, হিন্দু রাষ্ট্রের লক্ষ্যে নয়া কৌশল

সমাজ গঠনের এক বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতা

প্রাথমিক শিক্ষায় আন্তর্ব্যক্তিক সম্পর্ক এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব

ছবি

মহাকাশ জয়ী আদিবাসী ও কিছু কথা

আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন

ছবি

উন্মাদনার বিশ্বকাপ

শোকের নদী বিত্তিপাড়া

কর আদায়ে নাগরিকদের হয়রানি কমাতে হবে

কেএনএফ : আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন হুমকি

বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, হচ্ছে না বিধিমালা

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

দুঃস্বপ্নে-বেকারত্বে পাটকল শ্রমিক

যুদ্ধ ও মানবসভ্যতা

ছবি

ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর ‘অব্যক্ত’ বিদ্রোহ

আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন

উপকূলের কৃষকদের জন্য একটি আশীর্বাদ

সাংবিধানিক আইনের গুরুত্ব অনুধাবন করুক সবাই

দুর্নীতির সঙ্গে অর্থ পাচারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার দায়

তিস্তার পানি আটকাবার পেছনে মোদি-মমতার আসল উদ্দেশ্য

প্রসঙ্গ : মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই

স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যমান বাস্তবতা

কাগজের মূল্য ও প্রকাশনা শিল্পের সংকট

সহনশীল ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন

ছবি

মুনীরুজ্জামান : কালচার, লেবার ও পলেঝায়েভ

ছবি

আত্মপ্রচারবিমুখ আহমদুল কবির

ছবি

রক্তকরবী এবং অদৃশ্য বেড়ি

শীতকালে শিশুদের রোগ-বালাই

শিশুর নৈতিক শিক্ষায় পরিবারের ভূমিকা

ছবি

মোবাইল ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

কাঞ্চনজঙ্ঘা : প্রকৃতির অপরূপ নির্দশন

tab

উপ-সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

সুব্রত বিশ্বাস

বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১

বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। নারীর ওপর যে কোন ধরনের নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে এ দিনটি পালন করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার ডমিনিকান রিপাবলিকের স্বৈরাচারী শাসক রাফায়েল ক্রজিলোর বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন চলাকালে, শাসকচক্র প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাকেল নামের তিন বোনকে হত্যা করে। এই হত্যার প্রতিবাদে ১৯৮১ সালে নাতিন আমেরিকার এক নারী-সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ হিসেবে মেনে নেয়া হয়। কিন্তু জাতিসংঘ দিবসটিকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, পরবর্তিতও হচ্ছে সমাজ কাঠামো, বিকশিত হচ্ছে সভ্যতা। পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রায়। কিন্তু বাস্তব সত্য এটাই যে, বন্ধ হচ্ছে না নারী নির্যাতন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে তাদের অবস্থান অনস্বীকার্য। কিন্তু তারপরও নারীরা শান্তি, নিরাপত্তা ও অধিকারের দিক দিয়ে এখনও বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন তার জীবনে কোন না কোন সময়ে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়। প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুজন স্বাম বা বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু অথবা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে বেশিরভাগই নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজ লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খোলেন না।

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে বিবিসি ও ইউএনএফপিএ প্রদত্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিবাহিত নারীদের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ পারিবারিক সহিংসতার শিকার। ওই নারীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ প্রতিনিয়ত প্রহৃত হয়, এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ নির্যাতিত নারীর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এক তৃতীয়াংশ নারী স্বামী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। নির্যাতনের ৫০ শতাংশ নারী ১৪ বছরের আগেই ধর্ষণের শিকার হন। এছাড়া এসিড নিক্ষেপ, আগুন দেয়া, সমাজচ্যুত করা, জোরপূর্বক তালাক দেয়া এগুলো প্রতিনিয়ত হচ্ছে।

মানব সভ্যতার পেছনে নারীর অবস্থানকে কোনভাবেই ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই। লাখ লাখ বছর আগে গুহাবাসী নারী-পুরুষ যৌথ প্রচেষ্টা যে জীবন শুরু করেছিল, তা ক্রমেই বিকশিত হয়ে আজকের সভ্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভোগ্যপণ্য হিসেবে না দেখে তাকে তার সঠিক মর্যাদা দিতে হবে। সব বঞ্চনা হতে নারীকে মুক্ত করতে হবে। নারীরা প্রতিনিয়ত কোননা কোনভাবে নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতিত নারীদের অধিকাংশেরই নীরবে নির্যাতন সহ্য করেন। এই নির্যাতন নারীর অগ্রগতির পটে একটি মারাত্মক হুমকি বা বাধা।

উন্নয়নের মহাসড়কে আগুয়ান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর আবদান অনস্বীকার্য। নারীবান্ধব সমাজ অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে। নারীকে নিরাপদ পৃথিবী দাও, নারী তোমাদের দেবে ততধিক বাসযোগ্য এক সমাজের নিশ্চয়তা।

[লেখক : সমন্বয়ক, মিডিয়া সেল এবং কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

back to top