alt

উপ-সম্পাদকীয়

আমাদের জীবন, আমাদের সন্তান

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

: শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

যুক্তরাষ্ট্রের কাবুল ত্যাগ করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বাবা-মায়ের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া দুই মাস বয়সী আফগান শিশু সোহেলকে সম্প্রতি তার দাদার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তালেবানদের কাবুল দখল করার পর হাজার হাজার আফগান ভয়ে দেশ থেকে পালানোর আশায় বিমানবন্দরে জড়ো হলে এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে আতঙ্কিত আফগানেরা মার্কিন বিমানে উঠতে না পেরে বিমানের পাখায় ভর করে দেশ ত্যাগের ব্যর্থ চেষ্টা করে। আফগান দম্পতি মির্জা আলি আহমাদি ও সুরাইয়া কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে জনসমুদ্রে দুই মাস বয়সী সোহেলসহ পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ছোটাছুটি করছিলেন, তখন পিতা প্রাচীরের অপরপ্রান্তে থাকা এক বিদেশি সৈন্যের হাতে শিশুসন্তান সোহেলকে তুলে দিয়ে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরমুহূর্তে সোহেল বা সেই সেনাকে আর খুঁজে পাননি। তারপরও তিন দিন ধরে খোঁজ করে না পেয়ে তারা বিমানে উঠে আমেরিকা চলে যান। কাবুল বিমানবন্দরের এক পাশে মেঝেতে কান্নারত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ট্যাক্সি ড্রাইভার হামিদ সাফি শিশুটিকে তার পরিবারে নিয়ে যান। তিন কন্যাসন্তানের দম্পতি সোহেলকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করতে শুরু করেন। সোহেলের নিখোঁজ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে হামিদ সাফির প্রতিবেশীরা শিশুটির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানান। সোহেলকে তার দাদার কোলে তুলে দেয়ার সময় ড্রাইভার হামিদ সাফির হাহাকার পৃথিবীর সব দর্শককে কাঁদিয়েছে। পৃথিবী কত বিচিত্র, অন্যের সন্তানের মায়ায় একজন ড্রাইভার কাঁদছেন, আর একই সময়ে অনেক মা তার গর্ভজাত সন্তান বিক্রির জন্য খদ্দের খুঁজছেন।

আফগানিস্তানে খাদ্য সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে; পরিস্থিতি এত শোচনীয় হয়ে উঠছে যে, ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে অনেক আফগান দম্পতি নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছেন। সন্তান বিক্রির অজুহাত দিতে গিয়ে এক দম্পতি উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষুধার্ত এক সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের আরেক সন্তানকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর ছিলো না। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে খাদ্যের অভাবে অনেক নারী যুদ্ধে স্বামী হারিয়ে দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ সম্বল সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেনিয়ার দরিদ্র কিছু নারী অভাবে পড়ে বাঁচার শেষ উপায় হিসেবে পাচারকারীদের কাছে তাদের শিশুসন্তানদের বিক্রি করছেন। আপন সন্তান বিক্রির ঘটনা আমেরিকাতেও হয়েছে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার এক মা সন্তান বিক্রির বিজ্ঞপ্তি ও সন্তান পাশে রেখে খদ্দের খুঁজতে দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে যে দম্পতির বিক্রি করার কোন স্থাবর-অস্থাবর নেই তাদের বিক্রির একটি সম্পদই থাকে এবং তা হচ্ছে সন্তান।

অভাবের তাড়নায় মাত্র ৬ হাজার টাকায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার খবর কিছুদিন আগে পড়লাম। সম্প্রতি হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হওয়া আকলিমা বেগমের গাইনি সমস্যায় প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে রোগীর স্বামী নিজের সন্তান উক্ত টাকায় বিক্রি করে দেন।

পুলিশ বিক্রীত নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। গত বছর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মজুর শাহ আলম ও রাবেয়া দম্পতি করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে ৪৫ হাজার টাকায় বিনিময়ে তাদের তিন মাস বয়সী সন্তানকে বিক্রি করে দেয়। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কুড়িগ্রামের খলিল-মর্জিনা দম্পতির তাদের তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রির খবরও মিডিয়ায় এসেছিলো। অপরিচিত আয়ার দ্বারা হাসপাতাল থেকে নবজাতক শিশু চুরির ঘটনা অহরহ শোনা যায়। নেশার টাকা এবং বাচ্চার খাবার জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্ত মা-বাবার সন্তান বিক্রির নজিরও রয়েছে। ফুটপাতের অনেক যৌনকর্মী গর্ভে থাকা অবস্থায় সন্তান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। অনেকে সন্তান ধারণ করে শুধু বিক্রির উদ্দেশ্যে।

বাবা-মা দরিদ্র হোক বা ধনী; সন্তান সব সময় তাদের হাতেই নিরাপদ। সন্তান আনার আগেই তার খাওয়াপরা জোগানোর চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বাস্তুহারা ফুটপাতের কোন নারীই জানে না সন্তানকে পৃথিবীতে এনে খাওয়াবে কী। খাওয়ানোর ভাবনা থাকলেও নাড়িকাটা নবজাতক শিশুর মুখ দেখে ফুটপাতের নির্দিষ্ট স্বামীবিহীন নারীও আনন্দ অনুভব করে, টেনে নিয়ে বুকে জাপটে ধরে বুকের দুধ শিশুর মুখে তুলে দেন। পেটে ভাত না থাকলেও অপরিচিত লোকের কাছে নিজের সন্তান বিক্রি করার কথা কখনই ভাবে না। কিন্তু ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না যখন থামে না তখন সব রাগ গিয়ে পড়ে শিশুটির ওপর, আশপাশের ছন্নছাগা সব পুরুষ শ্রমিকের প্রতি অশ্লীল গালাগাল ছুড়ে দিয়ে গর্ভবতী হওয়ার গ্লানি কমায়। মা তখন তার প্রিয় সন্তানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হন্নে হয়ে খদ্দের খোঁজেন। ফুটপাতের খদ্দরও গরিব, পেটের ক্ষিধা না মিটিয়ে যৌনক্ষুধা মিটাতে গিয়ে সর্বস্ব গচ্চা দেয়। ধনীরাও খুব বেশি নির্দয় নয়, পরকালে বেহেশত পাওয়ার শর্ত পূরণে শীতের কম্বল দূর থেকে গায়ের উপর ছুড়ে দেয়। প্রত্যাশা যাই থাকুক না কেন, কিছু লোকের এমন দয়াও অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এমন দয়ায় শিশু সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, এবার নিজের জন্য নয়, শিশুসন্তান কেনার খদ্দেরের অনুসন্ধানে নামেন মা।

শিশু বেচাকেনা নতুন কোন বিষয় নয়। ইসলাম ধর্ম আসার আগে যেমন মানুষ বেচাকেনা হতো, ইসলাম ধর্ম আসার পরও তা অব্যাহত ছিলো। ইসলাম ধর্মে ক্রীতদাস প্রথা নিষিদ্ধ নয়। এমনকি ইউরোপিয়ানরা আফ্রিকার দেশগুলোতে দাস ব্যবসা শুরু করার অনেক আগে থেকেই আরবরা পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে প্রচুর কালো মানুষ জোরপূর্বক ধরে এনে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত। প্রথম আজান দেয়া বিলাল ছিলেন হাবশি গোলাম। আরবদের দাস ব্যবসার সময়ে কুমারী হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করার লক্ষ্যে আফ্রিকার কমবয়সী মেয়েদের যৌনাঙ্গ সেলাই করে দেয়ার যে প্রথা তখন চালু হয়েছিলো তা এখনো কয়েকটি দেশে অনুসৃত হচ্ছে। এরশাদ সাহেব ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ ঘোষণা করার পর প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম আবু জাফর শামছুদ্দীন দৈনিক সংবাদে তার নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন- এখন পাচারকারী কেউ বিক্রির অভিপ্রায়ে মানুষ পাচার করলে এরশাদ সাহেব তার বিচার করতে পারবেন না। ড. জাকির নায়েক ইসলামে বিদ্যমান দাসপ্রথার সমর্থনে উল্লেখ করেন- ইসলামের দাসপ্রথা আমেরিকার গুয়ান্তানামো বে কারাগার থেকে অনেক ভালো।

অনেকে ভিক্ষা করার জন্য শিশুদের চুরি করে নিয়ে যায় বলে শোনা যায়। অনেকে ভিক্ষা করার জন্য শিশুদের চুরি করে নিয়ে যায়; পরবর্তীতে এই শিশুদের জোরপূর্বক অঙ্গহানি করা হয় যাতে মানুষ আবেগতাড়িত হয়ে বেশি ভিক্ষা দেয়। অন্যদিকে যাদের বাচ্চা হয় না তারা অন্যের শিশুসন্তান নিয়ে লালন-পালন করতে আগ্রহী হয়। নানা কারণেই এখন নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের অনেকেই শিশু দত্তক নিতে চাইছেন। তবে আদালতের মাধ্যমে কোন শিশুর অভিভাবকত্ব নেয়া গেলেও অভিভাবক কখনো পিতা-মাতা হিসেবে পরিচয় দিতে পারে না। আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকত্ব নেয়াও সহজ নয়, একটি জটিল প্রক্রিয়া; জটিল প্রক্রিয়া এড়াতে গিয়ে অনেকে অবৈধ পন্থায় শিশু সংগ্রহ করতে প্রলুব্ধ হয়; নিঃসন্তান দম্পতি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের আইনের অগোচরে কিনে নেয়, অথবা দরিদ্র আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে সন্তান নিয়ে নিজের সন্তান হিসেবে লালন পালন করতে থাকে। জটিল প্রক্রিয়া সহজ করাও সহজ নয়; কারণ আইন সহজ হয়ে গেলে বাচ্চা ভুল মানুষের হাতে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, তিউনেসিয়া প্রভৃতি দেশে দত্তক প্রথার আইনি স্বীকৃতি রয়েছে।

আফগানিস্তানে খাদ্য সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে; পরিস্থিতি এত শোচনীয় হয়ে উঠছে যে, ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে অনেক আফগান দম্পতি নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছেন

অভিভাবক হিসেবে কোন শিশুর দায়ভার নেয়া এবং দত্তক নেয়া এক কথা নয়। ইসলাম বিরোধী বিধায় বাংলাদেশে দত্তক নেয়ার কোন আইন নেই।ইসলামে দত্তক নেয়া জায়েজ নেই; তবে দয়া করে লালন-পালন করতে পারে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী দত্তক সন্তান ওয়ারিশ হয় না, কোন সম্পত্তির ভাগ পায় না। পালক সন্তানকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়াও হারাম। প্রাপ্ত বয়স্ক পালক সন্তানের সাথে অভিভাবকের পর্দা মেনে চলা বাধ্যতামূলক; সন্তান তুল্য লালন-পালন করলেও পর্দার ইসলামিক বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুদের দত্তক দেয়ার সুবিধার্থে একটি আইন ১৯৭২ সনে হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধু উদ্ভুত সমস্যার একটা সমাধান করে পরিত্যক্ত শিশুদের একটা পরিবার পাওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন। শিশু পাচার ও ধর্মান্তর রোধ করার কথা বলে ১৯৮২ সালে এরশাদ সাহেব বঙ্গবন্ধুর করা আইনটি বাতিল করে দেন। ধর্ম কত শক্তিশালী, পরিত্যক্ত শিশুরও ধর্ম অক্ষুণ্ন রাখা চাই।

সব সমাজ পতিতাদের ঘৃণা করে, বেপর্দা নারীদের বেত্রাঘাত করে, সন্তান বিক্রেতা মাকে পারলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে; কিন্তু কথিত এসব অপরাধ করার পূর্বে মানবদরদী সমাজ তাদের খোঁজও নেয় না। সন্তান বিক্রি করার খবর ছাপাতে মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েন, সমাজপতিরা বিক্রেতা দম্পতির চরিত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন, পুলিশ গিয়ে সন্তান উদ্ধার করে মা-বাবার কাছে ফেরত দেন বা বিক্রেতা মা-বাবাকে কোর্টে সোপর্দ করেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারিণী মাঝি’ গল্পটির নায়ক তারিণী মাঝি সাঁতারে পটু, স্ত্রীকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে; কিন্তু অথৈই পানিতে সাঁতার না জানা স্ত্রীকে নিয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে তারিণী মাঝি যখন আর পারছিলো না, ডুবে যাচ্ছিলো তখন স্ত্রীকে তার বোঝা মনে হয়েছে, গলায় প্যাঁচানো স্ত্রীর হাত ছাড়ানোর যতই চেষ্টা করেছেন স্ত্রী তার প্রাণ বাঁচাতে ততই শক্ত করে তারিণী মাঝির গলা ধরেছে। শক্তসামর্থ্য তারিণী মাঝি পরিশেষে প্রাণপ্রিয় বউয়ের শ্বাসরোধ করে মরদেহ পানির মধ্যে রেখে নিজের প্রাণটি রক্ষা করে। তাই তিউনিসিয়ার এক নারীর আদালতে শাস্তি হওয়ার আগপর্যন্ত শুধু বিক্রি করার জন্য সন্তানের জন্ম দিয়ে যাচ্ছিলেন, সমাজের প্রতি বিদ্রোহ করে শুধু সন্তান বিক্রি করে জীবনধারণ করেছেন। ক্ষুধা নিবারণে গর্ভধারিণী মায়ের সন্তান বিক্রি আইনের চোখে অপরাধ হলেও তার দায় রাষ্ট্র এবং সমাজেরও রয়েছে। বাস্তবতা বিবর্জিত শব্দ ‘প্রাণপ্রিয়’; প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেকের কাছে তার জীবনটাই গুরুত্বপূর্ণ। মৃত সন্তান জন্ম দেয়ার পর উপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ডলির অনুভূতি- ‘বাঁচা গেছে বাবা, আমি হিসেব করেছি বাড়ি ফিরে মাসখানেক বিশ্রাম করে রাঁধুনি বিদায় দেব। অনেক খরচ বাঁচবে’।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

ahmedzeauddin0@gmail.com

আলু উৎপাদনে যন্ত্রের ব্যবহার

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল : ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশ মাধ্যম

সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় বিবেচ্য বিষয়

ই-কমার্সের জবাবদিহিতা

ইভিএমে আস্থার সংকট

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা : কাড়ছে প্রাণ, বাড়ছে পঙ্গুত্ব

চাকরিতে প্রবেশের বয়স নিয়ে বিতর্ক

ছবি

পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেন নেই?

দুর্নীতি ও দোষারোপের রাজনীতি

মমতা এবং আরএসএসের সম্পর্ক প্রসঙ্গে

ভূমি অপরাধ আইন এবং আদিবাসী

ঝুঁকিতে অর্থনীতি : করণীয় কী

চুকনগর : বিশ্বের স্বাধীনতা ইতিহাসে অন্যতম গণহত্যা

পিকের মেধা-প্রতিভা

পেশার অর্জন

প্রসঙ্গ : ধর্মীয় অনুভূতি

নির্বাচনই কি একমাত্র লক্ষ্য?

ছবি

হরপ্রাসাদের ‘তৈল’ এবং উন্নয়নের পথরেখা

নদী রক্ষায় চাই কার্যকর ব্যবস্থা

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশমাধ্যম

সংবাদ ও বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনে গ্লোবাল সাউথের সর্বনাশ

সাইবার অপরাধ ও প্রাসঙ্গিক কথা

ছবি

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ : সরকারের দায় ও দায়িত্ব

প্রস্তাবিত ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

ছবি

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা

‘চাচা চৌকিদার বিধায় থানা ভাতিজার’

পশ্চিমবঙ্গবাসীর একমাত্র ভবিতব্য

তেলজাতীয় ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের গুরুত্ব

প্রশাসন ক্যাডার কেন প্রথম পছন্দ

মাদক মামলা ও বাস্তবতা

সড়ক দুর্ঘটনা কি নিয়ন্ত্রণে আসবে না

বাংলাদেশেও কি শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হতে পারে

ছবি

পরিবারতন্ত্র ও শ্রীলঙ্কার অস্থিরতা

কে বড়?

tab

উপ-সম্পাদকীয়

আমাদের জীবন, আমাদের সন্তান

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

যুক্তরাষ্ট্রের কাবুল ত্যাগ করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বাবা-মায়ের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া দুই মাস বয়সী আফগান শিশু সোহেলকে সম্প্রতি তার দাদার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তালেবানদের কাবুল দখল করার পর হাজার হাজার আফগান ভয়ে দেশ থেকে পালানোর আশায় বিমানবন্দরে জড়ো হলে এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে আতঙ্কিত আফগানেরা মার্কিন বিমানে উঠতে না পেরে বিমানের পাখায় ভর করে দেশ ত্যাগের ব্যর্থ চেষ্টা করে। আফগান দম্পতি মির্জা আলি আহমাদি ও সুরাইয়া কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে জনসমুদ্রে দুই মাস বয়সী সোহেলসহ পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ছোটাছুটি করছিলেন, তখন পিতা প্রাচীরের অপরপ্রান্তে থাকা এক বিদেশি সৈন্যের হাতে শিশুসন্তান সোহেলকে তুলে দিয়ে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরমুহূর্তে সোহেল বা সেই সেনাকে আর খুঁজে পাননি। তারপরও তিন দিন ধরে খোঁজ করে না পেয়ে তারা বিমানে উঠে আমেরিকা চলে যান। কাবুল বিমানবন্দরের এক পাশে মেঝেতে কান্নারত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ট্যাক্সি ড্রাইভার হামিদ সাফি শিশুটিকে তার পরিবারে নিয়ে যান। তিন কন্যাসন্তানের দম্পতি সোহেলকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করতে শুরু করেন। সোহেলের নিখোঁজ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে হামিদ সাফির প্রতিবেশীরা শিশুটির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানান। সোহেলকে তার দাদার কোলে তুলে দেয়ার সময় ড্রাইভার হামিদ সাফির হাহাকার পৃথিবীর সব দর্শককে কাঁদিয়েছে। পৃথিবী কত বিচিত্র, অন্যের সন্তানের মায়ায় একজন ড্রাইভার কাঁদছেন, আর একই সময়ে অনেক মা তার গর্ভজাত সন্তান বিক্রির জন্য খদ্দের খুঁজছেন।

আফগানিস্তানে খাদ্য সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে; পরিস্থিতি এত শোচনীয় হয়ে উঠছে যে, ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে অনেক আফগান দম্পতি নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছেন। সন্তান বিক্রির অজুহাত দিতে গিয়ে এক দম্পতি উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষুধার্ত এক সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের আরেক সন্তানকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর ছিলো না। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে খাদ্যের অভাবে অনেক নারী যুদ্ধে স্বামী হারিয়ে দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ সম্বল সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেনিয়ার দরিদ্র কিছু নারী অভাবে পড়ে বাঁচার শেষ উপায় হিসেবে পাচারকারীদের কাছে তাদের শিশুসন্তানদের বিক্রি করছেন। আপন সন্তান বিক্রির ঘটনা আমেরিকাতেও হয়েছে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার এক মা সন্তান বিক্রির বিজ্ঞপ্তি ও সন্তান পাশে রেখে খদ্দের খুঁজতে দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে যে দম্পতির বিক্রি করার কোন স্থাবর-অস্থাবর নেই তাদের বিক্রির একটি সম্পদই থাকে এবং তা হচ্ছে সন্তান।

অভাবের তাড়নায় মাত্র ৬ হাজার টাকায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার খবর কিছুদিন আগে পড়লাম। সম্প্রতি হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হওয়া আকলিমা বেগমের গাইনি সমস্যায় প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে রোগীর স্বামী নিজের সন্তান উক্ত টাকায় বিক্রি করে দেন।

পুলিশ বিক্রীত নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। গত বছর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মজুর শাহ আলম ও রাবেয়া দম্পতি করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে ৪৫ হাজার টাকায় বিনিময়ে তাদের তিন মাস বয়সী সন্তানকে বিক্রি করে দেয়। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কুড়িগ্রামের খলিল-মর্জিনা দম্পতির তাদের তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রির খবরও মিডিয়ায় এসেছিলো। অপরিচিত আয়ার দ্বারা হাসপাতাল থেকে নবজাতক শিশু চুরির ঘটনা অহরহ শোনা যায়। নেশার টাকা এবং বাচ্চার খাবার জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্ত মা-বাবার সন্তান বিক্রির নজিরও রয়েছে। ফুটপাতের অনেক যৌনকর্মী গর্ভে থাকা অবস্থায় সন্তান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। অনেকে সন্তান ধারণ করে শুধু বিক্রির উদ্দেশ্যে।

বাবা-মা দরিদ্র হোক বা ধনী; সন্তান সব সময় তাদের হাতেই নিরাপদ। সন্তান আনার আগেই তার খাওয়াপরা জোগানোর চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বাস্তুহারা ফুটপাতের কোন নারীই জানে না সন্তানকে পৃথিবীতে এনে খাওয়াবে কী। খাওয়ানোর ভাবনা থাকলেও নাড়িকাটা নবজাতক শিশুর মুখ দেখে ফুটপাতের নির্দিষ্ট স্বামীবিহীন নারীও আনন্দ অনুভব করে, টেনে নিয়ে বুকে জাপটে ধরে বুকের দুধ শিশুর মুখে তুলে দেন। পেটে ভাত না থাকলেও অপরিচিত লোকের কাছে নিজের সন্তান বিক্রি করার কথা কখনই ভাবে না। কিন্তু ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না যখন থামে না তখন সব রাগ গিয়ে পড়ে শিশুটির ওপর, আশপাশের ছন্নছাগা সব পুরুষ শ্রমিকের প্রতি অশ্লীল গালাগাল ছুড়ে দিয়ে গর্ভবতী হওয়ার গ্লানি কমায়। মা তখন তার প্রিয় সন্তানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হন্নে হয়ে খদ্দের খোঁজেন। ফুটপাতের খদ্দরও গরিব, পেটের ক্ষিধা না মিটিয়ে যৌনক্ষুধা মিটাতে গিয়ে সর্বস্ব গচ্চা দেয়। ধনীরাও খুব বেশি নির্দয় নয়, পরকালে বেহেশত পাওয়ার শর্ত পূরণে শীতের কম্বল দূর থেকে গায়ের উপর ছুড়ে দেয়। প্রত্যাশা যাই থাকুক না কেন, কিছু লোকের এমন দয়াও অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এমন দয়ায় শিশু সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, এবার নিজের জন্য নয়, শিশুসন্তান কেনার খদ্দেরের অনুসন্ধানে নামেন মা।

শিশু বেচাকেনা নতুন কোন বিষয় নয়। ইসলাম ধর্ম আসার আগে যেমন মানুষ বেচাকেনা হতো, ইসলাম ধর্ম আসার পরও তা অব্যাহত ছিলো। ইসলাম ধর্মে ক্রীতদাস প্রথা নিষিদ্ধ নয়। এমনকি ইউরোপিয়ানরা আফ্রিকার দেশগুলোতে দাস ব্যবসা শুরু করার অনেক আগে থেকেই আরবরা পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে প্রচুর কালো মানুষ জোরপূর্বক ধরে এনে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত। প্রথম আজান দেয়া বিলাল ছিলেন হাবশি গোলাম। আরবদের দাস ব্যবসার সময়ে কুমারী হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করার লক্ষ্যে আফ্রিকার কমবয়সী মেয়েদের যৌনাঙ্গ সেলাই করে দেয়ার যে প্রথা তখন চালু হয়েছিলো তা এখনো কয়েকটি দেশে অনুসৃত হচ্ছে। এরশাদ সাহেব ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ ঘোষণা করার পর প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম আবু জাফর শামছুদ্দীন দৈনিক সংবাদে তার নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন- এখন পাচারকারী কেউ বিক্রির অভিপ্রায়ে মানুষ পাচার করলে এরশাদ সাহেব তার বিচার করতে পারবেন না। ড. জাকির নায়েক ইসলামে বিদ্যমান দাসপ্রথার সমর্থনে উল্লেখ করেন- ইসলামের দাসপ্রথা আমেরিকার গুয়ান্তানামো বে কারাগার থেকে অনেক ভালো।

অনেকে ভিক্ষা করার জন্য শিশুদের চুরি করে নিয়ে যায় বলে শোনা যায়। অনেকে ভিক্ষা করার জন্য শিশুদের চুরি করে নিয়ে যায়; পরবর্তীতে এই শিশুদের জোরপূর্বক অঙ্গহানি করা হয় যাতে মানুষ আবেগতাড়িত হয়ে বেশি ভিক্ষা দেয়। অন্যদিকে যাদের বাচ্চা হয় না তারা অন্যের শিশুসন্তান নিয়ে লালন-পালন করতে আগ্রহী হয়। নানা কারণেই এখন নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের অনেকেই শিশু দত্তক নিতে চাইছেন। তবে আদালতের মাধ্যমে কোন শিশুর অভিভাবকত্ব নেয়া গেলেও অভিভাবক কখনো পিতা-মাতা হিসেবে পরিচয় দিতে পারে না। আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকত্ব নেয়াও সহজ নয়, একটি জটিল প্রক্রিয়া; জটিল প্রক্রিয়া এড়াতে গিয়ে অনেকে অবৈধ পন্থায় শিশু সংগ্রহ করতে প্রলুব্ধ হয়; নিঃসন্তান দম্পতি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের আইনের অগোচরে কিনে নেয়, অথবা দরিদ্র আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে সন্তান নিয়ে নিজের সন্তান হিসেবে লালন পালন করতে থাকে। জটিল প্রক্রিয়া সহজ করাও সহজ নয়; কারণ আইন সহজ হয়ে গেলে বাচ্চা ভুল মানুষের হাতে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, তিউনেসিয়া প্রভৃতি দেশে দত্তক প্রথার আইনি স্বীকৃতি রয়েছে।

আফগানিস্তানে খাদ্য সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে; পরিস্থিতি এত শোচনীয় হয়ে উঠছে যে, ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে অনেক আফগান দম্পতি নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছেন

অভিভাবক হিসেবে কোন শিশুর দায়ভার নেয়া এবং দত্তক নেয়া এক কথা নয়। ইসলাম বিরোধী বিধায় বাংলাদেশে দত্তক নেয়ার কোন আইন নেই।ইসলামে দত্তক নেয়া জায়েজ নেই; তবে দয়া করে লালন-পালন করতে পারে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী দত্তক সন্তান ওয়ারিশ হয় না, কোন সম্পত্তির ভাগ পায় না। পালক সন্তানকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়াও হারাম। প্রাপ্ত বয়স্ক পালক সন্তানের সাথে অভিভাবকের পর্দা মেনে চলা বাধ্যতামূলক; সন্তান তুল্য লালন-পালন করলেও পর্দার ইসলামিক বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুদের দত্তক দেয়ার সুবিধার্থে একটি আইন ১৯৭২ সনে হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধু উদ্ভুত সমস্যার একটা সমাধান করে পরিত্যক্ত শিশুদের একটা পরিবার পাওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন। শিশু পাচার ও ধর্মান্তর রোধ করার কথা বলে ১৯৮২ সালে এরশাদ সাহেব বঙ্গবন্ধুর করা আইনটি বাতিল করে দেন। ধর্ম কত শক্তিশালী, পরিত্যক্ত শিশুরও ধর্ম অক্ষুণ্ন রাখা চাই।

সব সমাজ পতিতাদের ঘৃণা করে, বেপর্দা নারীদের বেত্রাঘাত করে, সন্তান বিক্রেতা মাকে পারলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে; কিন্তু কথিত এসব অপরাধ করার পূর্বে মানবদরদী সমাজ তাদের খোঁজও নেয় না। সন্তান বিক্রি করার খবর ছাপাতে মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েন, সমাজপতিরা বিক্রেতা দম্পতির চরিত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন, পুলিশ গিয়ে সন্তান উদ্ধার করে মা-বাবার কাছে ফেরত দেন বা বিক্রেতা মা-বাবাকে কোর্টে সোপর্দ করেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারিণী মাঝি’ গল্পটির নায়ক তারিণী মাঝি সাঁতারে পটু, স্ত্রীকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে; কিন্তু অথৈই পানিতে সাঁতার না জানা স্ত্রীকে নিয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে তারিণী মাঝি যখন আর পারছিলো না, ডুবে যাচ্ছিলো তখন স্ত্রীকে তার বোঝা মনে হয়েছে, গলায় প্যাঁচানো স্ত্রীর হাত ছাড়ানোর যতই চেষ্টা করেছেন স্ত্রী তার প্রাণ বাঁচাতে ততই শক্ত করে তারিণী মাঝির গলা ধরেছে। শক্তসামর্থ্য তারিণী মাঝি পরিশেষে প্রাণপ্রিয় বউয়ের শ্বাসরোধ করে মরদেহ পানির মধ্যে রেখে নিজের প্রাণটি রক্ষা করে। তাই তিউনিসিয়ার এক নারীর আদালতে শাস্তি হওয়ার আগপর্যন্ত শুধু বিক্রি করার জন্য সন্তানের জন্ম দিয়ে যাচ্ছিলেন, সমাজের প্রতি বিদ্রোহ করে শুধু সন্তান বিক্রি করে জীবনধারণ করেছেন। ক্ষুধা নিবারণে গর্ভধারিণী মায়ের সন্তান বিক্রি আইনের চোখে অপরাধ হলেও তার দায় রাষ্ট্র এবং সমাজেরও রয়েছে। বাস্তবতা বিবর্জিত শব্দ ‘প্রাণপ্রিয়’; প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেকের কাছে তার জীবনটাই গুরুত্বপূর্ণ। মৃত সন্তান জন্ম দেয়ার পর উপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ডলির অনুভূতি- ‘বাঁচা গেছে বাবা, আমি হিসেব করেছি বাড়ি ফিরে মাসখানেক বিশ্রাম করে রাঁধুনি বিদায় দেব। অনেক খরচ বাঁচবে’।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

ahmedzeauddin0@gmail.com

back to top