alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে

এসএম জাহাঙ্গীর আলম

: বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০২২

জ্বালানি সংকট গোটা বিশ্বেই এখন বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সংকট আরো প্রকট হবে, এটা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এমতাবস্থায় গোটা বিশ্ব ছুটছে বিকল্প জ্বালানির পেছনে। বলা যেতে পারে চীনের কথা। যখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে গ্রিন এনার্জিতে রূপান্তর করবে পৃথিবী, তখন কম খরচে জ্বালানি উৎপাদনের সহজ একটি পথ তৈরি করছে চীন। কিন্তু তাদের পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে মানব ও পরিবেশের জন্য যে বড় হুমকি হয়ে আসছে অন্য দুই দেশের জন্য সে বিষয়ে কিছুই বলছে না চীন। হাইড্রোজেনের আন্তর্জাতিক বাজার এবং সেটি কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম পণ্য উৎপাদনও বেড়ে চলছে। এর ফলে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই জ্বালানি কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও নতুন শক্তি উৎপাদন প্লান্ট, যানবাহনের জ্বালানি, ফিলিং স্টেশনসহ অনেক কিছু তৈরির চিন্তা করা হচ্ছে।

কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানির ভবিষ্যৎ না ভেবে যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে আজ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি আমরা। হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার শুরুর আগে সুদূরপ্রসারি সেই পরিকল্পনা না করলে প্রকৃতি সুরক্ষার বদলে নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখবে বিশ্ব। সায়েন্স ফিকশন মুভির ভক্তদের কাছে একটি দৃশ্য বেশ পরিচিত। আর তা হলো জ্বালানি ও পানি নিয়ে যুদ্ধ। মুভিগুলোতে দেখা যায় এলিয়েন বা ভিনগ্রহের বাসিন্দারাও অধিকাংশ সময় পৃথিবীতে আক্রমণ করেছে এর জ্বালানি সম্পদ ও পানি হাতি নেওয়ার জন্য। অনেকেই হয়তো ভাবছেন খাবার পানির অভাবে এই যুদ্ধ, কিন্তু সম্প্রতি সময়ে বিকল্প জ্বালানির খোঁজে বিশ্ব যে পথে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে অচিরেই জ্বালানির বদলে পানি নিয়ে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি মধ্যে রাখার বিষয়ে সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে- তা পূরণের পূর্বশর্তই হলো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার।

অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে অন্য কোনো জ্বালানির ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক কার ও বাইক ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়লেও শেষপর্যন্ত অধিকাংশ গ্রাহক এটি ব্যবহার করছে না, কেননা এগুলো চার্জ হতে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়। তবে যাতায়াত ছাড়াও কলকারখানা পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানির বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়েই মূলত দুশ্চিন্তা। এ ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে হাইড্রোজেনভিত্তিক শক্তি উৎপাদক কেন্দ্রগুলোকে। হাইড্রোজেন জ্বালানি নবায়নযোগ্য ও সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি। এটি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী। পানিকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

বাংলাদেশেও এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। তারা আশাবাদী, অচিরেই হাইড্রোজেনভিত্তিক জ্বালানি উৎপাদন শুরু করবে তারা। এক কেজি হাইড্রোজেন থেকে ৩৩ দশমিক ৩৩ কি.জু./গ্যা এনার্জি পাওয়া যায়। যেখানে পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজি থেকে পাওয়া যায় যথাক্রমে ১২ কি.জু./গ্যা (প্রায়) ও ১৪ দশমিক ৭ কি.জু./গ্যা। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল কার এক কেজি হাইড্রোজেন দিয়ে ১০০-১৩১ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। যেখানে এক কেজি পেট্রোলে চলে ১৬ কিমি। ব্যবহার উপযোগী অবস্থার জন্য হাইড্রোজেন জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে উৎপাদন, ডেলিভারি ও বিতরণ খরচ বিবেচনায় নিতে হয়। বর্তমানে হাইড্রোজেনের ইউনিট মূল্য ৫ থেকে সাড়ে ৭ ডলার। ৯ লিটার পানির ত্বরিত বিশ্লেষণ থেকে ১ কেজি হাইড্রোজেন ও ৮ কেজি অক্সিজেন পাওয়া যায়। এর উৎপাদন খরচ অপারেশন টাইমের ভিত্তিতে ১ দশমিক ৬ থেকে ১০ ডলার। অন্যদিকে বায়োমাস গ্যাসিফিকেশনের মাধ্যমে উৎপাদিত পাইপলাইন উপযোগী হাইড্রোজেনের মূল্য আড়াই থেকে সাড়ে তিন ডলার। এক কেজি বায়োমাস থেকে শূন্য দশমিক ৮ থেকে শূন্য দশমিক ১৩ কেজি হাইড্রোজেন পাওয়া যায়।

তবে হাইড্রোজেনের আরও ব্যাপক প্রয়োগ করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমপক্ষে দুইগুণ বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমাদের বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে জ্বালানি উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়াতে হবে। তবেই পরিবহনের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন এবং মানুষের জন্য যথেষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ ব্যাপক আকারে বাড়িয়ে হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব নয়। কিন্তু সেই জ্বালানি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে ফুয়েল স্টেশনের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবও তো বড় এক সমস্যা। সেই সঙ্গে পানিকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে হাইড্রোজেন পাওয়ার প্লান্ট তৈরির সুদূরপ্রসারি ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে ভাবছে না অনেক দেশ। হাইড্রোজেন পাওয়ার প্ল্যান্টের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রন্ত দেশগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

একদিন হয়তো মাটির নিচের মজুদ তেল, গ্যাস, কয়লা, পেট্রলসহ সব জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। তখন পৃথিবীর জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য থাকবে শুধু সৌরশক্তি। পারমাণবিক শক্তি অবশ্য আছে। তবে জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামিতে (১১ মার্চ, ২০১১) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপর্যয়ের পর এ শক্তির বিপদ সম্পর্কে এখন সবাই সাবধান। তাই সৌরশক্তিই অন্যতম ভরসা। কিন্তু এ শক্তি কী অফুরন্ত? হ্যাঁ, অফুরন্ত কিন্তু আমাদের চাহিদা মেটানোর জন্য এটা যথেষ্ট কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে। প্রতিদিন সূর্য পৃথিবীর ওপর যে আলো ফেলছে, তার শক্তি পৃথিবীর সারা বছরে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি শক্তির তিনগুণের সমান। তার মানে, আমাদের চাহিদা মেটাতে পৃথিবীর ১ শতাংশ স্থানে যতটা সৌরশক্তি পড়ে, তার এক-দশমাংশ সৌরশক্তিই যথেষ্ট। সৌরশক্তি অফুরন্ত হলেও সব দেশে সবটা কাজে লাগানো কঠিন।

[লেখক : সাবেক কর কমিশনার]

ধর্মান্ধ আর প্রতিযোগিতা: দুই সাম্প্রদায়িকের খেলা

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী: সমাজের নতুন ব্যাধি

ছবি

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা: ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষা নাকি দুর্ভোগের নতুন দরজা

ক্ষমতা যখন নিজেকেই তোষামোদ করে

‘খাল কেটে কুমির আনা...’

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

অধিকারহীনতার বৃত্তে আদিবাসী জীবন

স্লোগানে ফ্যাসিবাদ, ভোটের মাঠে আশির্বাদ!

ভাঙা-গড়া সমাজের আমূল পরিবর্তন আনে

শান্তির বৃত্তে বাঁধা বাঘ

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

ছবি

জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনল্যান্ড: নতুন ভূ-রাজনীতির ইঙ্গিত

ব্যাংকিং খাত: সংকট, সংস্কার ও আস্থার সন্ধান

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

কুষ্ঠ-সম্পর্কিত কুসংস্কার ও বৈষম্য

ব্যাংক ধসের দায় কার?

পশ্চিমবঙ্গে অহেতুক হয়রানির মূল টার্গেট মুসলমানেরাই

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

নির্বাচনের আগেই জানা গেল আংশিক ফল!

শীতকালীন অসুখ-বিসুখ

দিশাহীন অর্থনীতি, নিষ্ক্রিয় অন্তর্বর্তী সরকার

নরসুন্দরের পোয়াবারো

জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’ কৌশল নাকি রাজনৈতিক বিভ্রান্তি?

ছবি

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও গোলক ধাঁধা

আগুনের ছাইয়ে কলমের আলো

বিগ বাউন্স শেষে বিগ ক্রাঞ্চের পথে ব্রহ্মাণ্ড

সংস্কৃতি চর্চা: শিকড়, সংকট ও আগ্রাসন

শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত কারাব্যবস্থার প্রত্যাশা

ছবি

প্রসঙ্গ: ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা

ছবি

খালেদা জিয়া, কাছে ও দূর থেকে দেখা

মানবসভ্যতা ও প্রাণিকল্যাণ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা

ছবি

ইরানের ধর্মভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী

ফুল ও মৌমাছির গণিতে কৃষির প্রতিচ্ছবি

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে

এসএম জাহাঙ্গীর আলম

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০২২

জ্বালানি সংকট গোটা বিশ্বেই এখন বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সংকট আরো প্রকট হবে, এটা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এমতাবস্থায় গোটা বিশ্ব ছুটছে বিকল্প জ্বালানির পেছনে। বলা যেতে পারে চীনের কথা। যখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে গ্রিন এনার্জিতে রূপান্তর করবে পৃথিবী, তখন কম খরচে জ্বালানি উৎপাদনের সহজ একটি পথ তৈরি করছে চীন। কিন্তু তাদের পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে মানব ও পরিবেশের জন্য যে বড় হুমকি হয়ে আসছে অন্য দুই দেশের জন্য সে বিষয়ে কিছুই বলছে না চীন। হাইড্রোজেনের আন্তর্জাতিক বাজার এবং সেটি কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম পণ্য উৎপাদনও বেড়ে চলছে। এর ফলে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই জ্বালানি কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও নতুন শক্তি উৎপাদন প্লান্ট, যানবাহনের জ্বালানি, ফিলিং স্টেশনসহ অনেক কিছু তৈরির চিন্তা করা হচ্ছে।

কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানির ভবিষ্যৎ না ভেবে যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে আজ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি আমরা। হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার শুরুর আগে সুদূরপ্রসারি সেই পরিকল্পনা না করলে প্রকৃতি সুরক্ষার বদলে নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখবে বিশ্ব। সায়েন্স ফিকশন মুভির ভক্তদের কাছে একটি দৃশ্য বেশ পরিচিত। আর তা হলো জ্বালানি ও পানি নিয়ে যুদ্ধ। মুভিগুলোতে দেখা যায় এলিয়েন বা ভিনগ্রহের বাসিন্দারাও অধিকাংশ সময় পৃথিবীতে আক্রমণ করেছে এর জ্বালানি সম্পদ ও পানি হাতি নেওয়ার জন্য। অনেকেই হয়তো ভাবছেন খাবার পানির অভাবে এই যুদ্ধ, কিন্তু সম্প্রতি সময়ে বিকল্প জ্বালানির খোঁজে বিশ্ব যে পথে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে অচিরেই জ্বালানির বদলে পানি নিয়ে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি মধ্যে রাখার বিষয়ে সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে- তা পূরণের পূর্বশর্তই হলো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার।

অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে অন্য কোনো জ্বালানির ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক কার ও বাইক ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়লেও শেষপর্যন্ত অধিকাংশ গ্রাহক এটি ব্যবহার করছে না, কেননা এগুলো চার্জ হতে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়। তবে যাতায়াত ছাড়াও কলকারখানা পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানির বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়েই মূলত দুশ্চিন্তা। এ ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে হাইড্রোজেনভিত্তিক শক্তি উৎপাদক কেন্দ্রগুলোকে। হাইড্রোজেন জ্বালানি নবায়নযোগ্য ও সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি। এটি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী। পানিকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

বাংলাদেশেও এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। তারা আশাবাদী, অচিরেই হাইড্রোজেনভিত্তিক জ্বালানি উৎপাদন শুরু করবে তারা। এক কেজি হাইড্রোজেন থেকে ৩৩ দশমিক ৩৩ কি.জু./গ্যা এনার্জি পাওয়া যায়। যেখানে পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজি থেকে পাওয়া যায় যথাক্রমে ১২ কি.জু./গ্যা (প্রায়) ও ১৪ দশমিক ৭ কি.জু./গ্যা। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল কার এক কেজি হাইড্রোজেন দিয়ে ১০০-১৩১ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। যেখানে এক কেজি পেট্রোলে চলে ১৬ কিমি। ব্যবহার উপযোগী অবস্থার জন্য হাইড্রোজেন জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে উৎপাদন, ডেলিভারি ও বিতরণ খরচ বিবেচনায় নিতে হয়। বর্তমানে হাইড্রোজেনের ইউনিট মূল্য ৫ থেকে সাড়ে ৭ ডলার। ৯ লিটার পানির ত্বরিত বিশ্লেষণ থেকে ১ কেজি হাইড্রোজেন ও ৮ কেজি অক্সিজেন পাওয়া যায়। এর উৎপাদন খরচ অপারেশন টাইমের ভিত্তিতে ১ দশমিক ৬ থেকে ১০ ডলার। অন্যদিকে বায়োমাস গ্যাসিফিকেশনের মাধ্যমে উৎপাদিত পাইপলাইন উপযোগী হাইড্রোজেনের মূল্য আড়াই থেকে সাড়ে তিন ডলার। এক কেজি বায়োমাস থেকে শূন্য দশমিক ৮ থেকে শূন্য দশমিক ১৩ কেজি হাইড্রোজেন পাওয়া যায়।

তবে হাইড্রোজেনের আরও ব্যাপক প্রয়োগ করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমপক্ষে দুইগুণ বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমাদের বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে জ্বালানি উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়াতে হবে। তবেই পরিবহনের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন এবং মানুষের জন্য যথেষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ ব্যাপক আকারে বাড়িয়ে হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব নয়। কিন্তু সেই জ্বালানি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে ফুয়েল স্টেশনের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবও তো বড় এক সমস্যা। সেই সঙ্গে পানিকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে হাইড্রোজেন পাওয়ার প্লান্ট তৈরির সুদূরপ্রসারি ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে ভাবছে না অনেক দেশ। হাইড্রোজেন পাওয়ার প্ল্যান্টের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রন্ত দেশগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

একদিন হয়তো মাটির নিচের মজুদ তেল, গ্যাস, কয়লা, পেট্রলসহ সব জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। তখন পৃথিবীর জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য থাকবে শুধু সৌরশক্তি। পারমাণবিক শক্তি অবশ্য আছে। তবে জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামিতে (১১ মার্চ, ২০১১) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপর্যয়ের পর এ শক্তির বিপদ সম্পর্কে এখন সবাই সাবধান। তাই সৌরশক্তিই অন্যতম ভরসা। কিন্তু এ শক্তি কী অফুরন্ত? হ্যাঁ, অফুরন্ত কিন্তু আমাদের চাহিদা মেটানোর জন্য এটা যথেষ্ট কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে। প্রতিদিন সূর্য পৃথিবীর ওপর যে আলো ফেলছে, তার শক্তি পৃথিবীর সারা বছরে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি শক্তির তিনগুণের সমান। তার মানে, আমাদের চাহিদা মেটাতে পৃথিবীর ১ শতাংশ স্থানে যতটা সৌরশক্তি পড়ে, তার এক-দশমাংশ সৌরশক্তিই যথেষ্ট। সৌরশক্তি অফুরন্ত হলেও সব দেশে সবটা কাজে লাগানো কঠিন।

[লেখক : সাবেক কর কমিশনার]

back to top