alt

উপ-সম্পাদকীয়

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা

ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ

: বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অধীনে থাকা উপনিবেশগুলো একে একে স্বাধীন হতে শুরু করে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এ দুই দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। আর এ সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বরাজনীতির নতুন দুই মোড়ল হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইউরোপের মাটিতে নাৎসিদের প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এক হয়ে কাজ করেছিল।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে এসে এ দুই দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হতে শুরু করে। ফলে এ দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের দিকে এগোতে থাকে। ১৯৫০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় চার দশক গোটা বিশ্বের মানুষ এ দুই দেশের দ্বৈরথ দেখেছে। শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরিতে কিংবা অলিম্পিকের মতো আসরেও যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো এখন চীন ও রাশিয়ার উত্থান ঠেকাতে মরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ও জি সেভেনের সম্মেলনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার প্রায় সবই চীন ও রাশিয়াকেন্দ্রিক।

চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো কতটুকু সফলতা অর্জন করতে পারবে, সেটাই আজকের দিনে পৃথিবীব্যাপী প্রধান আলোচ্য বিষয়। রাশিয়া যখন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায়, তখন পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক গণমাধ্যম দাবি করছিল যে খুব শিগগিরই রাশিয়ার পতন হতে চলছে। রাশিয়াকে গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো দেশটির ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। সুইফট সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়া হয়।

ভারত-চীন সীমান্তে চলমান অচলাবস্থা, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অনিশ্চিত গতিপথের মধ্যে এটা স্পষ্ট যে এশিয়া এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের ‘ইসলামিক আমিরাত’ যে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ লালন করবে তা মোকাবেলা করতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একটি জোট গঠনে বাধ্য করেছে; যার মধ্যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এমনকি ইরানও রয়েছে। তালেবানের দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান তার নিজস্ব রাজনীতিতে ‘তালেবানিকরণ’ রোধ করার চেষ্টা করবে, কিন্তু তার সীমানার মধ্যে উগ্র ইসলামপন্থিরা এরই মধ্যে শক্তিশালী ও সাহসী হয়ে উঠেছে।

চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এ সম্ভাবনার মুখোমুখি যে দেশীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও চরমপন্থিরা নতুন তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়, অস্ত্র ও সমর্থন পাবে। যদিও প্রাথমিকভাবে চীন-আমেরিকা উত্তেজনা বৃদ্ধি ভারতের পূর্বদিকের দেশগুলো ও জলভাগকে প্রভাবিত করেছে। তবে এটা দ্রুতই পশ্চিম দিকে সরে যাবে। নতুন মহাশক্তির প্রতিযোগিতায় সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলই খেলার মধ্যে রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে বিভক্ত করার প্রাথমিক আশা এরই মধ্যে কমেছে। সম্ভবত এটা হয়েছে প্রতিটি ইস্যু একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত করার চীনের জেদের কারণে। একই সময়ে দুইপক্ষের পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা দ্বারা চীন-মার্কিন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ম্লান করা কঠিন।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জন্য চীন-আমেরিকা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো একটি পক্ষ বেছে নেয়ার কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। আসিয়ানের অনেক সদস্য চীনের ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা চায়। একইভাবে অঞ্চলজুড়ে সরকারগুলো নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিও বজায় রেখে চলেছে। তারা সতর্কভাবে চীন বা যুক্তরাষ্ট্র কারো পক্ষ নেয়া থেকে বিরত থেকে যেখানে সম্ভব স্থানীয় জোট গঠন করছে।

কিন্তু চীন-আমেরিকা সম্পর্কের গতিপথের পরিপ্রেক্ষিতে এ কৌশলগত বিকল্পটিকে তারা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা দেখার বিষয়। ‘এশিয়ান ন্যাটো’র মতো যেকোনো কিছুর প্রতি এ দেশগুলোর বিরাগ এরই মধ্যে স্পষ্ট। পক্ষ নেয়া ছাড়া মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপন কিভাবে হয় তা ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা), এসসিও ও অন্যান্য বিকল্পের অব্যাহত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। এদিকে হিমালয়ের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের ফলে ভারত দ্বিগুণ আগ্রহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এক লাখেরও বেশি সৈন্য এখন সীমান্তে অবস্থান করছে। সিনিয়র ভারতীয় কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে আনুষ্ঠানিক মৈত্রী সম্পর্কে না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অংশীদারিত্ব অবশ্যই গভীর হতে হবে।

১৯৬২ সালে সীমান্ত বিরোধ থেকেই তো দুই দেশ প্রথাগত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। দুটি দেশেরই বিপুল অস্ত্রসম্ভার রয়েছে এবং এসব অস্ত্রশস্ত্র বেশ আধুনিক। গত ২০ বছর ধরে দুটি দেশ শুধু নিজেরাই সমরাস্ত্র তৈরি করেনি, একই সঙ্গে অস্ত্র আমদানিও করেছে। বিশেষ করে ভারত পরপর পাঁচ বছর বিশ্বের সবচাইতে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশের স্থান দখল করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরায়েল থেকে তারা অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র এনেছে। তারা নিজেরাও বিদেশি প্রযুক্তি এনে নিজেরা অস্ত্র তৈরি করেছে।

একইভাবে চীন রাশিয়া থেকে কিছু অস্ত্র কিনেছে, কিন্তু বেশিরভাগ অস্ত্র তারা এখন নিজেরা উৎপাদন করে। কাজেই অত্যাধুনিক অস্ত্র দুই পক্ষেরই আছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো গিরিসংকুল পার্বত্য এলাকায় তারা সেইসব অস্ত্র কতটা ব্যবহার করতে পারবে। বিমান বহর এবং ক্ষেপণাস্ত্র হয়তো তারা ব্যবহার করতে পারবে; কিন্তু যাকে আমরা সেনাবাহিনী বলি, যারা মাটিতে যুদ্ধ করে, তারা তাদের গোলন্দাজ, সাঁজোয়া বা ট্যাংক বহর খুব একটা ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে হয়না। কেননা যার যত সৈন্যই থাকুক, নানা কারণে সব সৈন্য কোন দেশই মোতায়েন করতে পারে না।

কারণ যেখানে এই যুদ্ধ হবে, সেখানকার ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেটা কোন দেশের কাছে কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটির জন্য তারা কতটুকু পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে প্রস্তুত- সেটাই আসল প্রশ্ন। কাজেই কোন সামরিক সংঘাতে এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সামরিক শক্তির চেয়ে। দুটি দেশেরই স্বার্থ হচ্ছে যুদ্ধে না জড়ানো। কারণ যুদ্ধ হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশ ব্যাপক হবে। দুটি দেশেরই ক্ষতি হবে। কাজেই দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইছে। চীন এবং ভারত উভয়েরই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কাজেই তাদের চেষ্টা থাকবে উত্তেজনা কমিয়ে আনার।

বর্তমানে ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা বিশ্বজনীন প্রেক্ষাপটে সেটা বেশ বৈরী। বিশ্ব রাজনীতিতে এই দ্ইু দেশের অবস্থান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে। আন্তর্জাতিকভাবে চীনের সেই অর্থে কোন মিত্র নেই। তাদের একটি মিত্রদেশ হচ্ছে পাকিস্তান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর ধরে বলা যায় ভারতের মিত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সাল হতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ব্যাপারটিও রয়েছে। এ সহযোগিতা গত দুই দশকে অনেক দৃঢ় হয়েছে। ভারত বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি সামরিক জোটের অংশগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বেশ বৈরী হয়ে গেছে, ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতাকে তাই তারা মোটেই পছন্দ করছে না। চীন এবং ভারতের মধ্যে বৈরিতার এরকম একটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে। এ প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত সম্পর্ক ক্রমশ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আলোকে দেখতে গেলে এই সীমান্ত বিরোধ তাদের মধ্যকার শত্রুতার একটি প্রকাশ মাত্র।

এ ধরনের একটা চাপ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের ওপর আছে। যেমন ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চীনের সাহায্যে তারা চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবেন; কিন্তু এই প্রস্তাব যখন বাংলাদেশ চীনের কাছে দেয়, তখন চীন সেটি গ্রহণ করেছিল। এই বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলো এখন চীন ও রাশিয়ার উত্থান ঠেকাতে মরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ও জি সেভেনের সম্মেলনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার প্রায় সবই চীন ও রাশিয়াকেন্দ্রিক

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং জাপানের চাপের মুখে বাংলাদেশকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিতে হয়। পরে বাংলাদেশ জাপানের সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রামে সামুদ্রিক বন্দর নির্মাণ করছে। এ ধরনের চাপ কিন্তু বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরেই অনুভব করছে। এটার মোকাবেলায় বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে তাদের সাধ্যমতো কাজ করে চলেছে।

বাংলাদেশের অনেক সমরাস্ত্র চীন থেকে এসেছে। বাংলাদেশি সেনা অফিসাররা চীন থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক সম্পর্ক, সামরিক নয়। এখনো পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশ সে পরিমাণ সমরাস্ত্র কেনেনি। কাজেই এটা একটা জটিল সম্পর্ক। অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি- সব দিক দিয়ে।

চীন ও ভারত অনেকটাই আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিনত হয়েছে। প্রতীয়মান হচ্ছে যে, চীন ক্রমন্বয়ে রাশিয়ার মতো পরাশক্তির ভূমিকায় স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। ‘সকলের সাথে সহযোগিতা ও সমঝোতা কারো সাথে বৈরিতা নয়’- এই পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা অটল থেকে, এর ভিত্তিতে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে বলিয়ান হয়ে দ্বিপাক্ষিক সকল স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আন্তঃসম্পর্ককে সমুন্নত করতে হবে। তবে এ অঞ্চলের বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারত ও চীনের আবির্ভাব এবং পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়নে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ছোট দেশগুলোতে প্রচন্ড বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি হয় বলে অনুভূত হচ্ছে। ইতোমধ্যে চীনের বিনিয়োগ নীতির জালে ফেসে গেছে শ্রীলংকা ও পাকিস্তান। তাদের শিক্ষাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তবে কোনভাবেই আমাদের নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে আকড়ে ধরে থাকা যাবে না। অন্যায় অশোভন বা কোন স্বার্থ পরিপন্থি বিষয়ের সাথে কোনভাবেই আপোসকামিতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

[লেখক : সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী]

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কারিগরি শিক্ষা

মাদক রুখতে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ

পারিবারিক অপরাধপ্রবণতা ও কয়েকটি প্রশ্ন

ডারউইনকে খুঁজে পেয়েছি

চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ফসল উৎপাদন করা জরুরি

পিএসসি প্রশ্নফাঁসের দায় এড়াবে কীভাবে

এত উন্নয়নের পরও বাসযোগ্যতায় কেন পিছিয়েই থাকছে ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য কি কেউ নেই?

জলবায়ু রক্ষায় কাজের কাজ কি কিছু হচ্ছে

অধরার হাতে সমর্পিত ক্ষমতা

প্রসঙ্গ : কোটাবিরোধী আন্দোলন

রম্যগদ্য : যে করিবে চালাকি, বুঝিবে তার জ্বালা কী

একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলার পরিণতি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা কেন শ্রেণীকক্ষের বাইরে

মেধা নিয়ে কম মেধাবীর ভাবনা

প্রজাতন্ত্রের সেবক কেন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন বনে যান

ছবি

বাইডেন কি দলে বোঝা হয়ে যাচ্ছেন?

ছবি

দুই যুগের পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাপ উপকারী প্রাণীও বটে!

ছবি

বাস্তববাদী রাজনীতিক জ্যোতি বসু

কোটাবিরোধী আন্দোলন ও শিক্ষকদের পেনশন সংকট

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা : এই নাটকের শেষ কোথায়?

আড্ডাকে অবহেলা নয়

অবাসযোগ্য ঢাকার গোপন রহস্য

ইতিহাস ও ঐতিহ্যনির্ভর পর্যটনে গুরুত্ব দিন

রথযাত্রা উৎসব

মুসলিম আইনে জমি অগ্রক্রয়ের অধিকার বনাম বাস্তবতা

শিক্ষকের ভালোবাসা : এক নীরব বিপ্লব

পণ্য বয়কট : বিশ্ব রাজনীতির বড় হাতিয়ার

বিদেশি বিনিয়োগ কমছে কেন

একজন উদ্যোগী গবেষকের কথা

জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে প্রয়োজন পুকুর খনন

নীল আর্মস্ট্রংয়ের স্পেস স্যুট

কোটাব্যবস্থা ও আজকের বাস্তবতা

রম্যগদ্য : ‘যঃ পলায়তিঃ স্বঃ জীবতিঃ...’

দুর্নীতি প্রতিরোধ সময়ের দাবি

tab

উপ-সম্পাদকীয়

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা

ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ

বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অধীনে থাকা উপনিবেশগুলো একে একে স্বাধীন হতে শুরু করে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এ দুই দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। আর এ সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বরাজনীতির নতুন দুই মোড়ল হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইউরোপের মাটিতে নাৎসিদের প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এক হয়ে কাজ করেছিল।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে এসে এ দুই দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হতে শুরু করে। ফলে এ দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের দিকে এগোতে থাকে। ১৯৫০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় চার দশক গোটা বিশ্বের মানুষ এ দুই দেশের দ্বৈরথ দেখেছে। শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরিতে কিংবা অলিম্পিকের মতো আসরেও যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো এখন চীন ও রাশিয়ার উত্থান ঠেকাতে মরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ও জি সেভেনের সম্মেলনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার প্রায় সবই চীন ও রাশিয়াকেন্দ্রিক।

চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো কতটুকু সফলতা অর্জন করতে পারবে, সেটাই আজকের দিনে পৃথিবীব্যাপী প্রধান আলোচ্য বিষয়। রাশিয়া যখন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায়, তখন পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক গণমাধ্যম দাবি করছিল যে খুব শিগগিরই রাশিয়ার পতন হতে চলছে। রাশিয়াকে গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো দেশটির ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। সুইফট সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়া হয়।

ভারত-চীন সীমান্তে চলমান অচলাবস্থা, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অনিশ্চিত গতিপথের মধ্যে এটা স্পষ্ট যে এশিয়া এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের ‘ইসলামিক আমিরাত’ যে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ লালন করবে তা মোকাবেলা করতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একটি জোট গঠনে বাধ্য করেছে; যার মধ্যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এমনকি ইরানও রয়েছে। তালেবানের দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান তার নিজস্ব রাজনীতিতে ‘তালেবানিকরণ’ রোধ করার চেষ্টা করবে, কিন্তু তার সীমানার মধ্যে উগ্র ইসলামপন্থিরা এরই মধ্যে শক্তিশালী ও সাহসী হয়ে উঠেছে।

চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এ সম্ভাবনার মুখোমুখি যে দেশীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও চরমপন্থিরা নতুন তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়, অস্ত্র ও সমর্থন পাবে। যদিও প্রাথমিকভাবে চীন-আমেরিকা উত্তেজনা বৃদ্ধি ভারতের পূর্বদিকের দেশগুলো ও জলভাগকে প্রভাবিত করেছে। তবে এটা দ্রুতই পশ্চিম দিকে সরে যাবে। নতুন মহাশক্তির প্রতিযোগিতায় সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলই খেলার মধ্যে রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে বিভক্ত করার প্রাথমিক আশা এরই মধ্যে কমেছে। সম্ভবত এটা হয়েছে প্রতিটি ইস্যু একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত করার চীনের জেদের কারণে। একই সময়ে দুইপক্ষের পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা দ্বারা চীন-মার্কিন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ম্লান করা কঠিন।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জন্য চীন-আমেরিকা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো একটি পক্ষ বেছে নেয়ার কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। আসিয়ানের অনেক সদস্য চীনের ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা চায়। একইভাবে অঞ্চলজুড়ে সরকারগুলো নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিও বজায় রেখে চলেছে। তারা সতর্কভাবে চীন বা যুক্তরাষ্ট্র কারো পক্ষ নেয়া থেকে বিরত থেকে যেখানে সম্ভব স্থানীয় জোট গঠন করছে।

কিন্তু চীন-আমেরিকা সম্পর্কের গতিপথের পরিপ্রেক্ষিতে এ কৌশলগত বিকল্পটিকে তারা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা দেখার বিষয়। ‘এশিয়ান ন্যাটো’র মতো যেকোনো কিছুর প্রতি এ দেশগুলোর বিরাগ এরই মধ্যে স্পষ্ট। পক্ষ নেয়া ছাড়া মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপন কিভাবে হয় তা ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা), এসসিও ও অন্যান্য বিকল্পের অব্যাহত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। এদিকে হিমালয়ের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের ফলে ভারত দ্বিগুণ আগ্রহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এক লাখেরও বেশি সৈন্য এখন সীমান্তে অবস্থান করছে। সিনিয়র ভারতীয় কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে আনুষ্ঠানিক মৈত্রী সম্পর্কে না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অংশীদারিত্ব অবশ্যই গভীর হতে হবে।

১৯৬২ সালে সীমান্ত বিরোধ থেকেই তো দুই দেশ প্রথাগত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। দুটি দেশেরই বিপুল অস্ত্রসম্ভার রয়েছে এবং এসব অস্ত্রশস্ত্র বেশ আধুনিক। গত ২০ বছর ধরে দুটি দেশ শুধু নিজেরাই সমরাস্ত্র তৈরি করেনি, একই সঙ্গে অস্ত্র আমদানিও করেছে। বিশেষ করে ভারত পরপর পাঁচ বছর বিশ্বের সবচাইতে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশের স্থান দখল করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরায়েল থেকে তারা অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র এনেছে। তারা নিজেরাও বিদেশি প্রযুক্তি এনে নিজেরা অস্ত্র তৈরি করেছে।

একইভাবে চীন রাশিয়া থেকে কিছু অস্ত্র কিনেছে, কিন্তু বেশিরভাগ অস্ত্র তারা এখন নিজেরা উৎপাদন করে। কাজেই অত্যাধুনিক অস্ত্র দুই পক্ষেরই আছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো গিরিসংকুল পার্বত্য এলাকায় তারা সেইসব অস্ত্র কতটা ব্যবহার করতে পারবে। বিমান বহর এবং ক্ষেপণাস্ত্র হয়তো তারা ব্যবহার করতে পারবে; কিন্তু যাকে আমরা সেনাবাহিনী বলি, যারা মাটিতে যুদ্ধ করে, তারা তাদের গোলন্দাজ, সাঁজোয়া বা ট্যাংক বহর খুব একটা ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে হয়না। কেননা যার যত সৈন্যই থাকুক, নানা কারণে সব সৈন্য কোন দেশই মোতায়েন করতে পারে না।

কারণ যেখানে এই যুদ্ধ হবে, সেখানকার ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেটা কোন দেশের কাছে কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটির জন্য তারা কতটুকু পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে প্রস্তুত- সেটাই আসল প্রশ্ন। কাজেই কোন সামরিক সংঘাতে এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সামরিক শক্তির চেয়ে। দুটি দেশেরই স্বার্থ হচ্ছে যুদ্ধে না জড়ানো। কারণ যুদ্ধ হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশ ব্যাপক হবে। দুটি দেশেরই ক্ষতি হবে। কাজেই দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইছে। চীন এবং ভারত উভয়েরই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কাজেই তাদের চেষ্টা থাকবে উত্তেজনা কমিয়ে আনার।

বর্তমানে ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা বিশ্বজনীন প্রেক্ষাপটে সেটা বেশ বৈরী। বিশ্ব রাজনীতিতে এই দ্ইু দেশের অবস্থান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে। আন্তর্জাতিকভাবে চীনের সেই অর্থে কোন মিত্র নেই। তাদের একটি মিত্রদেশ হচ্ছে পাকিস্তান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর ধরে বলা যায় ভারতের মিত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সাল হতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ব্যাপারটিও রয়েছে। এ সহযোগিতা গত দুই দশকে অনেক দৃঢ় হয়েছে। ভারত বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি সামরিক জোটের অংশগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বেশ বৈরী হয়ে গেছে, ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতাকে তাই তারা মোটেই পছন্দ করছে না। চীন এবং ভারতের মধ্যে বৈরিতার এরকম একটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে। এ প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত সম্পর্ক ক্রমশ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আলোকে দেখতে গেলে এই সীমান্ত বিরোধ তাদের মধ্যকার শত্রুতার একটি প্রকাশ মাত্র।

এ ধরনের একটা চাপ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের ওপর আছে। যেমন ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চীনের সাহায্যে তারা চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবেন; কিন্তু এই প্রস্তাব যখন বাংলাদেশ চীনের কাছে দেয়, তখন চীন সেটি গ্রহণ করেছিল। এই বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলো এখন চীন ও রাশিয়ার উত্থান ঠেকাতে মরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ও জি সেভেনের সম্মেলনে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার প্রায় সবই চীন ও রাশিয়াকেন্দ্রিক

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং জাপানের চাপের মুখে বাংলাদেশকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিতে হয়। পরে বাংলাদেশ জাপানের সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রামে সামুদ্রিক বন্দর নির্মাণ করছে। এ ধরনের চাপ কিন্তু বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরেই অনুভব করছে। এটার মোকাবেলায় বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে তাদের সাধ্যমতো কাজ করে চলেছে।

বাংলাদেশের অনেক সমরাস্ত্র চীন থেকে এসেছে। বাংলাদেশি সেনা অফিসাররা চীন থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক সম্পর্ক, সামরিক নয়। এখনো পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশ সে পরিমাণ সমরাস্ত্র কেনেনি। কাজেই এটা একটা জটিল সম্পর্ক। অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি- সব দিক দিয়ে।

চীন ও ভারত অনেকটাই আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিনত হয়েছে। প্রতীয়মান হচ্ছে যে, চীন ক্রমন্বয়ে রাশিয়ার মতো পরাশক্তির ভূমিকায় স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। ‘সকলের সাথে সহযোগিতা ও সমঝোতা কারো সাথে বৈরিতা নয়’- এই পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা অটল থেকে, এর ভিত্তিতে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে বলিয়ান হয়ে দ্বিপাক্ষিক সকল স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আন্তঃসম্পর্ককে সমুন্নত করতে হবে। তবে এ অঞ্চলের বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারত ও চীনের আবির্ভাব এবং পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়নে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ছোট দেশগুলোতে প্রচন্ড বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি হয় বলে অনুভূত হচ্ছে। ইতোমধ্যে চীনের বিনিয়োগ নীতির জালে ফেসে গেছে শ্রীলংকা ও পাকিস্তান। তাদের শিক্ষাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তবে কোনভাবেই আমাদের নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে আকড়ে ধরে থাকা যাবে না। অন্যায় অশোভন বা কোন স্বার্থ পরিপন্থি বিষয়ের সাথে কোনভাবেই আপোসকামিতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

[লেখক : সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী]

back to top