দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলার পর টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জয়ের দেখা পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি স্থান পেয়েছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির মন্ত্রিসভায়। দায়িত্ব পেয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের।
জানা গেছে, প্রথমবার যখন তিনি টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির টিকিট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন, তখন তার বয়স ছিল প্রায় ৪৭ বছর। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৭২। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মধুপুর ও ধনবাড়ীর মাঠ-ঘাট, গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় ঘুরে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি নিজ দলের ভেতরেও বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তবুও ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যেই তিনি এ এলাকায় রাজনীতি করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের সন্তান ফকির মাহবুব আনাম। তাঁর চাচা আফাজ উদ্দিন ফকির ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আরেক চাচা প্রখ্যাত গীতিকার লোকমান হোসেন ফকির।
দলীয় সূত্র জানায়, তিনি প্রথমে নিজ এলাকা টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে টাঙ্গাইল-১ আসনে আসেন। ২০০০ সালের দিকে আউশনারা ইউনিয়নের মহিষমারা গ্রামে বাড়ি নির্মাণ করে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তবে শুরুতে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তার আগমন সহজভাবে নেয়নি।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হয় এবং পরাজিত হন। ২০০৮ সালেও জয় পাননি। ২০১৮ সালে মনোনয়নবঞ্চিত হলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরও বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় তাকে। সবশেষে তিনি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফি পান ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, প্রায় ৪৫ বছর পর এ আসনটি পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি।
মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মধুপুর-ধনবাড়ী এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের অনেকেই ঢাকায় গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এলাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।