image

আইজিপি বাহারুলকে নিয়ে ‘অপপ্রচার’: ‘পদত্যাগ করতে চেয়েছেন তিনি’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

পুলিশপ্রধান আইজিপি বাহারুল আলমকে নিয়ে নানা অপপ্রচারের কারণে তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। গতকাল সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এমন মন্তব্য করেন। তবে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে পদত্যাগ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, মন্ত্রী পরিষদ গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এ নিয়ে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন আলোচনা হয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

এ সম্পর্কে আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠানোর পরও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না কলা শর্তে বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিছুদিন পর নানা কারনে তাকে আইজিপি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি পুলিশের নানা অস্থিরতা কাটিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে একটি জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ করেছেন।

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তর, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের পর গতকাল প্রথম অফিস খোলা হয়েছে। তখনই আবার অনেকেই তাকে নিয়ে নানা অপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরের একটি গ্রুপও অপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

আবার অনেকই তাকে সৎ অফিসার মন্তব্য করে বলেন,আইজিপি বাহারুল আলম একজন সৎ অফিসার। তার মতো আইজিপি পাওয়া কষ্টকর। তিনি লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে পুলিশকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে আসছেন ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা কঠোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ একটি মহল তাকে সরিয়ে দিতে এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন? তবে সরকারি সিদ্ধান্ত পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

এ দিকে গতকাল রাত ৯টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখা থেকে জানিয়েছেন, আইজিপি পদত্যাগ করেনি। পত্যাগের যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। অন্যদিকে গতকাল রাতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপোষণ ও মনস্থির করেছেন পদত্যাগ করবেন। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে সিদ্ধান্ত হবে।

আবার গতকাল রাতে কয়েকটি গণমাধ্যমে তার পদত্যাগ পত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে জমা দিয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া জন্য। পদত্যাগের বিষয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গতকাল রাতে একটি গণমাধ্যমকে আইজিপি বলেছেন, তার পদত্যাগের খবর সঠিক নয়। এটা গুঞ্জন। ২০২৪ সালে ২০ নভেম্বর তাকে ২ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

কে হচ্ছেন নতুন আইজিপি: বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠনের পর সরকার নতুন আইজিপি হিসেবে কাকে নিয়োগ দিবেন তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এরমধ্যে সাবেক দুইজন অতিরিক্ত আইজিপির নাম শুনা যাচ্ছে। এছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন অতিরিক্ত আইজির নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। তিনি হলে সবার জন্য ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন। আবার কেউ কেউ আইজিপি হওয়ার জন্য চেষ্টাও করছেন বলে আলোচনা চলছে। সবমিলিয়ে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

শুধু আইজিপি নয়, ডিএমপি কমিশন, স্পেশাল বাঞ্চের (এসবি) প্রধানসহ বিভিন্ন পদে নতুন করে ঢেলে সাজানো হতে পারে। যা নতুন সরকার করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জানিয়েছে আইজিপি পদ ত্যাগের খবর সঠিক নয়।

মন্ত্রিপরিষদ গঠন পর্যন্ত অপেক্ষার অনুরোধ সহকর্মীদের

নতুন আইজিপি কে হবেন তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি