image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে আরও ৩১ জন হাসপাতালে, মোট ভর্তি ১৩০৯ জন, মৃত্যু ৪ জন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ডেঙ্গুতে আরও ৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট হাসপাতালে ভর্তি ১৩০৯ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ জন, ঢাকা বিভাগে ৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন এক নীরব আতঙ্কের নাম। গত কয়েক বছর ধরেই রোগটি মৌসুমি সীমাবদ্ধতা ভেঙে সারা বছরই এর প্রার্দুভাব দেখা দিচ্ছে। দেশে এখন বর্ষা ও শীত পরবর্তী সময়েও এর বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, মশক নিধন কার্যক্রম এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। সিটি করপোরেশনগুলো কাগজে-কলমে কর্মসূচি নিলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা সীমিত।

অনেক এলাকায় এখনও সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানভিত্তিক প্রয়োগ করা হয় না। দেশে জন সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। অনেক পরিবার এখনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথেষ্ট সতর্ক নয়। ফুলের টব, পানি রাখার কলস, বালতি, নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানি, ড্রামের মতো জায়গায় সহজেই এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে।

সমন্বয়হীনতা বড় একটি সমস্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন রোগীর চাপ বাড়ছে। কিন্তু শয্যা সীমিত। অনেক হাসপাতালেই এখনও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও সাপোর্ট স্টাফ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই দরকার জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেঙ্গুকে আর শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি এখন একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে বলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কবিরুল বাশার তার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেন।

‘নগর-মহানগর’ : আরও খবর

সম্প্রতি