নতুন সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরণের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচনকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কার্ড বিতরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে “নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা” শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, গ্রামীণ ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার এই কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া প্রচলিত প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কার্ডধারী নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আন্তর্জাতিক সূচক অনুসরণ করে এবং রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে যদি প্রকৃত বঞ্চিতদের এই কার্ড দেওয়া হয়, তবেই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সফল হবে।
তিনি আরও পরামর্শ দেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে কার্ড বিতরণ করলে দুর্নীতি ও তথ্যের ঘাটতির আশঙ্কা থাকে। তাই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রকৃত যোগ্যদের তালিকা করার ওপর তিনি জোর দেন।
দেশের জিডিপি নিয়ে সরকারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার বিষয়েও ব্রিফিংয়ে আলোচনা করা হয়। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে প্রতি বছর ডলারের ভিত্তিতে গড়ে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় এটি কঠিন মনে হলেও কার্যকর সংস্কার ও রাজস্ব আদায়ের হার বৃদ্ধি করলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে ২০৩১ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৩ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক: সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: মিডরেঞ্জের বাজারে গুরুত্ব পাচ্ছে ইনফিনিক্স নোট এজ