যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতার নতুন ধারা, কারণ ছাড়াই ধ্বংসের উন্মত্ততা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে এক অদ্ভুত ও ঘৃণ্য সহিংসতার ধারা তৈরি হয়েছে। যা প্রচলিত রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মতো নয় মোটেই। কোনো কারণ ছাড়াই ভয়ঙ্কর উন্মত্ততা তৈরি হয়েছে। গেল ১৮ মাস ধরেই এমন প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হয়রানি, হত্যাচেষ্টা, বোমা হামলা ও পরিকল্পিত ড্রোন আক্রমণ হচ্ছে। আর এতে অংশ নেওয়া হামলাকারীর আসল উদ্দেশ্য মানুষ ও সমাজের বিরোধিতা করা। হামলাকারীরা সমাজকে ভেঙে দিতে চায়। মানব সভ্যতার সত‍্যশক্তি ধ্বংস করতে চায়।

এসব ঘটনার পেছনে কী কারণ তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন। আইন রক্ষাকারী ও ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থাগুলো নতুন ধারার এসব নৃশংসতাকে ‘নিহিলিস্টিক সহিংস উগ্রবাদ’ নামে শ্রেণিবদ্ধ করছে। যেখানে ‘নিহিলিস্টিক‘ এর সমার্থক হিসেবে আসছে অর্থহীনতাবাদী, সর্বনাশবাদী, নাস্তিকতাবাদী, সবকিছু অস্বীকারকারী শব্দগুলো। যার লক্ষ্য রাজনৈতিক বা সংগঠনের আদর্শ নয়। বরং নতুন অভিযোগহীন ও সমাজবিদ্বেষী মনোভাব। যেখানে মানবাধিকার, নৈতিকতা বা অর্থহীনজীবন সম্পর্কে গভীর নেতিবাচক মনোভাব কাজ করছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে পুলিশ ও তদন্তকারীরা বলছেন, হামলা বা আক্রমণকারী ব্যক্তি বা গ্রুপগুলো একেবারেই সুসংগঠিতও নয়। তাদের মধ্যে নিয়মিত রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক মেলামেশাও নেই। বিপরীতে তারা অনলাইনে বিচ্ছিন্ন ও গোপন নেটওয়ার্কে মিলিত হচ্ছে। একে-অপরকে সহযোগিতা করছে।

আমেরিকার ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, সহিংসতার নতুন এই রূপে হামলাকারীদের অনেকে তাদের ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করছে। তারা মানব সমাজ বা সভ্যতাকে “অপরাধ” বা “অর্থহীন” হিসেবে দেখায়। ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।

নতুন ধারার এই সহিংসতার উদ্দেশ্য বা মনোভাব বুঝতে উদাহরণ দেখা গেছে উইসকনসিনের মাদিসনে। ১৫ বছর বয়সী এক তরুণী একটি খ্রিষ্টীয় স্কুলে গিয়ে গুলি চালায়। পরে “মানবতাবিরোধী যুদ্ধ” শিরোনামের একটি ম্যানিফেস্টো (বক্তব্যপত্র) রেখে যায়। যেখানে তিনি মানবজাতিকে “ময়লা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একইসঙ্গে নাশভিলের শক্তি গ্রিড ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা আর একটি আইভিএফ ক্লিনিকের বাইরে আত্মঘাতী হামলা চালানো দুই পৃথক ব্যক্তি অনলাইনে অস্থিরতা ও পরাজয়বাদী অবস্থান ভিত্তিক নানা ধরণের সহিংস অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক হামলাকারী অনলাইন বিশেষ ফোরাম, নিশ ফোরামস ও ভয়ংকর ভিডিও/গ্রুপে গঠন করা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখানে তারা সহিংস কনটেন্ট শেয়ার করেছে। একে-অপরকে প্রভাবিত করেছে। সহিংসতা সম্পর্কে মেনে নেওয়ার মতো মনস্তত্ত্ব তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সহজেই সহিংস মনোভাব, কঠোর নেতিবাচক চিন্তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছড়িয়ে দেয়। এ ধরনের সহিংসতা গত কয়েক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বারবার ঘটে চলেছে। এর ক্ষেত্রে প্রচলিত রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক কারনের বাইরে সাধারণ সমাজের বিরোধিতা ও ধ্বংসের ইচ্ছাই মূল চালিকাশক্তি।

তদন্তকারীরা বলছেন, এটি প্রচলিত সন্ত্রাস বা উগ্রবাদ থেকে একদম আলাদা। কারণ ছাড়াই শুধু বিভ্রান্তি ও সমাজ-ঘৃণা ছড়াতেই এমন আক্রমণ হচ্ছে। মার্কিন গবেষক ও বিশ্লেষক মাইকেল জেনসেন বলেন, “গত কয়েক দশকে সন্ত্রাস মূলত সংগঠিত ছিল। পেছনে নেতা, সদস্য ও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ইন্টারনেট এই কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। এখন আপনিই বুঝতে পারছেন না আগামি সংঘাত কোথায় হতে পারে।”

https://sangbad.net.bd/images/2026/February/09Feb26/news/%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE.JPG

ওয়াশিংটন পোস্টের তদন্ত অনুসারে গত ১৮ মাসে বহু ধরনের সহিংসতা ঘটেছে, যেখানে শিক্ষার্থী, সাধারণ নাগরিক, সরকারি কর্মকর্তা ও আমেরিকার বিভিন্ন সমাজের মানুষই ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেক ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছাড়াই সহিংসতা চালিয়েছে। এই ধরণের “নিহিলিস্টিক সহিংস উগ্রবাদ” এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সংকট নয়, বরং বিশ্বব্যাপী টেনশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ অনলাইন নেটওয়ার্ক ও সামাজিক মাধ্যমে এই মনোভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি