মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা নতুন করে বেজে উঠেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় বড় ধরনের হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরাইল। এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে সবুজ সংকেত বা চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা করছে তেল আবিব।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কেএএন-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, জেনেভা বৈঠকের পর ইরানে মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার সম্ভাবনা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে।
জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় দফা আলোচনার পর দেখা গেছে, দুই দেশের মধ্যে এখনো পাহাড়সম মতপার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এই দাবিতে নমনীয় না হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপকেই এখন একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই (শনিবার) ইরানে হামলা চালানোর জন্য সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেননি।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পেন্টাগন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু স্পর্শকাতর এলাকা থেকে মার্কিন সেনা ও কর্মীদের সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল।