কাল শপথ গ্রহণ
প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সরকার গঠনের এই নব যাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে। জানা গেছে, ওইদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, নব নির্বাচিত মন্ত্রীদের বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে সরকারি বাস ভবনগুলো। ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে বিরোধীদলের প্রধানের বাসভবন। তবে, সরকার প্রধান কোথায় থাকবেন তা নিয়ে এখনও রয়ে গেছে সংশয়। অন্যদিকে মন্ত্রীদের বরণ করতে সচিবালয়ে বেশ সাজ সা জরব দেখা গেছে।
শপথ অনুষ্ঠান
গতানুগতিক বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে শপথ অনুষ্ঠান। তবে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এটিই প্রথমবারের মত বিশেষ ব্যবস্থায় সংসদ এলাকায় আয়োজন করা হচ্ছে।
জানা হেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন সচিব মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন মিয়া এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
প্রস্তুত ৪০টি বাসভবন
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ঢাকার বেইলি রোড, গুলশান, ধানমন্ডি এবং মিন্টো রোড এলাকায় প্রায় ৪০টি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন সাপেক্ষে এর সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
আপাতত ৫০ বাহন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রীদের জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জানা যায়, ভিভিআইপি প্রটোকলে সব সময় কয়েকটি গাড়ি বেশি প্রস্তুত রাখতে হয়। কোনো কারণে একটি গাড়ি নষ্ট বা দুর্ঘটনায় পড়লে সঙ্গে সঙ্গে যেন আরেকটি গাড়ি পাঠানো যায়, সেজন্য অতিরিক্ত পাঁচটিসহ মোট ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তবে, শপথ গ্রহণের দিনই সর্বমোট কতটি গাড়ি লঅগবে তা চূড়ান্ত হবে।
চূড়ান্ত হয়নি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যমুনাকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কোথায়? গুলশান নাকি হেয়ার রোডে তা নির্ভর করবে তার সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। তাই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কোথায়?
বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনও প্রস্তুত
মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনও প্রস্তুত করেছে সরকার। প্রসঙ্গত, হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার পাশেই ২৯ নম্বর ভবন বিরোধী দলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত। ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং সবশেষ ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া উঠেছিলেন এই সরকারি বাসভবনে। এরপর ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো বিরোধী দলীয় নেতা এ বাড়িতে ওঠেননি।
সচিবালয়ে সাজ সাজ রব
এদিকে, নতুন মন্ত্রীদের বরণে প্রস্তুত সচিবালয়। যেন, সাজ সাজ রব পরে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মচারীরা ধোয়ামোছা, পুরোনো আসবাবপত্র ও লাইট-এসি পরিবর্তনের কাজে ব্যস্ত। বিশেষ করে অন্তর্র্বতী সরকারের উপদেষ্টাদের নামফলক সরিয়ে সেখানে নতুন মন্ত্রীদের নামফলক স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বারান্দা ও করিডোরে বসানো হচ্ছে নতুন ফুলের টব।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়। প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
নগর-মহানগর: জবিতে সব দল-মতের ঐক্য অক্ষুণ্ণ থাকবে: রইছ উদ্দীন
নগর-মহানগর: ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর
নগর-মহানগর: সিলেটে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ
সারাদেশ: ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ আজ