নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার, (১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডে (সিদ্ধেশ্বরী) চরমোনাই পীরের বাসভবনে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন এবং রাত ৮টার দিকে বের হন।
সাক্ষাতের সময় চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বিএনপি চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে চরমোনাই পীরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যের অংশ হিসেবেই এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই নেতা নির্বাচন-পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভোটের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে শীর্ষ নেতাদের এই পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও সৌজন্য বিনিময়কে আগামীর রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে তাদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। বিশেষ করে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের (হাতপাখা প্রতীক) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ওই আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং মুফতি ফয়জুল করীম ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট পান।
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেছিলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, তবে তা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি ভিন্ন দল ও মতের সবার সহযোগিতা কামনা করেন।