অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিনে এসে অবশেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার, (১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সনদে স্বাক্ষর করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম জানান, গণভোটের মাধ্যমে নোট অব ডিসেন্টের বিষয়টির মীমাংসা হয়ে গেছে বলেই তারা শর্তহীনভাবে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, স্বাক্ষরের কমেন্টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ রেখে আমরা সই করেছি এবং গণভোটের গণরায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে এই সাপেক্ষে সই করেছি।
২০২৪ সালের শেষে জুলাই আন্দোলনের নেতাদের দাবির মুখে জুলাই সনদ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি দল এতে স্বাক্ষর করে। তবে সনদের ‘আইনি ভিত্তি’ স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি সে সময় স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা তখন বলেছিলাম যে এই জুলাই জাতীয় সনদের যে আইনি ভিত্তি... নিশ্চিত না হলে আমাদের আসলে এই ডকুমেন্টে সাইন করার কোনো মানে থাকবে না।’ পরবর্তীতে গণভোটের আদেশের মাধ্যমে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেন।
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম জানান, নতুন সরকার গঠনের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের কোনো সংশয় নেই। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের ভিত্তিটাই হচ্ছে গণভোট এবং গণভোটের ভিত্তি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে সবার শেষে স্বাক্ষর করলেও সনদ বাস্তবায়নের জন্য তারা ছিলেন সর্বোচ্চ তৎপর।
এনসিপি আসন্ন সংসদে যোগ দিচ্ছে এবং জুলাই সনদ ও সংস্কারের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করাই তাদের ম্যান্ডেট বলে জানান নাহিদ ইসলাম। আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথের আগে দলিলের পূর্ণতা দেয়ার লক্ষ্যেই তারা এই স্বাক্ষর সম্পন্ন করলেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনসিপির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন, মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।