image

জনসেবায় ৫০ বছর আমৃত্যু জনসেবা করার অঙ্গীকার গিয়াসউদ্দিনের

প্রতিনিধি, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

সিদ্ধিরগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযুদ্ধা গিয়াসউদ্দিন আমৃত্যু জনসেবা করার অঙ্গীকার করেছেন। ১৯৭৭ সালে ছাত্রাবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গত ৫০ বছর যাবত জনসেবা করে যাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ এই দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। নির্বাচিত হোক বা না হোক আমৃত্যু জনসেবা করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন সমাজ সেবায় সফল ব্যক্তি গিয়াসউদ্দিন।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকায় ১৯৫৩ সালে জন্ম গ্রহন করেন গিয়াসউদ্দিন। ১৯৬৯ সালে এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা কায়েদ-ই-আজম (বর্তমানে সোহরয়ার্দী) কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জীবনবাজি রেখে তিন বোনের একমাত্র ভাই গিয়াসউদ্দিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেন গ্রুপ কমান্ডার হিসাবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এইচএসসি পাশ করে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে। সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করার পর জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন। যদিও ১৯৬৯ সালে এলাকায় সামাজিক সংগঠন প্রগতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করে এলাকা উন্নয়নে স্থানীয় যুবকদের যুক্ত করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় যা পরবর্তীতে পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত হয়। এছাড়াও তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণে তার পরিচিতি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পরে। ১৯৭৭ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গিয়াসউদ্দিন। এরপর তিনি নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন জনসেবায়। ১৯৮২ সালে পুনরায় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছর নির্বাচিত হন ফতুল্লা থানা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান পদে। ১৯৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর (সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা) উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সারা দেশের উপজেলা চেয়ারম্যানদের সংগঠনে প্রথমে মহাসচিব ও পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তার পরিচিতি সারা দেশে ছড়িয়ে পরে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সবখানে সাফল্যের পর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা) থেকে মনোনয়ন দিলে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিগত সরকারের ১৭ বছরে তিনি ও তার পরিবার বহু হয়রানির শিকার হয়েছেন। বাড়িতে থাকতে পারেননি। পারেননি তার স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিতে। এ সময় নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জের অনেক বিএনপি নেতা গডফাদার শামীম ওসমানের সঙ্গে সমযোতা করে এলকায় থেকেছেন। কিন্তু তিনি আত্মপোনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিন কাউন্সিলের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হলে তার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। ২৪-এর গণআন্দোলনেও তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন বলে দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানায়।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিনকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না দেয়ায় এসব এলাকার নেতাকর্মী ও অভিভাবকরা মর্মাহত হয়েছেন। এলাকাবাসী ও নেতার্কীদের অনুরোধে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন গিয়াসউদ্দিন।

এলাকাবাসী তার উপরই আস্থা রাখছেন বলে জানা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন দুটি আসনের সব স্থানে যেতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। বিগত ৫০ বছর জনসেবায় আমার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বাকি জীবনটাও জনসেবায় কাটিয়ে দিতে চাই। তিনি আরও বলেন, এবার ভোটাররা প্রতীক নয় প্রার্থী দেখে ভোট দিবে। দলমত নির্বিশেষে সবাাই ভোট দিয়ে আমাকে দুটি আসনেই জয়যুক্ত করবেন। নির্বাচিত হলে সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়নীতির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও তিনি জানান।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি