কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের দুটি বিটে কর্মরত দুই বনপ্রহরীর বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জব্দ করা গাছ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণে সহায়তা করার অভিযোও রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বনপ্রহরীর প্রধান দায়িত্ব হলো বনসম্পদ রক্ষা করা। কেউ যদি বনের জব্দ করা চোরাই গাছের হিসাব গোপন রাখে, কিংবা তা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করে তাহলে পুরো প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বন আইন ও বিধি অনুযায়ী জব্দকৃত কাঠ দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেগুলো সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। সেখানে তথ্য গোপন বা বিলম্ব প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা বা বালু-পাহাড় কাটায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু বন উজাড় নয়, পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়াবে।
অভিযোগগুলো নতুন নয়; কিন্তু এর বিরুদ্ধে তদারকি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান ছিল না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করতে চাই, দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত হবে। তদন্তের ভিত্তিতে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ দায়িত্বের অপব্যবহার করতে সাহস না পায়।
বনাঞ্চল একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন। বন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। বিট ও রেঞ্জ পর্যায়ে দায়িত্বের স্পষ্ট সীমারেখা নিশ্চিত করতে হবে। জব্দ করা সম্পদের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।