রমজান উপলক্ষে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে। সাশ্রয়ী দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে নির্দীষ্ট কিছু পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তবে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম নগরে বিক্রির প্রথম দিনেই যে চিত্র সামনে এসেছে, তা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রংপুরে সীমিত সংখ্যক ট্রাক ও বিক্রয়কেন্দ্রের কারণে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে পণ্য পাননি। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। পণ্যের মান, বিশেষ করে খেজুর ও চিনির গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহীতে লাইনে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ট্রাকের স্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। লাইনের বাইরে পণ্য বিতরণের অভিযোগও এসেছে। চট্টগ্রামে তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে বিক্রি হলেও সময়সূচি, স্থান নির্বাচন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কিছু সমস্যা দেখা গেছে। এসব ঘটনায় ধারণা করা যায়, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে সাশ্রয়ী মূল্যের উদ্যোগও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
টিসিবি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পণ্য মজুত আছে, নির্ধারিত মূল্যেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে পণ্যের গুণগত মান বা লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাহলে তা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ এ কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করে মানুষের আস্থার ওপর। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পাওয়া হতাশজনক। কাউকে যে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পণ্য সংগ্রহ করতে না হয় সেটা নিশ্চিত করা দরকার।
রমজানে নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তাই টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র ও ট্রাকের সংখ্যা চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করা দরকার। উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করা হলে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে। পণ্য বিক্রিতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা জরুরি। পণ্যের গুণগত মান রক্ষা করতে হবে। নির্ধারিত মূল্য মেনে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে কিনা তা তদারকির জন্য কার্যকর নজরদারি চালাতে হবে।