alt

সম্পাদকীয়

দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ প্রসঙ্গে

: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গত দুই সপ্তাহে ডায়রিয়ায় মারা গেছে ২১ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জেই মারা গেছে ১২ জন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে গড়ে দেড় হাজার মানুষ। গত এক সপ্তাহে সেখানে আট হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। চাহিদা অনুযায়ী আইভি স্যালাইনও মিলছে না।

নভেল করোনার সংক্রমণের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপের খবরটি উদ্বেগজনক। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় দেশের সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানই চাপের মুখে আছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলো সামলাতে হচ্ছে বাড়তি চাপ। ডায়রিয়ার অনেক রোগীকেই হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে অনেক মানুষই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়ায় যারা মারা গেছে তাদের একজন ছাড়া বাকি সবাই বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিল বলে জানা গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলের কোন কোন এলাকার ঘরে ঘরে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে বলেছে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে প্রতি বছরই এ অঞ্চলে কমবেশি ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে দেখা যায়। কিন্তু এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি হলো কেন সেটা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গুরুতর অসুস্থরা যেন হাসপাতালে চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালে আইভি স্যালাইনের সংকট দূর করতে হবে অবিলম্বে। বাড়িতে যারা চিকিৎসা নিচ্ছে তারা যেন নিয়ম মেনে খাবার স্যালাইন খায়, বিশুদ্ধ পানি পান করে সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আক্রান্ত এলাকার মানুষ যেসব উৎস থেকে পানি পায় তা কতটা নিরাপদ সেটা দেখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসরতদের অনেকে দৈনন্দিন কাজে খালের পানি ব্যবহার করে। এমনকি তারা সকালে ভাতের সঙ্গে খালের পানি মিশিয়ে খায় বলে জানা যায়। ১ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বরগুনার কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে সম্প্রতি সমীক্ষা চালিয়েছে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ৭১ শতাংশ মানুষ খালের পানি ব্যবহার করে।

পানি পান ও গৃহস্থালিসহ সব কাজে মানুষ যেন নলকূপের পানি ব্যবহার করে সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। গভীর নলকূপের সংখ্যা বাড়িয়ে মানুষের বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। নলকূপ ভিন্ন অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া পানি ফুটিয়ে অথবা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে নিরাপদ করে ব্যবহার করা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

জলাবদ্ধতা থেকে ফতুল্লাবাসীকে মুক্তি দিন

থামছে না মানব পাচার : গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

জি-৭ নেতাদের টিকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে

অগ্রহণযোগ্য

অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করে সীমানা খুঁটি কার স্বার্থে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে হয়রানি বন্ধ করুন

সীমান্তে করোনার সংক্রমণ কার উদাসীনতায়?

শিশুশ্রম : শ্রম আর ঘামে শৈশব যেন চুরি না হয়

মডেল মসজিদ প্রসঙ্গে

ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র

পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধে বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে

উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ

পাহাড়-বন কেটে আবার কেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে মাদক নির্মূল করা যাবে না

গ্যাং কালচার থেকে শিশু-কিশোরদের ফেরাতে হবে

নিরাপদ খাদ্য প্রসঙ্গে

বস্তিতে আগুন : পুনরাবৃত্তি রোধে চাই বিদ্যুৎ-গ্যাসের বৈধ সংযোগ

নদী দূষণ বন্ধে চাই জোরালো উদ্যোগ

উদাসীন হলে চড়া মূল্য দিতে হবে

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার বিহিত করুন

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কোন কারণে

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে নিন

টিকা দেয়ার পরিকল্পনায় গলদ থাকলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হবে না

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর মিছিলে ওয়াসা

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ : স্বাস্থ্যবিধিতে ছাড় নয়

জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীর মুক্তি মিলবে কবে

বাজেট : প্রাণ আর পেটের দায় মেটানোর অভিলাষ কি পূরণ হবে

মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি

গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

গ্যাসকূপ খননে বাপেক্স কেন নয়

বরাদ্দ ব্যয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্প : সতর্ক থাকতে হবে

অনলাইন ব্যবসায় প্রতারণা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

tab

সম্পাদকীয়

দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ প্রসঙ্গে

শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গত দুই সপ্তাহে ডায়রিয়ায় মারা গেছে ২১ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জেই মারা গেছে ১২ জন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে গড়ে দেড় হাজার মানুষ। গত এক সপ্তাহে সেখানে আট হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। চাহিদা অনুযায়ী আইভি স্যালাইনও মিলছে না।

নভেল করোনার সংক্রমণের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপের খবরটি উদ্বেগজনক। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় দেশের সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানই চাপের মুখে আছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলো সামলাতে হচ্ছে বাড়তি চাপ। ডায়রিয়ার অনেক রোগীকেই হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে অনেক মানুষই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়ায় যারা মারা গেছে তাদের একজন ছাড়া বাকি সবাই বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিল বলে জানা গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলের কোন কোন এলাকার ঘরে ঘরে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে বলেছে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে প্রতি বছরই এ অঞ্চলে কমবেশি ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে দেখা যায়। কিন্তু এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি হলো কেন সেটা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গুরুতর অসুস্থরা যেন হাসপাতালে চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালে আইভি স্যালাইনের সংকট দূর করতে হবে অবিলম্বে। বাড়িতে যারা চিকিৎসা নিচ্ছে তারা যেন নিয়ম মেনে খাবার স্যালাইন খায়, বিশুদ্ধ পানি পান করে সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আক্রান্ত এলাকার মানুষ যেসব উৎস থেকে পানি পায় তা কতটা নিরাপদ সেটা দেখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসরতদের অনেকে দৈনন্দিন কাজে খালের পানি ব্যবহার করে। এমনকি তারা সকালে ভাতের সঙ্গে খালের পানি মিশিয়ে খায় বলে জানা যায়। ১ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বরগুনার কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে সম্প্রতি সমীক্ষা চালিয়েছে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ৭১ শতাংশ মানুষ খালের পানি ব্যবহার করে।

পানি পান ও গৃহস্থালিসহ সব কাজে মানুষ যেন নলকূপের পানি ব্যবহার করে সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। গভীর নলকূপের সংখ্যা বাড়িয়ে মানুষের বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। নলকূপ ভিন্ন অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া পানি ফুটিয়ে অথবা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে নিরাপদ করে ব্যবহার করা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

back to top