alt

সম্পাদকীয়

করোনার ভারতীয় স্ট্রেইন

চাই সতর্কতা

: বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১

প্রতিবেশী ভারতে গত কয়েকদিন ধরে করোনার সংক্রমণ ও এতে মৃত্যুর হারে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। দেশটিতে গত রোববার করোনায় মারা গেছে ২ হাজার ৮০৬ জন এবং ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাসের নতুন দুটি স্ট্রেইন বি ১.৬১৭ ও বি ১.৬১৮ তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আকাশ ও স্থলপথে ভারতের সঙ্গে পণ্যাবাহী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের চলাচল বন্ধ রেখেছে। জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে। করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে ইউরোপে সতর্কতা জারি হয়েছে।

ভারতীয় স্ট্রেইন কতটা বিপজ্জনক সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কোন দেশের বিজ্ঞানীরাই। ভারতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনকে ‘অনুসন্ধানের আওতাধীন স্ট্রেইন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনাভাইরাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি পরিবর্তন ঘটেছে। এজন্য গবেষকরা একে ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ বলছেন । এর মধ্যে একটি পরিবর্তনের ফলে করোনাভাইরাসের প্রকৃতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে তৈরি স্ট্রেইনের সঙ্গে মিলে যায়। শরীরে করোনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকে এই স্ট্রেইন ফাঁকি দিতে সক্ষম হলেও হতে পারে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) বিজ্ঞানীরা দেশে এখনো করোনার ভারতীয় স্ট্রেইনের দেখা পাননি বলে জানা যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত করোনার ভারতীয় স্ট্রেইনের উপস্থিতি না মিললেও বাংলাদেশকে শঙ্কামুক্ত মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার একেকটি স্ট্রেইন কখন, কীভাবে বিস্তৃত হবে সেটা বলা কঠিন। তাই সতর্ক না থাকলে ঘটতে পারে সমূহ বিপদ। এক দেশের স্ট্রেইন আরেক দেশে বিস্তৃত হওয়ার নজির বিশ্বজুড়েই রয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দুই সপ্তাহর জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সীমান্ত বন্ধ হলেও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করবে, কিছু মানুষের যাওয়া-আসা হবেই। স্থলবন্দরে করোনা পরীক্ষা, কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ভারত থেকে আসা ২৯ জন বাংলাদেশি কভিড-১৯ পজিটিভ হলে তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়। ১০ জন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে অবশ্য তাদের ধরে সেখানে ফিরিয়ে নেয়া হয়। এই ঘটনায় স্থলবন্দর দিয়ে আসা মানুষের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। স্থলবন্দরে দ্রুত কঠোর কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সীমান্তে আসা ভারতীয় পণ্যবাহী পরিবহনের চালক-শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে স্থানীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করছে বলে জানা গেছে। তারা যেন মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে সেটা যে কোন মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে যে কোন শৈথিল্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সীমান্তে আগত মানুষের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের আমদানি-রপ্তানি যেন ব্যাহত না হয় সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে হয়রানি বন্ধ করুন

সীমান্তে করোনার সংক্রমণ কার উদাসীনতায়?

শিশুশ্রম : শ্রম আর ঘামে শৈশব যেন চুরি না হয়

মডেল মসজিদ প্রসঙ্গে

ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র

পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধে বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে

উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ

পাহাড়-বন কেটে আবার কেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে মাদক নির্মূল করা যাবে না

গ্যাং কালচার থেকে শিশু-কিশোরদের ফেরাতে হবে

নিরাপদ খাদ্য প্রসঙ্গে

বস্তিতে আগুন : পুনরাবৃত্তি রোধে চাই বিদ্যুৎ-গ্যাসের বৈধ সংযোগ

নদী দূষণ বন্ধে চাই জোরালো উদ্যোগ

উদাসীন হলে চড়া মূল্য দিতে হবে

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার বিহিত করুন

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কোন কারণে

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে নিন

টিকা দেয়ার পরিকল্পনায় গলদ থাকলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হবে না

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর মিছিলে ওয়াসা

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ : স্বাস্থ্যবিধিতে ছাড় নয়

জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীর মুক্তি মিলবে কবে

বাজেট : প্রাণ আর পেটের দায় মেটানোর অভিলাষ কি পূরণ হবে

মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি

গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

গ্যাসকূপ খননে বাপেক্স কেন নয়

বরাদ্দ ব্যয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্প : সতর্ক থাকতে হবে

অনলাইন ব্যবসায় প্রতারণা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

কার স্বার্থে বারবার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে

মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়কেই রক্ষা করতে হবে

উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক

করোনার পরীক্ষায় প্রতারণা প্রসঙ্গে

এখনও ডায়রিয়ায় ভুগছে মানুষ প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

সীমান্তে শিথিল স্বাস্থ্যবিধি কঠোর হোন

tab

সম্পাদকীয়

করোনার ভারতীয় স্ট্রেইন

চাই সতর্কতা

বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১

প্রতিবেশী ভারতে গত কয়েকদিন ধরে করোনার সংক্রমণ ও এতে মৃত্যুর হারে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। দেশটিতে গত রোববার করোনায় মারা গেছে ২ হাজার ৮০৬ জন এবং ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাসের নতুন দুটি স্ট্রেইন বি ১.৬১৭ ও বি ১.৬১৮ তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আকাশ ও স্থলপথে ভারতের সঙ্গে পণ্যাবাহী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের চলাচল বন্ধ রেখেছে। জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে। করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে ইউরোপে সতর্কতা জারি হয়েছে।

ভারতীয় স্ট্রেইন কতটা বিপজ্জনক সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কোন দেশের বিজ্ঞানীরাই। ভারতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনকে ‘অনুসন্ধানের আওতাধীন স্ট্রেইন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনাভাইরাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি পরিবর্তন ঘটেছে। এজন্য গবেষকরা একে ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ বলছেন । এর মধ্যে একটি পরিবর্তনের ফলে করোনাভাইরাসের প্রকৃতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে তৈরি স্ট্রেইনের সঙ্গে মিলে যায়। শরীরে করোনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকে এই স্ট্রেইন ফাঁকি দিতে সক্ষম হলেও হতে পারে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) বিজ্ঞানীরা দেশে এখনো করোনার ভারতীয় স্ট্রেইনের দেখা পাননি বলে জানা যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত করোনার ভারতীয় স্ট্রেইনের উপস্থিতি না মিললেও বাংলাদেশকে শঙ্কামুক্ত মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার একেকটি স্ট্রেইন কখন, কীভাবে বিস্তৃত হবে সেটা বলা কঠিন। তাই সতর্ক না থাকলে ঘটতে পারে সমূহ বিপদ। এক দেশের স্ট্রেইন আরেক দেশে বিস্তৃত হওয়ার নজির বিশ্বজুড়েই রয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দুই সপ্তাহর জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সীমান্ত বন্ধ হলেও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করবে, কিছু মানুষের যাওয়া-আসা হবেই। স্থলবন্দরে করোনা পরীক্ষা, কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ভারত থেকে আসা ২৯ জন বাংলাদেশি কভিড-১৯ পজিটিভ হলে তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়। ১০ জন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে অবশ্য তাদের ধরে সেখানে ফিরিয়ে নেয়া হয়। এই ঘটনায় স্থলবন্দর দিয়ে আসা মানুষের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। স্থলবন্দরে দ্রুত কঠোর কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সীমান্তে আসা ভারতীয় পণ্যবাহী পরিবহনের চালক-শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে স্থানীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করছে বলে জানা গেছে। তারা যেন মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে সেটা যে কোন মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে যে কোন শৈথিল্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সীমান্তে আগত মানুষের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের আমদানি-রপ্তানি যেন ব্যাহত না হয় সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি।

back to top