alt

সম্পাদকীয়

অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করে সীমানা খুঁটি কার স্বার্থে

: সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুর পাশে দখল হওয়া জায়গা বাদ রেখেই সীমানাখুঁটি বসানোর কাজ করছে বিআইডাব্লিউটিএ। গতকাল রোববার এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাসে বিআইডব্লিউটিএ উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারের আটটি সংস্থা যৌথ জরিপ করে বলেছিল, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদ ও জলাশয়ের ৫৪ একরের বেশি জায়গা দখল করে নানান স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সেই সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সুপারিশও করেছিল নদী রক্ষা কমিশন। অথচ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই সীমানা খুঁটি বসাচ্ছে বিআইডাব্লিউটিএ।

দখল উচ্ছেদ করে সীমানা খুঁটি বসানো হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা না করে বিআইডব্লিউটিএ সীমানা খুঁটি বসানোর কাজ করছে কার স্বার্থে-সেই প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে সীমানা খুঁটি বসিয়ে নদী দখলকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, এককভাবে বিআইডব্লিউটিএ সেখানে নদীর সীমানা খুঁটি বসাতে পারে না। তারা অন্যায় করছে। হাইকোর্টের রায়ের পরিপন্থী কাজ করছে। এখানে কোনো যোগসাজশ আছে বলে মনে হয়।

বিআইডব্লিউটিএর সীমানা খুঁটি বসানো সম্পর্কে নদী রক্ষা কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এএসএম আলী কবীর বলেছেন, ‘আমাদের কনসার্ন নেয়নি বলেই আমি জানি।’ বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকে বলেছেন, আমরা তো নদী রক্ষা কমিশনের অধীনে কাজ করি না। আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করি। আমাদের দায়িত্ব সীমানা খুঁটি বসিয়ে দেওয়া, কারণ প্রকল্পটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ কার অধীনে কাজ করে বা অভিযোগ অনুযায়ী কারো স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করে কিনা-সেটা একটা প্রশ্ন। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের নদ-নদীগুলোর অভিভাবক কে? এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে ওই বছরের ১ জুলাই প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘নদ-নদীসংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আজ থেকে বাংলাদেশের সব নদ-নদীর দূষণ ও দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের উপযোগী করে সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন, শ্রীবৃদ্ধিসহ যাবতীয় উন্নয়নে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বাধ্য থাকবে। নদ-নদীসংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নদী কমিশনকে সঠিক এবং যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা দিতে বাধ্য থাকবে।’

আদালতের এ রায় তখনকার সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। এটা কারও না জানার কথা নয়। বিশেষ করে নদীর সীমানা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের তো জানবার কথাই যে, নদ-নদীর ‘আইনগত অভিভাবক’ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। নদ-নদী নিয়ে কিছু করতে হলে কমিশনকে জানাতে হবে বা তাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। অথচ তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার সংযোগস্থলের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে সীমানাখুঁটি বসানোর ক্ষেত্রে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই এটা মেনে নেয়া যায় না। সীমানা খুঁটি বসানোর আগে অবশ্যই দখল উচ্ছেদ করতে হবে। দখল উচ্ছেদ না করেই সীমানা খুঁটি বসানোর কারণ খুঁজে দেখতে হবে ও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

হুমকির মুখে থাকা বাঘ সুন্দরবনকে বাঁচাবে কী করে

পাহাড় ধসে মৃত্যু প্রতিরোধে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন চাই

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রসঙ্গে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার নিরাপত্তা দিচ্ছে?

সেতু নির্মাণের নামে জনগণের অর্থের অপচয় বন্ধ করতে হবে

আয় বৈষম্য কমানোর পথ খুঁজতে হবে

নদী খননে অনিয়ম কাম্য নয়

আইসিইউ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কেন মানা হয়নি

সরকারের ত্রাণ সহায়তায় অনিয়ম বন্ধ করতে হবে

পরিকল্পনাহীনতায় মানুষের ভোগান্তি

চাষিরা যেন আম উৎপাদনের সুফল পান

কঠোর বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে

উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি : বড় মূল্য দিতে হতে পারে

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে

কোরবানির পশুকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি বন্ধ করুন

যথাসময়ে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করুন

দ্রুত সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার করুন

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

হাসপাতালটি কেন সিআরবিতেই করতে হবে

অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা জরুরি

চালের দামে লাগাম টানুন

অনিয়ম-দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে

বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে ইউনিসেফের আহ্বান

নারায়ণগঞ্জে ‘জঙ্গি আস্তানা’ প্রসঙ্গে

স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে

গণটিকাদান শুরু : ‘হার্ড ইমিউনিটি’র লক্ষ্য অর্জন হবে কি

করোনাকালের বিষণ্ণতা: চাই সচেতনতা

ক্ষুধার মহামারী সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে

জয় হোক মানবতার

শ্রমিক মৃত্যুর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না

সাঁকো সংস্কার করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করুন

করোনা-রোগীদের খাবারের বরাদ্দ যায় কোথায়

টিসিবিকে মান বজায় রেখে পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে

tab

সম্পাদকীয়

অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করে সীমানা খুঁটি কার স্বার্থে

সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুর পাশে দখল হওয়া জায়গা বাদ রেখেই সীমানাখুঁটি বসানোর কাজ করছে বিআইডাব্লিউটিএ। গতকাল রোববার এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাসে বিআইডব্লিউটিএ উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারের আটটি সংস্থা যৌথ জরিপ করে বলেছিল, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদ ও জলাশয়ের ৫৪ একরের বেশি জায়গা দখল করে নানান স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সেই সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সুপারিশও করেছিল নদী রক্ষা কমিশন। অথচ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই সীমানা খুঁটি বসাচ্ছে বিআইডাব্লিউটিএ।

দখল উচ্ছেদ করে সীমানা খুঁটি বসানো হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা না করে বিআইডব্লিউটিএ সীমানা খুঁটি বসানোর কাজ করছে কার স্বার্থে-সেই প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে সীমানা খুঁটি বসিয়ে নদী দখলকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, এককভাবে বিআইডব্লিউটিএ সেখানে নদীর সীমানা খুঁটি বসাতে পারে না। তারা অন্যায় করছে। হাইকোর্টের রায়ের পরিপন্থী কাজ করছে। এখানে কোনো যোগসাজশ আছে বলে মনে হয়।

বিআইডব্লিউটিএর সীমানা খুঁটি বসানো সম্পর্কে নদী রক্ষা কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এএসএম আলী কবীর বলেছেন, ‘আমাদের কনসার্ন নেয়নি বলেই আমি জানি।’ বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকে বলেছেন, আমরা তো নদী রক্ষা কমিশনের অধীনে কাজ করি না। আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করি। আমাদের দায়িত্ব সীমানা খুঁটি বসিয়ে দেওয়া, কারণ প্রকল্পটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ কার অধীনে কাজ করে বা অভিযোগ অনুযায়ী কারো স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করে কিনা-সেটা একটা প্রশ্ন। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের নদ-নদীগুলোর অভিভাবক কে? এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে ওই বছরের ১ জুলাই প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘নদ-নদীসংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আজ থেকে বাংলাদেশের সব নদ-নদীর দূষণ ও দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের উপযোগী করে সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন, শ্রীবৃদ্ধিসহ যাবতীয় উন্নয়নে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বাধ্য থাকবে। নদ-নদীসংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নদী কমিশনকে সঠিক এবং যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা দিতে বাধ্য থাকবে।’

আদালতের এ রায় তখনকার সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। এটা কারও না জানার কথা নয়। বিশেষ করে নদীর সীমানা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের তো জানবার কথাই যে, নদ-নদীর ‘আইনগত অভিভাবক’ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। নদ-নদী নিয়ে কিছু করতে হলে কমিশনকে জানাতে হবে বা তাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। অথচ তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার সংযোগস্থলের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে সীমানাখুঁটি বসানোর ক্ষেত্রে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই এটা মেনে নেয়া যায় না। সীমানা খুঁটি বসানোর আগে অবশ্যই দখল উচ্ছেদ করতে হবে। দখল উচ্ছেদ না করেই সীমানা খুঁটি বসানোর কারণ খুঁজে দেখতে হবে ও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

back to top