alt

সম্পাদকীয়

সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি

: শুক্রবার, ১২ নভেম্বর ২০২১

বছরজুড়েই বিভিন্ন সেবা সংস্থা রাজধানী ঢাকার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। এক সংস্থা রাস্তা ঠিক করে যায়, অন্য সংস্থা আবার সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। ফলে নগরজীবনে নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকে ভোগান্তি। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির ক্ষেত্রে ভিবিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে ২০১৯ সালের ‘ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা’ প্রণীত হয়। দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, ডেসকো, বিটিসিএলের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি থেকে মেরামত পর্যন্ত সমন্বয় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা। যাতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়।

নীতিমালায় আছে, রাজধানীতে দিনের বেলায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না। বর্ষা মৌসুমে (মে-সেপ্টেম্বর) কোনো সড়ক মেরামত করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে খনন করতে হলে মূল ক্ষতিপূরণসহ অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ফি দিতে হবে। আর কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির জরিমানা দিতে হবে মূল খরচের পাঁচগুণ। তাছাড়া সড়কে কাজ করার কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রচার-প্রচারণা, কাজের বিবরণের সাইনবোর্ড লাগানো, একসঙ্গে বা মাসের পর মাস কোন সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি না করা, নিয়মিত পানি ছিটানো, সড়কে মালামাল মজুত না করাসহ বিভিন্ন নিয়মকানুন নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। নীতিমালার কোনো শর্তে ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জরিমানা বা শাস্তি দেয়ারও বিধান রয়েছে। তবে নীতিমালা ভাঙার জন্য আজ পর্যন্ত কাউকে কোন জরিমানা করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। শুধু কাগজে কলমেই এসব কথা বলা আছে।

নীতিমালাটি সেবা সংস্থা ও ঠিকাদাররা ঠিকমতো অনুসরণ করছে কিনা, তার তদারকি করতে দুই সিটি করপোরেশন গঠন করেছিল ওয়ান স্টপ সেল। কিন্তু তার সুফল মেলেনি। যার যখন খুশি উন্নয়নের নামে রাস্তা খোঁড়ে। বছরের পর বছর পার হয়ে যায় কিন্তু উন্নয়ন কাজ শেষ হয় না, নগরবাসীকে এর সুফলও ভোগ করতে দেখা যায় না। বরং নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বায়ুদূষণ আর যানজট নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বর্ষায় হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ঘটছে দুর্ঘটনা। বারবার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাষ্ট্রের অর্থের শ্রাদ্ধ তো হচ্ছেই।

সমন্বয় করে কাজ করলে রাস্তা বারবার খুঁড়তে হতো না। এতে মানুষকে ভোগান্তিতে যেমন পড়তে হতো না, তেমনি রাষ্ট্রের অর্থেরও অপচয় হতো না। কিন্তু যারা খোঁড়াখুঁড়ি করে তাদের না আছে রাষ্ট্রের অর্থ বাঁচানোর চিন্তা, না আছে মনুষের ভোগান্তি লাঘব করার চেষ্টা। অভিযোগ আছে, খেয়াল-খুশি মতো রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলে একটি গোষ্ঠীর পকেট ভারী হয়।

আমরা বলতে চাই, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির যে নীতিমালা করা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করা হোক। নীতিমালা মেনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হোক। রাস্তা খুঁড়তে হবে নীতিমালা মেনে, সেটা যদি নাই হয়, আগের মতো বিভিন্ন সংস্থা যদি সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে, তাহলে নীতিমালা বাতিল করা হোক। নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে না পারার ব্যর্থতা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিক।

সংকটে সংবাদপত্রশিল্প প্রয়োজন প্রণোদনা

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন

উপকূলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একজন প্রতিনিধি

পিইসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন

জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রেলক্রসিংগুলো সুরক্ষিত করুন

বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে নাকি যেমন আছে তেমনই থাকবে

রেলের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কতকাল ধরে চলতে থাকবে

‘বন্দুকযুদ্ধ’ কোন সমাধান নয়

এইডস প্রতিরোধে চাই জনসচেতনতা

সীমান্ত হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন

পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি

শর্তযুক্ত ‘হাফ পাস’

সড়ক দুর্ঘটনায় এত শিক্ষার্থী মারা যাচ্ছে কেন

পশুর চ্যানেলে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করুন

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসি’র দাবি

ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সার্ভিস কবে আলোর মুখ দেখবে

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ মোকাবিলায় চাই সার্বিক প্রস্তুতি

পাহাড় দখল কি চলতেই থাকবে

নারী ক্রিকেটের আরেকটি মাইলফলক

যক্ষ্মা ও এইডস রোগ নির্মূল কর্মসূচি প্রসঙ্গে

সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হোক

ফিটনেসছাড়া ফেরিগুলো চলছে কীভাবে

বায়ুদূষণ রোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে

সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ

রাষ্ট্রপতির সময়োপযোগী আহ্বান

অভিনন্দন সুপ্তা, নারী ক্রীড়াবিদদের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক

নারীর সুরক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে

শিক্ষার্থীদের ‘হাফ পাসের’ দাবি বিবেচনা করুন

দুদকের কাজ কঠিন তবে অসম্ভব নয়

ড্যাপের খসড়া : অংশীজনদের যৌক্তিক মত গ্রহণ করা জরুরি

করোনার সংক্রমণ কমলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

দক্ষিণাঞ্চলে ফায়ার সার্ভিসের সমস্যা দূর করুন

আইসিটি শিক্ষক সংকট দূর করুন

শৌচাগার সংকট থেকে রাজধানীবাসীকে উদ্ধার করুন

tab

সম্পাদকীয়

সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি

শুক্রবার, ১২ নভেম্বর ২০২১

বছরজুড়েই বিভিন্ন সেবা সংস্থা রাজধানী ঢাকার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। এক সংস্থা রাস্তা ঠিক করে যায়, অন্য সংস্থা আবার সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। ফলে নগরজীবনে নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকে ভোগান্তি। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির ক্ষেত্রে ভিবিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে ২০১৯ সালের ‘ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা’ প্রণীত হয়। দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, ডেসকো, বিটিসিএলের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি থেকে মেরামত পর্যন্ত সমন্বয় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা। যাতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়।

নীতিমালায় আছে, রাজধানীতে দিনের বেলায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না। বর্ষা মৌসুমে (মে-সেপ্টেম্বর) কোনো সড়ক মেরামত করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে খনন করতে হলে মূল ক্ষতিপূরণসহ অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ফি দিতে হবে। আর কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির জরিমানা দিতে হবে মূল খরচের পাঁচগুণ। তাছাড়া সড়কে কাজ করার কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রচার-প্রচারণা, কাজের বিবরণের সাইনবোর্ড লাগানো, একসঙ্গে বা মাসের পর মাস কোন সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি না করা, নিয়মিত পানি ছিটানো, সড়কে মালামাল মজুত না করাসহ বিভিন্ন নিয়মকানুন নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। নীতিমালার কোনো শর্তে ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জরিমানা বা শাস্তি দেয়ারও বিধান রয়েছে। তবে নীতিমালা ভাঙার জন্য আজ পর্যন্ত কাউকে কোন জরিমানা করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। শুধু কাগজে কলমেই এসব কথা বলা আছে।

নীতিমালাটি সেবা সংস্থা ও ঠিকাদাররা ঠিকমতো অনুসরণ করছে কিনা, তার তদারকি করতে দুই সিটি করপোরেশন গঠন করেছিল ওয়ান স্টপ সেল। কিন্তু তার সুফল মেলেনি। যার যখন খুশি উন্নয়নের নামে রাস্তা খোঁড়ে। বছরের পর বছর পার হয়ে যায় কিন্তু উন্নয়ন কাজ শেষ হয় না, নগরবাসীকে এর সুফলও ভোগ করতে দেখা যায় না। বরং নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বায়ুদূষণ আর যানজট নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বর্ষায় হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ঘটছে দুর্ঘটনা। বারবার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাষ্ট্রের অর্থের শ্রাদ্ধ তো হচ্ছেই।

সমন্বয় করে কাজ করলে রাস্তা বারবার খুঁড়তে হতো না। এতে মানুষকে ভোগান্তিতে যেমন পড়তে হতো না, তেমনি রাষ্ট্রের অর্থেরও অপচয় হতো না। কিন্তু যারা খোঁড়াখুঁড়ি করে তাদের না আছে রাষ্ট্রের অর্থ বাঁচানোর চিন্তা, না আছে মনুষের ভোগান্তি লাঘব করার চেষ্টা। অভিযোগ আছে, খেয়াল-খুশি মতো রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলে একটি গোষ্ঠীর পকেট ভারী হয়।

আমরা বলতে চাই, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির যে নীতিমালা করা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করা হোক। নীতিমালা মেনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হোক। রাস্তা খুঁড়তে হবে নীতিমালা মেনে, সেটা যদি নাই হয়, আগের মতো বিভিন্ন সংস্থা যদি সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে, তাহলে নীতিমালা বাতিল করা হোক। নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে না পারার ব্যর্থতা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিক।

back to top