alt

সম্পাদকীয়

পাহাড় দখল কি চলতেই থাকবে

: রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

চট্টগ্রামের পূর্ব নাসিরাবাদের ‘নাগিন পাহাড়’ পুরোটাই দখলদারদের পেটে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দলের ৩৪ জন এ দখলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহাড় কেটে দখলদাররা গড়ে তুলেছে ‘গ্রীনভ্যালি হাউজিং’ ও ‘পাাহাড়িকা আবাসিক’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে গত শুক্রবার গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন পড়ে মনে হয়, দখলদাররা তাদের দখল পাকাপোক্ত করার জন্য আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। তাদের যেন উচ্ছেদ করা না যায় এজন্য নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা। দখল যেন হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা, আকাশে উড়ানো হয়েছে ড্রোন। আর নির্বিঘ্নে মাটি কাটার জন্য চারদিকে সীমানা প্রাচীর তো আছেই।

অথচ পুরো চিত্রটিই হওয়ার কথা ছিল এর উল্টো। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন- এসব প্রযুক্তি দখল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবহার করবে সেটাই হতো স্বাভাবিক। পাহাড়, নদ-নদী বা জলাশয় দখলের ক্ষেত্রে দখলদারদের যতটা আগ্রহ ও উদ্যম দেখা যায়, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে দখল উচ্ছেদে ততটাই উদাসীন দেখা যায়। তাদের এই উদাসীনতারই সুযোগ নিচ্ছে দখলদাররা। অন্যায় উৎসাহ পাওয়ায় প্রতিদিন দখলদারদের খাতায় নাম লেখাচ্ছে নতুন নতুন ব্যক্তি, শ্রেণী ও গোষ্ঠী।

আগে দেখা যেত মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠী এসব অবৈধ দখল করত। এলাকায় বা গণমাধ্যমে তাদের পরিচয় হতো ভূমিদস্যু হিসেবে। এখন দেখা যাচ্ছে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষই এ দখলের সঙ্গে যুক্ত। নাগিন পাহাড় দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক একজন চেয়ারম্যানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

অবৈধ জমি দখল, বেচাকেনা ও লুটপাটের সময় সরকারি আর বিরোধী দলের এক শ্রেণীর নেতা একই ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দখলের সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে দখল করেন।

পাহাড় কেটে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, তারপরও পাহাড় কাটা ও দখল ঠেকানো যাচ্ছে না। এক পাহাড়ে অভিযান চালালে অন্য পাহাড় রাতারাতি কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসিক এলাকা।

দশকের পর দশক ধরে চিহ্নিত ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী মিলে পাহাড় কেটে দখল করেই চলছে। এমন দখল আবার রাতারাতি হয় কীভাবে সেটা আমরা জানতে চাইব। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগের ডগায় দখলদাররা ড্রোন উড়িয়ে সেসবের তদারকিই বা করে কীভাবে? স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকলে পাহাড়খেকোদের আস্ত পাহাড় গিলে খাওয়া কোনভাবেই সম্ভব হতো না বলেই আমরা মনে করি।

যত দ্রুত সম্ভব পাহাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, পাশাপাশি তদারকিও করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আবার দখল হয়ে না যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা : এই শিরোপা আমরা চাই না

গণপরিবহন শ্রমিকদের মনোজগতে কী ঘটছে

ইমিগ্রেশন পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে

অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশের বাস্তবায়ন দেখতে চাই

প্রেরণাদায়ী সাফল্য

কিশোর গ্যাং : দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকেই

রেণু চিংড়ি আহরণ বন্ধ করুন

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কিসের জন্য

বঙ্গবন্ধু রেল সেতু : যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করুন

শাবিপ্রবির এ পরিস্থিতির দায় কার

ফগলাইট কেনায় দুর্নীতি

ভালো নির্বাচনের উদাহরণ

দিবাযত্ন কেন্দ্র হোক শিশুবান্ধব

পুলিশ কেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে

গ্যাস সিলিন্ডারে বেলুন ফোলানো বন্ধে অভিযান চালান

পাসপোর্ট পেতে কেন ঘুষ দিতে হবে

যাত্রী ছাউনিগুলো ব্যবহারের উপযোগী করুন

উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করুন

সড়ক দখলের অপসংস্কৃতি

প্রশ্নবিদ্ধ কারাগারের নিরাপত্তা

সেচ প্রকল্পের পুকুর ভরাট প্রসঙ্গে

কারখানা পরিদর্শন : সব পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন

ভবদহের জলাবদ্ধতা : স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থায় নিয়ে কাজ করুন

বিধিনিষেধ ও গণপরিবহনের ভাড়া

হালদা রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

অনেক শিক্ষার্থী এখনো কেন পাঠ্যবই পায়নি

আতশবাজি ও পটকা : শব্দ দূষণের আরেক রূপ

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে

রক্ষিত বনের লক্ষ্য অর্জনে বাধা কোথায়

ফেলানী হত্যার বিচার প্রতীক্ষার অবসান ঘটুক

এই কি নিরাময় কেন্দ্র, না টর্চার সেল?

পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিন

ডিএসসিসির খাল পরিষ্কার প্রসঙ্গে

ইটভাটা চালাতে হবে আইন মেনে

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে

এই যুগে এভাবে কোন কাজে কি জনসমর্থন মেলে?

tab

সম্পাদকীয়

পাহাড় দখল কি চলতেই থাকবে

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

চট্টগ্রামের পূর্ব নাসিরাবাদের ‘নাগিন পাহাড়’ পুরোটাই দখলদারদের পেটে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দলের ৩৪ জন এ দখলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহাড় কেটে দখলদাররা গড়ে তুলেছে ‘গ্রীনভ্যালি হাউজিং’ ও ‘পাাহাড়িকা আবাসিক’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে গত শুক্রবার গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন পড়ে মনে হয়, দখলদাররা তাদের দখল পাকাপোক্ত করার জন্য আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। তাদের যেন উচ্ছেদ করা না যায় এজন্য নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা। দখল যেন হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা, আকাশে উড়ানো হয়েছে ড্রোন। আর নির্বিঘ্নে মাটি কাটার জন্য চারদিকে সীমানা প্রাচীর তো আছেই।

অথচ পুরো চিত্রটিই হওয়ার কথা ছিল এর উল্টো। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন- এসব প্রযুক্তি দখল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবহার করবে সেটাই হতো স্বাভাবিক। পাহাড়, নদ-নদী বা জলাশয় দখলের ক্ষেত্রে দখলদারদের যতটা আগ্রহ ও উদ্যম দেখা যায়, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে দখল উচ্ছেদে ততটাই উদাসীন দেখা যায়। তাদের এই উদাসীনতারই সুযোগ নিচ্ছে দখলদাররা। অন্যায় উৎসাহ পাওয়ায় প্রতিদিন দখলদারদের খাতায় নাম লেখাচ্ছে নতুন নতুন ব্যক্তি, শ্রেণী ও গোষ্ঠী।

আগে দেখা যেত মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠী এসব অবৈধ দখল করত। এলাকায় বা গণমাধ্যমে তাদের পরিচয় হতো ভূমিদস্যু হিসেবে। এখন দেখা যাচ্ছে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষই এ দখলের সঙ্গে যুক্ত। নাগিন পাহাড় দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক একজন চেয়ারম্যানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

অবৈধ জমি দখল, বেচাকেনা ও লুটপাটের সময় সরকারি আর বিরোধী দলের এক শ্রেণীর নেতা একই ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দখলের সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে দখল করেন।

পাহাড় কেটে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, তারপরও পাহাড় কাটা ও দখল ঠেকানো যাচ্ছে না। এক পাহাড়ে অভিযান চালালে অন্য পাহাড় রাতারাতি কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসিক এলাকা।

দশকের পর দশক ধরে চিহ্নিত ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী মিলে পাহাড় কেটে দখল করেই চলছে। এমন দখল আবার রাতারাতি হয় কীভাবে সেটা আমরা জানতে চাইব। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগের ডগায় দখলদাররা ড্রোন উড়িয়ে সেসবের তদারকিই বা করে কীভাবে? স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকলে পাহাড়খেকোদের আস্ত পাহাড় গিলে খাওয়া কোনভাবেই সম্ভব হতো না বলেই আমরা মনে করি।

যত দ্রুত সম্ভব পাহাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, পাশাপাশি তদারকিও করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আবার দখল হয়ে না যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

back to top