alt

সম্পাদকীয়

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে চাই সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

: মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২

সড়ক-মহাসড়কে ভোগান্তি এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার। যানজট, ফেরি পারাপারে দীর্ঘ লাইন, ভাঙাচোরা সড়ক, দুর্ঘটনার মতো সমস্যা লেগেই আছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এ ভোগান্তি যে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে, সেটা বোঝার জন্য কোন গবেষণার দরকার হয় না। ঘরমুখো মানুষ যেমন জানে ঈদযাত্রায় তাদের ভোগান্তি অনিবার্য, তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও বিষয়টি অজানা নয়।

ভোগান্তি থেকে নিস্তার নেই জেনেও ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাত্রাপথে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে চান। পাহাড়সম সমস্যা থাকা সত্বেও কর্তৃপক্ষ ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আশ্বাস দেয়। এবারও আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু তাতে ঘরমুখো মানুষের উদ্বেগ কমছে না।

ঈদে এবার ঢাকা শহর ছেড়ে যাবেন প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষ এবারের ঈদযাত্রায় যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। রাজধানী থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করার পথেই যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের দোকান, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ভাঙাচোরা সড়ক ও নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে অসহনীয় যানজটের শিকার হতে হয় আন্তঃজেলা যানবাহনকে। রাজধানী থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করার সাতটি পয়েন্টে যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এসব পয়েন্টে যেন যানজট না লাগে সেজন্য সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া মাওয়া, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে চার-পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। ফেরি পারাপারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় ঘরমুখো মানুষদের। দু-একটি ফেরি বাড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন। আগামীতে পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের ফেরিঘাটের দুর্ভোগ হয়তো কমবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে পাঁচ লাখের বেশি যানবাহনের হালনাগাদ ফিটনেস সনদ নেই। এসব যানবাহনের কোনটির আয়ুষ্কাল শেষ, কোনটি ত্রুটিপূর্ণ। ঘষামাজা করে উপরে রঙের প্রলেপ দিয়ে প্রতিবারই অসংখ্য আনফিট বাহন ঈদযাত্রায় শামিল হয়। মাঝরাস্তায় নষ্ট হয়ে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বিশৃঙ্খল আর ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে দেশের সড়ক-মহাসড়ক। বুয়েটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ২০ শতাংশের জন্য দায়ী আনফিট মোটরযান। ঈদের সময় সড়ক-মহাসড়কে যেন কোন ধরনের আনফিট গাড়ি চলাচল করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের তৎপর হতে হবে। এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ভোগের আরেক কারণ মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন। এসব ছোট যানবাহন দূরপাল্লার বাস ও প্রাইভেট কারের গতি কমিয়ে দেয়। রাস্তার মোড় ও বাস স্টপেজগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট তৈরি করে। ফলে বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তাই জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও নসিমন-করিমন চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাস স্টেশন, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। যে কোন মূল্যে রাজধানী থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করার পথকে যানজটমুক্ত রাখতে হবে। ঈদে যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং, অসম প্রতিযোগিতা, ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। তাহলে ঈদযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, লাঘব হতে পারে মানুষের ভোগান্তি।

নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে সেতু ভাঙার কারণ কী

শিক্ষা খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

পরিবেশ দূষণ বন্ধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

নারীর পোশাক পরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কেন

খাল দখলমুক্ত করুন

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে

অবরুদ্ধ পরিবারটিকে মুক্ত করুন

নৌপথের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে

সড়ক থেকে তোরণ অপসারণ করুন

ইভটিজিং বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই

খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ প্রসঙ্গে

সিলেটে বন্যা : দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

প্রান্তিক নারীদের ডিজিটাল সেবা প্রসঙ্গে

ভরা মৌসুমে কেন চালের দাম বাড়ছে

রংপুরের আবহাওয়া অফিসে রাডার বসানো হোক

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এখনই উদ্যোগ নিন

সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম

নির্বিচারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

ভোজ্যতেলের সংকট কেন কাটছে না

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা বন্ধ করুন

সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

সড়ক ধান মাড়াইয়ের স্থান হতে পারে না, বিকল্প খুঁজুন

পাসপোর্ট অফিসকে দালালমুক্ত করুন

খেলার মাঠেই কেন মেলার আয়োজন করতে হবে

যৌতুক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

এমএলএম কোম্পানির নামে প্রতারণা

নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সমন্বিতভাবে

টিলা কাটা বন্ধ করুন

করোনায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৌলিক পয়োনিষ্কাশনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করুন

বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করুন

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা

ভোজ্যতেলের বাজার ব্যবস্থাপনায় ছাড় নয়

ফল পাকাতে রাসায়নিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এখনই ব্যবস্থা নিন

ঈদযাত্রায় স্বস্তি

tab

সম্পাদকীয়

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে চাই সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২

সড়ক-মহাসড়কে ভোগান্তি এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার। যানজট, ফেরি পারাপারে দীর্ঘ লাইন, ভাঙাচোরা সড়ক, দুর্ঘটনার মতো সমস্যা লেগেই আছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এ ভোগান্তি যে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে, সেটা বোঝার জন্য কোন গবেষণার দরকার হয় না। ঘরমুখো মানুষ যেমন জানে ঈদযাত্রায় তাদের ভোগান্তি অনিবার্য, তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও বিষয়টি অজানা নয়।

ভোগান্তি থেকে নিস্তার নেই জেনেও ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাত্রাপথে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে চান। পাহাড়সম সমস্যা থাকা সত্বেও কর্তৃপক্ষ ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আশ্বাস দেয়। এবারও আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু তাতে ঘরমুখো মানুষের উদ্বেগ কমছে না।

ঈদে এবার ঢাকা শহর ছেড়ে যাবেন প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষ এবারের ঈদযাত্রায় যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। রাজধানী থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করার পথেই যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের দোকান, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ভাঙাচোরা সড়ক ও নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে অসহনীয় যানজটের শিকার হতে হয় আন্তঃজেলা যানবাহনকে। রাজধানী থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করার সাতটি পয়েন্টে যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এসব পয়েন্টে যেন যানজট না লাগে সেজন্য সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া মাওয়া, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে চার-পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। ফেরি পারাপারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় ঘরমুখো মানুষদের। দু-একটি ফেরি বাড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন। আগামীতে পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের ফেরিঘাটের দুর্ভোগ হয়তো কমবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে পাঁচ লাখের বেশি যানবাহনের হালনাগাদ ফিটনেস সনদ নেই। এসব যানবাহনের কোনটির আয়ুষ্কাল শেষ, কোনটি ত্রুটিপূর্ণ। ঘষামাজা করে উপরে রঙের প্রলেপ দিয়ে প্রতিবারই অসংখ্য আনফিট বাহন ঈদযাত্রায় শামিল হয়। মাঝরাস্তায় নষ্ট হয়ে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বিশৃঙ্খল আর ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে দেশের সড়ক-মহাসড়ক। বুয়েটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ২০ শতাংশের জন্য দায়ী আনফিট মোটরযান। ঈদের সময় সড়ক-মহাসড়কে যেন কোন ধরনের আনফিট গাড়ি চলাচল করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের তৎপর হতে হবে। এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ভোগের আরেক কারণ মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন। এসব ছোট যানবাহন দূরপাল্লার বাস ও প্রাইভেট কারের গতি কমিয়ে দেয়। রাস্তার মোড় ও বাস স্টপেজগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট তৈরি করে। ফলে বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তাই জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও নসিমন-করিমন চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাস স্টেশন, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। যে কোন মূল্যে রাজধানী থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করার পথকে যানজটমুক্ত রাখতে হবে। ঈদে যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং, অসম প্রতিযোগিতা, ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। তাহলে ঈদযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, লাঘব হতে পারে মানুষের ভোগান্তি।

back to top