alt

সম্পাদকীয়

করোনায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন

: সোমবার, ০৯ মে ২০২২

দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৯ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজারেরও বেশি। ডব্লিউএইচও’র তথ্যানুযায়ী, এ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু সরকারি এই হিসাবের ৫ গুণ। সে হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখের মতো।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য সঠিক নয় দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিগগিরই ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে সরকার।

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারের দেয়া তথ্য ও ডব্লিউএইচও’র দেয়া তথ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। ব্যবধানটা এত বেশি যে, কোন তথ্য সঠিক, সেটা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত দেখা দিয়েছে।

তবে আপাত দৃষ্টিতে ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন ঠিক আছে বলে মনে করছেন দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের মতে, মহামারীতে সারাদেশে বহু মানুষ মারা গেছে, যাদের কোভিড পরীক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা পায়নি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষাও কম হয়েছে।

ডব্লিউএইচও তাদের গবেষণায় ‘অতিরিক্ত মৃত্যু’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে করোনা মহামারীর আগে কোনো অঞ্চলের প্রত্যাশিত মৃত্যুর চেয়ে মহামারী শুরুর পর কী পরিমাণ বেশি মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেল এ বিষয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে কাজ করেছে। তারা সরকারিভাবে দেয়া তথ্য ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখেছে। একই সঙ্গে পরিসংখ্যানের বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করেছে।

এজন্য দেশের জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে ডব্লিউএইচওর তথ্য গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয় অন্যান্য দেশেরও করোনায় মৃত্যু নিয়ে সরকারি তথ্যের সাথে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সরকারি হিসাবের তুলনায় করোনায় মৃত্যু ১০ গুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার যে হিসাবই দেখাক না কেন, জনমনেও ধারণা জন্মেছে করোনায় আরও বেশি মানুষ মারা গেছে। কারণ করোনার উপসর্গ বা লক্ষণ নিয়ে সারাদেশে বহু সংখ্যক মানুষ মারা গেছে। তারা টেস্ট করাতে পারেনি, হাসপাতালে যেতে পারেনি, ভর্তি হতে পারেনি বা চিকিৎসা পায়নি। এমনকি হাসপাতালেও অনেকে মারা গেছে, যাদের টেস্ট করা যায়নি। তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না, সেটা জানা যায়নি। এর বাইরে মহামারী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর করোনাভাইরাসে সংক্রমিত না হওয়া রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা পাননি। এ কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মৃত্যুর কারণও মহামারীর পরোক্ষ প্রভাব।

এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণে জনস্বাস্থ্যবিদরা একটি ‘স্বাধীন কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে এ কমিশন গঠন করার কথা বলেছেন তারা। কমিটি মহামারীতে মৃত্যুর তথ্য খুঁজে বের করবে। জনস্বাস্থ্যবিদদের এ প্রস্তাব সময়োপযোগী বলেই আমরা মনে করি। বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।

জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য হলেও মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা দরকার। তাছাড়া করোনা মাহামারীর প্রকৃত চিত্র বোঝার জন্য এটা জানা জরুরি। প্রকৃত চিত্র জানা না গেলে এ মহামারী কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে। কারণ মহামারী এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সম্প্রতি চীনে ব্যাপকহারে করোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা চাই না বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়–ক। সেজন্য মহামারীতে আক্রান্তের ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা জানা জরুরি।

যানজট নিরসনে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপগুলোকে ভুললে চলবে না

বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করুন

মাঙ্কিপক্স : আতঙ্ক নয় সচেতনতা জরুরি

নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে সেতু ভাঙার কারণ কী

শিক্ষা খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

পরিবেশ দূষণ বন্ধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

নারীর পোশাক পরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কেন

খাল দখলমুক্ত করুন

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে

অবরুদ্ধ পরিবারটিকে মুক্ত করুন

নৌপথের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে

সড়ক থেকে তোরণ অপসারণ করুন

ইভটিজিং বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই

খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ প্রসঙ্গে

সিলেটে বন্যা : দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

প্রান্তিক নারীদের ডিজিটাল সেবা প্রসঙ্গে

ভরা মৌসুমে কেন চালের দাম বাড়ছে

রংপুরের আবহাওয়া অফিসে রাডার বসানো হোক

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এখনই উদ্যোগ নিন

সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম

নির্বিচারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

ভোজ্যতেলের সংকট কেন কাটছে না

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা বন্ধ করুন

সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

সড়ক ধান মাড়াইয়ের স্থান হতে পারে না, বিকল্প খুঁজুন

পাসপোর্ট অফিসকে দালালমুক্ত করুন

খেলার মাঠেই কেন মেলার আয়োজন করতে হবে

যৌতুক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

এমএলএম কোম্পানির নামে প্রতারণা

নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সমন্বিতভাবে

টিলা কাটা বন্ধ করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৌলিক পয়োনিষ্কাশনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করুন

বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করুন

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা

ভোজ্যতেলের বাজার ব্যবস্থাপনায় ছাড় নয়

tab

সম্পাদকীয়

করোনায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন

সোমবার, ০৯ মে ২০২২

দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৯ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজারেরও বেশি। ডব্লিউএইচও’র তথ্যানুযায়ী, এ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু সরকারি এই হিসাবের ৫ গুণ। সে হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখের মতো।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য সঠিক নয় দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিগগিরই ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে সরকার।

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারের দেয়া তথ্য ও ডব্লিউএইচও’র দেয়া তথ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। ব্যবধানটা এত বেশি যে, কোন তথ্য সঠিক, সেটা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত দেখা দিয়েছে।

তবে আপাত দৃষ্টিতে ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন ঠিক আছে বলে মনে করছেন দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের মতে, মহামারীতে সারাদেশে বহু মানুষ মারা গেছে, যাদের কোভিড পরীক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা পায়নি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষাও কম হয়েছে।

ডব্লিউএইচও তাদের গবেষণায় ‘অতিরিক্ত মৃত্যু’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে করোনা মহামারীর আগে কোনো অঞ্চলের প্রত্যাশিত মৃত্যুর চেয়ে মহামারী শুরুর পর কী পরিমাণ বেশি মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেল এ বিষয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে কাজ করেছে। তারা সরকারিভাবে দেয়া তথ্য ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখেছে। একই সঙ্গে পরিসংখ্যানের বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করেছে।

এজন্য দেশের জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে ডব্লিউএইচওর তথ্য গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয় অন্যান্য দেশেরও করোনায় মৃত্যু নিয়ে সরকারি তথ্যের সাথে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সরকারি হিসাবের তুলনায় করোনায় মৃত্যু ১০ গুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার যে হিসাবই দেখাক না কেন, জনমনেও ধারণা জন্মেছে করোনায় আরও বেশি মানুষ মারা গেছে। কারণ করোনার উপসর্গ বা লক্ষণ নিয়ে সারাদেশে বহু সংখ্যক মানুষ মারা গেছে। তারা টেস্ট করাতে পারেনি, হাসপাতালে যেতে পারেনি, ভর্তি হতে পারেনি বা চিকিৎসা পায়নি। এমনকি হাসপাতালেও অনেকে মারা গেছে, যাদের টেস্ট করা যায়নি। তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না, সেটা জানা যায়নি। এর বাইরে মহামারী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর করোনাভাইরাসে সংক্রমিত না হওয়া রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা পাননি। এ কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মৃত্যুর কারণও মহামারীর পরোক্ষ প্রভাব।

এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণে জনস্বাস্থ্যবিদরা একটি ‘স্বাধীন কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে এ কমিশন গঠন করার কথা বলেছেন তারা। কমিটি মহামারীতে মৃত্যুর তথ্য খুঁজে বের করবে। জনস্বাস্থ্যবিদদের এ প্রস্তাব সময়োপযোগী বলেই আমরা মনে করি। বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।

জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য হলেও মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা দরকার। তাছাড়া করোনা মাহামারীর প্রকৃত চিত্র বোঝার জন্য এটা জানা জরুরি। প্রকৃত চিত্র জানা না গেলে এ মহামারী কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে। কারণ মহামারী এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সম্প্রতি চীনে ব্যাপকহারে করোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা চাই না বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়–ক। সেজন্য মহামারীতে আক্রান্তের ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা জানা জরুরি।

back to top