alt

সম্পাদকীয়

খেলার মাঠেই কেন মেলার আয়োজন করতে হবে

: বুধবার, ১১ মে ২০২২

আইন অনুযায়ী মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু প্রায়ই আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। খেলার মাঠে দোকানপাট বসে, মেলার আয়োজন করা হয়, নির্মাণসমাগ্রী রাখা হয়। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, খেলার মাঠ দখল বা সেখানে আইনবহির্ভূত কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নাম কখনও কখনও উঠে আসে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ দখল করে মাসব্যাপী শিল্পপণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ তাঁত শিল্প শিক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় এ মেলার আয়োজনে থাকছে গাজীপুর জেলা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। কিন্তু সেখানে মেলা বসানোর জন্য কে বা কারা অনুমোদন দিয়েছে তা স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলছে না সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষই। এক কর্তৃপক্ষ আরেক কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।

দেশজুড়েই খেলার মাঠ কমছে। কোথাও নতুন করে কোন খেলার মাঠ হচ্ছে কি-না, সেটা গবেষণার বিষয়। কিন্তু খেলার মাঠ যে দখল হয়ে যাচ্ছে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এ নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখা যায়। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, শুধু রাজধানীতেই খেলার মাঠ দখল বা অপব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, রাজধানীর বাইরেও যেমন দখল হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে অপব্যবহারও। ফলে শিশু-কিশোরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে মাঠের সুযোগ-সুবিধা থেকে। মেলার প্রস্তুতির সময় থেকে যেমনটা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত রয়েছে কালীগঞ্জের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

শিশু-কিশোরদের পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও সুষ্ঠু বিনোদনের অভাবে এলাকায় এলাকায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অনৈতিক কাজে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীসহ প্রশাসনের উদ্বেগ দেখতে পাই। এমন অবস্থায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সুষ্ঠু বিনোদনে উন্মুক্ত খেলার মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এই গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট কেউ উপলব্ধি করছে বলে মনে হয় না। খেলার মাঠের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখে অন্তত তাই মনে হয়। একটি মাঠে যে শুধু খেলাধুলাই চলে তা নয়. অনেকে উন্মুত্ত মাঠে হাঁটাচলা করেন, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেন, শরীর চর্চা করেন, বয়স্করা সকাল-বিকাল অবকাশ যাপন করেন।

আমরা বলতে চাই, খেলার মাঠ খেলার জন্যই রাখতে হবে। সেখানে শিশু-কিশোরদের নির্বিঘ্নে খেলার সুযোগ দিতে হবে। শিল্পপণ্য মেলার প্রয়োজন রয়েছে। তবে খেলার মাঠেই কেন এর আয়োজন করতে হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিকল্প কোন জায়গায় বা ব্যবস্থায় মেলার আয়োজন করা যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেয়া প্রসঙ্গে

হালদা নদীর মাছ রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কাজে বিলম্ব কেন

হাতিরঝিল রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

যানজট নিরসনে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপগুলোকে ভুললে চলবে না

বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করুন

মাঙ্কিপক্স : আতঙ্ক নয় সচেতনতা জরুরি

নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে সেতু ভাঙার কারণ কী

শিক্ষা খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

পরিবেশ দূষণ বন্ধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

নারীর পোশাক পরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কেন

খাল দখলমুক্ত করুন

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে

অবরুদ্ধ পরিবারটিকে মুক্ত করুন

নৌপথের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে

সড়ক থেকে তোরণ অপসারণ করুন

ইভটিজিং বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই

খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ প্রসঙ্গে

সিলেটে বন্যা : দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

প্রান্তিক নারীদের ডিজিটাল সেবা প্রসঙ্গে

ভরা মৌসুমে কেন চালের দাম বাড়ছে

রংপুরের আবহাওয়া অফিসে রাডার বসানো হোক

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এখনই উদ্যোগ নিন

সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম

নির্বিচারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

ভোজ্যতেলের সংকট কেন কাটছে না

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা বন্ধ করুন

সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

সড়ক ধান মাড়াইয়ের স্থান হতে পারে না, বিকল্প খুঁজুন

পাসপোর্ট অফিসকে দালালমুক্ত করুন

যৌতুক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

এমএলএম কোম্পানির নামে প্রতারণা

নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সমন্বিতভাবে

টিলা কাটা বন্ধ করুন

করোনায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন

tab

সম্পাদকীয়

খেলার মাঠেই কেন মেলার আয়োজন করতে হবে

বুধবার, ১১ মে ২০২২

আইন অনুযায়ী মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু প্রায়ই আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। খেলার মাঠে দোকানপাট বসে, মেলার আয়োজন করা হয়, নির্মাণসমাগ্রী রাখা হয়। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, খেলার মাঠ দখল বা সেখানে আইনবহির্ভূত কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নাম কখনও কখনও উঠে আসে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ দখল করে মাসব্যাপী শিল্পপণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ তাঁত শিল্প শিক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় এ মেলার আয়োজনে থাকছে গাজীপুর জেলা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। কিন্তু সেখানে মেলা বসানোর জন্য কে বা কারা অনুমোদন দিয়েছে তা স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলছে না সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষই। এক কর্তৃপক্ষ আরেক কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।

দেশজুড়েই খেলার মাঠ কমছে। কোথাও নতুন করে কোন খেলার মাঠ হচ্ছে কি-না, সেটা গবেষণার বিষয়। কিন্তু খেলার মাঠ যে দখল হয়ে যাচ্ছে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এ নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখা যায়। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, শুধু রাজধানীতেই খেলার মাঠ দখল বা অপব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, রাজধানীর বাইরেও যেমন দখল হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে অপব্যবহারও। ফলে শিশু-কিশোরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে মাঠের সুযোগ-সুবিধা থেকে। মেলার প্রস্তুতির সময় থেকে যেমনটা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত রয়েছে কালীগঞ্জের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

শিশু-কিশোরদের পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও সুষ্ঠু বিনোদনের অভাবে এলাকায় এলাকায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অনৈতিক কাজে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীসহ প্রশাসনের উদ্বেগ দেখতে পাই। এমন অবস্থায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সুষ্ঠু বিনোদনে উন্মুক্ত খেলার মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এই গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট কেউ উপলব্ধি করছে বলে মনে হয় না। খেলার মাঠের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখে অন্তত তাই মনে হয়। একটি মাঠে যে শুধু খেলাধুলাই চলে তা নয়. অনেকে উন্মুত্ত মাঠে হাঁটাচলা করেন, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেন, শরীর চর্চা করেন, বয়স্করা সকাল-বিকাল অবকাশ যাপন করেন।

আমরা বলতে চাই, খেলার মাঠ খেলার জন্যই রাখতে হবে। সেখানে শিশু-কিশোরদের নির্বিঘ্নে খেলার সুযোগ দিতে হবে। শিল্পপণ্য মেলার প্রয়োজন রয়েছে। তবে খেলার মাঠেই কেন এর আয়োজন করতে হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিকল্প কোন জায়গায় বা ব্যবস্থায় মেলার আয়োজন করা যেতে পারে।

back to top