alt

সম্পাদকীয়

বিএসএফের মহাপরিচালকের বক্তব্য প্রসঙ্গে

: শনিবার, ২৩ জুলাই ২০২২

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের সবাই মাদক কারবারসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আর গুলির সব ঘটনাই ঘটেছে রাতে।’

সীমান্ত সম্মেলনের পর গত বৃহস্পতিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি।’

বিএসএফের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যদিও বিএসএফের বর্তমান ডিজি দাবি করেছেন যে, সীমান্তে গুলিতে নিহতরা সবাই অপরাধী।

প্রশ্ন হচ্ছে, নিহতরা যে অপরাধী সেটা কোন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়েছে। কোন বিচারিক আদালতে কি তাদের বিচার করা হয়েছে? সেখানে কি তাদের অপরাধ অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে? অপরাধ প্রমাণিত হলেই যে কাউকে বিনা বাক্যব্যয়ে গুলি করে মেরে ফেলা যায় সেটা কোন আইনে আছে?

কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠতে পারে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করাই আইনের বিধান। সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে আদালত তাকে সাজা বা মুক্তি দিতে পারেন। শুধু অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাউকে হত্যা করা যায় না। আদালতে অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী বলা যায় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা একজন অপরাধীরও কিছু আইনি অধিকার রয়েছে যা কোন অবস্থাতেই অস্বীকার করা চলে না।

সীমান্তে নানা অপরাধের কথা বলে বিএসএফ। তারা বলছে, আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুড়তে হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, তাদের গুলিতে নিরস্ত্র মানুষ মারা যায়। তাদের হাতে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার কথা বলেছেন বিএসএফের ডিজি। আমরা বলতে চাই, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার বিষয়ে উভয়পক্ষই একমত হয়। কিন্তু বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশ্ন উঠেছে যে, বিএসএফ কি আসলেই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায় নাকি শুধু বলার জন্য একথা বলে। আমাদের আশা, সীমান্ত হত্যা বন্ধে তারা আবারও যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা এবার রক্ষা করা হবে।

রাজধানীর পুকুরগুলো সংরক্ষণ করুন

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিন

স্লুইস গেট সংস্কার করুন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসের কারণ কী

পদ্মা সেতুর কাছে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে

নিত্যপণ্যের দাম : সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে

মহাসড়ক দখলমুক্ত করুন

পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া মনোভাব বদলাতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে

সরকারি গাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

আশুরা : ন্যায় ও আত্মত্যাগের প্রেরণা

বিএডিসির গুদাম সংকট

গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বোঝার উপর শাকের আঁটি

জনশক্তি রপ্তানি ও দক্ষ লোকবল

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এই চাপ মানুষ কি সামলাতে পারবে

ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

সরকারি কর্তাব্যক্তিদের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে

ওয়াশ প্লান্ট ব্যবহারে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ

মহাসড়ক প্রশস্ত করুন

হাসি ফুটুক কৃষকের মুখে

খাল রক্ষায় চাই জনসচেতনতা

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ প্রসঙ্গে

বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

সংখ্যালঘু নির্যাতনের কঠোর বিচার করুন

বাঘ রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে

মানবপাচার বন্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ান

চাই সুরক্ষিত রেলক্রসিং

হেপাটাইটিস প্রতিরোধে তৎপরতা বাড়ান

পুলিশের গুলিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক

এনআইডি সংশোধন প্রসঙ্গে

বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুজ্বর

পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে

রাজধানীর প্রবেশমুখের যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নিন

পর্যটকদের এই করুণ মৃত্যু কাম্য নয়

কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ আমলে নিন

tab

সম্পাদকীয়

বিএসএফের মহাপরিচালকের বক্তব্য প্রসঙ্গে

শনিবার, ২৩ জুলাই ২০২২

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের সবাই মাদক কারবারসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আর গুলির সব ঘটনাই ঘটেছে রাতে।’

সীমান্ত সম্মেলনের পর গত বৃহস্পতিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি।’

বিএসএফের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যদিও বিএসএফের বর্তমান ডিজি দাবি করেছেন যে, সীমান্তে গুলিতে নিহতরা সবাই অপরাধী।

প্রশ্ন হচ্ছে, নিহতরা যে অপরাধী সেটা কোন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়েছে। কোন বিচারিক আদালতে কি তাদের বিচার করা হয়েছে? সেখানে কি তাদের অপরাধ অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে? অপরাধ প্রমাণিত হলেই যে কাউকে বিনা বাক্যব্যয়ে গুলি করে মেরে ফেলা যায় সেটা কোন আইনে আছে?

কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠতে পারে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করাই আইনের বিধান। সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে আদালত তাকে সাজা বা মুক্তি দিতে পারেন। শুধু অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাউকে হত্যা করা যায় না। আদালতে অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী বলা যায় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা একজন অপরাধীরও কিছু আইনি অধিকার রয়েছে যা কোন অবস্থাতেই অস্বীকার করা চলে না।

সীমান্তে নানা অপরাধের কথা বলে বিএসএফ। তারা বলছে, আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুড়তে হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, তাদের গুলিতে নিরস্ত্র মানুষ মারা যায়। তাদের হাতে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার কথা বলেছেন বিএসএফের ডিজি। আমরা বলতে চাই, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার বিষয়ে উভয়পক্ষই একমত হয়। কিন্তু বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশ্ন উঠেছে যে, বিএসএফ কি আসলেই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায় নাকি শুধু বলার জন্য একথা বলে। আমাদের আশা, সীমান্ত হত্যা বন্ধে তারা আবারও যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা এবার রক্ষা করা হবে।

back to top