alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

জমি ভুলে খাস হয়ে গেলে সহজে ফেরত আনবেন কীভাবে?

সিরাজ প্রামাণিক

: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আপনার পূর্বপুরুষেরা জমির সি.এস ও এস. এ রেকর্ডের মালিক। যুগ যুগ ধরে আপনি জমি ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু আপনার অগোচরে সর্বশেষ আর.এস বা বি.এস জরিপের রেকর্ডে সেটি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ সরকারি নামে চলে গেছে। এখন কী করবেন? মামলা করবেন নাকি বন্দোবস্ত চাইবেন?

যে জমিগুলো সাধারণত সরাসরি সরকারের মালিকানাধীন থাকে সেগুলো খাস জমি হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ যে জমিগুলো কালেক্টরের নামে রেকর্ড থাকে সেগুলোই খাস জমি। জেলা প্রশাসক বা ডিসি যখন জমি জমার বিষয়ে কাজ করেন তখন তাকে কালেক্টর বলে। অন্যন্য সংস্থার জমি সরকারের মালিকানায় থাকলে তাকে খাস জমি বলা হয় না। যেমন অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যথা বন বা পূর্ত কিংবা সড়ক ও জনপথ এর স্বত্বাধীন বা মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমিকে সরকারের খাস জমি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

জমি খাস হয় যেসকল কারণে, তার মধ্যে অন্যতম

১। জমি অনাবাদি থাকলে

২। ওয়ারিশরা নামজারি না করলে

৩। দখলদার অনুপস্থিত থাকলে

৪। জরিপকালে ভুল তথ্য প্রদান করলে

এমন হলে আপনি “ভুল সংশোধন” আবেদন করতে পারবেন। এসিল্যান্ড অফিসে। আবেদনপত্রের বিষয় হতে হবে বি.এস বা আর.এস রেকর্ডে খাস খতিয়ান সংশোধন করে পূর্ববর্তী সি.এস, এস.এ মালিকানা অনুযায়ী নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন। সঙ্গে জমা দেবেন সি.এস/ এস.এ খতিয়ান, রেজিস্ট্রেশন/ হেবানামা/ ওয়ারিশান দলিল, খাজনার রসিদ, জমিতে দখলের প্রমাণ (গাছ, ঘরবাড়ি, ফসল ইত্যাদির ছবি), প্রতিবেশীর সাক্ষ্য বা চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র।

যদি অফিস রেকর্ড সংশোধন না করে

খাস জমি নিজ নামে বা ব্যক্তির নামে আনার ক্ষেত্রে আদালতে ডিক্লারেটরি মোকদ্দমা করতে হবে। মামলার রায় অনুসারে জমির মালিকানা আপনার পক্ষে থাকলে আপনার নামে রেকর্ডভুক্ত হবে।

আর জমি থেকে অবৈধভাবে দখলচ্যুত হলে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারা’ অনুযায়ী প্রতিকার পেতে পারেন। তবে এ ধারা অনুযায়ী, দখলচ্যুত ব্যক্তিকে জমিতে তার স্বত্ব বা মালিকানা আছে কিংবা মালিকানার দাবি রয়েছে, তার ঘোষণা চাইতে হবে। না হলে এ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হয় না।

৮ ধারার স্বত্ব প্রমাণসহ মামলা করার ক্ষেত্রে বেদখল হওয়ার পর থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের মামলাকে সাধারণত স্বত্ব সাব্যস্ত খাস দখলের মামলা বলা হয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে হলে মালিকানা প্রমাণের দরকার নেই।

শুধু জমি থেকে দখলচ্যুত হয়েছেন এটি প্রমাণ করলেই চলবে। ৯ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেদখল হন, তবে তিনি বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোনো ব্যক্তি মোকদ্দমার মাধ্যমে এর দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এক্ষেত্রে যেসব দিক বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো

১। বাদী অর্থাৎ যিনি প্রতিকার দাবি করেছেন, তিনি জমিটি দখল করে আসছিলেন কিনা

২। বিবাদী তাকে জোরপূর্বক বেদখল করেছেন কিনা

৩। বিবাদী বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করেছেন কিনা।

তবে বাদীকে অবশ্যই বেদখল হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে। অন্যথায় এ ধারায় মামলা করার অধিকার হারাতে হবে তাকে।

তবে সরকারের বিরুদ্ধে এ ধারায় প্রতিকার চাওয়া যাবে না। দখল আপনার আছে ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবেন আদালতে শুধু ‘দখল’ দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জমির মালিকানা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। দলিলের ভিত্তিতেই মালিকানা নির্ধারিত হয়। যেহেতু এস.এ এবং বি.এস রেকর্ড সরকারের নামে এবং আপনার কাছে সি.এস মালিক থেকে মালিকানা হস্তান্তরের কোনো ধারাবাহিক দলিল (যেমন- কবলা, পত্তন বা হুকুমদখল) নেই, তাই আদালতে স্বত্ব ঘোষণা অর্থাৎ ডিক্লারেশন স্যুট চাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিরুদ্ধ দখল’ এডভারস পজেশন দাবি করতে হলে ৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন দখল প্রমাণ করতে হয়। সরকার যখন এস.এ রেকর্ডে (১৯৫৬-৬০ সালে) মালিক হয়েছে, তখন আপনারা কেন আপত্তি দেননি আদালত এই প্রশ্ন তুললে মামলা টেকা মুশকিল হবে।

ফলে সহজ উপায় হচ্ছে ডিসির নিকট বন্দোবস্ত লিজ চাওয়া। মামলা না করে সরকারের কাছে বন্দোবস্ত চাওয়া একটি সমাধান হতে পারে, তবে এর বড় একটি ঝুঁকি আছে। আপনি যখনই ডিসির কাছে বন্দোবস্ত চাইবেন, আপনি আইনিভাবে লিখিত স্বীকৃতি দিচ্ছেন যে ‘এই জমির মালিক সরকার, আমি কেবল প্রজা বা লিজ গ্রহীতা হতে চাই’। একবার আবেদন করলে পরবর্তীতে বন্দোবস্ত না পেলেও, আপনি আর কখনোই আদালতে মালিকানা দাবি করতে পারবেন না।

কৃষি জমি হলে এটি কেবল ‘ভূমিহীন’ কৃষকদের বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ৭৬ ধারার ১ উপধারায় খাস জমি বরাদ্দ সম্পর্কে বলা আছে। খাস জমি আপনার বা আপনার পিতার নামে অন্য কোথাও জমি থাকলে আপনি এটি পাবেন না। আর অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি হলে চড়া মূল্যে লিজ নিতে হতে পারে। আর বন্দোবস্ত বা লিজ নিতে হলে ১. জেলা প্রশাসক ডিসি বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, ২. আবেদনের কপি উপজেলা ইউএনও ও এসিল্যান্ড অফিসে তদন্তের জন্য যাবে, ৩. তহশিলদার সরেজমিনে দখল যাচাই করবেন, ৪. জেলা বা উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাস হলে সরকার আপনাকে কবুলিয়ত দলিল ও নামজারি করে দেবে।

তবে আগেই আপনি হাল ছেড়ে দেবেন না। পুরনো কাগজ খুঁজুন। জেলা রেকর্ড রুম বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সি.এস মালিকের নামে বা আপনার পূর্বপুরুষের নামে কোনো ‘পত্তন দলিল’ বা ১৯৫০-৬০ সালের কোনো পুরনো কাগজ পাওয়া যায় কিনা, তা ভালো করে তল্লাশি করুন। আর যদি সরকার পক্ষ থেকে উচ্ছেদের কোনো নোটিশ না আসে বা কোনো চাপ না থাকে, তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিসি অফিসে দরখাস্ত না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ দরখাস্ত করলেই প্রশাসন জানবে আপনি সরকারি জমি দখলে রেখেছেন। তখন হিতে বিপরীত হতে পারে। আপাতত জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে থাকুন।

[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

আমরা কি জালিয়াত জাতি?

মন্ত্রীদের জন্য বিলাসী ফ্ল্যাট

ধর্মান্ধ আর প্রতিযোগিতা: দুই সাম্প্রদায়িকের খেলা

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী: সমাজের নতুন ব্যাধি

ছবি

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা: ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষা নাকি দুর্ভোগের নতুন দরজা

ক্ষমতা যখন নিজেকেই তোষামোদ করে

‘খাল কেটে কুমির আনা...’

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

অধিকারহীনতার বৃত্তে আদিবাসী জীবন

স্লোগানে ফ্যাসিবাদ, ভোটের মাঠে আশির্বাদ!

ভাঙা-গড়া সমাজের আমূল পরিবর্তন আনে

শান্তির বৃত্তে বাঁধা বাঘ

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

ছবি

জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনল্যান্ড: নতুন ভূ-রাজনীতির ইঙ্গিত

ব্যাংকিং খাত: সংকট, সংস্কার ও আস্থার সন্ধান

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

কুষ্ঠ-সম্পর্কিত কুসংস্কার ও বৈষম্য

ব্যাংক ধসের দায় কার?

পশ্চিমবঙ্গে অহেতুক হয়রানির মূল টার্গেট মুসলমানেরাই

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

নির্বাচনের আগেই জানা গেল আংশিক ফল!

শীতকালীন অসুখ-বিসুখ

দিশাহীন অর্থনীতি, নিষ্ক্রিয় অন্তর্বর্তী সরকার

নরসুন্দরের পোয়াবারো

জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’ কৌশল নাকি রাজনৈতিক বিভ্রান্তি?

ছবি

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও গোলক ধাঁধা

আগুনের ছাইয়ে কলমের আলো

বিগ বাউন্স শেষে বিগ ক্রাঞ্চের পথে ব্রহ্মাণ্ড

সংস্কৃতি চর্চা: শিকড়, সংকট ও আগ্রাসন

শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত কারাব্যবস্থার প্রত্যাশা

ছবি

প্রসঙ্গ: ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা

ছবি

খালেদা জিয়া, কাছে ও দূর থেকে দেখা

মানবসভ্যতা ও প্রাণিকল্যাণ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

জমি ভুলে খাস হয়ে গেলে সহজে ফেরত আনবেন কীভাবে?

সিরাজ প্রামাণিক

শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আপনার পূর্বপুরুষেরা জমির সি.এস ও এস. এ রেকর্ডের মালিক। যুগ যুগ ধরে আপনি জমি ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু আপনার অগোচরে সর্বশেষ আর.এস বা বি.এস জরিপের রেকর্ডে সেটি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ সরকারি নামে চলে গেছে। এখন কী করবেন? মামলা করবেন নাকি বন্দোবস্ত চাইবেন?

যে জমিগুলো সাধারণত সরাসরি সরকারের মালিকানাধীন থাকে সেগুলো খাস জমি হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ যে জমিগুলো কালেক্টরের নামে রেকর্ড থাকে সেগুলোই খাস জমি। জেলা প্রশাসক বা ডিসি যখন জমি জমার বিষয়ে কাজ করেন তখন তাকে কালেক্টর বলে। অন্যন্য সংস্থার জমি সরকারের মালিকানায় থাকলে তাকে খাস জমি বলা হয় না। যেমন অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যথা বন বা পূর্ত কিংবা সড়ক ও জনপথ এর স্বত্বাধীন বা মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমিকে সরকারের খাস জমি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

জমি খাস হয় যেসকল কারণে, তার মধ্যে অন্যতম

১। জমি অনাবাদি থাকলে

২। ওয়ারিশরা নামজারি না করলে

৩। দখলদার অনুপস্থিত থাকলে

৪। জরিপকালে ভুল তথ্য প্রদান করলে

এমন হলে আপনি “ভুল সংশোধন” আবেদন করতে পারবেন। এসিল্যান্ড অফিসে। আবেদনপত্রের বিষয় হতে হবে বি.এস বা আর.এস রেকর্ডে খাস খতিয়ান সংশোধন করে পূর্ববর্তী সি.এস, এস.এ মালিকানা অনুযায়ী নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন। সঙ্গে জমা দেবেন সি.এস/ এস.এ খতিয়ান, রেজিস্ট্রেশন/ হেবানামা/ ওয়ারিশান দলিল, খাজনার রসিদ, জমিতে দখলের প্রমাণ (গাছ, ঘরবাড়ি, ফসল ইত্যাদির ছবি), প্রতিবেশীর সাক্ষ্য বা চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র।

যদি অফিস রেকর্ড সংশোধন না করে

খাস জমি নিজ নামে বা ব্যক্তির নামে আনার ক্ষেত্রে আদালতে ডিক্লারেটরি মোকদ্দমা করতে হবে। মামলার রায় অনুসারে জমির মালিকানা আপনার পক্ষে থাকলে আপনার নামে রেকর্ডভুক্ত হবে।

আর জমি থেকে অবৈধভাবে দখলচ্যুত হলে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারা’ অনুযায়ী প্রতিকার পেতে পারেন। তবে এ ধারা অনুযায়ী, দখলচ্যুত ব্যক্তিকে জমিতে তার স্বত্ব বা মালিকানা আছে কিংবা মালিকানার দাবি রয়েছে, তার ঘোষণা চাইতে হবে। না হলে এ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হয় না।

৮ ধারার স্বত্ব প্রমাণসহ মামলা করার ক্ষেত্রে বেদখল হওয়ার পর থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের মামলাকে সাধারণত স্বত্ব সাব্যস্ত খাস দখলের মামলা বলা হয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে হলে মালিকানা প্রমাণের দরকার নেই।

শুধু জমি থেকে দখলচ্যুত হয়েছেন এটি প্রমাণ করলেই চলবে। ৯ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেদখল হন, তবে তিনি বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোনো ব্যক্তি মোকদ্দমার মাধ্যমে এর দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এক্ষেত্রে যেসব দিক বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো

১। বাদী অর্থাৎ যিনি প্রতিকার দাবি করেছেন, তিনি জমিটি দখল করে আসছিলেন কিনা

২। বিবাদী তাকে জোরপূর্বক বেদখল করেছেন কিনা

৩। বিবাদী বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করেছেন কিনা।

তবে বাদীকে অবশ্যই বেদখল হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে। অন্যথায় এ ধারায় মামলা করার অধিকার হারাতে হবে তাকে।

তবে সরকারের বিরুদ্ধে এ ধারায় প্রতিকার চাওয়া যাবে না। দখল আপনার আছে ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবেন আদালতে শুধু ‘দখল’ দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জমির মালিকানা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। দলিলের ভিত্তিতেই মালিকানা নির্ধারিত হয়। যেহেতু এস.এ এবং বি.এস রেকর্ড সরকারের নামে এবং আপনার কাছে সি.এস মালিক থেকে মালিকানা হস্তান্তরের কোনো ধারাবাহিক দলিল (যেমন- কবলা, পত্তন বা হুকুমদখল) নেই, তাই আদালতে স্বত্ব ঘোষণা অর্থাৎ ডিক্লারেশন স্যুট চাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিরুদ্ধ দখল’ এডভারস পজেশন দাবি করতে হলে ৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন দখল প্রমাণ করতে হয়। সরকার যখন এস.এ রেকর্ডে (১৯৫৬-৬০ সালে) মালিক হয়েছে, তখন আপনারা কেন আপত্তি দেননি আদালত এই প্রশ্ন তুললে মামলা টেকা মুশকিল হবে।

ফলে সহজ উপায় হচ্ছে ডিসির নিকট বন্দোবস্ত লিজ চাওয়া। মামলা না করে সরকারের কাছে বন্দোবস্ত চাওয়া একটি সমাধান হতে পারে, তবে এর বড় একটি ঝুঁকি আছে। আপনি যখনই ডিসির কাছে বন্দোবস্ত চাইবেন, আপনি আইনিভাবে লিখিত স্বীকৃতি দিচ্ছেন যে ‘এই জমির মালিক সরকার, আমি কেবল প্রজা বা লিজ গ্রহীতা হতে চাই’। একবার আবেদন করলে পরবর্তীতে বন্দোবস্ত না পেলেও, আপনি আর কখনোই আদালতে মালিকানা দাবি করতে পারবেন না।

কৃষি জমি হলে এটি কেবল ‘ভূমিহীন’ কৃষকদের বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ৭৬ ধারার ১ উপধারায় খাস জমি বরাদ্দ সম্পর্কে বলা আছে। খাস জমি আপনার বা আপনার পিতার নামে অন্য কোথাও জমি থাকলে আপনি এটি পাবেন না। আর অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি হলে চড়া মূল্যে লিজ নিতে হতে পারে। আর বন্দোবস্ত বা লিজ নিতে হলে ১. জেলা প্রশাসক ডিসি বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, ২. আবেদনের কপি উপজেলা ইউএনও ও এসিল্যান্ড অফিসে তদন্তের জন্য যাবে, ৩. তহশিলদার সরেজমিনে দখল যাচাই করবেন, ৪. জেলা বা উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাস হলে সরকার আপনাকে কবুলিয়ত দলিল ও নামজারি করে দেবে।

তবে আগেই আপনি হাল ছেড়ে দেবেন না। পুরনো কাগজ খুঁজুন। জেলা রেকর্ড রুম বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সি.এস মালিকের নামে বা আপনার পূর্বপুরুষের নামে কোনো ‘পত্তন দলিল’ বা ১৯৫০-৬০ সালের কোনো পুরনো কাগজ পাওয়া যায় কিনা, তা ভালো করে তল্লাশি করুন। আর যদি সরকার পক্ষ থেকে উচ্ছেদের কোনো নোটিশ না আসে বা কোনো চাপ না থাকে, তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিসি অফিসে দরখাস্ত না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ দরখাস্ত করলেই প্রশাসন জানবে আপনি সরকারি জমি দখলে রেখেছেন। তখন হিতে বিপরীত হতে পারে। আপাতত জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে থাকুন।

[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

back to top