জাঁ-নেসার ওসমান
‘নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস/ শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস-
‘কিরে ভাই বিষয়টা কী? তোর মুখে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষণ! মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটি, বোমাবাজি, ককটেলবাজি সব ছেড়ে এত সুন্দর একটা নির্বাচন হলো আর তুই বলছিস ‘নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস/ শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস-
‘আরে বাবা, আমি কোই আপনের ত্রয়োদশ নির্বাচন শান্তি মতো হোইছে। রাইতের ভোট নাই, আগের মতুন মরালোকে ভোট দেয়নাই। বুথে যাওনের আগেই এইবার কেউ ভোটাররে কয় নাই যে, আপনের ভোট দেয়া হয়া গ্যেছেগা, আপনে বাড়িত যান...’
‘তো, তোর প্রবলেমটা কোথায়। তুই কেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষণ শোনাচ্ছিস, ‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস!’
‘আপনে ভুজেন না, আমার চ্যেতটা লাগতাছে যে, মানুষ এখন মানুষের সব চেয়ে বড় শত্রু!’
‘মানে কী? হঠাৎ এ-কি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!’
‘বর্তমান সমাজ আইহামে জাহালিয়াকেও ছাড়ায় গেছে বহুগুনে। এখন মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু! মরণের পরও মানুষের শান্তি নাই। মরার পরও মাইনষের লাশ কবর থেকে তুইল্লা মানুষই পোড়াইতাছে! যা জীবনে মরণে, ইহকালে পরকালে কোন দিনও কেউ আইহামে জাহালিয়ার যুগেও কল্পনা করা পারে নাই! অহন তাই চলতাছে!’
‘ভাই চুয়ান্ন বছর আগে, তোমার ভাই-ব্রাদাররা বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করলো...’
‘ তো স্বাধীনতার ফসল কি পাইলেন! ভায়ে ভায়ে হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা, আক্রোশ, ঈর্ষা, সন্দেহ, অবিশ্বাস, পরশ্রীকাতরতা এই আজ আমাগো বাঁইচ্চা থাকার পাথেয়!! এভাবে কতদিন বাঁচবেন কন?’
‘ঠিক ঠিক, এ-যেন, নাবিক সিন্দবাদের গল্পের মতো, সাঁপগুলো সব নিজের লেজ থেকে নিজেকে নিজে গিলে খাচ্ছে। পিকাসোর গুয়ের্নিকার গণহত্যাকেও লজ্জিত করে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলার জেন-জি। কেবল টাকার জন্য!’
‘তায়লে কন? পাবলিকে ট্যাকা ট্যাকা কইরে, নিজের ভাইরে, নিজের বোনরে, নিজের বাপরে, নিজের জন্মদাতৃ-মায়েরে গিল্লা খাইতাছে!’
‘ওরে ভুলে যাসনা যে তোরা সব অমৃতের সন্তান। তোরা জেন-জি, তোরা ‘এ-আই’ যুগের নাবিক। তো, তোমাদের দিক নির্দেশনা কেন ভুল হবে! আজ সারা পৃথিবী ফুলে ফলে সজ্জিত হয়ে আপনাকে মেলে ধরছে। ইউরোপীয় সভ্য দেশগুলোতে অপরাধীর অভাবে জেলখানা বন্ধ হচ্ছে। আর তোমাদের জেলখানায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে, মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আইজিপি, ভিসি, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ইলেকসন কমিশনার, শিক্ষক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আইণমন্ত্রী, ধাওড়বাজারের মেথর পর্যন্ত বিদ্যমান। কাকে বাদ দিয়ে কার নাম বলব। ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ব্যাংকার, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, লাকি-আনলাকি সব, সব প্রফেশনের রাজাধিরাজদের উপচে পড়া ভিড়ে জেল খানার জায়গা কম পড়ছে। প্রয়াত মেয়র হানিফ স্যারের পুত্রের মতো প্রতিধ্বনি করে বলতে ইচ্ছে করে- ক্যানো! ক্যানো!! ক্যানো!!!’
‘ক্যানো! ক্যানো! ক্যানো আবার, ট্যাকা! ট্যাকার লোভে পাবলিকে আন্ধা। ছোট্ট ছোট্ট পোলাপানগুলাও অহনও ট্যাকার লোভ ছাড়া পারলো না!’
‘তাহলে শোন তোকে একটা সত্য নিলোর্ভের হৃদয়বিদারক গল্প বলি।’
‘গল্প মানে, এই পাটি কোইবো সত্য আর ওই পাটি কোইবো মিথ্যা!’
‘আরে না, একদম নির্ভেজাল সত্য ঘটনা। টাকার লোভের গল্প শোন: সালটা ঊনিশ’শ ষাটের দশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মাত্র ১৩ (তের রুপী)র, হিসাব মিলাতে পারেননি বলে, খিলগাঁও ট্রেনলাইনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করলেন।’
‘আরে ভাই হ্যারা আছিলো মানুষের বাচ্ছা! আর অহন ইঞ্জিনিয়াররা টা:৫০০০/—(পাঁচ হাজার) ট্যাকায় বালিশ কিইন্না, ওয়েস্টিনের রেস্টুরেন্টে বই বই হাঁসের মাংস ভক্ষণ করেন। হালা পানিওয়ালী-ফকিরনির পোলার লজ্জা-শরম বইল্লা কিচ্ছুই নাই।’
‘জানিনা ভাই!’
‘কোয়েন না মিয়া ভাই! এ্যাতো লড়াই, এ্যতো রক্ত, হাজার হাজার পোলা সংগ্রামে মরল। দ্যেখেন না, বাংলার শাসকের গদিতে বাঙালি বইস্সা বাঙালিরে গুল্লি কোইরা মারে। কিন্তু কুটি কুটি বাঙালির দুই ব্যালা ভাতের সমস্যা আজও মিটলো না!’
‘মিটবে কি করে! বাঙলার শ্রমজীবী জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং মতামত’ কখোনোই গুরুত্ব পেল না।’
‘ক্যেমনে পাইবো, আপনে মিয়া দেশের প্রকৃত শিক্ষিত কাজ জানা পাবলিক থুয়া খালি আত্মীয় খুঁজবেন। যাগো বাংলার কৃষির লগে, কলকারখানার লগে কুনোই সম্পর্ক নাই সেই সব পরগাছা পাবলিকরে দেশ চালাইতে দিবেন। তয় দেশও তেমনে চলবো!’
‘কিন্তু আমি বলছিলাম, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনটার পর একটু সময়দে, হয়তো দেশের ভালোও তো হতে পারে।’
‘হ, মুক্তিযুদ্ধের পর কোইছিলেন না। আমি তিন বছর তোমাগো কিছু দিবা পারুমনা। হেই তিন বছর অহন চুয়ান্ন বছরে পা-দিলো, অহনও আপনে আমাগো খাদ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের সমস্যা দুরকরা পারলেন না।’
‘এ্যতো উতলা হোসনে একটু ধৈর্য ধরে দ্যেখ, তোদের সকলের প্রচেষ্টায় নিশ্চয় ভালো কিছু হবেই হবে।’
‘হ, ব্যেবগতে বয়া বয়া মন্ত্র পড়ি, ধৈর্যং স্মরণং গচ্ছামি... ধৈর্যং স্মরণং গচ্ছামি...’
‘ তোকে সুভাষ মুখপাধ্যায়ের একটা কবিতা শুনাই...’
‘ধুর ভাই এহন কবিতা শুননের মুড নাই, কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসান রুটি...’
‘আরে কবি কিশোর সুকান্তকে রাখ। আমারটা শোন’ “এ যুদ্ধ দুনিয়ার দুটি দলে / এ যুদ্ধ মুক্তি ও শৃঙ্খলে / জনগণশক্তির জয় হলে / আমাদের স্বদেশেরও নিশ্চিত স্বাধিকার। / কমরেড ধরো আজ হাতিয়ার।”
‘হ’ আপনের কমরেডনি হাতিয়ার ধরবো! ট্যাকা দেখলেই হালা হিজড়ার মতো কোদাল নিয়া খাল কাটতে লৌড় পাড়বো... হেঁ হেঁ হেঁ।’
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
জাঁ-নেসার ওসমান
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
‘নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস/ শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস-
‘কিরে ভাই বিষয়টা কী? তোর মুখে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষণ! মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটি, বোমাবাজি, ককটেলবাজি সব ছেড়ে এত সুন্দর একটা নির্বাচন হলো আর তুই বলছিস ‘নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস/ শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস-
‘আরে বাবা, আমি কোই আপনের ত্রয়োদশ নির্বাচন শান্তি মতো হোইছে। রাইতের ভোট নাই, আগের মতুন মরালোকে ভোট দেয়নাই। বুথে যাওনের আগেই এইবার কেউ ভোটাররে কয় নাই যে, আপনের ভোট দেয়া হয়া গ্যেছেগা, আপনে বাড়িত যান...’
‘তো, তোর প্রবলেমটা কোথায়। তুই কেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষণ শোনাচ্ছিস, ‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস!’
‘আপনে ভুজেন না, আমার চ্যেতটা লাগতাছে যে, মানুষ এখন মানুষের সব চেয়ে বড় শত্রু!’
‘মানে কী? হঠাৎ এ-কি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!’
‘বর্তমান সমাজ আইহামে জাহালিয়াকেও ছাড়ায় গেছে বহুগুনে। এখন মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু! মরণের পরও মানুষের শান্তি নাই। মরার পরও মাইনষের লাশ কবর থেকে তুইল্লা মানুষই পোড়াইতাছে! যা জীবনে মরণে, ইহকালে পরকালে কোন দিনও কেউ আইহামে জাহালিয়ার যুগেও কল্পনা করা পারে নাই! অহন তাই চলতাছে!’
‘ভাই চুয়ান্ন বছর আগে, তোমার ভাই-ব্রাদাররা বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করলো...’
‘ তো স্বাধীনতার ফসল কি পাইলেন! ভায়ে ভায়ে হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা, আক্রোশ, ঈর্ষা, সন্দেহ, অবিশ্বাস, পরশ্রীকাতরতা এই আজ আমাগো বাঁইচ্চা থাকার পাথেয়!! এভাবে কতদিন বাঁচবেন কন?’
‘ঠিক ঠিক, এ-যেন, নাবিক সিন্দবাদের গল্পের মতো, সাঁপগুলো সব নিজের লেজ থেকে নিজেকে নিজে গিলে খাচ্ছে। পিকাসোর গুয়ের্নিকার গণহত্যাকেও লজ্জিত করে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলার জেন-জি। কেবল টাকার জন্য!’
‘তায়লে কন? পাবলিকে ট্যাকা ট্যাকা কইরে, নিজের ভাইরে, নিজের বোনরে, নিজের বাপরে, নিজের জন্মদাতৃ-মায়েরে গিল্লা খাইতাছে!’
‘ওরে ভুলে যাসনা যে তোরা সব অমৃতের সন্তান। তোরা জেন-জি, তোরা ‘এ-আই’ যুগের নাবিক। তো, তোমাদের দিক নির্দেশনা কেন ভুল হবে! আজ সারা পৃথিবী ফুলে ফলে সজ্জিত হয়ে আপনাকে মেলে ধরছে। ইউরোপীয় সভ্য দেশগুলোতে অপরাধীর অভাবে জেলখানা বন্ধ হচ্ছে। আর তোমাদের জেলখানায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে, মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আইজিপি, ভিসি, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ইলেকসন কমিশনার, শিক্ষক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আইণমন্ত্রী, ধাওড়বাজারের মেথর পর্যন্ত বিদ্যমান। কাকে বাদ দিয়ে কার নাম বলব। ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ব্যাংকার, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, লাকি-আনলাকি সব, সব প্রফেশনের রাজাধিরাজদের উপচে পড়া ভিড়ে জেল খানার জায়গা কম পড়ছে। প্রয়াত মেয়র হানিফ স্যারের পুত্রের মতো প্রতিধ্বনি করে বলতে ইচ্ছে করে- ক্যানো! ক্যানো!! ক্যানো!!!’
‘ক্যানো! ক্যানো! ক্যানো আবার, ট্যাকা! ট্যাকার লোভে পাবলিকে আন্ধা। ছোট্ট ছোট্ট পোলাপানগুলাও অহনও ট্যাকার লোভ ছাড়া পারলো না!’
‘তাহলে শোন তোকে একটা সত্য নিলোর্ভের হৃদয়বিদারক গল্প বলি।’
‘গল্প মানে, এই পাটি কোইবো সত্য আর ওই পাটি কোইবো মিথ্যা!’
‘আরে না, একদম নির্ভেজাল সত্য ঘটনা। টাকার লোভের গল্প শোন: সালটা ঊনিশ’শ ষাটের দশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মাত্র ১৩ (তের রুপী)র, হিসাব মিলাতে পারেননি বলে, খিলগাঁও ট্রেনলাইনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করলেন।’
‘আরে ভাই হ্যারা আছিলো মানুষের বাচ্ছা! আর অহন ইঞ্জিনিয়াররা টা:৫০০০/—(পাঁচ হাজার) ট্যাকায় বালিশ কিইন্না, ওয়েস্টিনের রেস্টুরেন্টে বই বই হাঁসের মাংস ভক্ষণ করেন। হালা পানিওয়ালী-ফকিরনির পোলার লজ্জা-শরম বইল্লা কিচ্ছুই নাই।’
‘জানিনা ভাই!’
‘কোয়েন না মিয়া ভাই! এ্যাতো লড়াই, এ্যতো রক্ত, হাজার হাজার পোলা সংগ্রামে মরল। দ্যেখেন না, বাংলার শাসকের গদিতে বাঙালি বইস্সা বাঙালিরে গুল্লি কোইরা মারে। কিন্তু কুটি কুটি বাঙালির দুই ব্যালা ভাতের সমস্যা আজও মিটলো না!’
‘মিটবে কি করে! বাঙলার শ্রমজীবী জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং মতামত’ কখোনোই গুরুত্ব পেল না।’
‘ক্যেমনে পাইবো, আপনে মিয়া দেশের প্রকৃত শিক্ষিত কাজ জানা পাবলিক থুয়া খালি আত্মীয় খুঁজবেন। যাগো বাংলার কৃষির লগে, কলকারখানার লগে কুনোই সম্পর্ক নাই সেই সব পরগাছা পাবলিকরে দেশ চালাইতে দিবেন। তয় দেশও তেমনে চলবো!’
‘কিন্তু আমি বলছিলাম, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনটার পর একটু সময়দে, হয়তো দেশের ভালোও তো হতে পারে।’
‘হ, মুক্তিযুদ্ধের পর কোইছিলেন না। আমি তিন বছর তোমাগো কিছু দিবা পারুমনা। হেই তিন বছর অহন চুয়ান্ন বছরে পা-দিলো, অহনও আপনে আমাগো খাদ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের সমস্যা দুরকরা পারলেন না।’
‘এ্যতো উতলা হোসনে একটু ধৈর্য ধরে দ্যেখ, তোদের সকলের প্রচেষ্টায় নিশ্চয় ভালো কিছু হবেই হবে।’
‘হ, ব্যেবগতে বয়া বয়া মন্ত্র পড়ি, ধৈর্যং স্মরণং গচ্ছামি... ধৈর্যং স্মরণং গচ্ছামি...’
‘ তোকে সুভাষ মুখপাধ্যায়ের একটা কবিতা শুনাই...’
‘ধুর ভাই এহন কবিতা শুননের মুড নাই, কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসান রুটি...’
‘আরে কবি কিশোর সুকান্তকে রাখ। আমারটা শোন’ “এ যুদ্ধ দুনিয়ার দুটি দলে / এ যুদ্ধ মুক্তি ও শৃঙ্খলে / জনগণশক্তির জয় হলে / আমাদের স্বদেশেরও নিশ্চিত স্বাধিকার। / কমরেড ধরো আজ হাতিয়ার।”
‘হ’ আপনের কমরেডনি হাতিয়ার ধরবো! ট্যাকা দেখলেই হালা হিজড়ার মতো কোদাল নিয়া খাল কাটতে লৌড় পাড়বো... হেঁ হেঁ হেঁ।’
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]