alt

উপ-সম্পাদকীয়

আফগানিস্তানে তালেবান ও বাংলাদেশে এর প্রভাব

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন

: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় সরকার গঠন করছে। তালেবান সরকার স্পষ্টত ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের সরকার ব্যবস্থা হবে শরিয়াহভিত্তিক। এর আগে তালেবান আফগানিস্তানে সরকার গঠন করে। সেই সময় আফগানিস্তানজুড়ে সরকার কর্তৃক যে নিয়মগুলো প্রচলিত ছিল, সেগুলোর একটু মূল্যায়ন করা দরকার। ওই সময়েও তালেবান শরিয়াহভিত্তিক সরকার আফগানিস্তানে প্রতিষ্ঠা করে। শরিয়াহভিত্তিক সরকারের ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে ওমরের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৫টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল, কোন নারী বোরকাবিহীন চলাফেরা করতে পারবেন না। কোন বোরকাবিহীন নারীকে গাড়িতে উঠালে চালককে গ্রেপ্তার করা হবে। বোরকাবিহীন কোন নারীকে রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখলে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হবে। কোন নারীই অভিভাবক ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। সব ধরনের খেলাধুলা নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। নারী ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ মাঠের অ্যাথলেটেও নারীরা অংশ নিতে পারেননি। তাই বর্তমানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর নারী ক্রীড়াবিদরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দেশের কোন নাগরিকই কোন ধরনের গানবাজনা করতে পারবেন না। মাইক এবং লাউড স্পিকারে গান বা বিনোদনমূলক কিছু বাজালে কঠোর শাস্তির বিধান রাখে ওমর সরকার। নামাজের সময় দোকানপাট, গাড়িসহ সব পরিবহন বন্ধ থাকবে, সবাইকে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে। ঘুড়ি উড়ানো, কবুতর পালন, নদীর তীরে নারীদের কাপড় ধোয়া, পুরুষ দর্জি কর্তৃক নারীদের পোশাক বানানো, অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে কোন ছবি টাঙানো নিষিদ্ধ ছিল। জুয়া খেলা বা মদ খাওয়া যাবে না।

ওমরের নেতৃত্বাধীন সরকার এ রকম অপরাধ দমন করতে ‘পাপ নির্মূলকরণ মন্ত্রণালয়’ নামে একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে। তালেবানি প্রথম আমলে আফগান শিশুদের অঙ্ক শেখানো হতো, ধর ওমরের রাইফেলে তিনটি ম্যাগাজিন আছে, প্রতিটি ম্যাগাজিনে ২০টি করে গুলি রয়েছে, ওমর তার গুলির এক-তৃতীয়াংশ খরচ করে ৬০ জন বিধর্মীকে হত্যা করল, তাহলে ওমরের প্রতিটি গুলিতে কতজন বিধর্মী মারা গেল? এ রকম ছিল শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠেছিল সন্ত্রাসী হয়ে। বর্তমানে তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর সাধারণ আফগানীরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। কাবুল থেকে বিদেশগামী বিমানগুলোতে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ বাদুড়ঝোলা হয়ে দেশ ছাড়ছেন। এভাবে দেশ ত্যাগের ঘটনা আধুনিক বিশ্বে ঘটেনি। এই দৃশ্য থেকে বোঝা যায়, আগের তালেবান সরকার ব্যবস্থাটা কতটা জঘন্যতম ছিল? আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় বসার প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের তথ্যে গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদগুলো থেকে জানা যায়, এ দেশ থেকে কিছু যুবক আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গোপালগঞ্জে হত্যা পরিকল্পনা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, বাংলা ভাইয়ের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা, বাংলা ভাইয়ের বাহিনী গঠন, ৫ মে’র হেফাজতি তা-বসহ বিভিন্ন জঙ্গি হামলার সঙ্গে তালেবানি গোষ্ঠীর যোগসাজশ ছিল, এমন প্রমাণও নাকি রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার কাছে। তালেবানিরা ঠিকঠাকমতো ক্ষমতায় এখনও বসতে পারল না অথচ বাংলাদেশের কিছু মানুষ বিজয়ের হাসি হাসছেন। এর কারণ কি? তাহলে কি এদেশেও, মৌলবাদীরা কারো ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠছে।

বর্তমানে সারা দেশে ব্যাপক হারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তাছাড়া প্রতিটি সরকারি দপ্তরেও ধর্ম পালনের জন্য রয়েছে পৃথক কক্ষ, এগুলোর মাধ্যমে চলছে ধর্ম পালনের আড়ালে মৌলবাদী আদর্শের অনুশীলন। এদের কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করা যায় না। কারণ যে প্রতিবাদ করবেন তাকে ধর্মীয় কাজে বাধদানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রতিবাদকারীকে পড়তে হয় আইনি জটিলতাসহ নানা হয়রানিতে। ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মৌলবাদীরা ধর্মীয় বাতাবরণে নিজেদের একটি ভিত্তি গড়ে তুলছে। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তালেবানরা আফগানে ক্ষমতা দখল করার বিষয়টি একটি বড় ধরনের সুখবর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাবটা সহসাই পড়লে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে এর প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেবে। দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছে। দেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় পোশাক শিল্প খাত থেকে। পোশাকশিল্পের শতকরা ৮০ ভাগ শ্রমিকই নারী। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ শ্রমিকদের মাঝে দেখা যায় নারীই কাজ করছেন। শ্রমিক থেকে শুরু করে দেশের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় নারীরা শ্রম বিনিয়োগ করছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত ৭০ দশকে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কত ছিল, তার সঙ্গে বর্তমানের নারী শ্রমিকের তুলনা করলে দেখা যাবে যে, সেই সংখ্যাটি বর্তমানে বেড়েছে কমপক্ষে ১০-১৫ গুণ। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির জিডিপির মূল জোগানদার এ দেশের নারী শ্রমিকরা। বাংলাদেশের এ অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতিতে পৃথিবীর অনেক দেশ ঈর্ষান্বিত। বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক ধারাকে নেতিবাচক করার জন্য চলছে নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশীয় চক্র জড়িত থাকাটা স্বভাবিক। এদের মূল লক্ষ্য হলো- নারীদের শ্রম বিনিয়োগটা বন্ধ করা। তাই নারীদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখার লক্ষ্যে দেয়া হয় নানা ধরনের ফতুয়া। আফগানিস্তানে তালেবানরা যে ঘটনাটি ঘটিয়ে ক্ষমতায় বসেছে, সে রকম ঘটনা যে বাংলাদেশেও ঘটবে না, তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের নিখোঁজ হওয়া বহু তরুণ তালেবানদের পক্ষ নিয়ে চলে গেছে আফগানিস্তানের যুদ্ধে। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার পাকাপোক্ত হয়ে গেলে, আফগান যুদ্ধে যোগ দেয়া বাংলাদেশিরা স্বদেশে ফেরত আসবে, আর তখন দেশের অভ্যন্তরে এরাও তালেবানি কায়দায় সংগঠিত হবে। সুতরাং এসব বিষয়গুলো এখন ভাববার দরকার। তা না হলে দেশের অভ্যন্তরে মৌলবাদীরা বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।

[ লেখক : উন্নয়নকর্মী ]

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

ছবি

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

হাঁস-মুরগির রোগ ও চিকিৎসা

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স

ছবি

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মহামারীকালে মানসিক স্বাস্থ্য

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তুতি

ছবি

টিকা বিভ্রান্তি ও রাজনীতি

মহামারী, প্রতারণার ফাঁদ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যুদ্ধ

নেতিবাচক খবরের প্রাধান্য

ই কমার্স : আমাদের ভরসা যেন কাচের দেয়াল

স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীদের আচরণগত প্রতিক্রিয়া ও প্রতিকার

ভারতে পুলিশের সফট টার্গেট মুসলমান

শেয়ারবাজারে আস্থা যেন অনাস্থায় পরিণত না হয়

মেডিকেল বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, দায় কার?

ছবি

মেট্রোরেল : রূপকথা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা

ছবি

মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ার কারিগর

ছবি

কৃষি-উদ্যোক্তা হতে করণীয়

ছবি

খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে

tab

উপ-সম্পাদকীয়

আফগানিস্তানে তালেবান ও বাংলাদেশে এর প্রভাব

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন

শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় সরকার গঠন করছে। তালেবান সরকার স্পষ্টত ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের সরকার ব্যবস্থা হবে শরিয়াহভিত্তিক। এর আগে তালেবান আফগানিস্তানে সরকার গঠন করে। সেই সময় আফগানিস্তানজুড়ে সরকার কর্তৃক যে নিয়মগুলো প্রচলিত ছিল, সেগুলোর একটু মূল্যায়ন করা দরকার। ওই সময়েও তালেবান শরিয়াহভিত্তিক সরকার আফগানিস্তানে প্রতিষ্ঠা করে। শরিয়াহভিত্তিক সরকারের ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে ওমরের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৫টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল, কোন নারী বোরকাবিহীন চলাফেরা করতে পারবেন না। কোন বোরকাবিহীন নারীকে গাড়িতে উঠালে চালককে গ্রেপ্তার করা হবে। বোরকাবিহীন কোন নারীকে রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখলে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হবে। কোন নারীই অভিভাবক ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। সব ধরনের খেলাধুলা নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। নারী ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ মাঠের অ্যাথলেটেও নারীরা অংশ নিতে পারেননি। তাই বর্তমানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর নারী ক্রীড়াবিদরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দেশের কোন নাগরিকই কোন ধরনের গানবাজনা করতে পারবেন না। মাইক এবং লাউড স্পিকারে গান বা বিনোদনমূলক কিছু বাজালে কঠোর শাস্তির বিধান রাখে ওমর সরকার। নামাজের সময় দোকানপাট, গাড়িসহ সব পরিবহন বন্ধ থাকবে, সবাইকে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে। ঘুড়ি উড়ানো, কবুতর পালন, নদীর তীরে নারীদের কাপড় ধোয়া, পুরুষ দর্জি কর্তৃক নারীদের পোশাক বানানো, অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে কোন ছবি টাঙানো নিষিদ্ধ ছিল। জুয়া খেলা বা মদ খাওয়া যাবে না।

ওমরের নেতৃত্বাধীন সরকার এ রকম অপরাধ দমন করতে ‘পাপ নির্মূলকরণ মন্ত্রণালয়’ নামে একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে। তালেবানি প্রথম আমলে আফগান শিশুদের অঙ্ক শেখানো হতো, ধর ওমরের রাইফেলে তিনটি ম্যাগাজিন আছে, প্রতিটি ম্যাগাজিনে ২০টি করে গুলি রয়েছে, ওমর তার গুলির এক-তৃতীয়াংশ খরচ করে ৬০ জন বিধর্মীকে হত্যা করল, তাহলে ওমরের প্রতিটি গুলিতে কতজন বিধর্মী মারা গেল? এ রকম ছিল শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠেছিল সন্ত্রাসী হয়ে। বর্তমানে তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর সাধারণ আফগানীরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। কাবুল থেকে বিদেশগামী বিমানগুলোতে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ বাদুড়ঝোলা হয়ে দেশ ছাড়ছেন। এভাবে দেশ ত্যাগের ঘটনা আধুনিক বিশ্বে ঘটেনি। এই দৃশ্য থেকে বোঝা যায়, আগের তালেবান সরকার ব্যবস্থাটা কতটা জঘন্যতম ছিল? আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় বসার প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের তথ্যে গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদগুলো থেকে জানা যায়, এ দেশ থেকে কিছু যুবক আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গোপালগঞ্জে হত্যা পরিকল্পনা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, বাংলা ভাইয়ের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা, বাংলা ভাইয়ের বাহিনী গঠন, ৫ মে’র হেফাজতি তা-বসহ বিভিন্ন জঙ্গি হামলার সঙ্গে তালেবানি গোষ্ঠীর যোগসাজশ ছিল, এমন প্রমাণও নাকি রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার কাছে। তালেবানিরা ঠিকঠাকমতো ক্ষমতায় এখনও বসতে পারল না অথচ বাংলাদেশের কিছু মানুষ বিজয়ের হাসি হাসছেন। এর কারণ কি? তাহলে কি এদেশেও, মৌলবাদীরা কারো ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠছে।

বর্তমানে সারা দেশে ব্যাপক হারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তাছাড়া প্রতিটি সরকারি দপ্তরেও ধর্ম পালনের জন্য রয়েছে পৃথক কক্ষ, এগুলোর মাধ্যমে চলছে ধর্ম পালনের আড়ালে মৌলবাদী আদর্শের অনুশীলন। এদের কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করা যায় না। কারণ যে প্রতিবাদ করবেন তাকে ধর্মীয় কাজে বাধদানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রতিবাদকারীকে পড়তে হয় আইনি জটিলতাসহ নানা হয়রানিতে। ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মৌলবাদীরা ধর্মীয় বাতাবরণে নিজেদের একটি ভিত্তি গড়ে তুলছে। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তালেবানরা আফগানে ক্ষমতা দখল করার বিষয়টি একটি বড় ধরনের সুখবর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাবটা সহসাই পড়লে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে এর প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেবে। দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছে। দেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় পোশাক শিল্প খাত থেকে। পোশাকশিল্পের শতকরা ৮০ ভাগ শ্রমিকই নারী। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ শ্রমিকদের মাঝে দেখা যায় নারীই কাজ করছেন। শ্রমিক থেকে শুরু করে দেশের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় নারীরা শ্রম বিনিয়োগ করছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত ৭০ দশকে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কত ছিল, তার সঙ্গে বর্তমানের নারী শ্রমিকের তুলনা করলে দেখা যাবে যে, সেই সংখ্যাটি বর্তমানে বেড়েছে কমপক্ষে ১০-১৫ গুণ। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির জিডিপির মূল জোগানদার এ দেশের নারী শ্রমিকরা। বাংলাদেশের এ অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতিতে পৃথিবীর অনেক দেশ ঈর্ষান্বিত। বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক ধারাকে নেতিবাচক করার জন্য চলছে নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশীয় চক্র জড়িত থাকাটা স্বভাবিক। এদের মূল লক্ষ্য হলো- নারীদের শ্রম বিনিয়োগটা বন্ধ করা। তাই নারীদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখার লক্ষ্যে দেয়া হয় নানা ধরনের ফতুয়া। আফগানিস্তানে তালেবানরা যে ঘটনাটি ঘটিয়ে ক্ষমতায় বসেছে, সে রকম ঘটনা যে বাংলাদেশেও ঘটবে না, তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের নিখোঁজ হওয়া বহু তরুণ তালেবানদের পক্ষ নিয়ে চলে গেছে আফগানিস্তানের যুদ্ধে। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার পাকাপোক্ত হয়ে গেলে, আফগান যুদ্ধে যোগ দেয়া বাংলাদেশিরা স্বদেশে ফেরত আসবে, আর তখন দেশের অভ্যন্তরে এরাও তালেবানি কায়দায় সংগঠিত হবে। সুতরাং এসব বিষয়গুলো এখন ভাববার দরকার। তা না হলে দেশের অভ্যন্তরে মৌলবাদীরা বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।

[ লেখক : উন্নয়নকর্মী ]

back to top