সারা দেশের মধ্যে শ্রীমঙ্গল একটি স্বতন্ত্র কসমোপলিটান শহর হিসেবে পরিচিত। বিস্তীর্ণ চা-বাগান, প্রাকৃতিক সম্পদের বৈচিত্র্য, হাওরাঞ্চলের সৌন্দর্য এবং গড়ে ওঠা নানা শিল্প-কলকারখানা এই শহরকে দিয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব। সামগ্রিক উন্নয়নের দিক থেকে শ্রীমঙ্গল শুধু অনেক পৌর শহরকেই নয়, কোনো কোনো বিভাগীয় শহরকেও ছাড়িয়ে গেছে- এমন মত প্রকাশ করেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে সম্ভাবনাময় এই শহরের বাস্তব চিত্র সবসময় আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে শ্রীমঙ্গলের জনজীবন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে লম্বা যানবাহনের সারি এখন নিয়মিত দৃশ্য। অল্প সময়ের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আর এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রোগী এবং সাধারণ পথচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত বাজার এলাকা ও শহরের প্রবেশপথগুলোতে যানজট যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত পার্কিং, ফুটপাত দখল, সড়কের ওপর অস্থায়ী দোকান বসানো, অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
যানজটের প্রভাব শুধু সময় নষ্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাড়ছে মানসিক চাপ, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও যানজটে আটকে পড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে শ্রীমঙ্গলের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই বিশৃঙ্খল যানব্যবস্থার কারণে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা যানজটে পড়ে বিরক্তি প্রকাশ করছেন, যা পর্যটন শিল্পের জন্যও অশনিসংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে শ্রীমঙ্গলের যান চলাচল আরও অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই দ্রুত পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
সম্ভাবনা, উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর শ্রীমঙ্গলকে সত্যিকারের বাসযোগ্য ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হলে যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। শহরবাসীর প্রত্যাশা একটাই- একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত শ্রীমঙ্গল।