কিছুটা সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এক বার্তায় নিজের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানালেন তামিম।
মহান আল্লাহতা’আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তামিম লিখেন, ‘দুই বছর আগে এই রোজার সময়েই অনুপের কাছে গিয়েছিলাম। সেদিন জানতে পারলাম, অনুপের বাবা ৪ বছরেও হার্টের অপারেশন করতে পারেননি।’
দুই বছর আগে ই-কমার্স মোবাইল ব্যাংকিং নগদ থেকে পেমেন্টে গাড়ি জিতেন ঢাকায় বসবাস করা অনুপ অধিকারী নামে এক ব্যক্তি। নগদ-এর হয়ে অনুপের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দিতে তার বাসায় গিয়েছিলেন তামিম। তখনই জানতে পারেন, আর্থিক সমস্যায় চার বছর ধরে অনুপের বাবার হার্টের অস্ত্রোপচার করাতে পারছে না তার পরিবার। তখন অনুপের বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তামিম। পরবর্তীতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে অনুপের বাবার হার্টের চিকিৎসা করানো হয়।
এছাড়াও তামিম আরও লিখেন, ‘হৃদয়ের স্পন্দনই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু এই স্পন্দন যে কোনো ধরনের ঘোষণা না দিয়েই থেমে যেতে পারে এই কথাটি আমরা বার বার ভুলে যাই। সোমবার দিনটি শুরু করার সময় কি আমি জানতাম, আমার সঙ্গে কী হতে যাচ্ছে?
আল্লাহতা’আলার অশেষ রহমত আর সবার দোয়ায় আমি ফিরে এসেছি। আমার সৌভাগ্য, এই বিপদের সময়ে পাশে কিছু অসাধারণ মানুষকে পেয়েছিলাম, যাদের বিচক্ষণতা ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এই সঙ্কট কাটিয়ে ফিরে এসেছি।
কিছু ঘটনা আমাদের বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, জানিয়ে দেয় যে জীবন আসলে কতটা ছোট। আর এই ছোট জীবনে আর কিছু করতে না পারি, সবাই যেন একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়-এটিই আমার অনুরোধ।
আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। সবাই আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি তামিম ইকবাল কিছুই না।’
সোমবার হার্টে রিং পরানোর পর থেকেই তামিমের অবস্থা একটু একটু করে উন্নতি হতে থাকে। রাতে পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। মঙ্গলবার সকালে সিসিইউ থেকে অল্প সময়ের জন্য কেবিনে নেয়া হয় দেশসেরা এই ওপেনারকে। সেখানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। দুপুরে কিছু পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তামিমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মূলত ঢাকায় আনার সিদ্ধান্তটি পারিবারিকভাবেই নেয়া। তামিম নিজেও চাচ্ছিলেন এভারকেয়ার হাসাপাতালে যেতে। এই কারণেই কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে তামিমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেছেন, ‘পুরো বিষয়টিই পারিবারিকভাবে নেয়া। এর সঙ্গে ক্লাবের সম্পৃক্ততাও ছিল। অবশ্যই ডাক্তারের মতামতের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
ইফতারের সময়টাতে রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা থাকে। এই সময়টাতে প্রলিশ প্রটোকলের মাধ্যমে সাভার থেকে বসুন্ধরায় অবস্থতি এভারকেয়ার হাসপাতালে তামিমকে নেয়া হয়। এ বিষয়ে মোহামেডানের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইফতারের পর পরই গাড়িতে করে তামিমকে নিয়ে যাওয়া হবে।
পুরো রাস্তায় যানজট। ইফতারের পর রাস্তা ফ্রি বলেই ওই সময় বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তামিম পুলিশ প্রটোকলও পাবে। সর্বোচ্চ মহল থেকে এই সিদ্ধান্ত আসছে।’
তামিম মাঠে গুরুতর অসুস্থ হন সোমবার। তখন বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে চলছিল ডিপিএলের অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচ। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ককে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। তার আগে তামিমকে নিতে হেলিকপ্টারও আনা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় পাশে থাকা কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজেই চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় তাকে।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, সংকট কেটে গেছে তামিম ইকবালের, তিনি এখন ধীরে ধীরে পুরো সুস্থ হয়ে যাবেন। চিকিৎসকদের ব্রিফিংয়ের পর সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে এলেন সাকিব আল হাসানের বাবা মাশরুর রেজা ও মা শিরিন শারমিন।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেছেন সাকিবের বাবা।
তামিমের হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনে সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাকিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেন পোস্ট। তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই তামিম যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরতে পারে!’
তামিমের জন্য দোয়া ক্রিকেটারদের
তামিম ইকবালের সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার লীগ ম্যাচ শুরুর আগে তিন ভেন্যুতে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। সকালে ম্যাচ শুরুর আগে ক্রিকেটার, কর্মকর্তা ও কোচিং স্টাফরা একসঙ্গে তামিমের আরোগ্য কামনা করেন। বিকেএসপির তিন ও চার নম্বর মাঠে দেখা যায় এই দৃশ্য।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগেও এই দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ব্রাদার্স ইউনিয়ন- পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-রূপগঞ্জ টাইগার্স এবং গাজী গ্রুপ-গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচ শুরু হয়।
মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
কিছুটা সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এক বার্তায় নিজের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানালেন তামিম।
মহান আল্লাহতা’আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তামিম লিখেন, ‘দুই বছর আগে এই রোজার সময়েই অনুপের কাছে গিয়েছিলাম। সেদিন জানতে পারলাম, অনুপের বাবা ৪ বছরেও হার্টের অপারেশন করতে পারেননি।’
দুই বছর আগে ই-কমার্স মোবাইল ব্যাংকিং নগদ থেকে পেমেন্টে গাড়ি জিতেন ঢাকায় বসবাস করা অনুপ অধিকারী নামে এক ব্যক্তি। নগদ-এর হয়ে অনুপের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দিতে তার বাসায় গিয়েছিলেন তামিম। তখনই জানতে পারেন, আর্থিক সমস্যায় চার বছর ধরে অনুপের বাবার হার্টের অস্ত্রোপচার করাতে পারছে না তার পরিবার। তখন অনুপের বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তামিম। পরবর্তীতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে অনুপের বাবার হার্টের চিকিৎসা করানো হয়।
এছাড়াও তামিম আরও লিখেন, ‘হৃদয়ের স্পন্দনই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু এই স্পন্দন যে কোনো ধরনের ঘোষণা না দিয়েই থেমে যেতে পারে এই কথাটি আমরা বার বার ভুলে যাই। সোমবার দিনটি শুরু করার সময় কি আমি জানতাম, আমার সঙ্গে কী হতে যাচ্ছে?
আল্লাহতা’আলার অশেষ রহমত আর সবার দোয়ায় আমি ফিরে এসেছি। আমার সৌভাগ্য, এই বিপদের সময়ে পাশে কিছু অসাধারণ মানুষকে পেয়েছিলাম, যাদের বিচক্ষণতা ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এই সঙ্কট কাটিয়ে ফিরে এসেছি।
কিছু ঘটনা আমাদের বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, জানিয়ে দেয় যে জীবন আসলে কতটা ছোট। আর এই ছোট জীবনে আর কিছু করতে না পারি, সবাই যেন একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়-এটিই আমার অনুরোধ।
আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। সবাই আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি তামিম ইকবাল কিছুই না।’
সোমবার হার্টে রিং পরানোর পর থেকেই তামিমের অবস্থা একটু একটু করে উন্নতি হতে থাকে। রাতে পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। মঙ্গলবার সকালে সিসিইউ থেকে অল্প সময়ের জন্য কেবিনে নেয়া হয় দেশসেরা এই ওপেনারকে। সেখানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। দুপুরে কিছু পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তামিমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মূলত ঢাকায় আনার সিদ্ধান্তটি পারিবারিকভাবেই নেয়া। তামিম নিজেও চাচ্ছিলেন এভারকেয়ার হাসাপাতালে যেতে। এই কারণেই কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে তামিমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেছেন, ‘পুরো বিষয়টিই পারিবারিকভাবে নেয়া। এর সঙ্গে ক্লাবের সম্পৃক্ততাও ছিল। অবশ্যই ডাক্তারের মতামতের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
ইফতারের সময়টাতে রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা থাকে। এই সময়টাতে প্রলিশ প্রটোকলের মাধ্যমে সাভার থেকে বসুন্ধরায় অবস্থতি এভারকেয়ার হাসপাতালে তামিমকে নেয়া হয়। এ বিষয়ে মোহামেডানের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইফতারের পর পরই গাড়িতে করে তামিমকে নিয়ে যাওয়া হবে।
পুরো রাস্তায় যানজট। ইফতারের পর রাস্তা ফ্রি বলেই ওই সময় বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তামিম পুলিশ প্রটোকলও পাবে। সর্বোচ্চ মহল থেকে এই সিদ্ধান্ত আসছে।’
তামিম মাঠে গুরুতর অসুস্থ হন সোমবার। তখন বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে চলছিল ডিপিএলের অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচ। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ককে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। তার আগে তামিমকে নিতে হেলিকপ্টারও আনা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় পাশে থাকা কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজেই চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় তাকে।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, সংকট কেটে গেছে তামিম ইকবালের, তিনি এখন ধীরে ধীরে পুরো সুস্থ হয়ে যাবেন। চিকিৎসকদের ব্রিফিংয়ের পর সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে এলেন সাকিব আল হাসানের বাবা মাশরুর রেজা ও মা শিরিন শারমিন।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেছেন সাকিবের বাবা।
তামিমের হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনে সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাকিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেন পোস্ট। তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই তামিম যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরতে পারে!’
তামিমের জন্য দোয়া ক্রিকেটারদের
তামিম ইকবালের সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার লীগ ম্যাচ শুরুর আগে তিন ভেন্যুতে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। সকালে ম্যাচ শুরুর আগে ক্রিকেটার, কর্মকর্তা ও কোচিং স্টাফরা একসঙ্গে তামিমের আরোগ্য কামনা করেন। বিকেএসপির তিন ও চার নম্বর মাঠে দেখা যায় এই দৃশ্য।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগেও এই দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ব্রাদার্স ইউনিয়ন- পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-রূপগঞ্জ টাইগার্স এবং গাজী গ্রুপ-গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচ শুরু হয়।