শ্রীলঙ্কার হয়ে পাঁচ বছর ধরে খেলছেন পাথুম নিসাঙ্কা। ১৮ টেস্টে ১৩০৫ রান, ৭৭ দিনের ম্যাচে ১৮২৯ রান ও ৮৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৫৭৪ রান করেছেন তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৩টি শতরান ও ৪৩টি অর্ধশতরান রয়েছে এই ডানহাতি ব্যাটারের। গতকাল সোমবার নিসাঙ্কার ৫২ বলে অপরাজিত শতরানে অস্ট্রেলিয়ার ১৮১ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জিতে চলমান বিশ্বকাপের সুপার এইটে পৌঁছায়।
লঙ্কার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে তাকে। গতকাল সোমবার তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাঁচ বছর ধরে খেললেও এত দিনে বিশ্বক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছে তার।
মাঠকর্মী-ফুল বিক্রেতার সন্তান চলতি বিশ্বকাপের প্রথম শতরান করেছেন। রেকর্ড গড়েছেন নিসাঙ্কা। তিনিই প্রথম ব্যাটার যিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতরান করেছেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম শতরান (৫২ বলে) তার। গত বছর এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেও ৫২ বলে শতরান করেছিলেন নিসাঙ্কা। সেই ম্যাচ জেতাতে পারেননি। আউট হয়ে গিয়েছিলেন। এ বার জিতিয়েছেন। দলকে সুপার এইটে তুলে মাঠ ছেড়েছেন।
গতকাল সোমবার রাতের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া তাকে থামানোর সব চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। ১০ চার, পাঁচ ছক্কার ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সব পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি। ১৭ বছর পর বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে নিসাঙ্কা বলেন, ‘উইকেট খুব ভালো ছিল। আমি নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলেছি।’ স্বাভাবিক খেলা। যেন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো অন্য কোনো ম্যাচের মতোই। আসলে যিনি জীবনের যুদ্ধে জিতেছেন, তার কাছে এই লড়াই তো স্বাভাবিক মনে হবেই।
তিনি বলেন, ‘কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ভালো জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি। সেটা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলাম। নিজের পছন্দের জায়গায় বল আসার অপেক্ষা করছিলাম। বেশ কিছু বল ভালো জায়গায় পেয়েছি। সেগুলো কাজে লাগিয়েছি।’ বলের জন্য অপেক্ষা! এই অপেক্ষার শিক্ষাই তো ছোট থেকে তিনি পেয়েছেন। ফুল বিক্রেতা মা, মাঠকর্মী বাবা, স্কুলের দলের কোচ, কঠিন সময়ে পাশে থাকা সংস্থার কাছে অপেক্ষার শিক্ষা পেয়েছেন। ক্রিকেট বিশ্বের নজরে পড়ার অপেক্ষা তো তিনি এত বছর ধরে করছেন। তার কাছে খারাপ বলের অপেক্ষা আর কী কঠিন।
গতকাল সোমবার পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে শতরানের পরেও বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখাননি তিনি। দু’দিকে হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছেন। একবার আকাশের দিকে তাকিয়েছেন। তাকে ঘিরে তখন গোটা মাঠে উল্লাসে মেতেছেন শ্রীলঙ্কার সমর্থকরা।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান নিসাঙ্কা। পিতা ক্রিকেট মাঠে কাজ করতেন। তবে সেই মাঠে খেলার সুযোগ তার ছেলের ছিল না। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, এক দিন তার ছেলেও ক্রিকেটার হবে। স্বামীর রোজগার কম হওয়ায় তাকে সাহায্য করতেন নিসাঙ্কার মাও। মন্দিরের বাইরে ফুল বিক্রি করতেন তিনি।