alt

উপ-সম্পাদকীয়

বাজেট কি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে

ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ

: শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১
image

করোনাকালে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট উপস্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী, এখন দেখার বিষয় যে এই ঘাটতির অর্থায়ন হবে কোন উৎস থেকে। ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ আসবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকে। এরপর বিদেশি ঋণ থেকে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশি অনুদান থেকে আসবে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের টাকা জোগাড় করতে অর্থমন্ত্রী দেশের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ধার করবেন। অন্য উৎস থেকে আসবে আরও ৫ হাজার ১ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় শেষের দিকে আশান্বিত করেছেন যে, ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে জিডিপির আকার ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই জিডিপি অর্জন করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখে নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দেয়ার কথা শুনিয়েছেন।

একটি বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদের পুনর্বণ্টন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা। এ লক্ষ্য পূরণে প্রতি অর্থবছরে বাজেটের আয়তন বাড়ছে। এবারের বাজেটে সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো। যদিও বিভিন্ন জায়গায় করের পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে। বাজেটে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রতিফলন ঘটেনি। দ্বিতীয় ঢেউ বিবেচনায় নিয়ে এই বাজেট করা হয়নি। পুরো বাজেট বক্তৃতায় মাত্র একবার দ্বিতীয় ঢেউ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তার তাৎপর্য, পরিণতি, অভিঘাত এসব নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। কয়েক বছরের পুরোনো তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, বাজেট বক্তৃতার তথ্য ও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ-এই তিনটির মধ্যে মিল নেই। এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান ও আয়। অথচ এই তিন ক্ষেত্রেই যা বলা হয়েছে তার মধ্যে অমনোযোগের ছাপ আছে। বলা হয়েছে, তিন বছরে বিদেশে ৭ লাখ করে মোট ২১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ৬ লাখ করে কর্মসংস্থান হবে। যুব প্রশিক্ষণের কথা আছে, কিন্তু কর্মসংস্থানের কথা নেই।

বাজেটে দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক নানা কর্মসূচি থাকলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য ক্রান্তিকাল অতিক্রমের জন্য কোন দিকনির্দেশনা নেই। কিন্তু অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরির নেপথ্যের এই কারিগরদের রক্ষা করা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সফল হবে না। মধ্যবিত্তরা সমাজকে টিকিয়ে রাখে। এই মাঝের স্তরটির অবক্ষয়ের অর্থ সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। এবারের বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য তেমন কোন সুখবর নেই। জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে আগের বছরের চেয়ে বরাদ্দ ১৩ শতাংশ বেড়েছে। নতুন করে ১৪ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। নগর দরিদ্রসহ আড়াই কোটি নতুন দরিদ্রের জন্য তা নিতান্তই অপ্রতুল। উপরন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের বেশিরভাগ অংশ সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদ প্রভৃতি পরিশোধে চলে যাবে। সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যোগ্য না হয়েও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা নেন ৪৬ শতাংশ সুবিধাভোগী।

জনসংখ্যার সঠিক ডেটাবেইস না থাকায় এবং অনিয়মের কারণে অনেকে যোগ্য হয়েও কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অতিমারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যবিত্তদের রক্ষা না করলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে। নানা টানাপড়েনে মধ্যবিত্ত সংকুচিত হয়ে আসছে এবং এই প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। করোনা মহামারিতে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত অনেকেই নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। এক শ্রেণীর হাতে প্রচুর অর্থ, আরেক শ্রেণী নিঃস্ব এই বৈষম্য কমানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতিতে নিম্নমধ্যবিত্তরা বিশাল অবদান রাখছে। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক সব খাতে তারা বড় ভূমিকা রাখছে। এসএমই খাতের মাধ্যমে আমাদের জিডিপির ২৫ শতাংশ তারাই অবদান রাখে। কিন্তু যেকোন ধরনের অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশাল এই জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত হয়। তারা কোন প্রভাবশালী গোষ্ঠী নয়। বাজেট প্রণয়নের সময় তাই তাদের পক্ষে বলার কেউ নেই। যারা উচ্চবিত্ত, বড় ব্যবসায়ী, তারা দর-কষাকষি করতে পারে, এমনকি তারা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আছে।

যারা নিম্নমধ্যবিত্ত ছিলেন, তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। এ মুহূর্তে তাদের অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দরকার। নতুন করে যারা দরিদ্র হয়েছেন, বাজেটে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের অবকাঠামো ও এডিপিতে বড় বড় আর্থিক খরচ হচ্ছে। ফলে আমাদের এই সময় মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচানো সম্ভব নয়। ফলে কিছু প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে অর্থ বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তথা সম্পদের সুষম বণ্টন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু এটি নিয়ে বাস্তব কোনো ধরনের প্রতিফলন দেখা যায় না। নিম্নমধ্যবিত্তদের বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ছোটখাটো ব্যবসায়ী। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হলে নগদ সহায়তার আওতায় আনতে হবে। সরকারের উচিত, তাদের প্রশাসনের মাধ্যমে জরিপ করে দেখা প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর কী পরিমাণ মানুষ চাকরি হারিয়েছে অথবা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা চাকরি হারিয়েছে, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার কোনো পদ্ধতি করা যায় কি না তা ভেবে দেখা দরকার সরকারের। তারা কোথাও হাত পাততে পারবে না। আর নিম্নমধ্যবিত্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলে তাদের পিকেএসএফ, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান, এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা যেতে পারে।

করোনায় বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। অনেকের কমে গেছে আয়। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের খাতে কিছু বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনার অভিঘাতে দারিদ্র্যের চিত্রে যে পরিবর্তন এসেছে শুধু এই কর্মসূচি দিয়ে তা মোকাবিলা করা যাবে না। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার যে কর্মসূচি সেটা মূলত গ্রামীণ দরিদ্রদের নিয়ে। নগর দরিদ্রদের নিয়ে কোন কর্মসূচি নাই। এই বাজেটে এই নগর দরিদ্রদের জন্য বড় সহযোগিতা দেয়া দরকার। নতুন দরিদ্র যারা তারা কিন্তু ৫ কেজি, ১০ কেজি চালের সহযোগিতা চাচ্ছে না। তারা দারিদ্র্যের ওপরে অবস্থান করছিল কিন্তু এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে, ওদের আর্থিক সহায়তা দরকার। সরকার গত বছর ক্ষতিগ্রস্তদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছিল। ৩৪ লাখ মানুষ সেই টাকা পেয়েছেন। শুধু পুরাতন দরিদ্র নয়, আবার, ২ কোটি ৪৫ লাখ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে, সবারই এমন সহযোগিতা দরকার।

বাজেট ও জিডিপির অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য খাতে গতবারের চেয়ে বরাদ্দ কমেছে। গত বাজেটে জিডিপির অংশ হিসাবে বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এবার তা কমে জিডিপির দশমিক ৯৫ শতাংশ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ছাড়া জিডিপির অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে বাংলাদেশ সবার চেয়ে পিছিয়ে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঠামোর পরিকল্পনা বাজেটে নেই। স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় বেড়ে চললেও কমানোর কোন দিকনির্দেশনা নাই। যদিও টিকা ক্রয়ের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তা থেকে অধিকাংশ মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব নয়। শিক্ষা খাতে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও বাজেটের অংশ এবং জিডিপির অংশ হিসাবে গতবারের চেয়ে বরাদ্দ কমেছে। জিডিপি ও বাজেটের অংশ হিসাবে গেল অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ২৪ এবং ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ। কিন্তু তা এবার নেমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৯২ শতাংশে। শিক্ষা খাতের ব্যাপক ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, তা নিয়ে বাজেটে কার্যকর পথনির্দেশ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাক্সিক্ষত বরাদ্দ দেয়া হয়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। করোনাকালে জনগণের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো দরকার ছিল। ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। আগের মতো ৩ লক্ষ টাকা করমুক্ত রাখা হয়েছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

এবারের বাজেটে জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে সরকার বলছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালে হবে না, অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। করোনার কারণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, বৈষম্য নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ ও বাজেটের ঘাটতি দূরীকরণে সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনসহ উদারতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আস্থার শক্তিতে বলীয়ান হতে পারলে সঠিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনার হাল ধরাই বড় কথা। দক্ষ পরিচালনার নীতি প্রয়োগে সব কাজেই সফলতা আসে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু হবে না। অতএব হাজার চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করে করোনাকালের এ বাজেট দেশকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

[লেখক : সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]

ছবি

সূর্যডিম

বাজেটে উপেক্ষিত আদিবাসীরা

ছবি

কোভিড-১৯ : ভ্যাকসিন তৈরি ও কর্মকৌশল

বাজেট ২০২১-২২

শিক্ষকদের বোবাকান্না

ছবি

তাদের আমি খুঁজে বেড়াই

প্রান্তিক শিশুর মনোসামাজিক অবস্থা

শিক্ষা বাজেট : সংকট ও সম্ভাবনা

চোখ রাঙাচ্ছে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

উদ্যোক্তা উন্নয়নে চাই সামগ্রিক পরিকল্পনা

মাশরুম প্রকল্প কার জন্য?

হাফিজ হয়তো আগেই চলে গেছে

বনাখলা ও আগার খাসিপুঞ্জির ন্যায়বিচার

খাদেম ভিসা ও কিছু কথা

ব্যাংক ঋণ চাই

বাজেট কি গণমুখী

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব

ছবি

ডায়ানার সাক্ষাৎকার বিতর্ক : ঘটনা ও তদন্ত

পান গাছ না থাকলে খাসিয়ারা বাঁচবে কী করে

ছবি

ছয় দফা : জাতির মুক্তিসনদ

ডায়ানার সাক্ষাৎকার বিতর্ক : ঘটনা ও তদন্ত

মধ্যবিত্তবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়ন কৌশল

ছবি

ইসরায়েলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা জরুরি

ছবি

ডায়ানার সাক্ষাৎকার বিতর্ক : ঘটনা ও তদন্ত

তিস্তার ডান তীরের মঙ্গা

বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার

ডায়ানার সাক্ষাৎকার বিতর্ক : ঘটনা ও তদন্ত

ছবি

দেশের চা শিল্পে অগ্রযাত্রা

ছবি

কৃষকের চেয়েও বেশি লাভবান হচ্ছে ব্যবসায়ী ও মিলমালিক

ছবি

ডায়ানার সাক্ষাৎকার বিতর্ক : ঘটনা ও তদন্ত

সাংবাদিক নির্যাতন ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ

বাজেট : সেই পুরোনো প্রতিশ্রুতি

ভূমিকম্প : দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে

বৈশ্বিক মহামারীতে সম্প্রীতির শিক্ষা

রোজিনার মুক্তি : যেতে হবে আরও অনেক পথ

tab

উপ-সম্পাদকীয়

বাজেট কি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে

ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ

image

শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

করোনাকালে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট উপস্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী, এখন দেখার বিষয় যে এই ঘাটতির অর্থায়ন হবে কোন উৎস থেকে। ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ আসবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকে। এরপর বিদেশি ঋণ থেকে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশি অনুদান থেকে আসবে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের টাকা জোগাড় করতে অর্থমন্ত্রী দেশের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ধার করবেন। অন্য উৎস থেকে আসবে আরও ৫ হাজার ১ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় শেষের দিকে আশান্বিত করেছেন যে, ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে জিডিপির আকার ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই জিডিপি অর্জন করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখে নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দেয়ার কথা শুনিয়েছেন।

একটি বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদের পুনর্বণ্টন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা। এ লক্ষ্য পূরণে প্রতি অর্থবছরে বাজেটের আয়তন বাড়ছে। এবারের বাজেটে সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো। যদিও বিভিন্ন জায়গায় করের পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে। বাজেটে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রতিফলন ঘটেনি। দ্বিতীয় ঢেউ বিবেচনায় নিয়ে এই বাজেট করা হয়নি। পুরো বাজেট বক্তৃতায় মাত্র একবার দ্বিতীয় ঢেউ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তার তাৎপর্য, পরিণতি, অভিঘাত এসব নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। কয়েক বছরের পুরোনো তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, বাজেট বক্তৃতার তথ্য ও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ-এই তিনটির মধ্যে মিল নেই। এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান ও আয়। অথচ এই তিন ক্ষেত্রেই যা বলা হয়েছে তার মধ্যে অমনোযোগের ছাপ আছে। বলা হয়েছে, তিন বছরে বিদেশে ৭ লাখ করে মোট ২১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ৬ লাখ করে কর্মসংস্থান হবে। যুব প্রশিক্ষণের কথা আছে, কিন্তু কর্মসংস্থানের কথা নেই।

বাজেটে দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক নানা কর্মসূচি থাকলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য ক্রান্তিকাল অতিক্রমের জন্য কোন দিকনির্দেশনা নেই। কিন্তু অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরির নেপথ্যের এই কারিগরদের রক্ষা করা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সফল হবে না। মধ্যবিত্তরা সমাজকে টিকিয়ে রাখে। এই মাঝের স্তরটির অবক্ষয়ের অর্থ সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। এবারের বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য তেমন কোন সুখবর নেই। জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে আগের বছরের চেয়ে বরাদ্দ ১৩ শতাংশ বেড়েছে। নতুন করে ১৪ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। নগর দরিদ্রসহ আড়াই কোটি নতুন দরিদ্রের জন্য তা নিতান্তই অপ্রতুল। উপরন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের বেশিরভাগ অংশ সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদ প্রভৃতি পরিশোধে চলে যাবে। সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যোগ্য না হয়েও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা নেন ৪৬ শতাংশ সুবিধাভোগী।

জনসংখ্যার সঠিক ডেটাবেইস না থাকায় এবং অনিয়মের কারণে অনেকে যোগ্য হয়েও কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অতিমারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যবিত্তদের রক্ষা না করলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে। নানা টানাপড়েনে মধ্যবিত্ত সংকুচিত হয়ে আসছে এবং এই প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। করোনা মহামারিতে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত অনেকেই নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। এক শ্রেণীর হাতে প্রচুর অর্থ, আরেক শ্রেণী নিঃস্ব এই বৈষম্য কমানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতিতে নিম্নমধ্যবিত্তরা বিশাল অবদান রাখছে। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক সব খাতে তারা বড় ভূমিকা রাখছে। এসএমই খাতের মাধ্যমে আমাদের জিডিপির ২৫ শতাংশ তারাই অবদান রাখে। কিন্তু যেকোন ধরনের অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশাল এই জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত হয়। তারা কোন প্রভাবশালী গোষ্ঠী নয়। বাজেট প্রণয়নের সময় তাই তাদের পক্ষে বলার কেউ নেই। যারা উচ্চবিত্ত, বড় ব্যবসায়ী, তারা দর-কষাকষি করতে পারে, এমনকি তারা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আছে।

যারা নিম্নমধ্যবিত্ত ছিলেন, তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। এ মুহূর্তে তাদের অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দরকার। নতুন করে যারা দরিদ্র হয়েছেন, বাজেটে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের অবকাঠামো ও এডিপিতে বড় বড় আর্থিক খরচ হচ্ছে। ফলে আমাদের এই সময় মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচানো সম্ভব নয়। ফলে কিছু প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে অর্থ বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তথা সম্পদের সুষম বণ্টন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু এটি নিয়ে বাস্তব কোনো ধরনের প্রতিফলন দেখা যায় না। নিম্নমধ্যবিত্তদের বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ছোটখাটো ব্যবসায়ী। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হলে নগদ সহায়তার আওতায় আনতে হবে। সরকারের উচিত, তাদের প্রশাসনের মাধ্যমে জরিপ করে দেখা প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর কী পরিমাণ মানুষ চাকরি হারিয়েছে অথবা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা চাকরি হারিয়েছে, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার কোনো পদ্ধতি করা যায় কি না তা ভেবে দেখা দরকার সরকারের। তারা কোথাও হাত পাততে পারবে না। আর নিম্নমধ্যবিত্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলে তাদের পিকেএসএফ, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান, এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা যেতে পারে।

করোনায় বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। অনেকের কমে গেছে আয়। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের খাতে কিছু বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনার অভিঘাতে দারিদ্র্যের চিত্রে যে পরিবর্তন এসেছে শুধু এই কর্মসূচি দিয়ে তা মোকাবিলা করা যাবে না। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার যে কর্মসূচি সেটা মূলত গ্রামীণ দরিদ্রদের নিয়ে। নগর দরিদ্রদের নিয়ে কোন কর্মসূচি নাই। এই বাজেটে এই নগর দরিদ্রদের জন্য বড় সহযোগিতা দেয়া দরকার। নতুন দরিদ্র যারা তারা কিন্তু ৫ কেজি, ১০ কেজি চালের সহযোগিতা চাচ্ছে না। তারা দারিদ্র্যের ওপরে অবস্থান করছিল কিন্তু এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে, ওদের আর্থিক সহায়তা দরকার। সরকার গত বছর ক্ষতিগ্রস্তদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছিল। ৩৪ লাখ মানুষ সেই টাকা পেয়েছেন। শুধু পুরাতন দরিদ্র নয়, আবার, ২ কোটি ৪৫ লাখ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে, সবারই এমন সহযোগিতা দরকার।

বাজেট ও জিডিপির অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য খাতে গতবারের চেয়ে বরাদ্দ কমেছে। গত বাজেটে জিডিপির অংশ হিসাবে বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এবার তা কমে জিডিপির দশমিক ৯৫ শতাংশ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ছাড়া জিডিপির অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে বাংলাদেশ সবার চেয়ে পিছিয়ে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঠামোর পরিকল্পনা বাজেটে নেই। স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় বেড়ে চললেও কমানোর কোন দিকনির্দেশনা নাই। যদিও টিকা ক্রয়ের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তা থেকে অধিকাংশ মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব নয়। শিক্ষা খাতে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও বাজেটের অংশ এবং জিডিপির অংশ হিসাবে গতবারের চেয়ে বরাদ্দ কমেছে। জিডিপি ও বাজেটের অংশ হিসাবে গেল অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ২৪ এবং ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ। কিন্তু তা এবার নেমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৯২ শতাংশে। শিক্ষা খাতের ব্যাপক ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, তা নিয়ে বাজেটে কার্যকর পথনির্দেশ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাক্সিক্ষত বরাদ্দ দেয়া হয়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। করোনাকালে জনগণের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো দরকার ছিল। ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। আগের মতো ৩ লক্ষ টাকা করমুক্ত রাখা হয়েছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

এবারের বাজেটে জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে সরকার বলছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালে হবে না, অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। করোনার কারণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, বৈষম্য নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ ও বাজেটের ঘাটতি দূরীকরণে সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনসহ উদারতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আস্থার শক্তিতে বলীয়ান হতে পারলে সঠিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনার হাল ধরাই বড় কথা। দক্ষ পরিচালনার নীতি প্রয়োগে সব কাজেই সফলতা আসে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু হবে না। অতএব হাজার চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করে করোনাকালের এ বাজেট দেশকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

[লেখক : সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]

back to top