alt

উপ-সম্পাদকীয়

পরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার

এস এম জাহাঙ্গীর আলম

: শনিবার, ০৬ আগস্ট ২০২২
image

সরকারের যদি জানা না থাকে কোন পরিবহন কী জ্বালানিতে চলছে, তবে জ্বালানি পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়

বিআরটির হিসাবে বর্তমানে জ্বালনি ভিত্তি যানবাহনের (মোটরযানের সংখ্যা) ৫৩ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬টি। ২০১০ সালে ছিল ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৮টি। জ্বালানিভিত্তিক যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিআরটির হিসাবে প্রাইভেটকার হচ্ছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৩টি আর জিপের সংখ্যা হচ্ছে ৭৮ হাজার ৮৯টি। বাস ৫০ হাজার ৬৮৮টি। মিনিবাসের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৩৮টি। বাকিগুলো অন্যান্য। জিপ ও কারের মধ্যে বড় অংশই হচ্ছে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের।

এসব গাড়ি অফিসের কাজের চেয়ে বেশি সময় ব্যবহার হয় ব্যক্তিগত কাজে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে-কলেজে আনা নেয়া, মাকেটিং আর কাঁচাবাজার করার সময়েই বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয়। এতে জ্বালানি ব্যয় বেশি। সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলেছেন। এ লক্ষ্যে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত গাড়ি যেন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে নজর দেয়া দরকার। দেখা যাক জ্বালানি ব্যবহারের পরিস্থিতি। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়েছে ৬২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩০ টন। এর মধ্যে যোগাযোগ বা পরিবহন খাতে ব্যবহার হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৫ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

শুধু গত অর্থবছরই নয়, বিগত চার অর্থবছরে সারা দেশে জ্বালানি ব্যবহারের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। সম্প্রতি গণপরিবহনের জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য জানতে চেয়ে সুপারিশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবহারকৃত জ্বালানির মধ্যে ডিজেল ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৩ টন, অকটেন ৩ লাখ ৮৮৯, পেট্রোল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯ এবং অন্যান্য ৩ লাখ ২৩ হাজার ১০৪ টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ৩৮ হাজার ৫১১ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৫১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৪ লাখ ৩২ হাজার ২৩৯ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৪৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৭ লাখ ১০ হাজার ২১১ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৫৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৯ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের সব যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস বা চলাচলে অনুমতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে সংরক্ষিত থাকে।

ডিজেল, পেট্রোল বা গ্যাসচালিত গণপরিবহনের সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে নিবন্ধিত গণপরিবহনের সংখ্য ৪৯ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫৩টি। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ২০ ধরনের যানবাহনের চলাচলের অনুমতি আছে। তবে এসব যানবাহনে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হয় তার কোন সঠিক তথ্য সংরক্ষিত নেই। জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সম্প্রতি ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সিএনজিচালিত বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে যাত্রী ও বাস মালিকরা পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। গত ২২ নভেম্বর ২০২১ তারিখে জ্বালানি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরিবহনে জ্বালানি ব্যবহারের ধরন চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিভাগের বৈঠকেও আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতে একটি জরিপ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানা যায়, পরিবহনে ডিজেল ছাড়াও সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন, অটোগ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেনচালিত কিছু গাড়ি জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা ভেবে অটোগ্যাসে রূপান্তর করছে। আবার সিএনজি দিয়ে যেসব গাড়ি চালানো যায়, সেগুলোও অটোগ্যাসে রূপান্তর করা হচ্ছে। দেশে যে পরিমাণ ডিজেল প্রতি বছর আমদানি করা হয় তার বেশির ভাগই পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

ফলে সরকারের যদি জানা না থাকে কোন পরিবহন কী জ্বালানিতে চলছে, তবে জ্বালানি পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এতে কোনো জ্বালানির আধিক্য সৃষ্টি হতে পারে, আবার সংকটও হতে পারে। ফলে জ্বালানি ব্যবহারের ভিত্তিতে পরিবহনের জরিপ জরুরি। জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ গণপরিবহন খাতে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হয়, সে বিষয়টির বিশদ জানাতে কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহার এতটাই বেড়ছে যে, গোটা জ্বালানি খাতকে ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এখাতে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ করাও অনেকটা অসম্ভব বটে। তারপরও এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

[লেখক : সাবেক কর কমিশনার]

সামাজিক সংঘের ভূমিকা

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ

আলোর ভেতর যত কালো

বাড়াতে হবে খাদ্য উৎপাদন

সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ও যুদ্ধবিরোধিতার গুরুত্ব

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি : কৃষিপণ্যে প্রভাব

সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় ইসি কতটা সক্ষম

ছবি

সোশ্যাল মিডিয়া কি একাকিত্ব ও অহংবোধ বাড়িয়ে দিচ্ছে?

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

আদিবাসী বিতর্ক

অনগ্রসর আদিবাসী জাতি

সাক্ষরতা ও শিক্ষা

সম্প্রীতির বাঁধন কি আলগা হয়ে আসছে?

অর্থনৈতিক সংকট : মুক্তি কোন পথে

গাড়িতে চাই শিশু আসন

ডলার সংকটের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও উত্তরণের উপায়

বিশ্ব মন্দায় বাংলাদেশের শক্তি

দাগ তো চেহারার, আয়না মুছে কি হবে

টেকসই উন্নয়নে সাশ্রয়ী দৃষ্টিভঙ্গি

ছবি

ডলার সংকটের শেষ কোথায়?

পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধ

মানব পাচারে প্রযুক্তির অপব্যবহার

ছবি

বাংলাদেশের কেন শ্রীলঙ্কা হওয়ার আশঙ্কা কম

শিক্ষকের মর্যাদা

ধেয়ে আসছে বৈশ্বিক ঋণসংকট, শ্রীলঙ্কাতেই শেষ নয়

সব ফিউজ বাল্বের মূল্য সমান

মাঙ্কিপক্সে আতঙ্ক নয়

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট : বাংলাদেশের উপায় কী

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

ছবি

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে

কাগজ সংকট সভ্যতারও সংকট

শিশুদের পঠনদক্ষতা বাড়াতে পারে ‘ডাকপড়া’

অর্থনীতির সংকট কাটবে কীভাবে?

ছবি

পারিসার সাহস

সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় অনুভূতি

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের সংস্কৃতি

tab

উপ-সম্পাদকীয়

পরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার

এস এম জাহাঙ্গীর আলম

image

সরকারের যদি জানা না থাকে কোন পরিবহন কী জ্বালানিতে চলছে, তবে জ্বালানি পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়

শনিবার, ০৬ আগস্ট ২০২২

বিআরটির হিসাবে বর্তমানে জ্বালনি ভিত্তি যানবাহনের (মোটরযানের সংখ্যা) ৫৩ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬টি। ২০১০ সালে ছিল ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৮টি। জ্বালানিভিত্তিক যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিআরটির হিসাবে প্রাইভেটকার হচ্ছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৩টি আর জিপের সংখ্যা হচ্ছে ৭৮ হাজার ৮৯টি। বাস ৫০ হাজার ৬৮৮টি। মিনিবাসের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৩৮টি। বাকিগুলো অন্যান্য। জিপ ও কারের মধ্যে বড় অংশই হচ্ছে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের।

এসব গাড়ি অফিসের কাজের চেয়ে বেশি সময় ব্যবহার হয় ব্যক্তিগত কাজে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে-কলেজে আনা নেয়া, মাকেটিং আর কাঁচাবাজার করার সময়েই বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয়। এতে জ্বালানি ব্যয় বেশি। সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলেছেন। এ লক্ষ্যে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত গাড়ি যেন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে নজর দেয়া দরকার। দেখা যাক জ্বালানি ব্যবহারের পরিস্থিতি। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়েছে ৬২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩০ টন। এর মধ্যে যোগাযোগ বা পরিবহন খাতে ব্যবহার হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৫ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

শুধু গত অর্থবছরই নয়, বিগত চার অর্থবছরে সারা দেশে জ্বালানি ব্যবহারের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। সম্প্রতি গণপরিবহনের জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য জানতে চেয়ে সুপারিশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবহারকৃত জ্বালানির মধ্যে ডিজেল ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৩ টন, অকটেন ৩ লাখ ৮৮৯, পেট্রোল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯ এবং অন্যান্য ৩ লাখ ২৩ হাজার ১০৪ টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ৩৮ হাজার ৫১১ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৫১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৪ লাখ ৩২ হাজার ২৩৯ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৪৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৭ লাখ ১০ হাজার ২১১ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৫৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৯ টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের সব যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস বা চলাচলে অনুমতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে সংরক্ষিত থাকে।

ডিজেল, পেট্রোল বা গ্যাসচালিত গণপরিবহনের সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে নিবন্ধিত গণপরিবহনের সংখ্য ৪৯ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫৩টি। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ২০ ধরনের যানবাহনের চলাচলের অনুমতি আছে। তবে এসব যানবাহনে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হয় তার কোন সঠিক তথ্য সংরক্ষিত নেই। জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সম্প্রতি ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সিএনজিচালিত বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে যাত্রী ও বাস মালিকরা পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। গত ২২ নভেম্বর ২০২১ তারিখে জ্বালানি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরিবহনে জ্বালানি ব্যবহারের ধরন চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিভাগের বৈঠকেও আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতে একটি জরিপ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানা যায়, পরিবহনে ডিজেল ছাড়াও সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন, অটোগ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেনচালিত কিছু গাড়ি জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা ভেবে অটোগ্যাসে রূপান্তর করছে। আবার সিএনজি দিয়ে যেসব গাড়ি চালানো যায়, সেগুলোও অটোগ্যাসে রূপান্তর করা হচ্ছে। দেশে যে পরিমাণ ডিজেল প্রতি বছর আমদানি করা হয় তার বেশির ভাগই পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

ফলে সরকারের যদি জানা না থাকে কোন পরিবহন কী জ্বালানিতে চলছে, তবে জ্বালানি পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এতে কোনো জ্বালানির আধিক্য সৃষ্টি হতে পারে, আবার সংকটও হতে পারে। ফলে জ্বালানি ব্যবহারের ভিত্তিতে পরিবহনের জরিপ জরুরি। জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ গণপরিবহন খাতে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হয়, সে বিষয়টির বিশদ জানাতে কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহার এতটাই বেড়ছে যে, গোটা জ্বালানি খাতকে ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এখাতে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ করাও অনেকটা অসম্ভব বটে। তারপরও এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

[লেখক : সাবেক কর কমিশনার]

back to top