চায়ের উৎপাদন মৌসুম শুরু, মৌলভীবাজারে লক্ষ্যমাত্রা ১০৩ মিলিয়ন কেজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বছরজুড়েই মাঠে থাকবেন চা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা
মৌলভীবাজারের একটি বাগানে চা পাতা তুলছেন শ্রমিকরা -সংবাদ
চা বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে উৎপাদন মৌসুম। ৩ মাস বন্ধ থাকার পর চা বাগানে গাছে গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি বাগানে শুরু হয়েছে চা পাতা উত্তোলন।
গত বছরে দেশে চায়ের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন এর আশা করেছেন চা বিজ্ঞানীরা। এ জন্য চা বোর্ড থেকে বছর জুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে পরিকল্পনা। ২০২৫ সালে চায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ মিলিয়ন কেজি।
২০২৩ সালে ১০৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। আর ২০২৪ সালে হয় ৯৩ মিলিয়ন কেজি। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১০% কম ছিল। দেশে নিবন্ধনকৃত চা বাগান রয়েছে ১৬৮টি। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে রয়েছে ক্ষুদ্রায়িত অনেকগুলো চা বাগান। পঞ্চগড় ও দেশের ১৬৮টি চা বাগান মিলিয়ে ২০২৫ এর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ মিলিয়ন কেজি।
প্রকৃতি নির্ভর একটি কৃষিজ পণ্য চা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চায়ের উৎপাদনও ভালো হয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিমিত বৃষ্টি ও সূর্য কিরণ। মার্চের শুরুতে কিছু বৃষ্টি হওয়াতে ছাঁটাই করা চা গাছে আসতে শুরু করেছে নতুন কুঁড়ি। বেশ কিছু বাগানে শ্রমিকরা শুরু করেছেন পাতা তোলা।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির পদ্মছড়া চা বাগানের শ্রমিক লক্ষি চাষা ও পূর্ণিমা জানান, দুই মাসের ওপরে পাতা তোলা বন্ধ ছিল। এখন গাছের মুখ খুলছে। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই গাছের ওপরের অংশে সবুজ ঝাড় বাঁধা শেষ হবে (টিপিং) এরপর তারা পাতা তুলবেন। এখন চলছে টেপিং (ঝুপ বাঁধা) এর কাজ। একই বাগানের বিজয়া গোয়ালা ও মাধবী চাষা জানান, বাগানের ম্যানেজম্যান্ট ও শ্রমিক সবাই মিলে পূজার্চনার মধ্যদিয়ে তারা পাতা তোলা শুরু করেছেন।
মাধবপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক তাপস কুন্ড জানান, চায়ের জন্য বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রকৃতির ওপরও নির্ভর করতে হয়। চায়ের জন্য মূলত: প্রয়োজন পরিমিত বৃষ্টিপাত ও সূর্যের আলো। অনেক জায়গায় ইরিগেশন পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া বর্ষায় যদি অতি বৃষ্টি হয় তাও চায়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার প্রচ- তাপ দাহ হলে তাও ক্ষতিকর। যে কারণে কিছুটা প্রকৃতির ওপর তো নির্ভর করতেই হয়।
শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের জিএম সেলিম রেজা জানান, পাতা তোলার শুভ সূচনায় করা হয়েছে দোয়া মিলাদ মাহফিল ও পূজার্চনা। বাগানে পাতা চয়নের কাজ শুরু হওয়ায় ফিরছে প্রাণচাঞ্চলতা।
বাংলাদেশীয় চা সংসদ সিলেট অঞ্চলের ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান গোলাম মো. শিবলী জানান, খরা চায়ের বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। খরার সময় বৃষ্টি পাওয়া যায় না। এতে গাছ মরে যায়, দেখা দেয় বিভিন্ন রোগবালাই। এই সময়ে চা সংশ্লিষ্টদের খুব সর্তক থাকতে হয়। একটি চা গাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবাইকে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। কারণ এক একটি চা গাছ এক একজন চা শ্রমিক, ম্যানেজার ও স্টাফদের জীবন।
শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক ও ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিচালক মো. মহসীন মিয়া মধু জানান, তিনি তার বাগানের চা গাছগুলোকে সন্তানের মতো পালন করেন। এর জন্য তার বাগানে হেক্টর প্রতি উৎপাদন আশাব্যাঞ্জক। মার্চের শুরুতেই তার বাগানে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানান মহসীন মিয়া মধু।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইসমাইল হোসেন জানান, চা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে চা গবেষণা কেন্দ্রের সব কর্মকর্তা এখন মাঠে কাজ করছেন। এখন চা গাছ মুখ খুলতে শুরু করেছে। কাক্সিক্ষত লক্ষমাত্রা অর্জনে বছর জুড়েই তারা মাঠে থাকবেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন জানান, পানির পর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হচ্ছে চা। এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। সংগত কারণেই এই ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগতমান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এর জন্য চা বোর্ড থেকে বছর জুড়ে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাগানগুলোতে টেকনিক্যাল সাপোর্ট, সঠিক সময়ে যেন বাগানে সার পৌঁছায় তা লক্ষ্য রাখা, বাগানে বাগানে হাতে-কলমে আধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া, চা বিজ্ঞানী ও উন্নয়ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের বাগানগুলোর দিকে নিবির পর্যবেক্ষণে রাখাসহ বছর জুড়ে অনেকগুলো পরিকল্পনা রয়েছে।
চায়ের উৎপাদন মৌসুম শুরু, মৌলভীবাজারে লক্ষ্যমাত্রা ১০৩ মিলিয়ন কেজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বছরজুড়েই মাঠে থাকবেন চা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা
মৌলভীবাজারের একটি বাগানে চা পাতা তুলছেন শ্রমিকরা -সংবাদ
সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
চা বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে উৎপাদন মৌসুম। ৩ মাস বন্ধ থাকার পর চা বাগানে গাছে গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি বাগানে শুরু হয়েছে চা পাতা উত্তোলন।
গত বছরে দেশে চায়ের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন এর আশা করেছেন চা বিজ্ঞানীরা। এ জন্য চা বোর্ড থেকে বছর জুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে পরিকল্পনা। ২০২৫ সালে চায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ মিলিয়ন কেজি।
২০২৩ সালে ১০৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। আর ২০২৪ সালে হয় ৯৩ মিলিয়ন কেজি। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১০% কম ছিল। দেশে নিবন্ধনকৃত চা বাগান রয়েছে ১৬৮টি। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে রয়েছে ক্ষুদ্রায়িত অনেকগুলো চা বাগান। পঞ্চগড় ও দেশের ১৬৮টি চা বাগান মিলিয়ে ২০২৫ এর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ মিলিয়ন কেজি।
প্রকৃতি নির্ভর একটি কৃষিজ পণ্য চা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চায়ের উৎপাদনও ভালো হয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিমিত বৃষ্টি ও সূর্য কিরণ। মার্চের শুরুতে কিছু বৃষ্টি হওয়াতে ছাঁটাই করা চা গাছে আসতে শুরু করেছে নতুন কুঁড়ি। বেশ কিছু বাগানে শ্রমিকরা শুরু করেছেন পাতা তোলা।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির পদ্মছড়া চা বাগানের শ্রমিক লক্ষি চাষা ও পূর্ণিমা জানান, দুই মাসের ওপরে পাতা তোলা বন্ধ ছিল। এখন গাছের মুখ খুলছে। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই গাছের ওপরের অংশে সবুজ ঝাড় বাঁধা শেষ হবে (টিপিং) এরপর তারা পাতা তুলবেন। এখন চলছে টেপিং (ঝুপ বাঁধা) এর কাজ। একই বাগানের বিজয়া গোয়ালা ও মাধবী চাষা জানান, বাগানের ম্যানেজম্যান্ট ও শ্রমিক সবাই মিলে পূজার্চনার মধ্যদিয়ে তারা পাতা তোলা শুরু করেছেন।
মাধবপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক তাপস কুন্ড জানান, চায়ের জন্য বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রকৃতির ওপরও নির্ভর করতে হয়। চায়ের জন্য মূলত: প্রয়োজন পরিমিত বৃষ্টিপাত ও সূর্যের আলো। অনেক জায়গায় ইরিগেশন পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া বর্ষায় যদি অতি বৃষ্টি হয় তাও চায়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার প্রচ- তাপ দাহ হলে তাও ক্ষতিকর। যে কারণে কিছুটা প্রকৃতির ওপর তো নির্ভর করতেই হয়।
শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের জিএম সেলিম রেজা জানান, পাতা তোলার শুভ সূচনায় করা হয়েছে দোয়া মিলাদ মাহফিল ও পূজার্চনা। বাগানে পাতা চয়নের কাজ শুরু হওয়ায় ফিরছে প্রাণচাঞ্চলতা।
বাংলাদেশীয় চা সংসদ সিলেট অঞ্চলের ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান গোলাম মো. শিবলী জানান, খরা চায়ের বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। খরার সময় বৃষ্টি পাওয়া যায় না। এতে গাছ মরে যায়, দেখা দেয় বিভিন্ন রোগবালাই। এই সময়ে চা সংশ্লিষ্টদের খুব সর্তক থাকতে হয়। একটি চা গাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবাইকে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। কারণ এক একটি চা গাছ এক একজন চা শ্রমিক, ম্যানেজার ও স্টাফদের জীবন।
শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক ও ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিচালক মো. মহসীন মিয়া মধু জানান, তিনি তার বাগানের চা গাছগুলোকে সন্তানের মতো পালন করেন। এর জন্য তার বাগানে হেক্টর প্রতি উৎপাদন আশাব্যাঞ্জক। মার্চের শুরুতেই তার বাগানে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানান মহসীন মিয়া মধু।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইসমাইল হোসেন জানান, চা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে চা গবেষণা কেন্দ্রের সব কর্মকর্তা এখন মাঠে কাজ করছেন। এখন চা গাছ মুখ খুলতে শুরু করেছে। কাক্সিক্ষত লক্ষমাত্রা অর্জনে বছর জুড়েই তারা মাঠে থাকবেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন জানান, পানির পর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হচ্ছে চা। এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। সংগত কারণেই এই ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগতমান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এর জন্য চা বোর্ড থেকে বছর জুড়ে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাগানগুলোতে টেকনিক্যাল সাপোর্ট, সঠিক সময়ে যেন বাগানে সার পৌঁছায় তা লক্ষ্য রাখা, বাগানে বাগানে হাতে-কলমে আধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া, চা বিজ্ঞানী ও উন্নয়ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের বাগানগুলোর দিকে নিবির পর্যবেক্ষণে রাখাসহ বছর জুড়ে অনেকগুলো পরিকল্পনা রয়েছে।