পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘যদি ওসি-এসআইদের মধ্যে এই আশঙ্কা থাকে যে এনসিপি বা বড় রাজনৈতিক দলগুলো ডিসটার্ব করবে বা ডিকটেট করবে, তাহলে নির্বাচন সামলানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।’ এজন্য তিনি সব রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
শনিবার, (১০ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে রংপুর বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন আইজিপি।
তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলছি সহযোগিতা না পেলে আমরা নির্বাচন করতে পারব না। আইনগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে মানুষ ভুল বোঝে। ৫ আগস্টের পরের পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে প্রশ্ন ওঠে, কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কেন রাস্তা বন্ধ করে সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ঠিক না হলে নির্বাচন পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে।’
আইজিপি বলেন, এসব বিষয় তিনি সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও তুলে ধরেছেন, যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। ‘আমি সেখানে বলেছি, আপনাদের জায়গা থেকে আমাদের সমর্থন ও গ্রিন সিগন্যাল দিতে হবে, যাতে আমরা নির্ভয়ে ও বাধাহীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। যদি রাজনৈতিক চাপের আশঙ্কা থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ে আমরা সফল হতে পারব না। আমরা ফ্রি হ্যান্ড চাই। যদি কোনো অন্যায় হয়, অবশ্যই আমাদের ধরবেন।’
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশের নানা প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ইতিহাসে এবারই প্রথম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীকে ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। গত ১৫ বছরে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক পুলিশ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। এ কারণে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার সদস্য প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। চলতি মাসের ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দেশের সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলো সিসিটিভির আওতায় আসবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ৮ হাজার এবং মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্রসহ মোট ২৪ হাজার পুলিশ সদস্যকে বডি অন ক্যামেরা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপাররা এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
আইজিপি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। শুধু পুলিশ নয়, আমাদের সঙ্গে সারাদেশে প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’
গত ১৫ বছরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একসময় পুলিশ বাহিনী দলীয়করণে জড়িয়ে পড়েছিল। অনেক গণবিরোধী কাজ হয়েছে। জুলাই-আগস্টে এর ফলস্বরূপ অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিছু দলকানা পুলিশ সদস্যের কারণে বাহিনীর ওপর যে দায়ভার এসেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, মনোবল ফিরিয়ে আনা— কাজে আমরা অনেকটা এগিয়েছি। শতভাগ সফল হয়েছি বলব না, তবে আমরা অনেক পথ অতিক্রম করেছি।’
ডেভিল হান্ট অপারেশন-২ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, এ অভিযান নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। কিছু রাজনৈতিক নেতা ও এমপি প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, তাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে পুলিশের চেষ্টা যতটা সম্ভব অবজেকটিভভাবে কাজ করা। ‘যারা ভোটারদের জন্য হুমকি, কিংবা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যাদের নাম ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছিল, তাদের নাম বাদ দেয়ার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।’
আইজিপি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল জোরদারে সবাই যেন সহযোগিতা করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং সফল হবে।
মতবিনিময় সভায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নগর-মহানগর: অপারেশন ডেভিল হান্টে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮