image

শাহরিয়ার কবিরকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান আন্তর্জাতিক সংস্থার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লেখক ও গবেষক শাহরিয়ার কবিরকে আটক রাখার ঘটনাকে মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হিসেবে দেখছে গণহত্যা প্রতিরোধ ও মানব নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ‘ল্যামকিন ইনস্টিটিউট’। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টাদের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বাংলাদেশের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করছে সংস্থাটি। বেলারুশভিত্তিক ল্যামকিন ইনস্টিটিউট শাহরিয়ার কবিরকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে ল্যামকিন ইনস্টিটিউট শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে আটক রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রক্রিয়াগত ‘অনিয়মের’ অভিযোগ করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে আটক করা হয় শাহরিয়ার কবিরকে। পরে জুলাই আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ল্যামকিন ইনস্টিটিউট তাদের বিবৃতিতে বলেছে, অন্যান্য মামলায় আটক থাকা অবস্থায়ই তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ট্রাইব্যুনালে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের একটি কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় হতাহতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

ল্যামকিন ইনস্টিটিউট বিবৃতিতে বলেছে, ১২ জানুয়ারি (আগামীকাল) এ মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে, সেদিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আসতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও আদালতগুলোর ‘আচরণ’ বিবেচনায় নিয়ে শাহরিয়ার কবিরের বিচার বাংলাদেশের সংবিধানের আইনি বিধান বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হবে, এমন প্রত্যাশা তাদের নেই।

সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হতে পারে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতে পারে। শাহরিয়ার কবিরকে ‘স্বাধীনতাবঞ্চিত’ করার পেছনে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তার দীর্ঘদিনের অবস্থান, ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চা ভূমিকা ও একাত্তরে ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনার যোগ রয়েছে। তাছাড়া তরুণদের মধ্যেও তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

একটি হত্যা মামলায় জামিন শুনানির প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ সরাসরি শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে এক ধর্মীয় নেতার টেলিভিশন বিতর্কের কথা তোলা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষ প্রকাশ্যেই জানায়, তার আটক মূলত কোনো ‘প্রমাণিত অপরাধমূলক কর্মকা-ের কারণে নয়’ বরং তার ‘রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই’।

ল্যামকিন ইনস্টিটিউট বলেছে, শাহরিয়ার কবির বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তাকে গ্রেপ্তারের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি এবং এরপর থেকে তাকে এমন পরিবেশে আটক রাখা হয়েছে, যা মানবিক আচরণের ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করে না। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটক অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণের আবেদনও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি