alt

মতামত » চিঠিপত্র

শব্দদূষণে অতিষ্ঠ শহরের জনজীবন

: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সকালে ঘুম ভাঙে পাখির কলকাকলিতে নয়, বরং যানবাহনের হর্ন, নির্মাণ কাজের ভারী যন্ত্রপাতির আওয়াজ আর মাইকের কর্কশ শব্দে। এটাই এখন ঢাকা শহরের বাস্তব চিত্র।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ দিন দিন একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে শব্দদূষণের মাত্রা অনেক বেশি। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হকারদের মাইকের ব্যবহার, নির্মাণ কাজের তীব্র শব্দ এবং যানবাহনের হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্ন।

হকাররা তাদের পণ্য বিক্রির জন্য মাইক ব্যবহার করে, যা অনেক সময় সহণীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। বাজার, বাসস্ট্যান্ড কিংবা আবাসিক এলাকাতেও তারা এই মাইক বাজায়। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষদের জন্য এটি চরম বিরক্তিকর এবং ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। স্কুল ও হাসপাতালের মতো জায়গাগুলোও এই শব্দদূষণের বাইরে নয়। এছাড়া যানবাহনের হর্ন, বিশেষত হাইড্রোলিক হর্ন, শব্দদূষণের আরেকটি বড় কারণ। হাইড্রোলিক হর্নের শব্দ এতটাই তীব্র যে তা শ্রবণশক্তি নষ্ট করার মতো ক্ষতি করতে পারে। ট্রাফিক জ্যামে চালকদের অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর প্রবণতা এই দূষণকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

এছাড়া শহরাঞ্চলে নির্মাণকাজের তীব্র শব্দ দিনরাত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। নির্মাণস্থলে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি, যেমন- ড্রিলিং মেশিন, কংক্রিট মিক্সার এবং ক্রেনের শব্দ খুবই উচ্চমাত্রার। এছাড়াও ইট-ভাঙা মেশিন এবং লোহার রড কাটার আওয়াজ আশপাশের পরিবেশকে দূষিত করে তোলে। অনেক সময় রাতেও এই কাজ চলতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় ধরে এই ধরনের তীব্র শব্দে থাকতে হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং অতিরিক্ত শব্দের কারণে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা এর অন্যতম ফলাফল।

এ সমস্যা সমাধানে কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। হাইড্রোলিক হর্ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, হকারদের মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণ স্থলে শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে। একমাত্র সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শব্দদূষণের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মাহাদিয়া মুতমাইন্না বিনতে আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

ভেজাল খেজুরগুড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ক্যাডারের প্রয়োজনীয়তা

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

tab

মতামত » চিঠিপত্র

শব্দদূষণে অতিষ্ঠ শহরের জনজীবন

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

সকালে ঘুম ভাঙে পাখির কলকাকলিতে নয়, বরং যানবাহনের হর্ন, নির্মাণ কাজের ভারী যন্ত্রপাতির আওয়াজ আর মাইকের কর্কশ শব্দে। এটাই এখন ঢাকা শহরের বাস্তব চিত্র।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ দিন দিন একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে শব্দদূষণের মাত্রা অনেক বেশি। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হকারদের মাইকের ব্যবহার, নির্মাণ কাজের তীব্র শব্দ এবং যানবাহনের হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্ন।

হকাররা তাদের পণ্য বিক্রির জন্য মাইক ব্যবহার করে, যা অনেক সময় সহণীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। বাজার, বাসস্ট্যান্ড কিংবা আবাসিক এলাকাতেও তারা এই মাইক বাজায়। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষদের জন্য এটি চরম বিরক্তিকর এবং ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। স্কুল ও হাসপাতালের মতো জায়গাগুলোও এই শব্দদূষণের বাইরে নয়। এছাড়া যানবাহনের হর্ন, বিশেষত হাইড্রোলিক হর্ন, শব্দদূষণের আরেকটি বড় কারণ। হাইড্রোলিক হর্নের শব্দ এতটাই তীব্র যে তা শ্রবণশক্তি নষ্ট করার মতো ক্ষতি করতে পারে। ট্রাফিক জ্যামে চালকদের অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর প্রবণতা এই দূষণকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

এছাড়া শহরাঞ্চলে নির্মাণকাজের তীব্র শব্দ দিনরাত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। নির্মাণস্থলে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি, যেমন- ড্রিলিং মেশিন, কংক্রিট মিক্সার এবং ক্রেনের শব্দ খুবই উচ্চমাত্রার। এছাড়াও ইট-ভাঙা মেশিন এবং লোহার রড কাটার আওয়াজ আশপাশের পরিবেশকে দূষিত করে তোলে। অনেক সময় রাতেও এই কাজ চলতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় ধরে এই ধরনের তীব্র শব্দে থাকতে হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং অতিরিক্ত শব্দের কারণে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা এর অন্যতম ফলাফল।

এ সমস্যা সমাধানে কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। হাইড্রোলিক হর্ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, হকারদের মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণ স্থলে শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে। একমাত্র সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শব্দদূষণের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মাহাদিয়া মুতমাইন্না বিনতে আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

back to top