মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
প্রতি বছর ব্রেইল দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার দায়িত্ব। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও তারা মেধা, মনন ও আত্মশক্তিতে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। তবু বাস্তব জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা এখনো সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
বাস্তবতা হলো, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সার্বিক উন্নয়নে বিগত সরকারের নানা উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তাদের আর্থিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততায় এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্রেইল বইয়ের তীব্র অপ্রতুলতা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংকট এবং প্রযুক্তিনির্ভর উপকরণের সীমিত প্রবেশাধিকার শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগের অভাবে তাদের আত্মনির্ভরতা অর্জনের পথও কণ্টকাকীর্ণ। অথচ উপযুক্ত সহায়তা, অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ পেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এজন্য প্রয়োজন আমাদের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন। সহানুভূতির বদলে সহমর্মিতা, দয়ার বদলে অধিকার-এই মানসিকতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে পারে একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগে ব্রেইল শিক্ষার সম্প্রসারণ, স্ক্রিন-রিডার উপযোগী কনটেন্টের প্রসার এবং বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
আমাদের অঙ্গীকার হোক, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কেবল সহানুভূতির চোখে দেখা নয়, বরং তাদের পাশে সহযোগিতার সম্মিলিত হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
সাইদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতি বছর ব্রেইল দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার দায়িত্ব। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও তারা মেধা, মনন ও আত্মশক্তিতে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। তবু বাস্তব জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা এখনো সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
বাস্তবতা হলো, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সার্বিক উন্নয়নে বিগত সরকারের নানা উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তাদের আর্থিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততায় এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্রেইল বইয়ের তীব্র অপ্রতুলতা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংকট এবং প্রযুক্তিনির্ভর উপকরণের সীমিত প্রবেশাধিকার শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগের অভাবে তাদের আত্মনির্ভরতা অর্জনের পথও কণ্টকাকীর্ণ। অথচ উপযুক্ত সহায়তা, অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ পেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এজন্য প্রয়োজন আমাদের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন। সহানুভূতির বদলে সহমর্মিতা, দয়ার বদলে অধিকার-এই মানসিকতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে পারে একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগে ব্রেইল শিক্ষার সম্প্রসারণ, স্ক্রিন-রিডার উপযোগী কনটেন্টের প্রসার এবং বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
আমাদের অঙ্গীকার হোক, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কেবল সহানুভূতির চোখে দেখা নয়, বরং তাদের পাশে সহযোগিতার সম্মিলিত হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
সাইদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।