মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা বিশাল সম্ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তবে তা রক্ষার জন্য উপকূলীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, প্রবাল, ম্যানগ্রোভ ও সী-গ্রাসসহ বঙ্গোপসাগরে বিরল জীববৈচিত্র বিদ্যমান, যা উপকূলীয় মানুষের জীবিকাসহ সমুদ্র-নির্ভর খাদ্য নিরাপত্তা ও বাস্তুসংস্থান নির্ভর করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অটেকসই আহরণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে এই ভারসাম্য ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
সরকার ইতোমধ্যেই মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা, মৌসুমি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা এবং ট্রলিং জোন নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তা কার্যকর হতে পারছে না, কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ-উপকূলীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ-অপ্রতুল। কক্সবাজার, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও ভোলা অঞ্চলে সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন “কমিউনিটি মনিটরিং গ্রুপ” ইতোমধ্যেই নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সুন্দরবন সংরক্ষণেও “ঈড়-গধহধমবসবহঃ” ইকোসিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে।
উপকূলীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রদায়কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত না করা, তথ্যের অভাব, বিকল্প জীবিকা উন্নয়নের দুর্বলতা ও আইন প্রয়োগের শিথিলতা সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিকল্প জীবিকা ও প্রশিক্ষণ, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার সম্প্রসারণ একত্রে নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুললেই বাংলাদেশ প্রকৃত ব্লু ইকোনমির যুগে প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জাতীয় উন্নয়নের দ্বৈত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।
আলী হাসান জিহাদী
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা বিশাল সম্ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তবে তা রক্ষার জন্য উপকূলীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, প্রবাল, ম্যানগ্রোভ ও সী-গ্রাসসহ বঙ্গোপসাগরে বিরল জীববৈচিত্র বিদ্যমান, যা উপকূলীয় মানুষের জীবিকাসহ সমুদ্র-নির্ভর খাদ্য নিরাপত্তা ও বাস্তুসংস্থান নির্ভর করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অটেকসই আহরণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে এই ভারসাম্য ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
সরকার ইতোমধ্যেই মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা, মৌসুমি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা এবং ট্রলিং জোন নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তা কার্যকর হতে পারছে না, কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ-উপকূলীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ-অপ্রতুল। কক্সবাজার, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও ভোলা অঞ্চলে সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন “কমিউনিটি মনিটরিং গ্রুপ” ইতোমধ্যেই নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সুন্দরবন সংরক্ষণেও “ঈড়-গধহধমবসবহঃ” ইকোসিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে।
উপকূলীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রদায়কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত না করা, তথ্যের অভাব, বিকল্প জীবিকা উন্নয়নের দুর্বলতা ও আইন প্রয়োগের শিথিলতা সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিকল্প জীবিকা ও প্রশিক্ষণ, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার সম্প্রসারণ একত্রে নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুললেই বাংলাদেশ প্রকৃত ব্লু ইকোনমির যুগে প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জাতীয় উন্নয়নের দ্বৈত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।
আলী হাসান জিহাদী
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়