সাজেদুল ইসলাম
দেশের জনগণ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর তার কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন এবং নতুন সরকার। স্বাভাবিকভাবেই এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন একটি দেশ গঠন করা। কুষ্ঠের সঙ্গে বৈষম্য বিষয়টি জড়িত বিধায় আশা করা হচ্ছে যে, নতুন সরকার কুষ্ঠ সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উক্ত চেতনার প্রতি সম্মান জানাবে, কারণ কুষ্ঠ নিয়ে যে কুসংস্কার রয়েছে, তা বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুষ্ঠ সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ মনোযোগের দাবি রাখে। বাংলাদেশে কুষ্ঠ মূলত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য অনেক সমস্যার জন্য দায়ী। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, কুষ্ঠ বিষয়টি দেশে দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত ছিল। কুষ্ঠ নির্মূলের জন্য এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কুষ্ঠ চিকিৎসাযোগ্য, যদি যথাযথ এবং সময়মতো চিকিৎসা করা হয়। দেশের মধ্যে কুষ্ঠের চিকিৎসা এবং পরীক্ষার সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সচেতনাতার অভাব কুষ্ঠ রোগের নির্মূলে বাধা সৃষ্টি করছে। কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটির মুখোমুখি হন তা হলো কুসংস্কার। এই কুসংস্কার তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। এর কারণে তারা চাকরি হারান, তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন, তারা পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, এবং এই কুসংস্কারের কারণে তাদের সন্তানরা বিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। বাংলাদেশে কুষ্ঠ নিয়ে জাতীয় স্তরে অবহেলা রয়েছে। কুষ্ঠ-সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে এর ফলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটেছে। যেমন কুষ্ঠ আক্রান্তদের চাকরি, শিক্ষা এবং বিবাহে সমস্যা; এমনকি কুষ্ঠ আক্রান্তদের আত্মীয়স্বজনও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এ সেক্টরে কর্মরত মানবাধিকার কর্মীরা আশা করছেন যে, নতুন সরকার কুষ্ঠ রোগের সঙ্গে যুক্ত কুসংস্কার দূর করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ জনগণকে জানাবে যে এটি একটি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো একটি রোগ এবং এটি সহজেই নিরাময়যোগ্য। নতুন সরকারের কাছ থেকে জনগণ আশা করছে যে, সরকার কুষ্ঠকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সরকারের কাছে কুষ্ঠ নির্মূলে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। সরকার কুষ্ঠের বিষয়ে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনাতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং প্রাথমিক কুষ্ঠ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা কুষ্ঠ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি (এনএলপি) অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ নতুন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়, তবে প্রকৃত সংখ্যা এই সংখ্যার দ্বিগুণ। দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ (টিএলএমআই-বি) এর মতে, অনেক কুষ্ঠ রোগী সময়মতো এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অক্ষম হয়ে পড়েন। সুতরাং, রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। কুষ্ঠ একটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণজনিত রোগ, যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এটি প্রধানত ত্বক, পরিবাহী স্নায়ু, মিউকোসা এবং চোখকে প্রভাবিত করে। কুষ্ঠ যদি দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়, তবে স্নায়ু ক্ষতি, শারীরিক অক্ষমতা এবং গুরুতর অক্ষমতার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এটি ব্যক্তির, পরিবারের এবং পুরো সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং মানবাধিকার কাউন্সিল কুষ্ঠ রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি বৈষম্য নির্মূলের জন্য নীতিমালা ও নির্দেশিকা গ্রহণ করে। এই নীতিমালা এবং নির্দেশিকাগুলো জাতীয় সরকারগুলোকে কুষ্ঠ-সম্পর্কিত বৈষম্য নির্মূলের জন্য দায়িত্বশীল করে তোলে। বাংলাদেশ ‘কুষ্ঠের জন্য জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৩-২০৩০’ তৈরি করেছে, যার লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠমুক্ত দেশ গঠন করা। সুতরাং, সরকারের দায়িত্ব এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশ এখন ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠমুক্ত জাতি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এটি অর্জন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নীতি সহায়তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন সরকার স্বাস্থ্য সংস্কারের ক্ষেত্রে কুষ্ঠ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্বার্থে যথাযথভাবে এই সমস্যার দিকে মনোযোগ দেবেন বলে আশা করা যায়। যদি আমরা কুষ্ঠ সমস্যাটি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তবে তা জাতির জন্য বিশাল উপকার বয়ে আনবে। কুষ্ঠ বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেয়া উচিত এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করা উচিত। কুষ্ঠ বিষয়টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, বিশেষ করে-
এসডিজি ৩:
ভালো স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ: কুষ্ঠ নির্মূলের ওপর মনোনিবেশ করার মাধ্যমে এটি সবচেয়ে প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা প্রচার করে এবং অবহেলিত ট্রপিক্যাল রোগের মহামারী বন্ধ করার প্রচেষ্টায় সহায়তা করে।
এসডিজি ১০:
অসমতা হ্রাস: এটি কুষ্ঠ রোগীদের সমান সুযোগ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাদের কাছে সমান সুযোগ এবং অধিকার প্রদান করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা এমন একটি দেশ কল্পনা করি যেখানে কুষ্ঠ আর একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে থাকবে না এবং যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের জীবনে সম্মান এবং গ্রহণযোগ্যতা থাকবে, যা হবে বৈষম্যমুক্ত। আমাদের কুষ্ঠ এবং তার সঙ্গে যুক্ত কুসংস্কার দূর করার জন্য একটি যৌথ প্রচারণা চালানো উচিত। জনসাধারণকে রোগের কারণ, উপসর্গ এবং চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষাকারী নীতি প্রচার করা, সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তির প্রচারণায় সম্প্রদায়কে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা এবং কুষ্ঠ রোগ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের মানসিক সুস্থতা সমর্থন করার জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। কুষ্ঠকে মোকাবিলার অংশ হিসেবে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার উন্নত করতে হবে, যাতে দেশে সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে কুষ্ঠ-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হয় এবং এই হাসপাতালগুলোকে কুষ্ঠজনিত জটিলতা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে। একটি দীর্ঘ সময় পর দেশে মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশবাসী নতুন সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখেন। আশা করা হচ্ছে যে, নতুন সরকার জাতীয় স্বার্থে কুষ্ঠ রোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
[লেখক: প্রাবন্ধিক]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
সাজেদুল ইসলাম
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দেশের জনগণ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর তার কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন এবং নতুন সরকার। স্বাভাবিকভাবেই এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন একটি দেশ গঠন করা। কুষ্ঠের সঙ্গে বৈষম্য বিষয়টি জড়িত বিধায় আশা করা হচ্ছে যে, নতুন সরকার কুষ্ঠ সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উক্ত চেতনার প্রতি সম্মান জানাবে, কারণ কুষ্ঠ নিয়ে যে কুসংস্কার রয়েছে, তা বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুষ্ঠ সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ মনোযোগের দাবি রাখে। বাংলাদেশে কুষ্ঠ মূলত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য অনেক সমস্যার জন্য দায়ী। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, কুষ্ঠ বিষয়টি দেশে দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত ছিল। কুষ্ঠ নির্মূলের জন্য এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কুষ্ঠ চিকিৎসাযোগ্য, যদি যথাযথ এবং সময়মতো চিকিৎসা করা হয়। দেশের মধ্যে কুষ্ঠের চিকিৎসা এবং পরীক্ষার সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সচেতনাতার অভাব কুষ্ঠ রোগের নির্মূলে বাধা সৃষ্টি করছে। কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটির মুখোমুখি হন তা হলো কুসংস্কার। এই কুসংস্কার তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। এর কারণে তারা চাকরি হারান, তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন, তারা পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, এবং এই কুসংস্কারের কারণে তাদের সন্তানরা বিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। বাংলাদেশে কুষ্ঠ নিয়ে জাতীয় স্তরে অবহেলা রয়েছে। কুষ্ঠ-সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে এর ফলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটেছে। যেমন কুষ্ঠ আক্রান্তদের চাকরি, শিক্ষা এবং বিবাহে সমস্যা; এমনকি কুষ্ঠ আক্রান্তদের আত্মীয়স্বজনও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এ সেক্টরে কর্মরত মানবাধিকার কর্মীরা আশা করছেন যে, নতুন সরকার কুষ্ঠ রোগের সঙ্গে যুক্ত কুসংস্কার দূর করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ জনগণকে জানাবে যে এটি একটি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো একটি রোগ এবং এটি সহজেই নিরাময়যোগ্য। নতুন সরকারের কাছ থেকে জনগণ আশা করছে যে, সরকার কুষ্ঠকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সরকারের কাছে কুষ্ঠ নির্মূলে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। সরকার কুষ্ঠের বিষয়ে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনাতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং প্রাথমিক কুষ্ঠ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা কুষ্ঠ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি (এনএলপি) অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ নতুন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়, তবে প্রকৃত সংখ্যা এই সংখ্যার দ্বিগুণ। দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ (টিএলএমআই-বি) এর মতে, অনেক কুষ্ঠ রোগী সময়মতো এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অক্ষম হয়ে পড়েন। সুতরাং, রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। কুষ্ঠ একটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণজনিত রোগ, যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এটি প্রধানত ত্বক, পরিবাহী স্নায়ু, মিউকোসা এবং চোখকে প্রভাবিত করে। কুষ্ঠ যদি দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়, তবে স্নায়ু ক্ষতি, শারীরিক অক্ষমতা এবং গুরুতর অক্ষমতার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এটি ব্যক্তির, পরিবারের এবং পুরো সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং মানবাধিকার কাউন্সিল কুষ্ঠ রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি বৈষম্য নির্মূলের জন্য নীতিমালা ও নির্দেশিকা গ্রহণ করে। এই নীতিমালা এবং নির্দেশিকাগুলো জাতীয় সরকারগুলোকে কুষ্ঠ-সম্পর্কিত বৈষম্য নির্মূলের জন্য দায়িত্বশীল করে তোলে। বাংলাদেশ ‘কুষ্ঠের জন্য জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৩-২০৩০’ তৈরি করেছে, যার লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠমুক্ত দেশ গঠন করা। সুতরাং, সরকারের দায়িত্ব এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশ এখন ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠমুক্ত জাতি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এটি অর্জন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নীতি সহায়তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন সরকার স্বাস্থ্য সংস্কারের ক্ষেত্রে কুষ্ঠ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্বার্থে যথাযথভাবে এই সমস্যার দিকে মনোযোগ দেবেন বলে আশা করা যায়। যদি আমরা কুষ্ঠ সমস্যাটি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তবে তা জাতির জন্য বিশাল উপকার বয়ে আনবে। কুষ্ঠ বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেয়া উচিত এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করা উচিত। কুষ্ঠ বিষয়টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, বিশেষ করে-
এসডিজি ৩:
ভালো স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ: কুষ্ঠ নির্মূলের ওপর মনোনিবেশ করার মাধ্যমে এটি সবচেয়ে প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা প্রচার করে এবং অবহেলিত ট্রপিক্যাল রোগের মহামারী বন্ধ করার প্রচেষ্টায় সহায়তা করে।
এসডিজি ১০:
অসমতা হ্রাস: এটি কুষ্ঠ রোগীদের সমান সুযোগ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাদের কাছে সমান সুযোগ এবং অধিকার প্রদান করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা এমন একটি দেশ কল্পনা করি যেখানে কুষ্ঠ আর একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে থাকবে না এবং যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের জীবনে সম্মান এবং গ্রহণযোগ্যতা থাকবে, যা হবে বৈষম্যমুক্ত। আমাদের কুষ্ঠ এবং তার সঙ্গে যুক্ত কুসংস্কার দূর করার জন্য একটি যৌথ প্রচারণা চালানো উচিত। জনসাধারণকে রোগের কারণ, উপসর্গ এবং চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষাকারী নীতি প্রচার করা, সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তির প্রচারণায় সম্প্রদায়কে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা এবং কুষ্ঠ রোগ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের মানসিক সুস্থতা সমর্থন করার জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। কুষ্ঠকে মোকাবিলার অংশ হিসেবে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার উন্নত করতে হবে, যাতে দেশে সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে কুষ্ঠ-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হয় এবং এই হাসপাতালগুলোকে কুষ্ঠজনিত জটিলতা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে। একটি দীর্ঘ সময় পর দেশে মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশবাসী নতুন সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখেন। আশা করা হচ্ছে যে, নতুন সরকার জাতীয় স্বার্থে কুষ্ঠ রোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
[লেখক: প্রাবন্ধিক]