লাবনী আক্তার শিমলা
মহাকাশ-সম্পর্কিত গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য, সেবা এবং প্রযুক্তির বাজারই হলো মহাকাশ অর্থনীতি। এটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত: আপস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরি, রকেট উৎক্ষেপণ এবং এই সংক্রান্ত গবেষণা আপস্ট্রিমের অন্তর্ভুক্ত। এরপর স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে কৃষি, আবহাওয়া, নৌ চলাচল এবং ইন্টারনেটের মতো সেবা প্রদান ডাউনস্ট্রিমের অন্তর্গত। আপস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম উভয় ক্ষেত্রের প্রয়োগ ও সমন্বয় অপরিহার্য। কারণ একটি দেশকে স্যাটেলাইট বানানোর পাশাপাশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে নতুন নতুন অ্যাপ বা সেবার প্রসার ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের জন্য ডাউনস্ট্রিম খাতে স্টার্টআপ ও কর্মসংস্থান তৈরির বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বিপুল সম্ভাবনাময় হলো মহাকাশ পর্যটন, যা একই সঙ্গে আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিমের সমন্বয়।
SACE(South Australian Certificate of Education)-এর ফোকাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এই খাতের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথে এখন প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে। এর বড় অংশই বাণিজ্যিক যোগাযোগ, ইন্টারনেট সেবা এবং পৃথিবী পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাত একাই বছরে শত শত বিলিয়ন ডলার আয় করছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্রবেষ্টিত এলাকা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্যাটেলাইট সংযোগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ফসলের অবস্থা, মাটির গুণাগুণ, সারের প্রয়োজনীয়তা ও পানির ঘাটতি শনাক্তকরণ এবং মৌসুমি ফসলের উৎপাদন পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর নজির রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা উপকূলীয় ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাস দেয়াতেও স্যাটেলাইট ডাটা অত্যন্ত কার্যকর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে মহাকাশ অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, ঝঢ়ধপবঢ পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎক্ষেপণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি পে-লোড মহাকাশে পাঠাতে প্রায় ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতো, বর্তমানে তা প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে নেমে এসেছে। এতে ছোট দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মহাকাশে প্রবেশের সুযোগ বেড়েছে। একইভাবেBlue Origin Ges Virgin Galactic মহাকাশ পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছে। যদিও এখনো এটি ব্যয়বহুল, তবুও ধীরে ধীরে এটি বাণিজ্যিক শিল্পে রূপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশও এই যাত্রায় অংশ নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশের মহাকাশ যুগের সূচনা হয়। টেলিভিশন সম্প্রচার, ভিএসএটি (VSAT) সেবা, যার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে ইন্টারনেট, ডাটা বা ভয়েস যোগাযোগ করা যায়, এবং সরাসরি যেকোনো ঘটনার পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়েছে-এই সবকিছুই সম্ভব করেছে এই স্যাটেলাইট। এর ফলে বৈদেশিক নির্ভরতা কিছুটা কমেছে এবং আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা (SPARRSO) দীর্ঘদিন ধরে আবহাওয়া, কৃষি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করছে, যা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ভবিষ্যতে একটি ভূমি পর্যবেক্ষণের স্যাটেলাইট চালু করা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নিজস্ব ডাটা সেন্টার স্থাপন করে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ডাউনস্ট্রিম খাতে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা অ্যানালিটিক্স ও অ্যাপ নির্মাণে তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মহাকাশ অর্থনীতি কেবল রকেট ও স্যাটেলাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, উপাদান বিজ্ঞান, উৎপাদনশিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, এমনকি মহাকাশ আইন ও নীতিনির্ধারণ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষার প্রসার ঘটালে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে।
ডার্ক স্কাই পর্যটনও মহাকাশ অর্থনীতির আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পঞ্চগড়, বান্দরবান কিংবা সেন্ট মার্টিনের মতো কম আলোকদূষণযুক্ত এলাকায় যদি পরিকল্পিতভাবে স্টারগেজিং ক্যাম্প বা ডার্ক স্কাই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়, তবে তা পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পর্যটকদের সংখ্যা বাড়াবে, দেশীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, স্থানীয় হোটেল, গাইড এবং প্রযুক্তি সহায়তা সেবার মাধ্যমে নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও কেবল বই-পুস্তকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং হাতে-কলমে শিক্ষা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও ডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পায়, তাহলে তাদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বাড়বে। এতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে আইটি ও গবেষণা খাতে উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
এই বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য মহাকাশ গবেষণা নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল। একটি স্যাটেলাইট নির্মাণ, উৎক্ষেপণ, গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন এবং ডাটা ব্যবস্থাপনার জন্য বিপুল অর্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাই একে কেবল ‘ব্যয়’ হিসেবে দেখলে অগ্রগতি সম্ভব নয়; বরং এটিকে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
[লেখক: শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
লাবনী আক্তার শিমলা
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মহাকাশ-সম্পর্কিত গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য, সেবা এবং প্রযুক্তির বাজারই হলো মহাকাশ অর্থনীতি। এটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত: আপস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরি, রকেট উৎক্ষেপণ এবং এই সংক্রান্ত গবেষণা আপস্ট্রিমের অন্তর্ভুক্ত। এরপর স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে কৃষি, আবহাওয়া, নৌ চলাচল এবং ইন্টারনেটের মতো সেবা প্রদান ডাউনস্ট্রিমের অন্তর্গত। আপস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম উভয় ক্ষেত্রের প্রয়োগ ও সমন্বয় অপরিহার্য। কারণ একটি দেশকে স্যাটেলাইট বানানোর পাশাপাশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে নতুন নতুন অ্যাপ বা সেবার প্রসার ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের জন্য ডাউনস্ট্রিম খাতে স্টার্টআপ ও কর্মসংস্থান তৈরির বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বিপুল সম্ভাবনাময় হলো মহাকাশ পর্যটন, যা একই সঙ্গে আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিমের সমন্বয়।
SACE(South Australian Certificate of Education)-এর ফোকাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এই খাতের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথে এখন প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে। এর বড় অংশই বাণিজ্যিক যোগাযোগ, ইন্টারনেট সেবা এবং পৃথিবী পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাত একাই বছরে শত শত বিলিয়ন ডলার আয় করছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্রবেষ্টিত এলাকা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্যাটেলাইট সংযোগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ফসলের অবস্থা, মাটির গুণাগুণ, সারের প্রয়োজনীয়তা ও পানির ঘাটতি শনাক্তকরণ এবং মৌসুমি ফসলের উৎপাদন পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর নজির রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা উপকূলীয় ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাস দেয়াতেও স্যাটেলাইট ডাটা অত্যন্ত কার্যকর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে মহাকাশ অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, ঝঢ়ধপবঢ পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎক্ষেপণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি পে-লোড মহাকাশে পাঠাতে প্রায় ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতো, বর্তমানে তা প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে নেমে এসেছে। এতে ছোট দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মহাকাশে প্রবেশের সুযোগ বেড়েছে। একইভাবেBlue Origin Ges Virgin Galactic মহাকাশ পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছে। যদিও এখনো এটি ব্যয়বহুল, তবুও ধীরে ধীরে এটি বাণিজ্যিক শিল্পে রূপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশও এই যাত্রায় অংশ নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশের মহাকাশ যুগের সূচনা হয়। টেলিভিশন সম্প্রচার, ভিএসএটি (VSAT) সেবা, যার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে ইন্টারনেট, ডাটা বা ভয়েস যোগাযোগ করা যায়, এবং সরাসরি যেকোনো ঘটনার পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়েছে-এই সবকিছুই সম্ভব করেছে এই স্যাটেলাইট। এর ফলে বৈদেশিক নির্ভরতা কিছুটা কমেছে এবং আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা (SPARRSO) দীর্ঘদিন ধরে আবহাওয়া, কৃষি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করছে, যা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ভবিষ্যতে একটি ভূমি পর্যবেক্ষণের স্যাটেলাইট চালু করা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নিজস্ব ডাটা সেন্টার স্থাপন করে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ডাউনস্ট্রিম খাতে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা অ্যানালিটিক্স ও অ্যাপ নির্মাণে তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মহাকাশ অর্থনীতি কেবল রকেট ও স্যাটেলাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, উপাদান বিজ্ঞান, উৎপাদনশিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, এমনকি মহাকাশ আইন ও নীতিনির্ধারণ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষার প্রসার ঘটালে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে।
ডার্ক স্কাই পর্যটনও মহাকাশ অর্থনীতির আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পঞ্চগড়, বান্দরবান কিংবা সেন্ট মার্টিনের মতো কম আলোকদূষণযুক্ত এলাকায় যদি পরিকল্পিতভাবে স্টারগেজিং ক্যাম্প বা ডার্ক স্কাই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়, তবে তা পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পর্যটকদের সংখ্যা বাড়াবে, দেশীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, স্থানীয় হোটেল, গাইড এবং প্রযুক্তি সহায়তা সেবার মাধ্যমে নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও কেবল বই-পুস্তকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং হাতে-কলমে শিক্ষা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও ডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পায়, তাহলে তাদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বাড়বে। এতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে আইটি ও গবেষণা খাতে উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
এই বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য মহাকাশ গবেষণা নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল। একটি স্যাটেলাইট নির্মাণ, উৎক্ষেপণ, গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন এবং ডাটা ব্যবস্থাপনার জন্য বিপুল অর্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাই একে কেবল ‘ব্যয়’ হিসেবে দেখলে অগ্রগতি সম্ভব নয়; বরং এটিকে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
[লেখক: শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]